ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
It
moves.They are all alive.
Evening
the moon bulges in it's orange irons
to push
children,like a god,from its eye.
The old
unseen serpent swallows up the stars.
তারা এবং তারাদের মেহফিল।
আজি এতো তারা আকাশে--
--"আচ্ছা,রবিঠাকুর
এই গানটি কি জয়সলমীরের এই কটেজে বসে,খোলা আকাশ
দেখতে দেখতে লিখেছিলেন?"বাভ্রবির এই কথা
শুনে রূপালী আর রঞ্জাবতী একসঙ্গে খিল খিল করে হেসে উঠল--
বাভ্রবি,নিজেও
ওদের হাসির সুরে সুর মেলালো।
ওরা তিনজন জয়সলমীরের একটি
গেস্ট হাউসের খোলা ছাদে—
ওরা এই গেস্ট হাউসের ই একটি কটেজে এসে উঠেছে।এখন,এই তারাভরা রাতে …
মাদুর বিছিয়ে আধশোয়া;জয়পুর থেকে ওরা ট্রেনে চলে এসেছিল জয়সলমীর। অমিত
ওদের জয়সলমীরে কটেজ বুক করতে সাহায্য
করেছিল। এসময়টা জয়সলমীরে ভীষণ টুরিস্ট দের ভিড় হয়। তাই কটেজ পাওয়া খুব মুস্কিল। ওরা ভিড়-ভাট্টার
এরিয়া থেকে একটু দূরে একটি গ্রামের,মধ্যেই থাকাটা পছন্দ
করেছিল। এই কটেজটি এখানকার
গ্রামেরই এক পঞ্চায়েত সদস্যের কটেজ। গতকাল
ওরা জয়সলমীর ফোর্ট দেখতে
গিয়েছিল----
--"আইয়ে,আইয়ে,মুকুল
বাড়ি দেখ লিজিয়ে--" গাইড রা সবাই
জোরে জোরে বলছিল।
রূপালী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস
করল
--"মুকুল,বাড়ি
--এটা আবার কি গো বউদি?"
বাভ্রবি হেসে বলল
--"সোনার কেল্লার "শুটিং,এখানেই হয়েছিল। সত্যজিৎ রায়ের সিনেমাটি এতো জনপ্রিয় হয়েছিল,যে এটার
নাম মুকুলবাড়ি হয়ে গেছে।"রঞ্জাবতী ফোর্টের কাছে যেতে যেতে
--"দ্যাখ,তোরা,কি
সুন্দর!সকালের রোদ পড়েছে কেল্লার গায়ে--আর পুরো কেল্লাটি কেমন ঝকমক করে
উঠেছে--"
রূপালী গভীর বিস্ময়ে বলে উঠেছিল
--"হ্যাঁ গো
রঞ্জা বউদি--সত্যিই যেন মনে হচ্ছে
সোনার কেল্লা।"
বাভ্রবি কেল্লার একটি ছবি ওর
মুভি ক্যামেরায় তুলতে তুলতে বলল
--সেন্ড
স্টোন! রোদ পড়লেই সোনা--এই পালি,তুই আর বউদি সামনে গিয়ে দাঁড়া তো--কেল্লার সাথে
তোদের দুজনের একটি ছবি তুলব।
--"কিরে বাবি,ঘুমিয়ে
পড়লি নাকি?এখুনি কিন্তু
ডিনার নিয়ে আসবে।"
রঞ্জা বউদির কথায় বাভ্রবি সোনার কেল্লা থেকে জয়সলমীরের
কটেজে ফিরে এলো।
--"না বউদি
ঘুমোই নি।"
--"আচ্ছা,আমরা
বর্ডারের ভীষণ ই কাছে তাই না বউদি?"রূপালীর প্রশ্নের জবাবে রঞ্জা বউদি একটু আনমনা সুরে
জবাব দিলেন
--"হুঁ।আজ
বিকেলে আমি একা একা হাঁটতে হাঁটতে প্রায় বর্ডার অব্দি চলে গিয়েছিলাম--এই ধূধূ মরু বালু--এর ই মধ্যে সীমান্ত চিহ্ন। খুব অবাক লাগছিল, জানিস!"
