আজকাল সন্ত্রাস বা অ্যাটাক কথাটা শুনলেই আমাদের সকলের মনে একটা ভয় ছড়িয়ে পরে। তার ওপর যদি সে অ্যাটাক, শার্ক অ্যাটাক হয়তো কথাই নেই। “শার্ক অ্যাটাক” শব্দ দু’টো মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট, কারণ আমরা সকলেই জানি যে সমুদ্রের হাঙ্গরের আক্রমণের মুখোমুখি হওয়া মানেই মৃত্যুর আগমন বার্তা শুনতে পাওয়া। তবে শুনলে অনেকেই অবাক হবেন যে চারশো প্রজাতির শার্কের মধ্য মাত্র নয়টি প্রজাতির শার্কেরই মানুষ মারার রেকর্ড আছে। আর এই নয়টি প্রজাতির মধ্যে সবথেকে বিপজ্জনক হল গ্রেট হোয়াইট শার্ক। বিদেশে সংক্ষেপে একে GW বলেও অভিহিত করা হয়। এদের বড় বড় দাঁত নিয়ে হাঁ করে তেড়ে আসতে দেখলেই শিকারের হৃদকম্পন বন্ধ হয়ে যাবার যোগাড় হয়। মানুষদের জ্যান্ত খেতে পারে এরকম অল্পসংখ্যক জীবই পৃথিবীতে এখন বেঁচে আছে। এর মধ্যে গ্রেট হোয়াইট শার্কও একটি। যতদূর জানা গেছে যে ১৮৭৬ সাল থেকে আজ অব্ধি পৃথিবীতে গ্রেট হোয়াইট শার্কের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছে এবং হতাহত হয়েছে বহুলোক। শার্ক আক্রমণ অনেকের কাছেই বিভীষিকার কারণ। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা তো বটেই তবে যারা দেখেছেন তারাও এই ভয়ের শিকার।
এদের পাওয়া যায় অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ উপকূল, দঃ আফ্রিকা, ক্যালিফোর্নিয়া ও মেক্সিকোর সমুদ্র-সীমা, মধ্য-ভূমধ্যসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর ইত্যাদিতে। তবে এদের বেশী পরিমাণে দেখা যায় দঃ আফ্রিকার ডয়ের দ্বীপের আশপাশের জলসীমায়।
আমেরিকায় শার্ক অ্যাটাকের ঘটনা
১৯১৬ সালের জুলাই মাসে আমেরিকার নিউজার্সিতে মাত্র ১২দিনে গ্রেট হোয়াইট শার্ক পাঁচজনকে আক্রমণ করে এবং তার মধ্যে চারজনেরই মৃত্যু হয়। ১ম ঘটনাটির শিকার হন Charles
Vansant নামে এক যুবক। যখন শার্ক তাকে আক্রমণ করে, তখন সে সমুদ্রকূল থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরে ছিল। শার্ক তার বাঁ পায়ের উরু/থাই খেয়ে ফেলাতে প্রচুর রক্তক্ষরণের জন্য দু’ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
এর পাঁচদিন পরে, প্রথম ঘটনাটি যেখানে ঘটেছিল তার ৪৫ মাইল উত্তরে ঘটে। এই ঘটনায় Charles Bruder নামে এক ব্যক্তির দু’পায়ের পাতাই শার্ক কামড়ে নিয়ে চলে যায়। যদিও তার আর্ত-চিৎকার শুনে একটি লাইফবোট তৎক্ষণাৎ তাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। ঘটনাটি ঘটে সমুদ্রতীর থেকে প্রায় ৪০০ ফুট দূরে, তাই কারোর পক্ষে তার কাছে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। তাকে তীরে নিয়ে আসার সাথে সাথেই মৃত্যু ঘটে।
উপরোক্ত ঘটনার ছ’দিন পর Lester Stillwell নামে এক যুবক যখন Metawan Creek-এ বন্ধুদের সাথে সাঁতার কাটছিলেন, তখন তিনি শার্ক আক্রমণের শিকার হন।এই ঘটনাটি ঘটে দ্বিতীয় ঘটনার স্থান থেকে ৩০ মাইল উত্তরে।তার বন্ধুদের মধ্যে ফিশার সমেত অনেকেই তখন জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত: Stanley Fisher-কেও শার্ক আক্রমণ করে থাই থেকে প্রচুর পরিমাণে মাংস কেটে নেয়। তার ক্ষত এতই বেশী ছিল যে তাঁকে অপারেশন টেবিলে নিতে নিতেই তার মৃত্যু হয়। অনেকে মনে করেন প্রথম দু’টি শার্ক আক্রমণের জন্য গ্রেট হোয়াইট শার্ক (GWS) দায়ী নয়। ঐ আক্রমণ করেছিল ম্যাকো (Mako ) শার্ক বা গ্রেট হোয়াইট শার্কের সমগোত্রীয় কোন শার্ক এবং পরবর্তী বা শেষ তিনটি আক্রমণের জন্য সম্ভবত: বুল (Bull) শার্ককে দায়ী করে যেতে পারে।
