আপনারা অনেকেই জানেন পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায় কোন্নগর বলে একটি জায়গা আছে ।
কোন্নগরে যেতে হলে হাওড়া থেকে ইলেকট্রিক ট্রেনে বা গ্রান্ডট্রাঙ্ক রোড ধরে বাসে
বা গাড়ীতে যাওয়া যায় । এই কোন্নগরেই ঋষি অরবিন্দ - র জন্মস্থান । কোন্নগরের নাম
আরও একটি কারণে আজকাল সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পরেছে ,সেটি হল এখানকার প্রসিদ্ধ শকুন্তলা শ্রীশ্রীরক্ষাকালী পূজার
জন্য। করোনার ভয়াবহতার জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে এই পূজা খুব বড় করে উদযাপিত হয়নি। তবে
আশা করা হচ্ছে এই পূজা, মেলা ইত্যাদি আবার পুরানো
রূপ ফিরে পাবে।
এই প্রসিদ্ধ শ্রীশ্রীরক্ষাকালী পূজা দেখতে তাই কয়েক বছর আগে পৌঁছে গিয়েছিলাম কোন্নগরে। সেবছরে পূজার দিনটি ধার্য হয়েছিল ৩ রা মে, শনিবার ।
সে বছরে কোন্নগরে পৌঁছেই জনসমুদ্র দেখে
বুঝতে অসুবিধে হল না যে আমরা ঠিক জায়গায় পৌঁছে গেছি । দেখলাম কাতারে কাতারে লোক
মন্দিরের দিকে এগিয়ে চলেছে । শকুন্তলা শ্রীশ্রীরক্ষাকালী পূজার আগের দিন ( ২ রা
মে ) রাত্রি ১২ টার পর থেকেই দেখলাম আবাল বৃদ্ধ- বনিতা সকলে প্রায় এক মাইল দূরের
গঙ্গার ঘাট থেকে ঘটি,কলসি ইত্যাদিতে জলভরে
পদ্মফুল কিনে মৌনভাবে লক্ষ লক্ষ লোক এগিয়ে চলেছে শকুন্তলা শ্রীশ্রীরক্ষাকালী
পূজার বেদীর দিকে । কারো মুখে কোন কথা নেই । সকলে সিক্ত-বসনে লাইন দিয়ে এগিয়ে
চলেছে । কিছু ভক্তদের দণ্ডী দিয়ে মন্দিরের দিকেও যেতে দেখলাম । ভলান্টিয়াররা
তাদের পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে যাতে দন্ডীযাত্রীদের গায়ে এসে কেউ না পরে ।
আশেপাশের লোকেদের জিজ্ঞাসা করে জানলাম যে তাদের মনস্কামনা পূরণ হয়েছে বলে তারা এই
কৃচ্ছসাধন করছে আবার কেউবা করছে তার বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য । অসংখ্য লোকের
ভিড় । বেশ কয়েক মাইল ধরে মেলা বসেছে। মাইকে / লাউডস্পিকারে দর্শনার্থীদের এবং
ভলান্টিয়ারদের বিভিন্ন নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সারাদিন ধরে পূজা দেওয়ার ভিড় দেখে
জিজ্ঞাসা করে জানলাম যে শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকেই নয়, ভারতবর্ষের বিভিন্ন
প্রান্ত থেকে হাজারে হাজারে ভক্তরা এসেছেন সেখানে পূজা দিতে । পূজাতে ছাগ
বলিও দেওয়ার রীতি আছে। কয়েক বছর আগে এই বলি বন্ধ করার জন্য অনেক চেষ্টা করা
হয়েছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিন্তু ধর্মান্ধ ভক্তদের বিরোধিতায় তা সম্ভব হয়নি।
এখানকার পূজা এবং মেলা দেখে মনে হল এ এক মহাযজ্ঞের প্রস্তুতি।
এই রক্ষাকালী পূজার বিশেষত্ব হচ্ছে যে
বহুলোকের মনোবাঞ্ছা এই মাকালীর কৃপায় পূর্ণ হয়েছে এবং হচ্ছে। এই মন্দিরে
মাকালীর স্থায়ী কোন মূৰ্ত্তি নেই । এই কালীমূর্তির দুই হাত মাত্র এবং জিহ্বাও
দেখা যায় না। মায়ের মূর্তি ওই নির্ধারিত দিনেই তৈরি হয় এবং সূর্য অস্তযাওয়ার
পর মায়ের মূর্তি মৃৎশিল্পীর নিকট থেকে শোভাযাত্রা সহকারে সোনার অলঙ্কারে সাজিয়ে
