Advt

Advt

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-115th-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী

 ধারাবাহিক  উপন্যাস প্রতি বৃহস্পতিবার ।

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-115th-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী
পর্ব – ১১৫

Winter than summer  worse, that first, like a file

On a quick, or the poison suck of a thrilled tooth;

and still we may unpack.

মরুভূমির  রাতের  এক আশ্চর্য  ছবি--গল্প  শুনতে শুনতে হঠাৎই  রূপালী বলল -

--"এযে পুরো সিনেমার  গল্প  বলে মনে হচ্ছে বৌদি--আমরা দিল্লিতে বসে এগুলো জানতেই  পারতাম না--।

লাজবন্তীর  গল্প  তখনও শেষ হয় নি।

--"আব তো শুরু হুয়া হ্যায় আন্টি--মেরি জিন্দেগী কি কাহানী--।

রঞ্জাবতী উঠে দাঁড়িয়ে পায়চারী করতে করতে অস্থির  ভাবে বলল--"এই দেশের অলিতে গলিতে এতো কাহিনী--ভাবা যায় নারে বাবি--"

বাভ্রবি একটু আড়মোড়া ভেঙ্গে বলল

--"ভীষণ কফি খেতে ইচ্ছে করছে--।"

লাজবন্তী বলল--"আন্টি,আপনাদের  কাছে কফি পাউডার থাকলে দিন,আমি বানিয়ে দিচ্ছি--"

বাভ্রবি ওদের ব্যাগ থেকে কফির শিশি,বের করে বলল--"তোমাকে ব্যস্ত হতে হবে না। আমাদের  কাছে ইলেকট্রিক  কেটলি,চিনি,কফির পেয়ালা সব আছে--বানিয়ে নিচ্ছি।"

--"লাজবন্তী,তুমি খাবে তো?"

লাজবন্তী মৃদু হেসে বলল--"আমাদের বাড়িতে কফি খাবার চল নেই। তবে হোস্টেল ক্যানটিনে খেয়েছি। ভালই লাগে।"

চারজনে গরম কফির পেয়ালা হাতে গরম ব্লাঙ্কেট টেনে গুটিসুটি।

গল্প  বলে শীতার্ত  রাত।

মন্দিরের  উপরের সিঁড়িতে প্রায় রণং দেহি ভঙ্গিতে লাজবন্তী--নীচে দীপক  এবং তার দলবল। চোখাচোখি হতেই  দীপক  বলল

--:আরে ইয়ে তো নয়ি চিড়িয়া লাগ রহি হ্যাঁয় রে--। বহুত  খুব সুরত ভী হ্যাঁয়--তু কৌন হ্যাঁয় বে?"

দীপকের এই  নোংরা উচ্চারণ,চোখের ভঙ্গি লাজবন্তীর  মনে এক তীব্র  ঘৃণার জন্ম  দিল। ইচ্ছে হল  দেবী মায়ের হাতের ঐ খড়গ নিয়ে এক কোপে এই  নরাসুরের মাথাটা ধড় থেকে নামিয়ে দেয়। অনেক  কষ্টে নিজেকে সংযত  করে জবাব  দিল -

--"মাইন্ড ইয়োর ল্যাঙ্গুয়েজ-"

হায়েনা অথবা নেকড়ের ,অথবা  নরখাদকের মতই  তীব্র  অট্টহাসিতে ফেটে পড়েছিল  দীপক  এবং তার দলবল। দীপক হাসতে হাসতে বলেছিল

--"এই  এই  মালটাকে আমার  চাই--যা ধরে নিয়ে আয়--"

দোপাট্টা কোমরে গুঁজে রুখে দাঁড়িয়েছিল লাজবন্তী

--"খবরদার। এক পা এগুবে না কেউ--"

ওর বলার সুরে এমন কিছু ছিল ওরা থমকে দাঁড়ালো। আর ঠিক তখন ওর বডিগার্ড দৌড়ে এলো--বন্দুক হাতে--আকাশে ফায়ার  করে বলল

--"কিসকা ইতনি হিম্মত হ্যাঁয়--রাম সিং কা পোতি পর আঁখ ওঠা রহা হ্যাঁয়?"

দীপক এবং তার দলবল  স্থবির। দীপক কোনও মতে উচ্চারণ  করল

--"রাম সিং,কি পোতি? লাজবন্তী?"

লাজবন্তীর  বডিগার্ড  বন্দুক নামিয়ে বলল

--"জী হা--। আপ কৌন ,?"

ওর দলের ছেলেরা খিক-খিক করে হেসে বলল

--"ইয়ে ক্যায়া হুয়া বস? ও তো তুমহারী লুগাই হো--"। দীপক  খামোখা একটি ছেলের গালে থাপ্পড় মেরে বলল--"আবে চুপ  হো যা।"

দীপক  উপরে লাজবন্তীর  স্থির মূর্তির দিকে তাকিয়ে বলল--"আচ্ছা--তব তু হি লাজবন্তী হ্যাঁয়। মেঁ তেরি ঘুঁঘটওয়ালি তসবির দেখা থা--ইসিলিয়ে পহচানা নেঁহি।" তারপর, সাগরেদদের দিকে তাকিয়ে বলল--"অব চল--। ইসকো তো মে বাদ মেঁ দেখ লুঙ্গা--"

লাজবন্তী,মেয়েটির হাত ধরে সিঁড়ি,দিয়ে নামতে নামতে বলল--"চল,মে তুঝে ঘর তক পৌঁছা দেতি হুঁ--"

