ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব – ১১৯
Again that night
I dreamed the dream called
Laundry.
In it,
the sheets and towels of a life we were going to share,
The
milk-stiff bibs,the shroud,each rag to be ever
Trampled
or soiled,bled on or groped for blindly,
Came
swooning out of an enormous willow hamper--
বৃষ্টিগুলো দাঁড়িয়ে আছে
একটি সাঁকোর উপর। আশ্চর্য জনক ভাবে বৃষ্টি বিন্দু গুলো সাঁকোর উপর দাঁড়িয়ে আছে।
ওরা কি সাঁকোটা পেরিয়ে এদিকে আসবে-? বাভ্রবির
ভীষণ ভালো লাগছিল সাঁকোর উপর দাঁড়িয়ে থাকা বৃষ্টি গুলিকে দেখতে--কালো এবং সাদা
জামা পরা বৃষ্টিরা তখন সাঁকোর উপর দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছিল,আর গান
গাইছিল--বাভ্রবির খুব ইচ্ছে হচ্ছিল বৃষ্টিদের সাথে গলা মেলাবার,--কিন্তু
বাভ্রবির গলায় যেন কিছু একটা আটকে ছিল--মাছের কাঁটা, অথবা
একদলা থিকথিকে কফ।বাভ্রবি আপ্রাণ চেষ্টা করেও সেই আটকে থাকা লাম্প টাকে বের করতে
পারছিল না, আবার গিলতেও পারছিল না--।
ওদিকে বৃষ্টিবিন্দুরা তখন ও সাঁকোর উপর দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছিল আর গান
গাইছিল--।
ঘুমটা ভেঙে যেতেই বাভ্রবি বুঝতে পারছিল সে আসলে একটা স্বপ্ন
দেখছিল। গলা শুকিয়ে কাঠ। সাইড টেবিলে রাখা সাইড ল্যাম্প জ্বালিয়ে দেখল রাত
প্রায় আড়াইটে। জলের জাগ থেকে গ্লাস ছাড়াই ঢকঢক করে অনেকটা জল খাবার পর তৃষ্ণা
অনেকটাই মিটল। এতবড় বিছানায় আজ বাভ্রবি একাই। যুধাজিত তিনদিনের কনফারেন্সে বোস্টন গেছে,সেখান
থেকে প্রকৃতির ইউনিভার্সিটিতে প্রকৃতির সঙ্গে দেখা করে কয়েক দিন কাটিয়ে আসবে। বাভ্রবিকে
ও বলেছিল --"চল ঘুরে আসবে--"কিন্তু এখানে কিছু কাজ পড়ে থাকায় সে
যায়নি। তাছাড়া প্রাকৃতকে একা রেখে ও বাভ্রবি যেতে চায়নি। যুধাজিত হেসে বলেছিল,
--"প্রাকৃত
কিন্তু আর কিছুদিনের মধ্যেই পড়তে চলে যাবে--। একাই--।"
বাভ্রবি একটু হেসে জবাব
দিয়েছিল।
--"জানি, আর তাইতো, যে
কয়েকটি দিন আমার কাছে আছে, আমি ওকে ছেড়ে কোথাও যেতে
চাই না--"
যুধাজিত হাত উলটে জবাব দিয়েছিল।
--"যেমনটা
তোমার ইচ্ছে--।"
তারপর একটু আনমনা হয়ে
বলেছিল,
--"প্রাকৃত
ঠিক আর পাঁচটা ছেলেদের মতো নয়-। ছোটোবেলা থেকেই কেমন যেন একটু ভীতু প্রকৃতির। সেই
তুলনায় প্রকৃতি অনেক বেশি সাহসী--।"
বাভ্রবি আনমনে জবাব
দিল--"দেখো, সবাই তো একরকম হয়
না--তাছাড়া সাহস ব্যাপারটাকে বিভিন্ন ভাবে এক্সপ্রেস ও করা যায়--"
যুধাজিত কোনও জবাব দেয়নি।
রাত জাগা একটি হুতোম প্যাঁচা
অশ্বথ্বের ডালে ডেকে উঠল। প্যাঁচার ডাকটা শুনতে শুনতে বাভ্রবির আবার জলতেষ্টা
পেলো। জল খেয়ে এবার যুধাজিতের সাইড টেবিলের দিকে নজর চলে গেল বাভ্রবির। ওদের
