Advt

Advt

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-112th-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী

ধারাবাহিক  উপন্যাস প্রতি বৃহস্পতিবার ।

পর্ব – ১১২

 

It moves.They are all alive.

Evening the moon bulges in it's orange irons

to push children,like a god,from its eye.

The old unseen serpent swallows  up the stars.

তারা এবং তারাদের মেহফিল। আজি এতো তারা আকাশে--

--"আচ্ছা,রবিঠাকুর এই  গানটি কি জয়সলমীরের এই  কটেজে বসে,খোলা আকাশ দেখতে দেখতে লিখেছিলেন?"বাভ্রবির  এই  কথা শুনে রূপালী আর রঞ্জাবতী একসঙ্গে খিল খিল করে হেসে উঠল--

বাভ্রবি,নিজেও ওদের হাসির সুরে সুর মেলালো।

ওরা তিনজন জয়সলমীরের একটি গেস্ট হাউসের খোলা ছাদে—

ওরা এই  গেস্ট হাউসের ই একটি কটেজে এসে উঠেছে।এখন,এই  তারাভরা রাতে

মাদুর বিছিয়ে আধশোয়া;জয়পুর  থেকে ওরা ট্রেনে চলে এসেছিল জয়সলমীর। অমিত ওদের জয়সলমীরে কটেজ বুক করতে সাহায্য  করেছিল। এসময়টা জয়সলমীরে ভীষণ টুরিস্ট দের ভিড় হয়। তাই  কটেজ পাওয়া খুব মুস্কিল। ওরা ভিড়-ভাট্টার এরিয়া থেকে একটু দূরে  একটি গ্রামের,মধ্যেই  থাকাটা পছন্দ  করেছিল। এই  কটেজটি এখানকার গ্রামেরই এক  পঞ্চায়েত সদস্যের  কটেজ। গতকাল  ওরা জয়সলমীর ফোর্ট  দেখতে গিয়েছিল----

--"আইয়ে,আইয়ে,মুকুল বাড়ি দেখ লিজিয়ে--" গাইড রা সবাই  জোরে জোরে বলছিল।

রূপালী অবাক  হয়ে জিজ্ঞেস  করল

--"মুকুল,বাড়ি --এটা আবার  কি গো বউদি?"

বাভ্রবি হেসে বলল

--"সোনার  কেল্লার "শুটিং,এখানেই  হয়েছিল। সত্যজিৎ  রায়ের সিনেমাটি এতো জনপ্রিয় হয়েছিল,যে এটার নাম মুকুলবাড়ি হয়ে গেছে।"রঞ্জাবতী ফোর্টের কাছে যেতে যেতে

--"দ্যাখ,তোরা,কি সুন্দর!সকালের রোদ পড়েছে কেল্লার গায়ে--আর পুরো কেল্লাটি কেমন ঝকমক করে উঠেছে--"

রূপালী গভীর বিস্ময়ে বলে উঠেছিল

--"হ্যাঁ গো রঞ্জা বউদি--সত্যিই  যেন মনে হচ্ছে সোনার  কেল্লা।"

বাভ্রবি কেল্লার একটি ছবি ওর মুভি ক্যামেরায় তুলতে তুলতে বলল

--সেন্ড স্টোন! রোদ পড়লেই  সোনা--এই  পালি,তুই  আর বউদি সামনে গিয়ে দাঁড়া তো--কেল্লার সাথে তোদের দুজনের একটি ছবি তুলব।

--"কিরে বাবি,ঘুমিয়ে পড়লি নাকি?এখুনি কিন্তু  ডিনার  নিয়ে আসবে।"

রঞ্জা বউদির  কথায় বাভ্রবি সোনার কেল্লা থেকে জয়সলমীরের কটেজে ফিরে এলো।

--"না বউদি ঘুমোই নি।"

--"আচ্ছা,আমরা বর্ডারের ভীষণ ই কাছে তাই না বউদি?"রূপালীর  প্রশ্নের জবাবে রঞ্জা বউদি একটু আনমনা সুরে জবাব  দিলেন

--"হুঁ।আজ বিকেলে আমি একা একা হাঁটতে হাঁটতে প্রায় বর্ডার অব্দি চলে গিয়েছিলাম--এই  ধূধূ মরু বালু--এর ই মধ্যে সীমান্ত  চিহ্ন। খুব অবাক  লাগছিল, জানিস!"

