Advt

Advt

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-114th-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী

ধারাবাহিক  উপন্যাস প্রতি বৃহস্পতিবার ।

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-114th-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী
পর্ব – ১১৪

I have gone out ,a possessed witch,

haunting the black air,braver at night;

dreaming evil,I have done my hitch

over the plain  houses,light by light:

রাম সিং এর গ্রামে আজ উৎসব। আজ গোটা গ্রাম সেজে উঠছে আনন্দ-উৎসবে। রাম সিং এর স্ত্রী-র দেহান্ত হয়েছে অনেক দিন।রাম সিং,তাঁর ছোট-ছেলে,ছেলের ব আর দুই নাতি কে নিয়ে নিজেদের জমিজমা দেখাশোনা করেন;একসময় মুখিয়া ছিলেন,এখন রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন,বয়স-জনিত কারণে। আজ রামসিং এর বাড়ী উৎসবময়। তাঁর একমাত্র  পোতি আজ আসছে। সেই  পোতির বয়স যখন ছিল পাঁচ বছর,তখন প্রথা মেনে এই  গ্রামের ই দয়াল সিং এর ছেলে দীপক  সিং এর শাদি হয়। দীপকের বয়স ছিল দশ। আজ এতদিন পর পোতি লাজবন্তী গ্রামে আসছে--দীপকের মা বাবা তাদের পুত্র বধূকে নিজেদের ঘরে নিয়ে যাবেন। দুজনের  যুবক,যুবতী-এবার দুজনে মিলে সুখে ঘর সুসার করবে--কোল জুড়ে বংশধর আসবে।

গল্পটি বলতে বলতে এখানে এসে তেতো হাসল লাজবন্তী।

--"মুঝে তো ইয়ে সারে পতা নেহি থা।  মেঁ তো উহা যাকে চক গয়ী। মাম্মি সে পুঁছি তো মাম্মি চুপ বৈঠি।

--:"মাম্মি আজ তো কোঈ তেওহার নেহি হ্যাঁয়,ফির

বলতে বলতে ওদের গাড়ি গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই ছুটে এলো ওর চাচী, ওর মাথায় দোপাট্টার ঘুঁঘট টেনে দিয়ে বলল--"বেটা শর ঢাক লে--;তেরা শ্বাস,শ্বশুর ভি --"

--:মতলব?"ছিটকে চাচির হাতের বেষ্টনী থেকে সরে গেল লাজবন্তী।--

--"আন্টি,তব মুঝে পতা চলা কি বচপন মেঁ ট্র্যাডিশন মোতাবেক  মেরি শাদি কোঈ এক দীপক কে সাথ হো গিয়া।"

রাতের নৈঃশব্দ্য  ভেঙ্গে বাইরে একটি ময়ূর কেকারব করে উঠল,আর ভেতরে লাজবন্তী একটি চাপা দীর্ঘশ্বাস  ফেলল।

--"তারপর?"রূপালী উৎকণ্ঠিত  সুরে প্রশ্ন  করল।

--"তারপর?"একটু চুপ করে থেকে লাজবন্তী বলে গেল সেই  সব কাহানী--

লাজবন্তী কে পুরোপুরি অন্দর মহলে জিম্মা করে দেওয়া হল।সেখানে চলল  ওকে ঘষা-পিটা করে মেয়ে থেকে নারী বানাবার  প্রচেষ্টা।

রূপালী এবার  একটু হেসেই জিজ্ঞেস  করল

--"নারী নির্মাণ? সেটা আবার  কি?"

বাভ্রবি আর রঞ্জাবতী একসাথে বলে উঠল

--"এটা একটা বিশালতম প্রক্রিয়ারে পালি। আমরা কেউ নারী হয়ে পৃথিবীতে আসি না,আমাদের  কে প্রতিনিয়ত  নারী বানানোর প্রক্রিয়ার  মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়।

লাজবন্তী তেতো সুরে বলল

--"হ্যাঁ,আন্টি--একদমই  তাই। আমাকে তাই  করা হল। প্রথমেই  আমার  হাত থেকে খাতা কলম কেড়ে নেওয়া হল-তারপর দোপাট্টায় ঢেকে দেওয়া হল মুখ--বাইরে যাওয়া বন্ধ  হল। কিন্তু  লাজবন্তী সেরকম মেয়ে ছিল না,যাকে জোর করে গৃহবন্দী করে রাখা যাবে।সে জেদ ধরে বসল যে তাকে বাইরে বেরুতে না দিলে,সে ভুখ হরতাল  করবে। লাডলি বেটি,লাডলি পোতির আবদারে অগত্যা রাজি হতে হল রাম সিং,এর পরিবার। তবে শর্ত রাখা হল,লাজবন্তী যখনই  বাইরে যাবে তখনই  ওর সঙ্গে একজন বডিগার্ড থাকবে।

--:"বডি-গার্ড?"

