ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
Houses,an
embassy,the hospital,
Our
neighborhood, sun- cured if trembling still
In pools
of the night's rain--
শীত রাত গল্প বলে--হঠাৎই
দমকা হাওয়া--এবং বৃষ্টির আস্বাদন। বাভ্রবির
ত্রিযামা রাত্রির শেষ যামে বৃষ্টি এলো--।
জয়পুর স্টেশনে ওদের কে
রিসিভ করতে এসেছিল অমিত এবং ওর আরো দুই বন্ধু। রঞ্জাবতী আগে থেকেই অমিতের সঙ্গে কথা বলে রেখেছিল। রতন সিং ট্রেন থেকে
নেমে লাজবন্তীকে লম্বা সেলাম জানিয়ে বলল--"গুড়িয়া বেটা,অব
ক্যায়া তুম হোস্টেল চলোগে-? চলো, তুমহারা
সামান বাগারা মেঁ লে যাতা হুঁ--।"বলেই লাজবন্তীর স্যুটকেশ হাতে তুলে নিল। অমিত কিছু বলার আগেই
বাভ্রবি বলল
--"হাঁ, হাঁ--অব
হম পয়লে হোস্টেল ই চলেঙ্গে--"
লাজবন্তী চোখ করুণ করে বলল,--"লেকিন
আন্টি--"
বাভ্রবি লাজবন্তীকে থামিয়ে
দিয়ে বলল--"কৌঈ লেকিন বেকিন নেহি হ্যাঁয় বেটা--চলো হম সব হোস্টেল হি চলেঙ্গে--।"
রতন সিং, ওদের
ট্যাক্সির পেছন পেছন--। লাজবন্তী ট্যাক্সিতে উঠে চাপা সুরে বলল--"আন্টি, অব
ক্যায়া হোগা? ইয়ে রতন তো মেরি পিছা নেহি
ছোড় রহা হ্যাঁয়-" বাভ্রবি আর রঞ্জাবতী ওকে আস্তে আস্তে বলল—
--"কুছ নেহি
হোগা, তুম পহলে তুমহারি মাম্মি পাপা কো ফোন করকে বাতা দো কি তুম জয়পুর সহি-সলামত
পৌঁছ গয়ে--"
--"লেকিন--হম
পুলিশ ষ্টেশন--"
--"জরুর
যায়েঙ্গে। পহলে হোষ্টেল যাকে লাগেজ রাখকে
তুমহারা স্যার--"
--"বৈভব
স্যার,--বৈভব উপাধ্যায়,--"
--"হাঁ, উনসে
মিলনা পড়েগা--"
--"আউর ইয়ে
রতন--"
--:চিন্তা মত
করো--ইয়ে প্রবলেম ভি হম সলভ কর লেঙ্গে-"
বৈভব, বৈভব
উপাধ্যায়। অমিত আর বৈভবকে নিয়ে লাজবন্তীর সঙ্গে ওরা চারজন পুলিশ স্টেশনে গিয়ে
যখন জোর করে চাইল্ড ম্যারেজের বিরুদ্ধে নালিশ জানালো--রতন তখন লাজবন্তীর হোস্টেলের
বাইরে একটি ধাবায় পরমানন্দে ডাল বাটি চূর্মা খাচ্ছে--আর গোঁফে তা
দিচ্ছে--।
পরের দিনই ওরা তিনজন দিল্লির
দিকে রওয়ানা দেয়,আর রতন সিং-এর সাথে লাজবন্তী
জয়সলমীরের ট্রেন ধরে। জয়পুরের সমস্ত ব্যাপারটা বৈভব উপাধ্যায় আর অমিত দেখাশোনা
করার ভার নেয়।
বৃষ্টি বেশ জোরে
হচ্ছে--বাভ্রবির ছোটোবেলায় বৃষ্টিতে ভিজতে ভীষণ ভালো লাগতো--অবশ্যই সেটা বর্ষার
বৃষ্টি। শীতকালীন বৃষ্টির জল জমে আছে কাচের জানালায়--
যুধাজিত আর সুজয় দা দুজনেই
এই লাজবন্তীর ব্যাপারটাতে জড়িয়ে পড়া
নিয়ে খুশি নয়। রঞ্জাবতী সুজয়দার সাথে আজকাল এতটাই দূরত্ব মেইনটেইন করে চলেন যে
এ ব্যাপারে কোনও রকম তর্ক,বিতর্কে যেতেই চাইলেন না--। মৃদু হেসে বলেছিলেন—
--"প্লিজ
এনিয়ে তোমায় একেবারেই ভাবতে হবে না সুজয়--আমি আমার বিষয়টা ঠিক ই সামলে নেবো।"
সুজয় দা একটু অসন্তুষ্ট
হয়ে বলেছিলেন--"কিন্তু পুলিশ টুলিশ এলে--"
রঞ্জাবতী ধীর, শান্ত
সুরে বলেছিলেন।
--"তোমার
গায়ে কোনও আঁচড় লাগবে না। আই উইল টেক কেয়ার অফ ইট।"
যুধাজিত অফিস থেকে ফিরেই বাভ্রবির
মুখোমুখি।
--"কখন ফিরলে?"
