ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
Darling,
stand still at your door,
sure of
yourself, a white stone,a good stone--
as
exceptional as laughter
you will
strike fire,
that new
thing.
জয়সলমীর থেকে ট্রেন যখন
ছেড়ে দিল--লাজবন্তীর মুখে ফুটে উঠল হাসির
রেখা। দোপাট্টার ঘোমটা খুলে জোরে বলে উঠল
--"হিপ হিপ
হুররে!থ্রী চিয়ার্স পর থ্রি মাস্কেটিয়ার্স আন্টি।"
বাভ্রবি আর লাজবন্তী
মুখোমুখি জানালার সীটে--রঞ্জাবতী আর রূপালী মুখোমুখি--একজন বাভ্রবির পাশে,আর অন্য
জন লাজবন্তীর পাশে। এই চারজন ছাড়া আপাতত এই
কামরায় আর কেউ নেই। ওরা
তিনজন হেসে লাজবন্তীকে জিজ্ঞেস
করল--"ইয়ে থ্রি,মাস্কেটিয়ার্স
আন্টি,--স্লোগান তু নে বানায়া বেটা?"
লাজবন্তী খিলখিল করে হেসে
বলল--"বিলকুল। আগর আপলোগ না হোতে তো মেঁ ক্যায়া আজ বাহার আ সকতে?"
বাভ্রবির ঠোঁটের কোণে একচিলতে হাসি ফুটে উঠল।
শীতার্ত রাত গল্প বলে--টেরেসের দরজা
বন্ধ করে বাভ্রবি থার্মাসে নিয়ে নিজের
লেখার টেবিলে বসল। ল্যাপটপ খুলে কফির কাপে কফি ঢেলে মুখে তুলতে তুলতে, সেদিনের ছবি--আবার
সিলোটে ভেসে উঠল।
তখন সবে ভোরের আলো,ফুটেছে--লাজবন্তীর রুম থেকে আর্ত চিৎকার, ঘুম ভেঙে
গেল লাজবন্তীর মা-র। লাজবন্তীর বাবা
তখনও অঘোরে, ঘুমোচ্ছেন।
রাতে ভালো ঘুম হয় না বলে ঘুমের ওষুধ খান--তাই এত সকাল সকাল ঘুম ভাঙে
না।লাজবন্তীর মা একাই তাড়াতাড়ি নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে
লাজবন্তীর ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে শুনলেন
লাজবন্তী জোরে জোরে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে--
--"লাজো, বেটা
ক্যায়া হুয়া--"
--"মাম্মি--মেঁ
মর যাউঙ্গি--"
দরজাটা ভেজানোই ছিল ঠেলতেই,খুলে গেল।
পর্দার ফাঁকে, ফাঁকে রোদ্দুর--লাজবন্তী
বিছানায় শুয়ে ছটফট করছে----"মাম্মি, পেট মেঁ
বহুত দর্দ হো রহা হ্যাঁয়--।"
--" অব মেঁ
ক্যায়া করু বেটা--তেরা তো কভি কভি এয়সা হোতা হ্যাঁয়--অব তু শ্বশুরাল যায়গি ,তেরা শাদি
শুদা জিন্দগি শুরু হোনেওয়ালা হ্যাঁয়--। ইসকা তো ইলাজ করনা হি পড়েগা--।কুছ
দাওয়াই লিয়া হ্যাঁয় বেটা--"লাজবন্তী বিছানায় শুয়ে শুয়েই
বলল--"মাম্মি, দাওয়াই তো ওহি পুরানা পেইন
কিলার --। ইসসে পার্মানেন্ট কিওর নেহি হোতি--"
লাজবন্তীর মা মেয়ের কপালে হাত রেখে জলের গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বললেন--"বেটা ,ক্যায়া
কুরু,সমঝ মে নেঁহি আ রহা --"
লাজবন্তী মার হাত থেকে জলের
গ্লাস নিয়ে এক ঢোক জল খেয়ে
বলল--"মাম্মি ,ও যো,তিন আন্টি
লোগ হামারা কটেজ মেঁ আয়ে হ্যাঁয় ,না,--"
--"হাঁ--তো?"
--"তো ইসমেঁ
এক আন্টি ডক্টর হ্যাঁয়!"
লাজবন্তীর মা চোখ বড়বড় করে বলল
--"আচ্ছা!তেরে
কো,ক্যায়সে পতা?"
--"পতা
হ্যাঁয়--তু আন্টি সে বাত কর লে--" টাইপ
করতে করতে এই সংলাপে এসে
বাভ্রবির আঙুল কী
বোর্ডের উপর থেমে গেল।
জয়সলমীরের কটেজের বাইরের খোলা অঙ্গনে তখন সকালিক সূর্য
কণার অফুরন্ত খেলা। ওরা তিনজন বেতের
চেয়ারে বসে,সূর্য-কে দেখছিল,অমলিন আকাশ থেকে চুঁইয়ে পড়া সূর্যের কণা গায়ে মাখছিল--।লাজবন্তীদের গৃহপরিচারিকা
চায়ের ট্রে, কাপ আর জলখাবার নিয়ে সামনের
টেবিলে রাখল। পেছন পেছন লাজবন্তী আর লাজবন্তীর
মা।লাজবন্তীর মায়ের ঘোমটা কপাল
এবং মুখ ঢেকে পড়েছে পিঠে--। ওরা তিনজন উঠে দাঁড়িয়ে নমস্তে বলে চেয়ার এগিয়ে
দিল।
লাজবন্তীর মা মৃদু কন্ঠে বললেন--"আপনাদের ব্রেকফাস্ট ,পাঠিয়েছি, আলু কি
পরোঠা আর দহি। চলবে তো?"