ওদের  তিনজনের যুগপৎ প্রশ্নে লাজবন্তী খিলখিল  করে হেসে উঠল।

রূপালী বলল--"তোমাকে শব্দ করে হাসলে,খুব সুন্দর  লাগে--"

--"বডিগার্ড? কেন?"

--" একচুয়েলি বডিগার্ড নয়,আমার পেছন পেছন স্পাই লাগানো হল।" লাজবন্তীর  হাসি আবার  বেজে উঠল।

--"হুঁ,তারপর?"

লাজবন্তী ভালকরে পা মুড়ে খাটের কোণে বসে শুরু করল

পরের দিন সকাল  হতেই, ধূপ,দিয়া,নিয়ে লাজবন্তী চলল দেবী মার মন্দিরে পুজো দিতে--।মরুভূমির বালুরাশির  উপর দেবীমার মন্দির --বড় জাগ্রত। পুজো করে যখন বেরিয়ে আসছে তখন ই দীপক  কুমার--অর্থাৎ ওর বচপনের বিয়ে হওয়া সোয়ামীর সাথে ওর প্রথম মুলাকাত!

-কেমন ছিল সেই  প্রথম সাক্ষাত?"

আবার  ও হাসল লাজবন্তী।

--"ক্যায়সা থা?"

লাজবন্তী পুজোর আরতি শেষ করে প্রসাদী থালি নিয়ে মন্দির চত্বর থেকে বেরুতেই একটি ষোলো সতেরো বছরের মেয়ে র সঙ্গে একেবারে আমনে সামনে।দুজনের ধাক্কা লাগল,মেয়েটি যেহেতু উপরে উঠছিল, তাই হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল,লাজবন্তী ওকে তাড়াতাড়ি  দুহাতে জড়িয়ে ধরে বলল--"কি হয়েছে?ইতনা জলদি-বাজি কিঁউ?"

মেয়েটি এবার ভীত চকিত সুরে বলল

--:দিদি,মুঝে বচা লিজিয়ে--ও মেরে পিছে পড় গিয়া--"

--",কৌন?"

মেয়েটি তাড়াতাড়ি লাজবন্তীর  পেছনে লুকিয়ে পড়তেই  দেখল তিন টি ছেলে দূর থেকে চিৎকার  করে বলছে-"আবে,কাঁহা গয়ি ও লেড়কি--"

একজন বলল

--চিন্তা মত করো গুরু--হম উসকো পাকড় কে লে আয়েঙ্গে--"

ওদের তিনজনই  আকণ্ঠ  মদ গিলেছিল--।অবাক  হল লাজবন্তী।এই  সকাল বেলা মদ খেয়ে তিনটি জওয়ান  ছোকরা একটি কিশোরীর পেছনে ধাওয়া করছে?ছিঃ।

মেয়েটি কাঁপছিল।ফিসফিস  করে বলল

--"দিদি,ও লোগ বহুত  খতরনাক হ্যাঁয়--"

লাজবন্তী মেয়েটিকে মন্দিরের  ভেতরে যেতে যেতে বলল

--"কৌন হ্যাঁয় ও লোগ?"

মন্দিরের  চাতালে বসে মেয়েটি বলল

--"গ্রাম প্রধান দয়াল সিং এর বেটা দীপক সিং আর ওর ইয়ার দোস্ত।"

স্তম্ভিত  লাজবন্তীর  হাত থেকে দেবীর  প্রসাদী থালি পড়ে গেল---কাঁসার বাসন পড়ার ধাতব  শব্দে সিঁড়ি ধরে উঠে আসা ,হাতে বন্দুক  ছেলেটি, সোজা চোখ তুলে উপরে তাকাতেই  লাজবন্তীর  চোখে চোখ পড়ল--মেয়েটি বেতস লতার মত কাঁপতে কাঁপতে বলল

---'দীপক  সিং--ও মুঝে উঠাকে লে যায়গা--।"

লাজবন্তীর  সমস্ত  শরীর এক লহমায় শক্ত,ইস্পাত  কঠিন। এক শরাবি,এক রেপিষ্টের চোখে চোখ রেখে লাজবন্তী মেয়েটিকে আড়াল  করে লড়াই  এর জন্য  প্রস্তুত  হল--।

ক্রমশ …………

১১৫তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার

লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন । 

লেখিকার পরিচিতি –        

জন্ম-কলকাতায়  আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা 

প্রকাশিত গ্রন্থ

১--সাপ শিশির খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)