বিয়ের পরপর তোলা ছবি--।বাভ্রবির মুখে
লাজুক হাসি। মাথায় ঘোমটা ছিল--স্টুডিয়ো তে গিয়ে যুধাজিত ঘোমটা খুলে দিয়ে বলেছিল--"এখানে তোমার
শাশুড়ি ,ভাশুর, টাসুর কেউ নেই--সুতরাং নো
ঘোমটা।"ছবিটি হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে, থাকল।
নর্থ। নর্থ কলকাতার ঐ বাড়িতে, শিলং এর
খোলা আকাশ আর পাহাড় থেকে এসে কেমন যেন দম আটকে আসতো বাভ্রবির--। যদিও যুধাজিত
আর ওর মা ছাড়া এমনিতে আর কেউ নেই, তবু
বিয়েটা হয়েছিল ওদের সাবেকি বাড়িতে--।
যুধাজিতের বোস্টনে এখন তো
দিন--ইচ্ছে করলেই একটা কল করতে পারে বার্বি--কিন্তু না--হয়ত কনফারেন্সে
বিজি--তাছাড়া এত রাতে এখান থেকে ফোন কল--? না। থাক।
মধ্যরাত পেরিয়ে, গেছে--;বাভ্রবির জাগার সাথী এখন কেউ নেই। কোনও দিন কি ছিল? যু ধা
জিত ভীষণ প্র্যাকটিক্যাল মানুষ--। এসব
আবেগ, সাহিত্য,কবিতা নিয়ে ওর মাথা ব্যথা
নেই, নিজের প্রফেশনাল বই ছাড়া অন্য বই টই ও বিশেষ পড়ে না--।
কনফারেন্সে যাবার টিকিট কাটা
হয়ে যাবার পর হঠাৎই একদিন ওর পি এইচ ডি ছাত্রী মোনা র ফোন--।বাভ্রবি কখনোই
সুজিতের স্টুডেন্টস দের সঙ্গে -বিশেষত মহিলা স্টুডেন্টস দের সাথে বেশি সম্পর্ক
রাখে না,--মোনা ছাবড়া জোর করে ওকে ফোন করে--বিবাহিতানা, দুটি
যুধাজিত কে একদিন
বলেছিল--"সি ইজ ভেরি ইরিটেটিং! ভীষণ গায়ে পড়া। তোমাকে যখন তখন ফোন
করে--"
--"আসলে ও
একই কলেজে পড়াচ্ছে, সেই সঙ্গে পি এইচ ডি--তাই রাতের বেলা--"
বাভ্রবি হেসে
বলেছিল--"চাকরি বাঁচানোর জন্য পিএইচডি ডিগ্রির দরকার। "
যুধাজিত ,নিজস্ব
ভঙ্গিতে হেসে অথবা হাসার ভান করে বলেছিল--"ওয়েল, ইয়েস।
বলতে পারো। অনেকটা তাই।"
--"তার মানে
চাকরি বাঁচানোর জন্য যারা বাধ্য হয়ে পি এইচ
ডি করছে,নট নেসেসারিলি তারা সবাই
মেধাবী বা--ইন্টারেস্টেড ইন আরনিং, নলেজ--"
--"আরনিং, নলেজ ভুল
যাও ম্যাডাম। ওরা বেশিরভাগই মেধাবী তো নয়ই, এমনকি
ইন্টারেস্টেড ও নয়। শুধু ইন্টারেস্টেড ইন আরনিং মানি অ্যান্ড-
যুধাজিতের মুখের কথা কেড়ে
নিয়ে বাভ্রবি বলেছিল—
--"অ্যান্ড
পাওয়ার।"
যুধাজিত আনমনা হয়ে জবাব দিয়েছিল
--:হ্যাঁ, ইয়েস--ইন
অ্যাঁ ওয়ে ইয়েস।"
বাভ্রবি তেমনই হেসে বলেছিল—
--"এতে কি
সার্বিক উচ্চ শিক্ষার স্ট্যান্ডার্ড খারাপ হচ্ছে না?"
যুধাজিত একথার কোনও উত্তর দেবার আগেই ওর মুঠোফোন বেজে
উঠেছিল, আর ও ইমিডিয়েটলি --"হ্যালো, ইয়েস
ইয়েস--"বলতে বলতে অন্য রুমে চলে গিয়েছিল।
মোনা ছয়বার ফোন ও ধরবে না ঠিকই
করে রেখেছিল, কিন্তু বারবার বেজে যাচ্ছিল, তাই।
--"হ্যালো--বাভ্রবি, স্পিকিং--"
--"ম্যাডাম
মেঁ মোনা বল রঁহি হু--"
--"ওকে, হাই হাউ
আর য়ূ-?"
--"ফাইন, ফাইন, ম্যাডাম, আপ
ক্যায়সে হো?