১৯৬৪ সালে নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডে যে হাঙ্গরটি ধরা পড়ে, সেটি লম্বায় ছিল ১৭.৫ ফুট আর ওজন ২০৪৩ কে.জি.।
ক্যালিফোর্নিয়ার রেড ট্রায়ঙ্গেল গ্রেট হোয়াইট শার্কের আক্রমণের জন্য প্রসিদ্ধ। ১৯৮১ সালে খ্রিস্টমাস বা বড়দিনের এক-সপ্তাহ আগে Lewis Boren এবং বন্ধুরা যখন Spanish Bay-তে সার্ফিং করছিলেন তখন বোরেন গ্রেট হোয়াইট শার্কের কবলে পড়েন। পরের দিন তার ৫ফুট লম্বা সার্ফিং বোর্ড কামড়ে খাওয়া অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরে বোরেন-এর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ আধ-মাইল উত্তরে ভাসতে দেখা যায়। তাতেও দাঁত দিয়ে কামড়ানোর চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। দাঁতের কামড়ের রেডিয়াস বা ব্যাপ্তি দেখে নির্ধারণ করা হয় যে আক্রমণকারী শার্কটি ছিল ১৮-২০ ফুট লম্বা।
২০০৪ সালের ১৫ই আগস্ট মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় র্যানডি নামে এক ডুবুরীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। মেরিন অফিসিয়ালরা এবং ডাক্তারেরা বলেছিলেন যে গ্রেট হোয়াইট শার্কের আক্রমণের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। আমেরিকার ওয়েস্ট কোস্ট গ্রেট হোয়াইট শার্কের আক্রমণের জন্য বিখ্যাত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৯৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৮ জন মারা গেছেন। ২০০৮ সালের ২৫শে এপ্রিল ও একটি শার্ক অ্যাটাকের ঘটনা শোনা গেছে।
অস্ট্রেলিয়ায় শার্ক অ্যাটাকের ঘটনা
১৯৬৩ সালে রনডি ফক্স নামে এক ব্যক্তি গ্রেট হোয়াইট শার্কের দ্বারা আক্রান্ত হন। ফক্স যখন কোনক্রমে রক্তাক্ত অবস্থায় ওপরে উঠে আসেন তখন তাকে অপারেশনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। শার্ক তার দেহটিকে এত ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছিল যে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জোড়াদিতে ৪৬২টি সেলাই করতে হয়েছিল ডাক্তারদের।
১৯৮৫ সালের ৪ঠা মার্চ, Shirley Ann Durdin নামে ৩৩ বছর বয়স্কা এক মহিলা তাঁর চারটি বাচ্চাকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার Peake Bay-তে স্নান করতে নামেন, তখন তিনি স্নান করতে করতে জলের সাত-ফুট গভীরে চলে যান । আর তখনই ঘটলো এক বিপদ, প্রায় কুড়ি ফুট লম্বা গ্রেট হোয়াইট শার্ক তাকে আক্রমণ করে। তাঁর ঐ অবস্থা দেখে প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই যখন তাঁকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান, কিন্তু ততক্ষণে তাঁর মাথাটা চলে গেছে শার্কের পেটে। শুধুমাত্র পড়ে আছে মুণ্ডু-বিহীন দেহটি। এর একটু পরেই শার্কটি পুনরায় ফিরে এসে তার অবশিষ্ট দেহটি নিয়ে উধাও হয়ে যায়।