মেয়েটি চোখ বড় বড় করে বলল--"দিদি,ও আদমি আপকা শৌহর? উস আদমি আপকে লায়েক নেঁহি হ্যাঁয়। আপ তো সাক্ষাৎ দেবী হ্যাঁয়,আউর ও তো ইনসান নেঁহি,রাক্ষস হ্যাঁয়,রাক্ষস।"

লাজবন্তী ওকে,ওর বাড়ির গেটে ছেড়ে দিয়ে বলল

--"চিন্তা মত করো বহিন,দেবী মা উস রাক্ষস কো জরুর বধ করেঙ্গে।"

লাজবন্তী বাড়িতে ফিরেই  বলল--"মেঁ উস কে ঘর নেঁহী যাউঙ্গি--মেঁ ইয়ে শাদি নেঁহি মানতি হুঁ।"

লাজবন্তীর  বাড়ির লোক,বিশেষত ওর দাদাজি চিন্তিত হয়ে দীপকের বাপ দয়াল সিং কে বলল

--"তুমহারা বেটা নে ইয়ে সহি নেহি কিয়া।"

দয়াল  সিং চালাক লোক। ছেলেকে ওদের বাড়িতে নিয়ে এসে লাজবন্তীর  পায়ের কাছে ফেলে দিয়ে বলল--"মাফি মাঙ্গ্ । না লায়েক,ইয়ে লড়কি কিতনি অচ্ছি হ্যাঁয়,আউর তু--তেরা শরম নেঁহি আতি? মাফি মাঙ্গ্--"

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-115th-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী


দীপক দাঁতে দাঁত চেপে
,হাত জোড় করে,লাজবন্তীর পায়ের কাছে হাঁটু গেড়ে বসে বলল--:"মুঝে মাফ কর দো,মুঝে গলতি হো গোয়ি--"

লাজবন্তী চুপ করল। ত্রিযামা রাতের নীরবতা ভেঙ্গে রূপালী বলল--:"তারপর?তুমি ওকে ক্ষমা করে দিলে?"

লাজবন্তী দীর্ঘ নিঃশ্বাসের  সঙ্গে জবাব  দিল--"না,আন্টি আমি মাফ করি নি,আর কোনও দিন করব ও না। কারণ,আমি জানি,কুকুরের ল্যাজ কখনও  সোজা হয় না। আমার  দাদাজীর প্রচুর পয়সা,প্রচুর প্রতিপত্তি,তাই  দয়াল সিং আমাকে যেভাবেই  হোক তার জেনানা মহলে পুরতে চায়।"

--:"তুমি কি চাও,লাজবন্তী?" বাভ্রবির  প্রশ্নের জবাবে লাজবন্তী বলল--"আমি এই  বিয়েকে অস্বীকার  করতে চাই--বাল্যবিবাহ  আইনত অপরাধ। আমি আইনি সাহায্য নিয়ে এই দলদল থেকে বেরিয়ে যেতে চাই। আন্টি,আপলোগ মুঝে হেল্প  করোগে?"

--"তোমার  মা বাবা কি বলছেন?"

লাজবন্তী তেমনই  দীর্ঘ নিঃশ্বাসের  সঙ্গে জবাব  দিল--"আন্টি,আমার  মা গ্রামের মেয়ে,ছোটবেলা থেকে ব্রেইন  ওয়াশড।আমার  মা মনে করেন একবার  বিয়ে হয়ে যাওয়া মানে সাত জন্মের বন্ধন।"

--"তোমার  বাবা?"

--"পুরোপুরি পিতৃতান্ত্রিক  সমাজ ব্যবস্থায় বিশ্বাসী।"

--:"তাহলে,তোমাকে আইনি সাহায্য  করার মতো,বা সাপোর্ট  করার মতো কে আছেন?"

একটু চুপ করে থেকে লাজবন্তী জবাব  দিল--"জয়পুরে আমার  এক কলেজ টিচার আছেন--,তিনি নিশ্চিত  ভাবে আমাকে সাপোর্ট  করবেন।আন্টি,আপনারা কোনও ভাবে আমাকে জয়পুর  ফেরত যাবার বন্দোবস্ত  করে দিন।প্লিজ।আমাকে এই  দলদল সে বাহার যানে কে লিয়ে হেল্প  কিজিয়ে।"

বাভ্রবি বলল--"ঠিক  আছে। আমার  একজন জানাশোনা পত্রকার আছেন--অমিত সিংভি--।আমি তাঁর সাথে কথা বলে তোমাকে জানাবো।আপাতত তুমি তোমার  ঘরে যাও।তোমার  মা বাবা নইলে তোমাকে সন্দেহ করতে পারেন।"

কটেজের দরজা খুলতেই  এক ঝলক ঠাণ্ডা হাওয়া--শাল মুড়ি দিয়ে লাজবন্তী নিজের ঘরের সিঁড়িতে উঠে গেলে রঞ্জাবতী দরজা বন্ধ  করে বিছানায় উঠতে উঠতে বললেন

--"আমাদের  দেশের সার্বিক অন্ধকার  কাটতে এখনও  অনেক,অনেক দিন লাগবে রে বাবি--।"

কটেজের দেয়ালে একটি টিকটিকি গাঢ়তম  চোখে তাকিয়ে বলল--"ঠিক। ঠিক।ঠিক।" রূপালী

হেসে লাইট অফ করতে করতে বলল--"ব্যাটা খনার জিভ খেয়েছে তো,তাই  সব জানে।"তিনজনই হেসে গরম কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল--চাঁদ  আস্তে আস্তে আকাশ ভাঙ্গে--।

ক্রমশ …………

১১৬তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার

লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন । 

লেখিকার পরিচিতি –        

জন্ম-কলকাতায়  আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা 

প্রকাশিত গ্রন্থ

১--সাপ শিশির খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)