ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব – ১২২
Sleep monger,
deathmonger,
with
capsules in my palms each night,
eight at
a time from sweet pharmaceutical bottles
I make
arrangements for a pint-sized journey.
"যেদিন
প্রথম সুপ্রিয় এসে আমাকে বলল,সেদিনটা
ছিল আমাদের বিবাহ বার্ষিকী। তুই জানিস বাবি এ দিনটা আমার কাছে কত প্রিয়-। তোর
ভাইদার সাথে দীর্ঘ ৪২ বছর কাটিয়ে এসেছি--। এদিনটা আমি অন্য কাপলদের মতো কেক কেটে,পার্টি
থ্রো করে ,কিংবা বাইরের কোনও নামি দামি রেস্টুরেন্টে
ডিনার খেয়ে সেলিব্রেট করি না।"
--"হ্যাঁ,জানি
দিদি। তুই সারাদিন ধরে যত্ন করে ভাইদার মনের মতো আইটেম গুলো রান্না করিস,--আর--"
বাভ্রবির কথা শেষ হবার আগেই রম্যানি বলল—
--"তারপর, রাতে
একসাথে বসে ওকে খাওয়াই আর ও আমাকে খাওয়ায়। সেদিন ও খাওয়া দাওয়ার পর আমরা সুন্দর
করে সাজানো বেডরুমে হালকা আলো জ্বালিয়ে ছোট দুটি চেয়ারে মুখোমুখি বসে কথা
বলছিলাম।
ম্যাজিক রিয়েলিজম এর নরম
মায়াবী আলোয় বুঝি এক নিমেষেই বাভ্রবি আর রম্যানি পৌঁছে গেল সুপ্রিয় আর
রম্যানির সেদিনের বেডরুমে,--। নিভৃত,মায়াময়
আলাপচারিতা এভাবেই বুঝি শুরু হয়েছিল-
--"এতগুলো
বছর আমরা একসাথে কাটিয়ে দিলাম, মানি--। "সুপ্রিয়
রম্যানির দিকে ফিরে আধশোয়া।
রম্যানি টেবিল ল্যাম্পের
হালকা আলোর দিকে তাকিয়ে বলেছিল।
--"আমরা
নিজেদের সুখী দম্পতি বলে ভেবে এসেছি--সবাই আমাদেরকে এই কথাই বলে।"
সুপ্রিয় হালকা সুরে জিজ্ঞেস
করেছিল
--"কেন,তুমি সেটা
ভাবো না?"
আলোর দিক থেকে মুখ সরিয়ে
রম্যানি বলল—
--"তুমি ভাব
তো?"
হালকা সুরে জবাব, সুপ্রিয়র।
--"নিশ্চয়ই
ভাবি।"
এবার সুপ্রিয়ের চোখে চোখ
রাখে রম্যানি।
--"তুমি
বোধহয় সত্যি বললে না, প্রিয়।"
রম্যানির হাতে মৃদু চাপ দিয়ে সুপ্রিয়
--"একদম
সত্যি বলেছি, মানি।"
--"না,আমাদের
দুজনের ই একটি সন্তানের ইচ্ছে ছিল--সেটা--"
সুপ্রিয় এবার সোজা সিলিং-এর
তাকিয়ে বলল,
--"পূর্ণ
হয়নি--। তুমি মা হতে পারোনি--।"
রম্যানির চোখে জল ভরে
এসেছিল।
--"অনেক
ডাক্তার, অনেক টেস্ট--তবু--"
সুপ্রিয় এবার রম্যানির
দিকে তাকিয়ে খুশির সুরে বলল—
--"মানি,এবার হয়ত
আমাদের সেই আশা পূর্ণ হতে চলেছে।--"
অবাক বিস্ময়ে বিছানায় উঠে
বসল রম্যানি। দুহাতে সুপ্রিয়র হাত চেপে ধরে,অধীর
আগ্রহে জিজ্ঞেস করল,
--"কি বলছো
তুমি প্রিয়--কিভাবে--মানে --"
সুপ্রিয় আবেগের সুরে,জবাব দিল।
--"আমি এবার
মনস্থির করে ফেলেছি মানি,আমরা দত্তক নেবো।"
রম্যানি অবাক হয়ে বলল।
--"দত্তক? এই বয়সে
আমাদের এখন দত্তক নেবার বয়স নেই সুপ্রিয়,--এটা তুমি
ভালো করেই জান,-। তাছাড়া একটি শিশু কে
মানুষ তো অনেক দূর--বড়ো করে তোলার মতো এনার্জি এখন আর আমাদের মধ্যে নেই--উই আর টু
ওল্ড।"
--"আরে সেটাই
তো--আমরা এখন আর ছোট বাচ্চাকে দত্তক কেন নেবো--আমরা তো বড়ো,অ্যাডাল্ট
কাউকে ও দত্তক নিতে পারি--"
রম্যানি অবাক হয়ে বলল।
--"অ্যাডাল্ট
ওর ফ্যান? দত্তক--তুমি ঠিক কি বলছো,আমি বুঝতে
পারছি না সুপ্রিয়,--"
-"আমি
লোরি--লোরি চাড্ডার কথা বলছি--সি ইজ অ্যাডাল্ট--অ্যান্ড ওরফ্যান--"
--"হোয়াট?কি বলছো
তুমি? ও ২৪ বছরের একটি অ্যাডাল্ট
মেয়ে--তোমার সেক্রেটারি-- ওকে তুমি দত্তক নেবে?"