বাভ্রবি তখন সবে চা নিয়ে বসেছে।
--"এই তো
বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ। "
--"আমাকে
একটা কল করে জানিয়ে দিতে--"
--"করেছিলাম
তো--তুমি বোধহয় বিজি ছিলে--তোলো নি--"
যুধাজিত একটু আনইজি ফিল করল কি?
--"ওহ । হতে
পারে, হয়ত কোনও মিটিং-এ ছিলাম।"
বাভ্রবি চায়ের কাপে চুমুক
দিয়ে--"হ্যাঁ,হতেই পারে--। তবে মিসড কল
দেখে কল ব্যাক ও তো করতে পারতে।"
--"হুম্। তা ,তোমরা যে
এভাবে পুলিশ কেসে জড়িয়ে যাচ্ছো--এই ব্যাপারটা তো ভীষণই গোলমেলে বিষয়।"
--"চা খাবে? থার্মাসে
রাখা আছে,আনবো। আনবো?"
যুধাজিত বাভ্রবির
চোখে চোখ রেখে বলল—
--"আমার
প্রশ্ন টা এড়িয়ে গেলে?"
--"তুমিও তো
আমার প্রশ্নটা এড়িয়ে গেলে।"
যু ধা জিত উলটো দিকের চেয়ারে বসে বলল,
--"উফ।
ডিসগাসটিং--ঠিক আছে, খাবো, দাও--"থার্মোস
থেকে চা বের করে যুধাজিতের দিকে চায়ের কাপ আর বিস্কিটের প্লেট এগিয়ে দিল
বাভ্রবি।
--"নাও, এবার বলো,কি বলবে?"
বাভ্রবি এবং যুধাজিত মুখোমুখি, আমনে
সামনে--মাঝখানে চায়ের কাপ, বিস্কুট--বিড়িং গুছিয়ে
বাভ্রবির কোলে।
যুধাজিত বাভ্রবির চোখে চোখ
রেখে বলল—
--"তুমি ফ্রি
ল্যান্সিং করছো--ঠিক আছে, --কিন্তু এই যে একটার পর একটা
পুলিশ কেসে জড়িয়ে পড়ছো,--এটা ঠিক নয়।--"
--"আশ্চর্য
কথা বলছো তুমি, জিৎ সাংবাদিকের কর্তব্যই হলো
অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করা--, আমি একজন
সাংবাদিক হিসেবে আমার ডিউটি করছি মাত্র--এর বেশি কিছু নয়। লাজবন্তী মেয়েটি একাই
লড়ছিল--আমি আর রঞ্জাবউদি ওকে সাহায্য করেছি বাল্যবিবাহ আমাদের দেশে আইন বিরুদ্ধ।
যারা এই কাজ করে তারা ক্রিমিনাল। আমরা সেই অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে সাহায্য করেছি--।
এর বেশি কিছু নয়।
--"ড্যাড, মম ইজ
এবসোলিউটলি রাইট। সি হ্যাজ রাদার, দে হ্যাভ
ডান দেয়ার ডিউটি-।"
ওরা দুজনেই প্রাকৃতের কথায়
চমকে ফিরে তাকালো--কখন যে প্রাকৃত ডাইনিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, ওরা টের
পায়নি। প্রাকৃত হেসে বাভ্রবির গালে নিজের গাল আলতো ছুঁইয়ে বলল--"মাই মম ইজ
গ্রেট--অ্যান্ড আই এম অলওয়েজ প্রাউড ওব
হার।"
বিড়িং, প্রাকৃতকে
জিভ দিয়ে আদর করে বলল-"ম্যাও--"
ল্যাপটপ থেকে হাত সরিয়ে, জানালার
পর্দা সরিয়ে বাভ্রবি দেখল বৃষ্টি থেমে গেছে--আর পুব আকাশটা আস্তে আস্তে ভোরের মেঘ
ভাঙা আলোয় সাজতে শুরু করেছে--।
ক্রমশ …………
১১৯তম পর্ব
পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