২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাসে অ্যাডেলেড-এর সমুদ্রে এক যুবক শার্কের আক্রমণে প্রাণ দেয়। এই ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে ১৮ বছরের এক যুবক সার্ফিং করার সময় সমুদ্রের জলে পড়ে গেলে দু’টি হোয়াইট শার্কদ্বারা আক্রান্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে প্রথম শার্কটি তার দেহটিকে কামড়ে অর্ধেক খেয়ে নেয় এবং বাকীটুকুর সৎকার করে অন্য শার্কটিও নিমেষের মধ্যে উধাও হয়ে যায়। দু’টি শার্কই ছিল প্রায় পাঁচ মিটার লম্বা। সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই আক্রমণ হয় জনবহুল সমুদ্রতীর থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে।
পুলিশ সূত্রের খবরে জানা যায় যে ২০০৫ সালে ২৬ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তিকে শার্ক আক্রমণ করে তার দেহের অর্ধেক খেয়ে নেয়। জুলাই মাসে পার্থ শহরের সমুদ্রের দক্ষিণে দু’টি শার্ক ২৯ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তিকে সার্ফিং এর সময় মেরে ফেলে। জানাযায় যে অস্ট্রেলিয়ায় ৪৫ জন গ্রেট হোয়াইট শার্কের আক্রমণে আহত হন এবং ২৭ জন মারা যান। ২০০৫ সালেও শার্ক অ্যাটাকের ঘটনা জানা গেছে।
সাউথ আফ্রিকায় শার্ক আক্রমণ
সাউথ আফ্রিকায় বুল শার্ক ও গ্রেট হোয়াইট শার্কের আক্রমণের তীব্রতা এতই বেশী যে সেখানে সমুদ্রতটবর্ত্তী এলাকাগুলির কাছে জলের তলায় লোহার নেট-দিয়ে রাখা হয়। কারণ শার্কের ভয়ে ভ্রমণকারীরা যাতে ডারবান আসতে ভয় না পায় সেই কারণে তারা এই পদক্ষেপ নেয়। ঐ জালে বছরে প্রায় ৬০টি ডলফিন, ৬০০ শার্ক ও অন্যান্য বহু জলজ প্রাণী ধরা পড়ে। অবশ্য তাদের পরে মুক্ত করে দেওয়া হয়। এতে দেখা গেছে বুল শার্কের আক্রমণ কিছুটা কমেছে কিন্তু গ্রেট শার্কের প্রতিনিয়ত উপস্থিতি আজও লক্ষ্য করা যায়।
মাথা জলের ওপরে থাকে
গ্রেট হোয়াইট শার্করাই শুধুমাত্র জলের ওপরে মাথা তুলতে পারে। এই ক্ষমতা তাদের জলের উপরিভাগের বড় শিকার খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। অন্যান্য শার্ক বা হাঙ্গরেরা তা পারে না। এদের বিশেষত্ব হল এরা সাধারণত জলের নীচে অতর্কিত আক্রমণ করে অসতর্ক শিকারকে চমকে দিতেই পছন্দ করে।
সর্বভুক
বাছাই করে খাওয়ার অভ্যেস হোয়াইট শার্কদের কোনকালেই ছিল না। সীল, সিন্ধুঘোটক, কখনোসখনো ডলফিন – এই তাদের স্বাভাবিক খাওয়ার মেনু, কিন্তু এই স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি আজব আরও অনেক কিছুই খাওয়ার রেকর্ড আছে তাদের। গ্রেট হোয়াইট শার্কদের পেট থেকে উদ্ধারকরা অস্বাভাবিক খাদ্যের মধ্যে বোতল, টিনের কৌটো, খড়ের টুপি, গলদা চিংড়ি ধরার ফাঁদ, এমনকি ঘড়িও পাওয়া গেছে।
দাঁতের কাহিনী
গ্রেট হোয়াইট শার্কেরা দাঁতের ব্যাপারে খুব সম্পদশালী। অবিশ্বাস্য হলেও কথাটা সত্যি। সারা জীবনে অন্তত হাজার খানেক দাঁত হারায় তারা। তার চেয়েও আশ্চর্যের হল, ওগুলোর বদলে নতুন দাঁতও পেয়ে যায় তারা। এদের ওপরের চোয়ালের সামনের সারিতে থাকে ২৬টি দাঁত, আর নীচে, সামনের সারির দাঁতের সংখ্যা হল ২৪টি। খুরের মত ধারালো দাঁতের সারির পেছনে থাকে আরও অনেকগুলো প্রতি-স্থাপনযোগ্য দাঁতের সারি। যখনই হাঙ্গরটি কোন একটা দাঁত হারায়, পেছনের সারি থেকে বদলি দাঁত সামনে চলে আসে। কি অদ্ভুত ব্যাপার তাই না?