বাভ্রবি বালিশে কাত হয়ে আধশোয়া হয়ে বলল

--"কোথায় খুঁজে ফেরো তুমি কল্পিত  সীমান্ত  চিহ্ন-

আসলে রেডক্লিফ  সায়েব এসি রুমে আয়েসে বসে কফি পান করতে করতে কলমের  একটি খোঁচায় ভারতবর্ষ  কে দ্বি-খণ্ডিত  করেছিলেন--আর ভারতের কয়েকজন  সেটা মেনে নিয়েছিলেন-এবং আপামর  জনসাধারণের  জীবনে নেমে এসেছিল  এক মহা-বিপর্যয়।"

---আন্টি,আপলোগ,নীচে ডাইনিং রুম পে আ যাইয়ে,ডিনার  ইজ রেডি।"

এই  কটেজের মালিক পঞ্চায়েত  সদস্য  রাজেশ সিং এর মেয়ে লাজবন্তী-মিষ্টি হেসে ছাদে দাঁড়িয়ে।

লাজবন্তী জয়পুরে হোস্টেলে থেকে কলেজে পড়ছে।পড়াশোনায় ভীষণই  ভাল।

--"চলো --"

ওরা তিনজন উঠে দাঁড়ালো--আকাশ ভরা তারার আলোয় লাজবন্তীর হলুদ সলমা জরির দোপাট্টা ঝলমলিয়ে উঠল।

সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যেতে যেতে এরকম সংলাপ

--"লাজবন্তী,তুমি তো পড়াশোনায় ভীষণ ভাল--তা,তুমি কি হতে চাও,মানে তোমার  জীবনের লক্ষ্য  কি?"

লাজবন্তীর চোখ ওরা কেউ  দেখতে পাচ্ছিল না,দেখতে পেলে ওরা ওর দুচোখে বিদ্যুতের  ঝিলিক দেখতে পেতো--ওরা ওর শান্ত  অথচ দৃঢ় কণ্ঠ স্বর শুনতে পেলো

--"আই এস অফিসার  হতে চাই  আন্টি।"

--"বাহ্।দারুণ।"বলল রূপা।

--"কেন,লাজবন্তী,বিশেষ কোনও  উদ্দেশ্য  আছে তোমার?"

বাভ্রবি আর রঞ্জাবতী একসাথে প্রশ্ন করল।বাভ্রবির  কেবলই মনে হচ্ছিল এই  ১৯ বছরের মেয়েটির জীবনে কোথাও  কোনও  গল্প  আছে--লাজবন্তী সিঁড়ি ভাঙ্গছিল

পেছনে তাকিয়ে বলল

--"আমি ভারতবর্ষের  মেয়েদের  জীবন থেকে একটা নিদারুণ  অভিশাপ মুছে ফেলতে চাই আন্টি।"

ওরা তিনজনই অবাক  হয়ে একসাথে জিজ্ঞেস  করল

--"সেটা কি লাজবন্তী?"

লাজবন্তী ঘুরে দাঁড়িয়ে,বলল

--"চাইল্ড  ম্যারেজ। বাল্যবিবাহ। "

ওরা তিনজন অবাক  হয়ে বলল

--"সেতো কবেই  ভারতবর্ষে বন্ধ  হয়ে গেছে!ঈশ্বর চন্দ্র  বিদ্যাসাগর--"

ওদের কথা শেষ হবার  আগেই  লাজবন্তী কেমন আচমকাই  জোরে হেসে উঠল।কাঁচ  কাঁচ সেই  হাসি টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ল---রাতের তারা,সুনসান  মরুবালুরাশি ও কি লাজবন্তীর  সুরে হেসে উঠল?

ওরা প্রায় নীচে পৌঁছে গেছে,লাজবন্তীর  মার গলা শোনা গেল ঘোমটার আড়ালে

--"লাজো,ইতনি জোরসে লড়কিয়োঁকি হাসনা নেঁহি চাইয়ে--"

লাজবন্তী ওর দৃপ্ত চোখ তুলে শ্লেষের সুরে বলল

--"আন্টি,আপলোগ  শুন রহে না-মেরী পূজনীয়া মাতাজি ক্যায়া বোল রঁহে ?"

ওরা তিনজন নির্বাক তাকিয়ে থাকল লাজবন্তীর  সুন্দর, দৃপ্ত মুখের দিকে--বাভ্রবির  আবার  মনে হলো

--লাজবন্তীর  কোনও  গল্প-আছে--গল্প টি কি?

ডাইনিং হলে ,ডাইনিং,টেবিলে ওদের তিনজনকে বসতে বলে ফিসফিস  করে লাজবন্তী বলল

--:"আই নিড ইয়োর হেল্প।আজ রাতে আপনাদের  ঘরে আমি আসব--দরজা বন্ধ  করে ঘুমিয়ে পড়বেন না--প্লিজ।

ওরা কিছু বলার  আগেই  লাজবন্তীর  মা,দুজন পরিচারিকার সাথে খাবারের প্লেট নিয়ে এগিয়ে এলেন--।উজ্জ্বল  বিজলি বাতির আলোয় ঘোমটা পরা তিন নারীকে কেমন রূপকথার দেশের মানুষ  মনে হতে লাগল---

ক্রমশ …………

১১৩তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার

লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন । 

লেখিকার পরিচিতি –        

জন্ম-কলকাতায়  আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা 

প্রকাশিত গ্রন্থ

১--সাপ শিশির খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)