মাতৃ প্রতিমাকে সাজিয়ে কাঁধে করে মন্দিরের বেদীতে আনা হয় ।
মন্দিরে বেদীটি শ্বেতপাথর দিয়ে বাঁধানো ।
মন্দির এবং মন্দির পরিসর ফুল ,মালা ও বৈদ্যুতিক আলো দিয়ে
সাজানো । চারিদিকে এক অপরূপ দৃশ্য । এই কালীপূজাকে শুধুমাত্র পূজা বললে ভুল হবে, এ এক মহাযজ্ঞের সমান । এর প্রস্তুতি আমাকে হতবাক করে
দিয়েছিল । এই কয়েকদিন মহামন্দির সংলগ্ন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয় । কোন্নগর
মহাতীর্থের রূপ নেয় ।
সন্ধে হতেই আমি মায়ের মূর্তির আগমন দেখতে
গিয়ে দেখি যে অগণিত মানুষ রাস্তার দু’ধারে ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে । তিল ধারণের
জায়গা নেই। বহু কষ্টে এবং বহু ঘুরে পেছনের দিক দিয়ে স্থানীয় লোকেদের সাহায্য
নিয়ে কোনরকমে একটু জায়গা করে নিয়েছিলাম । খবর নিয়ে জানলাম যে অন্যেরা নাকি দু -
তিন ঘন্টা আগে থেকেই জায়গা নিয়ে মাতৃ দর্শনের জন্য দাঁড়িয়ে। এত ভিড় ছোটবেলায়
একবার শ্রীরামপুরে মাহেশের রথ দেখতে গিয়ে দেখেছিলাম বলে মনে পড়ল । সন্ধেবেলা
থেকেই এত ভিড় হয় যে স্থানীয় বহুলোকেরাই মাতৃ দর্শনে বিফল হন । বলে তারা মায়ের
আগমন ও প্রস্থান দেখেই মাকে প্রণাম জানান । হঠাৎ শুরু হল কালবৈশাখী ঝড় এবং বৃষ্টি , কিন্তু আশ্চর্য হলাম দেখে যে ভীড় একটুও কম হলোনা , ওই বৃষ্টির মধ্যেও সকলে দাঁড়িয়ে রইল মাতৃ দর্শনের আশায় ।
ঝড় - বৃষ্টি এবং বিদ্যুৎ চমকানো কমবে বলে মনেই হচ্ছিল না । ভেবেছিলাম এ যাত্রায়
হয়তো মাতৃ দর্শন আর হল না । মনে হল
ভক্তদের আর্তনাদ হয়তো মায়ের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল । হঠাৎ ঝাড় - বৃষ্টি এবং
বিদ্যুৎ চমকানো বন্ধ হয়ে গেল । জয় মা কালী , জয় মা কালী ধ্বনি ভেসে আসতে লাগল । দেখলাম মাকালীর
মূর্ত্তি কাঁধে নিয়ে ভক্তরা প্রায় এক মাইল দূর থেকে জয়ধ্বনি দিতে দিতে রাস্তা
দিয়ে এগিয়ে আসছে । সেই সময় দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তদের মধ্যে থেকে সকলে
বাতাসা , ফল ,
ফুল
ইত্যাদি ছুড়ে দিয়ে মাকে স্বাগত করে উলুধ্বনি দিতে থাকেন । মাকালীর বরাভয়
মূর্ত্তি দেখে আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম এক অন্য জগতে। এইসময়ে ভক্তদের আপ্লুত
ভাবাবেগের দৃশ্য আমাকে মুগ্ধ করে দিয়েছিল । এ এক অদ্ভুত আকর্ষণ। এক অপার্থিব টান
। সেদিন মায়ের প্রতি সন্তানের ভালবাসাকে প্রকট হতে দেখেছিলাম । মনে হল সত্যিই মা
আমাদের বরাভয় দাত্রী , করুণাময়ী। সারারাত ধরে
মাতৃ আরাধনা চলল । স্থানীয় কেবল চ্যানেলেও এই পূজা সরাসরি দেখানো হল। কিন্তু
পূজা চলাকালীন মায়ের দর্শনের ইচ্ছা দমিত করতে না পেরে , এক অদৃশ্য শক্তির পূজার টানে ভিড়ের ধাক্কা উপেক্ষা করেও
মাতৃদর্শণ করে ফিরে আসি ।
পূজা শেষে ভোর রাতে মায়ের মূর্তটি
কাঁধে-করে ঢাক,ঢোল ইত্যাদি সহকারে গঙ্গায়
বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় । এই পূজা উপলক্ষে বেশ কয়েক মাইল এলাকা জুড়ে
মেলা বসে এবং চলে প্রায় সাত দিন ধরে । কি নেই এই মেলাতে ? মরণ কূপ থেকে বই - এর দোকান পর্যন্ত , সব আছে। আছে প্রতিদিনের ব্যবহার্য সামগ্রী থেকে উপহার
