কৌষাণী নগরে এক বড়ো ব্যবসায়ী ছিলেন, তার প্রচুর ধন সম্পত্তি চাকর- বাকর ছিল এবং ওই নগরে উনি একজন
প্রতিষ্ঠিত মানুষ ছিলেন । একদিন উনি তার ১০ বছর বয়সি ছেলেকে বকছিলেন এই বলে যে এত
বড়ো ব্যাবসা তুই নষ্ট করে দিবি, তোর তো ব্যাবসা করার মতো বুদ্ধি নেই । সেই সময় ঐখান দিয়ে প্রায় ১০ বছর বয়সি
আরেকটি ছেলে যাচ্ছিল,সে ব্যবসায়ীকে বলতে শোনে,জানিস,‘বুদ্ধি
থাকলে মরা ইঁদুর দিয়ে ব্যাবসা করে পয়সা রোজগার করা যায়’। রাস্তার যেতে যেতে ছেলেটি
ভাবল,এত বড়ো ব্যবসায়ী
যখন এই কথা বলছেন যে মরা ইঁদুর দিয়ে ব্যাবসা করে টাকা উপার্জন করা যায়, তাহলে নিশ্চয় সত্যি হবে । রাস্তা দিয়ে ছেলেটা একটু
এগিয়ে যেতেই দেখে রাস্তার পাশে একটা ইঁদুর মরে পড়ে আছে,তখন সেই ছেলেটি ইঁদুরের লেজটা ধরে,ইঁদুরটাকে তুলে হাঁটতে লাগল, আর মনে মনে ভাবতে লাগল, ব্যবসায়ী যখন বলেছেন, তখন নিশ্চয় এটা দিয়ে পয়সা রোজগার করা যাবে । হাঁটতে লাগল, কিন্তু সে জানে না যে এই মরা ইঁদুর দিয়ে কীভাবে পয়সা
উপার্জন করা যায়। সে হাঁটতে থাকে । ও যে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, সেই পথেই সামনের দিক থেকে একটা মেয়ে তার বাবার সঙ্গে একটা
বিড়াল কোলে নিয়ে এগিয়ে আসছিল । কাছে আসতেই ছেলেটার হাতে মরা ইঁদুর দেখে বলল,বাবা আমার বিড়ালটার খিদে পেয়েছে, তুমি আমাকে ঐ ইঁদুরটা কিনে দাও । তখন মেয়েটার বাবা ছেলেটার
হাতে দশ টাকা দিয়ে বলল, এই ইঁদুরটা আমাকে দিয়ে দাও । ছেলেটিও দশ টাকা নিয়ে ইঁদুরটা তাদের দিয়ে দিল। টাকা পেয়ে ছেলেটি
আনন্দে নাচতে লাগল আর ভাবল ব্যবসায়ী ঠিক বলেছেন যে মরা ইঁদুর দিয়ে ব্যাবসা করা যায়
। পরের দিন সেই টাকার পাটখড়ি কিনে বাজারে বিক্রি করে সে তার দ্বিগুণ দাম পেল এবং বড়ো
হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে কাঠের ব্যাবসা বাড়াতে লাগল, কাঠের ব্যাবসার সাথে অনেক রকম ব্যাবসা শুরু করল, যার ফলে তার প্রচুর ধন সম্পত্তি হল । একসময় সে একজন প্রতিষ্ঠিত
ব্যবসায়ীতে পরিণত হল ।
বড়ো বড়ো বিজনেস সম্মেলনে তাকে ডাকা হয় এবং তার উদাহরণ দেওয়া
হয় যে সে কীভাবে ব্যাবসা শুরু করে এই জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । একদিন সে মনে মনে ভাবল,যার কথায় আজ এই সব অর্জন করলাম, মানে সে আমার গুরুদেব, ওনার সঙ্গে একবার দেখা করে আসি । যেহেতু গুরুদেবের সঙ্গে
দেখা করতে যাবে তাই কিছু উপহার না নিয়ে গেলে কি করে হয়, ভাবল, গুরুদেবকে কি উপহার দি? এই ভেবে স্বর্ণকারের কাছে গেল, বলল আমাকে একটা সোনার ইঁদুর বানিয়ে দাও । স্বর্ণকার বলল সোনার ইঁদুর !
ব্যবসায়ী ছেলেটা বলল হ্যাঁ । যত দাম লাগবে আমি দেব । স্বর্ণকার তাকে একটা সোনার
ইঁদুর বানিয়ে দিল।
একদিন ছেলেটি সেই পুরানো ব্যবসায়ীর বাড়িতে গেল,দেখল সেই ব্যবসায়ী এখন বৃদ্ধ হয়েছেন আর তার ছেলেও এখন মস্ত
বড়ো ব্যাবসা সামলাচ্ছে । ছেলেটা বৃদ্ধ ব্যবসায়ীর কাছে গিয়ে ওনাকে প্রণাম করে
বলল, গুরুদেব আমার
প্রণাম গ্রহণ করুন, তারপর সোনার ইঁদুরটি বের করে ওনাকে দিতে গিয়ে বলল, এটা আপনার জন্য ।
বৃদ্ধ ব্যবসায়ী বললেন, আমি তোমার গুরুদেব ! কিন্তু আমার তোমার সঙ্গে কোন দিন দেখা
হয়েছে বলে মনে পড়ছে না ,আমি কীভাবে তোমার গুরুদেব হলাম ? তখন ছেলেটা তার ছোটোবেলার কথা উল্লেখ করে বলল, আপনি আপনার ছেলেকে একদিন বকাবকি করছিলেন আর বলেছিলেন মরা
ইঁদুর দিয়ে ব্যাবসা করে টাকা উপার্জন করা যায়, তখন আমি ওখান দিয়ে যাচ্ছিলাম আর আপনার ওই কথাটা আমি
বিশ্বাস করি এবং একটা মরা ইঁদুর দিয়ে আমার ব্যাবসা শুরু করি । তারপর সে বাকি সমস্ত
ঘটনা ওনাকে খুলে বলল । ওর কথা শুনে বৃদ্ধ ব্যবসায়ী এবং ওনার ছেলে হাসতে লাগল এবং
উপহার গ্রহণ করলেন আর ছেলেটিকে আশীর্বাদ দিলেন ।
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
লেখিকার পরিচিতি ঃ-
জন্ম বিহারের কিশানগঞ্জ। প্রা্থমিক থেকে
স্নাতকোত্তর কিষানগঞ্জেই । আঞ্চলিক বার্ষিক পত্রিকা, ই-ম্যাগাজিন তাৎক্ষনিক ডট কম-এ অনুগল্প, ছোট গল্প, প্রবন্ধ লেখালেখি করেন । ওনার প্রথম গ্রন্থ
‘নবরত্ন’(গল্পগুচ্ছ) । বই পড়া, ভ্রমণ ও আধ্যাত্মিকতায় রুচিশীল এবং কুসংস্কার বিরোধী।
.jpg)