বাভ্রবি বালিশে কাত হয়ে
আধশোয়া হয়ে বলল
--"কোথায়
খুঁজে ফেরো তুমি কল্পিত সীমান্ত চিহ্ন-
আসলে রেডক্লিফ সায়েব এসি রুমে আয়েসে বসে কফি পান করতে করতে
কলমের একটি খোঁচায় ভারতবর্ষ কে দ্বি-খণ্ডিত করেছিলেন--আর ভারতের কয়েকজন সেটা মেনে নিয়েছিলেন-এবং আপামর জনসাধারণের
জীবনে নেমে এসেছিল এক মহা-বিপর্যয়।"
---আন্টি,আপলোগ,নীচে
ডাইনিং রুম পে আ যাইয়ে,ডিনার ইজ রেডি।"
এই কটেজের মালিক পঞ্চায়েত সদস্য
রাজেশ সিং এর মেয়ে লাজবন্তী-মিষ্টি হেসে ছাদে দাঁড়িয়ে।
লাজবন্তী জয়পুরে হোস্টেলে
থেকে কলেজে পড়ছে।পড়াশোনায় ভীষণই ভাল।
--"চলো
--"
ওরা তিনজন উঠে
দাঁড়ালো--আকাশ ভরা তারার আলোয় লাজবন্তীর হলুদ সলমা জরির দোপাট্টা ঝলমলিয়ে উঠল।
সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যেতে
যেতে এরকম সংলাপ
--"লাজবন্তী,তুমি তো
পড়াশোনায় ভীষণ ভাল--তা,তুমি কি হতে চাও,মানে
তোমার জীবনের লক্ষ্য কি?"
লাজবন্তীর চোখ ওরা কেউ দেখতে পাচ্ছিল না,দেখতে
পেলে ওরা ওর দুচোখে বিদ্যুতের ঝিলিক দেখতে
পেতো--ওরা ওর শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠ স্বর
শুনতে পেলো
--"আই এস
অফিসার হতে চাই আন্টি।"
--"বাহ্।দারুণ।"বলল
রূপা।
--"কেন,লাজবন্তী,বিশেষ
কোনও উদ্দেশ্য আছে তোমার?"
বাভ্রবি আর রঞ্জাবতী একসাথে
প্রশ্ন করল।বাভ্রবির কেবলই মনে হচ্ছিল
এই ১৯ বছরের মেয়েটির জীবনে কোথাও কোনও
গল্প আছে--লাজবন্তী সিঁড়ি
ভাঙ্গছিল
পেছনে তাকিয়ে বলল
--"আমি
ভারতবর্ষের মেয়েদের জীবন থেকে একটা নিদারুণ অভিশাপ মুছে ফেলতে চাই আন্টি।"
ওরা তিনজনই অবাক হয়ে একসাথে জিজ্ঞেস করল
--"সেটা কি
লাজবন্তী?"
লাজবন্তী ঘুরে দাঁড়িয়ে,বলল
--"চাইল্ড ম্যারেজ। বাল্যবিবাহ। "
ওরা তিনজন অবাক হয়ে বলল
--"সেতো
কবেই ভারতবর্ষে বন্ধ হয়ে গেছে!ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর--"
ওদের কথা শেষ হবার আগেই
লাজবন্তী কেমন আচমকাই জোরে হেসে
উঠল।কাঁচ কাঁচ সেই হাসি টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ল---রাতের
তারা,সুনসান মরুবালুরাশি ও কি
লাজবন্তীর সুরে হেসে উঠল?
ওরা প্রায় নীচে পৌঁছে গেছে,লাজবন্তীর মার গলা শোনা গেল ঘোমটার আড়ালে
--"লাজো,ইতনি
জোরসে লড়কিয়োঁকি হাসনা নেঁহি চাইয়ে--"
লাজবন্তী ওর দৃপ্ত চোখ তুলে
শ্লেষের সুরে বলল
--"আন্টি,আপলোগ শুন রহে না-মেরী পূজনীয়া মাতাজি ক্যায়া বোল
রঁহে ?"
ওরা তিনজন নির্বাক তাকিয়ে
থাকল লাজবন্তীর সুন্দর, দৃপ্ত
মুখের দিকে--বাভ্রবির আবার মনে হলো
--লাজবন্তীর কোনও
গল্প-আছে--গল্প টি কি?
ডাইনিং হলে ,ডাইনিং,টেবিলে
ওদের তিনজনকে বসতে বলে ফিসফিস করে
লাজবন্তী বলল
--:"আই নিড
ইয়োর হেল্প।আজ রাতে আপনাদের ঘরে আমি
আসব--দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়বেন
না--প্লিজ।
ওরা কিছু বলার আগেই
লাজবন্তীর মা,দুজন
পরিচারিকার সাথে খাবারের প্লেট নিয়ে এগিয়ে এলেন--।উজ্জ্বল বিজলি বাতির আলোয় ঘোমটা পরা তিন নারীকে কেমন
রূপকথার দেশের মানুষ মনে হতে লাগল---
ক্রমশ …………
১১৩তম পর্ব
পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)