অভিজ্ঞ সাঁতারু
সাঁতারে হোয়াইট শার্কদের হারাতে পারে এরকম প্রাণীর সংখ্যা খুবই কম। এই হাঙ্গরেরা ঘণ্টায় ৪৩ মাইল বেগে সাঁতার কাটতে পারে। অলিম্পিক গেমসের সবথেকে দ্রুত সাঁতারুর তুলনায়ও যা সাড়ে আট গুণ বেশী। একবার ক্যালিফোর্নিয়ার সাগর তীর থেকে শুরু করে বিজ্ঞানীরা একটি হোয়াইট শার্ককে অনুসরণ শুরু করেছিলেন। তাঁরা দেখেন যে সাঁতার কেটে হাওয়াই পর্যন্ত যেতে মোট ২৪০০ মাইল পথ পাড়ি দিতে শার্কটির মাত্র ৪০ দিন সময় লেগেছিল।
বিশাল-দেহী মা
একটি স্ত্রী হোয়াইট শার্ক যখন সন্তানসম্ভবা হয় তখন তার পেটে একসঙ্গে ২৪টি বাচ্চা ধারণ করার ক্ষমতা থাকে। স্ত্রীরা পুরুষদের থেকে আকৃতিতে বড় হয়। জন্মের সময় পাঁচ ফুট লম্বা ও ষাট পাউন্ড ওজনের এক একটি বাচ্চাকে দেখতে প্রায় প্রাপ্তবয়স্ক হাঙ্গরদের মতই মনে হয়। এদের আচরণগুলোও বড় হাঙ্গরগুলোর মত হয়। প্রাপ্তবয়স্ক গ্রেট হোয়াইট শার্ক লম্বায় ১০ থেকে ১৫ ফুট হয়। এ পর্যন্ত সবথেকে লম্বা যে গ্রেট হোয়াইট শার্কটির সন্ধান পাওয়া গেছে, সেটি লম্বায় ছিল সাড়ে উনিশ ফুট, পুরুষ কিংবা স্ত্রী যে কোন বিচারেই পৃথিবীর বৃহত্তম মাংসাশী মাছ এরাই।
কান দেখা যায় না
গ্রেট হোয়াইট শার্কদের কান আছে। কিন্তু তাদের কানগুলো মানুষেরা দেখতে পায় না, কারণ সেগুলো বাইরে বের করে না তারা। মাথার খুলির দু’টি ছোট ছোট সেন্সরের সাহায্যে তারা শোনার কাজটা সারে। আহত কোন মাছ বা বিপদে পড়া কোন সীল মাছের জল ছেটানোর শব্দের দিকে নিজেদের মনোযোগও কেন্দ্রীভূত করে সম্ভবত এই সেন্সরের সাহায্যেই।
আক্রমণ
এদের রঙ পুরোপুরি সাদা নয়, কিছুটা ফ্যাকাসে পেট আর কাঠ কয়লা ধূসর পিঠ এদের শিকারের নজর এড়িয়ে ঘাপটি মেরে থাকতে সাহায্য করে। জলের ওপর থেকে তাকালে অন্ধকার সমুদ্রের তলায় থাকা হোয়াইট শার্ককে সহজে দেখা যায় না। কারণ সমুদ্রের তলার গাড় রঙের সাথে এরা ভালভাবে মিশে যেতে পারে। আবার নীচে থেকে দেখলে, হালকা রঙের সাগর সমতলের সঙ্গে চমৎকার ভাবে মিশে যায় এদের ফ্যাকাসে পেট।
উত্তপ্ত শরীর
চারপাশের পরিবেশের তুলনায় গ্রেট হোয়াইট শার্কদের শরীর অনেক বেশী উষ্ণ। অন্যান্য মাছেদের ক্ষেত্রে এরকম দেখা যায় না। যে জলে এরা সাঁতার কাটে তার থেকে এই হাঙ্গরদের শরীরের তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট বেশী থাকে। এই অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে দ্রুত সাঁতার কাটতে এবং খাবার ঠিকভাবে হজম করতে এদের সুবিধে হয়।
রোজকার খাদ্য তালিকায় মানুষ নেই