দেওয়ার সামগ্রী পর্যন্ত । অর্থাৎ এককথায় সব পাবেন এই মেলায় । বেশকিছু দোকান
চোখে পড়ল যারা শুধু মাত্র তিন টাকার জিনিষ বিক্রি করছে,অন্য কিছু দোকান শুধুমাত্র পাঁচ টাকার জিনিষ ও দশ টাকার
জিনিষ বিক্রি করছে । আমার ভাবতেও অবাক
লাগছিল যে এখনও তিন,পাঁচ এবং দশ টাকায় ভাল ও
ব্যবহার্য্য জিনিষ পাওয়া যায় ।
এই ধরণের মেলা দেখতে এসে তার ইতিহাস জানার
জন্য মনটা খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছিল তাই কর্মকর্তাদের একজনকে ধরলাম , ভদ্রলোকের নাম শ্রীযুক্ত শঙ্কর পোড়েল । উনি আমাকে নিয়ে
গেলেন ওই ট্রাষ্টের সভাপতি, শ্রীযুক্ত প্রভাসলাল দাসের
কাছে (বর্তমানে উনি আর বেঁচে নেই)। ভদ্রলোক খুবই বিনয়ী , নম্র, শিক্ষিত এবং উৎসাহী দেখলাম
। ভদ্রলোক বাংলাভাষায় পণ্ডিত ব্যক্তি । বিদ্যালয়ের বাংলা ভাষার শিক্ষক ছিলেন ।
বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত । ওই বছরের পূজার সভাপতি শ্রীযুক্ত বাসুদেব জালুই এবং যুগ্ম
সম্পাদক , শ্রীযুক্ত সুবীর জানা ও
শ্রীযুক্ত বরুণ সামন্ত - কে ব্যস্ততার মধ্যে খুঁজে না পেয়ে শ্রীযুক্ত প্রভাস লাল
দাস মহাশয়কেই ধরলাম এর ইতিহাস জানার জন্য এবং তখন তাঁর কাছেই জানলাম যে আজ থেকে
একশো বছরের ও আগে ১২৯৭ বঙ্গাব্দে এই শকুন্তলা শ্রীশ্রীরক্ষাকালী পূজা প্রথম শুরু
হয় । সেই থেকে প্রতিবছর বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষের শনিবার দিন এই শকুন্তলা
শ্রীশ্রীরক্ষাকালী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এখানকার এই পূজা সম্বন্ধে ১৬ ই মে , ১৯৯০ সালে যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবর ও কোন্নগর
নিয়ে লেখা একটি বইতেও এই পূজার উল্লেখ আছে তিনি দেখালেন ।
জনশ্রুতি অনুযায়ী স্বর্গীয় দেবেন্দ্ৰ
নাথ চক্রবর্তী একদিন বেশী রাত্রে উত্তর কোন্নগরের বঙ্কিম চ্যাটার্জ্জী ষ্ট্রীটের
যজমানের বাড়ি পূজা সেরে ফেরার পথে বাঞ্ছারাম মিত্র লেন এবং এস সি চ্যাটার্জ্জী
স্ট্রীটের সংযোগস্থলে দূরথেকে এক মহিলাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন । তিনি যতই এগিয়ে
আসেন , সেই মহিলা ততই দূরে সরে যেতে থাকেন এবং
অবশেষে বর্তমানে যেখানে মন্দির সেখানে গিয়ে মিলিয়ে যান এবং রাত্রে ঘুমে তিনে
স্বপ্নাদেশ পান ওখানে মন্দির বানিয়ে পূজা দেওয়ার জন্য । পরেরদিন তিনি স্থানীয়
লোকেদের এক বৈঠক ডাকেন এবং তাঁর স্বপ্নের কথা সকলকে খুলে বলেন । তখন সেই সভায়
সিদ্ধান্ত হয় যে , যে স্থানে মায়ের মূর্তটি
বিলীন হতে দেখা গিয়েছিল সেই জায়গাতেই মায়ের পূজা করা হবে এবং পূজা করার ভার
দেওয়া হয় দেবেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী মহাশয়কে । তখন ওই এলাকাতে লোকবসতি বিশেষ ছিল
না । উত্তরদিকে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বট ,
পাকুড়
প্রভৃতি বড় বড় গাছ ছিল । উত্তরদিকে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বাগান , পশ্চিমদিকে ভাগাড় ,
দক্ষিণে