ওরা তিনজন একসাথে
বলল--"বিলকুল ,চলেগা।
হামে বহুত পসন্দ হ্যাঁয়--"
লাজবন্তী ওর মাকে বলল
--"মা,ম্যায়নে
বলা থা না--অচ্ছা লাগেগা আন্টি লোগো কো--"
মা ঘোমটার ভেতর থেকে মৃদু
হাসলেন।
লাজবন্তী বলল--"মাম্মি, অব তু
যা--মেঁ জরা বাদ মে আউঙ্গি--"
ওরা তিনজন একে অন্যের চোখে তাকাল। মা চলে যেতে লাজবন্তী একটি চেয়ারে
বসে বলল-"আন্টি,পরোঠা ক্যায়সা থা?"
রূপালী ইতিমধ্যেই খেতে শুরু করে দিয়েছে--বলল--"বহুত
বড়িয়া --।বাট,লাজবন্তী, তোমরা
মাকে তু তু কেন বলো? মা তো গুরুজন--কম সে কম তুম
তো বলনা চাহিয়ে--"
রঞ্জাবতী আর বাভ্রবি একটি
অপ্রস্তুত হয়ে বলল--"আরে পালি,এখানে
এরকমই বলে--।"
লাজবন্তী অবাক হয়ে বলল--"হাঁ,হমতো
এয়সে হি বোলতে হ্যাঁয়--পাপা ভি তো মাম্মি কো তু হি বুলাতে হ্যাঁয়--আপলোগ মাম্মি
কো ক্যায়া বুলাতে হ্যাঁয় আন্টি?"
রঞ্জাবতী পরোঠার প্লেট হাতে
নিয়ে বলল--"এক সময় মা বাবাকে বাচ্চারা আপ বা আপনি বলতো--তবে আজকাল তুমিই
বলে।"
রূপালী পরোঠা খেতে খেতে
বলল--"আর আমাদের বাবা রাও ,আমাদের মা দের কে তুই
বলে না--তুমি বলে--"
লাজবন্তী চোখ বড় বড় করে
বলল--"সচ"?
লবির ঘড়িতে রাত তিনটা
বাজল।হালকা আলোয় হাল্কা শব্দ হলো--।
প্রাকৃত ঘুমের ঘোরে কিছু বলতে বলতে পাশ ফিরে শুলো বোধহয়।
লাজবন্তীকে পরীক্ষা করে
হালকা ওষুধ লিখে দিয়ে রঞ্জাবতী বলল
--"আগর হো
সকে তো এক আলট্রা সাউন্ড করা লেনা।"
লাজবন্তীর মা
বললেন--"ইহা হামারা গাঁও মেঁ তো ইসব হোতা নেহি হ্যাঁয়--শহর যানা
পড়েগা--"
লাজবন্তী উঠে বসে
বলল--"মাম্মি,আন্টি লোগ তো কাল জয়পুর যা
রঁহে হ্যাঁয়,মেঁ চলু উনকে সাথ?হোস্টেল মে থোড়া কাম ভী হ্যাঁয়,শাদি কে
বারে মেঁ কিসি কো তো বোলি নেঁহি--ফ্রেন্ডস কো ইনভাইট ভি কর দুঙ্গি--"
লাজবন্তীর মা কিছু বলার
আগেই ওর বাবা বললেন--"ঠিক
হ্যাঁয়--। পর রতনলাল তেরি সাথ জায়গা
--।"
লাজবন্তীর মুখ শুকিয়ে গেল
--"লেকিন
পাপা,ও কাঁহা রয়গা?হামারা হোষ্টেল তো গার্লস
হোষ্টেল--"
--"তু চিন্তা
মত কর--ও মেঁ বন্দোবস্ত্ কর দুঙ্গা--"
জয়সলমীর স্টেশনে,ওরা চারজন, ফার্স্ট ক্লাস লেডিস কম্পার্টমেন্টে উঠল--আর লাজবন্তীর বডিগার্ড
সেকেন্ড ক্লাসে নিজের বন্দুক কাঁধে
উঠে পড়ল--।লাজবন্তীর বাবাকে সেলাম করে
বলল
--"সাব আপ
চিন্তা মত করো,মেঁ হু না গুড়িয়া কি সাথ--"
মরুভূমির বালুরাশির ভেতর দিয়ে ট্রেন ছুটে চলল জয়পুরের দিকে--।
ক্রমশ …………
১১৮তম পর্ব
পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
.jpg)