মানুষদের জন্য একটি সুখবর হল যে এরা সম্ভবত মানুষখেকো না। অবশ্য কোন কোন বিজ্ঞানী এদের ‘ম্যান বিটারস’ বলেই চিহ্নিত করতে বেশী পছন্দ করেন। হোয়াইট শার্কদের শতকরা ৫০ ভাগই সাঁতারুদের আক্রমণ করে। ১৯১৬ সাল থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে সাঁতারুদের ওপর গ্রেট হোয়াইট শার্কের আক্রমণের ঘটনা ঘটে ৩৩ টি। তাতে ১৩ জনই মারা যায়। নৌকা আক্রমণ করেছে মাত্র তিনবার। তারমধ্যে নৌকা উল্টে দেয় শুধু মাত্র একবার। তবে দেখা গেছে যে এই হাঙ্গরেরা একবার কামড়েই সাধারণত পালিয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের অনুমান হল, সম্ভবত সীল কিংবা সিন্ধুঘোটকের মত মানুষের মাংসের স্বাদ এদের কাছে অত লোভনীয় নয়।
খাবার খেতে দাঁতের ব্যবহার করে না
অন্যান্য হাঙ্গরদের মত গ্রেট হোয়াইট শার্করাও খাবার চিবোতে দাঁতের ব্যবহার করে না। প্রথমে দাঁতের সাহায্যে কোন শিকারকে টুকরো টুকরো করে ফেলে পরে এই টুকরো গুলো আস্ত গিলে ফেলে।
হাঙ্গরের যম
হাঙ্গররা ভয় করে একমাত্র ছোট
একটি মাছ কে। শুনলেও আশ্চর্য লাগে। তার নাম হল আর্চিন। আর্চিন মাছ লম্বায় এক ফুটও
হবে না। কিন্তু মারাত্মক খুনে স্বভাবের। বিশেষ করে হাঙ্গরের যম এরা। এদের সারা
শরীর কাঁটায় ভর্তি। হাঙ্গর আর্চিন মাছ গিলে ফেলা মাত্র এরা শরীরটাকে গোল করে
কাঁটার বলে পরিণত করে এবং তারপর সামনে যা পায় তাই খেতে খেতে এগোয়। এভাবে এক সময়
এরা হাঙ্গরের পাকস্থলী খেয়ে পেট ফুটো করে বেরিয়ে পড়ে আর্চিন।
লেখক পরিচিতি –
কালীপদ চক্রবর্ত্তী দিল্লি থেকে প্রায় ১৮ বছর ‘মাতৃমন্দির সংবাদ’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন এবং ‘সৃষ্টি সাহিত্য আসর’ পরিচালনা করেছেন।
বর্তমানে দিল্লি থেকে প্রকাশিত 'কলমের সাত রঙ' ও www.tatkhanik.com এর সম্পাদক এবং দিল্লিতে প্রতিমাসে একটি সাহিত্য সভা পরিচালনা করেন।
দিল্লি,কলকাতা এবং ভারতবর্ষের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখেন। কলকাতার আনন্দমেলা, আনন্দবাজার পত্রিকা, সাপ্তাহিক বর্তমান, দৈনিক বর্তমান, আজকাল পত্রিকা, কবিসম্মেলন, নবকল্লোল,শুকতারা, শিলাদিত্য,সুখবর, গৃহশোভা, কিশোর ভারতী, চিরসবুজ লেখা (শিশু কিশোর আকাদেমী,পশ্চিমবঙ্গ সরকার), সন্দেশ, প্রসাদ, ছোটদের প্রসাদ, কলেজস্ট্রীট, উল্টোরথ,তথ্যকেন্দ্র, জাগ্রত বিবেক (দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির থেকে প্রকাশিত) , স্টেটসম্যান, কিশোর বার্তা, জলফর্ড়িং এবং অন্যান্য বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়। এছাড়াও আকাশবাণী কলকাতা এবং এফ এম রেডিও চ্যানেলগুলোতে লেখা পড়া হয়ে থাকে।
তাঁর প্রকাশিত বই-এর সংখ্যা ১০ টি এবং প্রকাশের পথে ২টি বই।
‘ভারত বাংলাদেশ সাহিত্য সংহতি সম্মান’, পূর্বোত্তর আকাদেমির পুরস্কার, ‘বরুণা অসি’-র গল্প প্রতিযোগিতায় পুরস্কার লাভ, আরত্রিক সম্মান, তুষকুটি পত্রিকা সম্মান, কাশীরাম দাস সম্মান, সতীনাথ ভাদুড়ী সম্মান লাভ করেন। ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবে 'আজীবন সম্মাননা' লাভ করেন। এ ছাড়া আরও কিছু পুরস্কার লাভ করেছেন।
.jpg)