--"হ্যাঁ,মানি--ও
আমার মেয়েরই মতো--ভীষণ কেয়ারিং--,আমাকে
ভীষণ শ্রদ্ধা করে--ও আমাদের বুড়ো বয়সের লাঠি হবে মানি--"
বিবাহ বার্ষিকীর রাত বিষবৎ,মনে হলো
ম্যানের কাছে,--।
--"তুমি
বুঝতে পারছ না, সুপ্রিয়,--ও তোমার
সাথে ফ্ল্যাট করে তোমার সমস্ত সম্পত্তি হাতিয়ে নেবার মতলব করছে--"
--"তুমি ভুল
ভাবছো, মানি,সি ইজ সাচ এ সুইট গার্ল--ও এরকম নয়।--"
--"বাবি,আমি তোর
ভাইদাকে কিছুতেই বোঝাতে পারছি না রে--। মেয়েটা ভীষণ চালাক,----"
--"কিছু মনে
করিস না দিদি,--মেয়েটির ভাইদার সঙ্গে অন্য
কোনও রকম সম্পর্ক। --"
--"মানে? এক্সট্রা
মেরিট্যাল-"
রম্যানি মাথা নেড়ে বলল
--"নারে,সেটা
নয়--মেয়েটির একটি বয়ফ্রেন্ড আছে--"
--"তাহলে? ভাইদা?"
--"সেটাই তো!
মেয়েটি ওকে কেয়ার করার ভান করে--ওর জন্য রান্না করে আনে--আমার সামনেই ও সুপ্রিয়
কে বারবার বলতে থাকে-'স্যার, ইউ আর
লাইক মাই ফাদার! আমার মা বাবা নেই --শুনেছি কার এক্সিডেন্টে ওরা আমার ছোটোবেলাতেই
চলে যান--। আমি চাচার কাছে মানুষ--খুব কষ্টে কেটেছে আমার ছোটোবেলা।--আপনার মতো
একজন কেয়ারিং ফাদার ফিগার পেয়েছি--এ আমার ভাগ্য।"
দুইবোন চুপচাপ টেরেসে!
--"তুই যে
ভাইদা কে ছেড়ে চলে এলি--"
ম্লান হেসে জবাব দিল রম্যানি
--"মেয়েটি
আমাদের বাড়িতে এসে থাকছে--সারাদিন ওর খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে সব দেখাশোনা
করে--একসাথে অফিস যায়--সুপ্রিয় কখন কি
মেডিসিন নেবে,খেয়াল রাখে,সুপ্রিয়র
সাথে মর্নিং ওয়াকে যায়--।"
--"তার মানে,ভাইদা কে
ইমপ্রেস করার জন্য?-"
--"হ্যাঁ,যা যা করা
দরকার, সব করে--"
--"তোর সাথে
কেমন--"
ম্লান হাসল রম্যানি।
--"সি ইজ
ভেরি স্মার্ট। সুপ্রিয়র সামনে আমার সঙ্গে ভীষণ ভালো ব্যবহার করে--।কিন্তু ও জানে আমি ওর আসল উদ্দেশ্যটা ঠিক ই বুঝতে
পেরেছি।"
বাভ্রবি একটু চুপ করে থেকে
বলল—
--"তুই কী
করবি--ভাইদা যদি মনস্থির করেই ফেলে--"
রম্যানি দীর্ঘশ্বাস ফেলে
বলল।
--"আমি ঠিক
বুঝতে পারছি না আমি কি করব--। কিন্তু আমি জানি যেদিন লিগ্যালী ও মেয়েটিকে এডাপ্ট
করে নেবে --ও সমস্ত প্রপার্টি গ্রাব করবে। ও র চালাকির ফলে সুপ্রিয়র সাথে আমার
একটা রিফট অলরেডি তৈরি হয়েই গেছে। সুপ্রিয় আমাকে এমন কথাও বলেছে -'তুমি ঐ
একরত্তি ভাল মেয়েটাকে হিংসে কর।--।'
বলতে বলতে গলা ভারী হয়ে আসে
রম্যানির।
--"আমি ভাবতে
পারি নারে বাবি,আমার সুপ্রিয়,জীবনের
শেষ প্রান্তে এসে আমাকে এরকম কথা বলতে পারে।--"
--"তুই কি করবি,কিছু
ভেবেছিস?"
রম্যানি কিছুক্ষণ অন্ধকার
আকাশের তারাগুলো দেখতে দেখতে মাথা নেড়ে বলল—
--"না--সেরকম
কিছু ভাবিনি।--তবে আমাকে একটা স্ট্যান্ড নিতেই হবে--সুপ্রিয়র জীবন এবং প্রপার্টি
বাঁচানোর জন্য-আমাকে স্ট্যান্ড নিতেই হবে রে বাবি--দরকার পড়লে সুপ্রিয়র সঙ্গে
আইনি লড়াই ও লড়তে হবে।--। আমি সুপ্রিয়কে ভীষণ ভালোবাসি রে বাবি--ওর জন্য আমি সব
করতে পারি--প্রয়োজনে ওকে ছেড়েও দিতে পারি।--কিন্তু ওকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে
পারি না।--"
অন্ধকার আস্তে আস্তে
পৃথিবীকে গ্রাস করছিল--ওরা দুজনেই সেই অতল অন্ধকারে ডুবে যেতে লাগল—
ক্রমশ …………
১২৩তম পর্ব
পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
.jpg)