Advt

Advt

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-117th-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী

ধারাবাহিক  উপন্যাস প্রতি বৃহস্পতিবার ।

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-117th-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী
পর্ব – ১১৭

Darling, stand still at your door,

sure of yourself, a white stone,a good stone--

as exceptional  as laughter

you will strike fire,

that new thing.

জয়সলমীর থেকে ট্রেন যখন ছেড়ে দিল--লাজবন্তীর  মুখে ফুটে উঠল হাসির রেখা। দোপাট্টার ঘোমটা খুলে  জোরে বলে উঠল

--"হিপ হিপ হুররে!থ্রী চিয়ার্স পর থ্রি মাস্কেটিয়ার্স আন্টি।"

বাভ্রবি আর লাজবন্তী মুখোমুখি জানালার সীটে--রঞ্জাবতী আর রূপালী মুখোমুখি--একজন বাভ্রবির  পাশে,আর অন্য জন লাজবন্তীর  পাশে। এই  চারজন ছাড়া আপাতত  এই  কামরায় আর কেউ  নেই।  ওরা  তিনজন হেসে লাজবন্তীকে জিজ্ঞেস  করল--"ইয়ে থ্রি,মাস্কেটিয়ার্স আন্টি,--স্লোগান তু নে বানায়া বেটা?"

লাজবন্তী খিলখিল করে হেসে বলল--"বিলকুল। আগর আপলোগ না হোতে তো মেঁ ক্যায়া আজ বাহার আ সকতে?"

বাভ্রবির  ঠোঁটের কোণে একচিলতে হাসি ফুটে উঠল। শীতার্ত  রাত গল্প বলে--টেরেসের দরজা বন্ধ  করে বাভ্রবি থার্মাসে নিয়ে নিজের লেখার টেবিলে বসল। ল্যাপটপ খুলে কফির কাপে কফি ঢেলে মুখে তুলতে তুলতে, সেদিনের  ছবি--আবার  সিলোটে ভেসে উঠল।

তখন সবে ভোরের আলো,ফুটেছে--লাজবন্তীর  রুম থেকে আর্ত চিৎকার, ঘুম ভেঙে গেল লাজবন্তীর  মা-র। লাজবন্তীর বাবা তখনও  অঘোরে, ঘুমোচ্ছেন। রাতে ভালো ঘুম হয় না বলে ঘুমের ওষুধ খান--তাই এত সকাল সকাল ঘুম ভাঙে না।লাজবন্তীর  মা একাই  তাড়াতাড়ি নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে লাজবন্তীর  ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে শুনলেন লাজবন্তী জোরে জোরে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে--

--"লাজো, বেটা ক্যায়া হুয়া--"

--"মাম্মি--মেঁ মর যাউঙ্গি--"

দরজাটা ভেজানোই ছিল ঠেলতেই,খুলে গেল। পর্দার ফাঁকে, ফাঁকে রোদ্দুর--লাজবন্তী বিছানায় শুয়ে ছটফট  করছে----"মাম্মি, পেট মেঁ বহুত  দর্দ হো রহা হ্যাঁয়--।"

--" অব মেঁ ক্যায়া করু বেটা--তেরা তো কভি কভি এয়সা হোতা হ্যাঁয়--অব তু শ্বশুরাল যায়গি ,তেরা শাদি শুদা জিন্দগি শুরু হোনেওয়ালা হ্যাঁয়--। ইসকা তো ইলাজ করনা হি পড়েগা--।কুছ দাওয়াই লিয়া হ্যাঁয় বেটা--"লাজবন্তী বিছানায় শুয়ে শুয়েই বলল--"মাম্মি, দাওয়াই তো ওহি পুরানা পেইন কিলার --। ইসসে পার্মানেন্ট কিওর নেহি হোতি--"

লাজবন্তীর  মা মেয়ের কপালে হাত রেখে জলের গ্লাস  এগিয়ে দিয়ে বললেন--"বেটা ,ক্যায়া কুরু,সমঝ মে নেঁহি আ রহা --"

লাজবন্তী মার হাত থেকে জলের গ্লাস  নিয়ে এক ঢোক জল খেয়ে বলল--"মাম্মি  ,ও যো,তিন আন্টি লোগ হামারা কটেজ মেঁ আয়ে হ্যাঁয় ,না,--"

--"হাঁ--তো?"

--"তো ইসমেঁ এক আন্টি ডক্টর  হ্যাঁয়!"

লাজবন্তীর  মা চোখ বড়বড় করে বলল

--"আচ্ছা!তেরে কো,ক্যায়সে পতা?"

--"পতা হ্যাঁয়--তু আন্টি সে বাত কর লে--" টাইপ  করতে করতে এই  সংলাপে এসে বাভ্রবির  আঙুল  কী  বোর্ডের  উপর থেমে গেল।

জয়সলমীরের  কটেজের বাইরের খোলা অঙ্গনে তখন সকালিক সূর্য কণার অফুরন্ত  খেলা। ওরা তিনজন বেতের চেয়ারে বসে,সূর্য-কে দেখছিল,অমলিন  আকাশ থেকে চুঁইয়ে পড়া সূর্যের  কণা গায়ে মাখছিল--।লাজবন্তীদের গৃহপরিচারিকা চায়ের ট্রে, কাপ আর জলখাবার নিয়ে সামনের টেবিলে রাখল। পেছন পেছন লাজবন্তী আর লাজবন্তীর  মা।লাজবন্তীর  মায়ের ঘোমটা কপাল এবং মুখ ঢেকে পড়েছে পিঠে--। ওরা তিনজন উঠে দাঁড়িয়ে নমস্তে বলে চেয়ার এগিয়ে দিল।

লাজবন্তীর  মা মৃদু কন্ঠে বললেন--"আপনাদের  ব্রেকফাস্ট ,পাঠিয়েছি, আলু কি পরোঠা আর দহি। চলবে তো?"