--"আই এম
গুড--।"
--"আচ্ছা, ম্যাম, আপ ভি আ
রঁহে হ্যায় না স্যার কে সাথ?"
-"স্যার কে
সাথ,হোয়ার?"
--"আমেরিকা
মেঁ, কনফারেন্স জো হো রহা
হ্যাঁয়--"
--"নো নো, হোয়াই
সুড আই কাম উইথ হিম--"
গলায় একরাশ ন্যাকামো ঢেলে
ওপাশ থেকে উত্তর এলো।
--"প্লিজ চলো
না ম্যাম, মেঁ তো স্যার কে সাথ একেলা
পড় যাউঙ্গি--"
বাভ্রবির পা থেকে মাথা অব্দি জ্বলে উঠেছিল--রঞ্জাবৌদির
কথা মনে পড়ছিল
--:"এরকম কিছু
মেয়ে বা মহিলা আছে যারা এমন ভাবে কথা বলে যেন তোর সুজয়দার সাথে ওদের অ্যাফেয়ার
চলছে, --আসলে এরা একটা ভাঙন চায়! এরা হয়ত সুযোগ ও নিতে
চায়--আসলে মেধা তো নেই--।"
বাভ্রবি শান্ত সুরে
বলল--"ইটস নান ওব ইয়োর ওর মাই বিজনেস ।আর যতদূর আমি জানি এখান থেকে অন্তত
দশজনের একটি গ্রুপ যাচ্ছে-হিজ থ্রি স্টুডেন্টস, টু আর
ফিমেলস--অলসো গোয়িং ইন দ্যা গ্রুপ।
-সো
ডোন্ট সে ইউ আর গোয়িং এলোন --"
বলেই ফোনটা রেখে দিয়েছিল
বাভ্রবি। যুধাজিতের সাথে আর এ ব্যাপারে কথা বলতে ইচ্ছে করেনি ওর। শুধু ভাবছিল একটা
উচ্চশিক্ষার স্থলে এই নৈরাজ্য কেন?
রঞ্জাবৌদির সাথে কথা
বলেছিল--। রঞ্জাবৌদি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল,--"দ্যা ডেস
ওব লায়নস আর গন--মোস্ট প্রবেবলি আর অদূর ভবিষ্যতে আসবেও না--"
--"আমরা
তাহলে কি করব বৌদি?এভাবেই চলতে থাকবে?"
--"আমাদের আর কতটুকু ক্ষমতা বল--তবু আমি যা বুঝি, আমাদের ক্ষমতা অনুসারে কাজ করে যেতে হবে।"
--"একটা
কোল্যাপ্স করে যাওয়া সিস্টেম-এর সঙ্গে
আমরা লড়ব কি করে?"
--"জানি না।
তবু হতাশ না হয়ে কাজ করে যেতে হবে রে বাবি।"
এই বাড়িতে, লাগোয়া
মানে অ্যাটাচড বাথ নেই--বেডরুম থেকে লবি পেরিয়ে টয়লেটে যেতে গিয়ে নজরে পড়ল
প্রাকৃত অঘোরে ঘুমোচ্ছে,--সাইড
টেবিলে টেবিল ল্যাম্পটা জ্বলছে--"স্টোন ওয়াল রিডারে বুকমার্ক দেওয়া--প্রায়
শেষের পথে--প্রাকৃত পড়ছিল--একটিভিষ্ট এবং স্টোরি টেলার--Jay
London Toole এর "From New York City Trans Oral History Project Interview with
Theodore Kerr and Abram J.Lewis.
বাভ্রবি একটু অবাক
হলো--প্রাকৃত এত সিরিয়াস ধরনের বই কবে
থেকে পড়তে শুরু করল? দেখতে দেখতে ছেলেটা কেমন যেন
একটু ইনট্রোভার্ট টাইপের হয়ে যাচ্ছে--। কে জানে আমরা আমাদের পরের প্রজন্ম কে কতটা
বুঝি--ভাবতে ভাবতে বাভ্রবি নিজের ঘরে ঢুকে দেখল ওর ফোনে ওর দিদি শরণ্যার একটি
মেসেজ--"তোর সঙ্গে দেখা করতে আগামী পরশু দিল্লি আসছি। ফ্লাইট নাম্বার, টাইমিং
মেইল করেছি। দেখে নিস। এয়ারপোর্টে দেখা হবে।"
এত রাতে দিদি জেগে আছে? কেন হঠাৎই
দিল্লি আসছে কলকাতা থেকে?"
লাইটের সুইচ ওফ করতেই
অন্ধকার দৌড়ে এলো--।
ক্রমশ …………
১২০তম পর্ব
পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
.jpg)