পায়ে - চলা পথ । এইসব গাছে বাসা বেধে থাকতো শকুন পাখী – তা থেকেই হল “ শকুন্তলা ' ।
কথিত আছে যে ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন
ইংরেজ সৈনিকেরা এই মন্দিরের আশেপাশে ক্যাম্প করেছিল , তখন তাদের দাপটে পূজা যাতে বন্ধ না হয় তাই স্থানীয় লোকেরা
সাহসিকতার সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে পূজা বন্ধ হতে দেন নি । প্রথমদিকে উদ্যোক্তাগণ বাঁশ
, নারকেল পাতা ইত্যাদি দিয়ে নিজেরাই তৈরি করতেন অস্থায়ী
পূজামণ্ডপ । ১৩৩৫ বঙ্গাব্দে মায়ের মন্দির প্রথম নির্মিত হয়। পরে নাটমন্দির এবং
চূড়াসহ বর্তমান মন্দিরটি পুনঃ-নির্মিত হয় । প্রতি শনি ও মঙ্গলবার (বিশেষ কয়েকটি
দিন ব্যতীত ) সমস্ত বৎসর ঘট স্থাপনা করে দিনের বেলায় মায়ের পূজা ও সন্ধ্যায়
সন্ধ্যারতি হয় । এছাড়া হরিনাম সংকীর্তন,
বিভিন্ন
মহোৎসব, মা দুর্গা, লক্ষ্মী , শ্যামাকালী, সরস্বতী দেবীর পূজাও বারোয়ারী কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয় । এই
বারোয়ারী কমিটির কাজকর্ম মূলতঃ ধর্মীয় হলেও এই প্রতিষ্ঠানের সমাজকল্যাণমূলক কাজেও
বিশেষ অবদান আছে। পূজার উদ্বৃত্ত অর্থ,ভক্তদের দেয়া প্রণামী , এককালীন দান ইত্যাদি থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় , দাতব্য হোমিওপ্যাথিক ,
এ্যালোপ্যাথিক
, চক্ষু , দন্ত , চর্ম , মেডিসিন ব্যাঙ্ক ইত্যাদি
বিভাগ গুলি পরিচালনা করা হয় । এই পূজার মন্ত্র শুধু সেবা – পীড়িত , আর্ত , শোষিত মানুষের সেবা ।
লেখক পরিচিতি –
কালীপদ চক্রবর্ত্তী দিল্লি থেকে প্রায় ১৮ বছর ‘মাতৃমন্দির সংবাদ’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন এবং ‘সৃষ্টি সাহিত্য আসর’ পরিচালনা করেছেন।
বর্তমানে দিল্লি থেকে প্রকাশিত 'কলমের সাত রঙ' ও www.tatkhanik.com এর সম্পাদক এবং দিল্লিতে প্রতিমাসে একটি সাহিত্য সভা পরিচালনা করেন।
দিল্লি,কলকাতা এবং ভারতবর্ষের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখেন। কলকাতার আনন্দমেলা, আনন্দবাজার পত্রিকা, সাপ্তাহিক বর্তমান, দৈনিক বর্তমান, আজকাল পত্রিকা, কবিসম্মেলন, নবকল্লোল,শুকতারা, শিলাদিত্য,সুখবর, গৃহশোভা, কিশোর ভারতী, চিরসবুজ লেখা (শিশু কিশোর আকাদেমী,পশ্চিমবঙ্গ সরকার), সন্দেশ, প্রসাদ, ছোটদের প্রসাদ, কলেজস্ট্রীট, উল্টোরথ,তথ্যকেন্দ্র, জাগ্রত বিবেক (দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির থেকে প্রকাশিত) , স্টেটসম্যান, কিশোর বার্তা, জলফর্ড়িং এবং অন্যান্য বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়। এছাড়াও আকাশবাণী কলকাতা এবং এফ এম রেডিও চ্যানেলগুলোতে লেখা পড়া হয়ে থাকে।
তাঁর প্রকাশিত বই-এর সংখ্যা ১০ টি এবং প্রকাশের পথে ২টি বই।
‘ভারত বাংলাদেশ সাহিত্য সংহতি সম্মান’, পূর্বোত্তর আকাদেমির পুরস্কার, ‘বরুণা অসি’-র গল্প প্রতিযোগিতায় পুরস্কার লাভ, আরত্রিক সম্মান, তুষকুটি পত্রিকা সম্মান, কাশীরাম দাস সম্মান, সতীনাথ ভাদুড়ী সম্মান লাভ করেন। ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবে 'আজীবন সম্মাননা' লাভ করেন। এ ছাড়া আরও কিছু পুরস্কার লাভ করেছেন।