ওরা তিনজন একসাথে বলল--"বিলকুল  ,চলেগা। হামে বহুত  পসন্দ  হ্যাঁয়--"

লাজবন্তী ওর মাকে বলল

--"মা,ম্যায়নে বলা থা না--অচ্ছা লাগেগা আন্টি লোগো কো--"

মা ঘোমটার ভেতর থেকে মৃদু হাসলেন।

লাজবন্তী বলল--"মাম্মি, অব তু যা--মেঁ জরা বাদ মে আউঙ্গি--"

ওরা তিনজন একে অন্যের  চোখে তাকাল। মা চলে যেতে লাজবন্তী একটি চেয়ারে বসে বলল-"আন্টি,পরোঠা ক্যায়সা থা?"

রূপালী ইতিমধ্যেই  খেতে শুরু করে দিয়েছে--বলল--"বহুত বড়িয়া --।বাট,লাজবন্তী, তোমরা মাকে তু তু কেন বলো? মা তো গুরুজন--কম সে কম তুম তো বলনা চাহিয়ে--"

রঞ্জাবতী আর বাভ্রবি একটি অপ্রস্তুত  হয়ে বলল--"আরে পালি,এখানে এরকমই  বলে--।"

লাজবন্তী অবাক  হয়ে বলল--"হাঁ,হমতো এয়সে হি বোলতে হ্যাঁয়--পাপা ভি তো মাম্মি কো তু হি বুলাতে হ্যাঁয়--আপলোগ মাম্মি কো ক্যায়া বুলাতে হ্যাঁয়  আন্টি?"

রঞ্জাবতী পরোঠার প্লেট হাতে নিয়ে বলল--"এক সময় মা বাবাকে বাচ্চারা আপ বা আপনি বলতো--তবে আজকাল তুমিই বলে।"

রূপালী পরোঠা খেতে খেতে বলল--"আর আমাদের  বাবা রাও ,আমাদের  মা দের কে তুই  বলে না--তুমি বলে--"

লাজবন্তী চোখ বড় বড় করে বলল--"সচ"?

লবির ঘড়িতে রাত তিনটা বাজল।হালকা আলোয় হাল্কা শব্দ  হলো--। প্রাকৃত ঘুমের ঘোরে কিছু বলতে বলতে পাশ ফিরে শুলো বোধহয়।

লাজবন্তীকে পরীক্ষা করে হালকা ওষুধ লিখে দিয়ে রঞ্জাবতী বলল

--"আগর হো সকে তো এক আলট্রা সাউন্ড করা লেনা।"

লাজবন্তীর মা বললেন--"ইহা হামারা গাঁও মেঁ তো ইসব হোতা নেহি হ্যাঁয়--শহর যানা পড়েগা--"

লাজবন্তী উঠে বসে বলল--"মাম্মি,আন্টি লোগ তো কাল জয়পুর যা রঁহে হ্যাঁয়,মেঁ চলু উনকে সাথ?হোস্টেল  মে থোড়া কাম ভী হ্যাঁয়,শাদি কে বারে মেঁ কিসি কো তো বোলি নেঁহি--ফ্রেন্ডস কো ইনভাইট  ভি কর দুঙ্গি--"

লাজবন্তীর  মা কিছু বলার  আগেই  ওর বাবা বললেন--"ঠিক হ্যাঁয়--। পর রতনলাল তেরি সাথ জায়গা      --।"

লাজবন্তীর  মুখ শুকিয়ে গেল

--"লেকিন পাপা,ও কাঁহা রয়গা?হামারা হোষ্টেল  তো গার্লস  হোষ্টেল--"

--"তু চিন্তা মত কর--ও মেঁ বন্দোবস্ত্ কর দুঙ্গা--"

জয়সলমীর স্টেশনে,ওরা চারজন, ফার্স্ট  ক্লাস লেডিস কম্পার্টমেন্টে উঠল--আর লাজবন্তীর  বডিগার্ড  সেকেন্ড  ক্লাসে নিজের বন্দুক কাঁধে উঠে পড়ল--।লাজবন্তীর  বাবাকে সেলাম করে বলল

--"সাব আপ চিন্তা মত করো,মেঁ হু না গুড়িয়া কি সাথ--"

মরুভূমির বালুরাশির  ভেতর দিয়ে ট্রেন ছুটে চলল জয়পুরের দিকে--।

ক্রমশ …………

১১৮তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার

লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন । 

লেখিকার পরিচিতি –        

জন্ম-কলকাতায়  আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা 

প্রকাশিত গ্রন্থ

১--সাপ শিশির খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)