Advt

Advt

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-111th-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী

ধারাবাহিক  উপন্যাস প্রতি বৃহস্পতিবার ।

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-111th-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী

পর্ব – ১১১

Outside  the New world winters in grand dark

White air lashing high thro' the virginity stands

Foxes down foxholes  sigh-

শীত এবং শীতের  শিকল আষ্টে পৃষ্ঠে দিল্লিকে বেঁধে রেখেছে। রোদহীন বিবর্ণ দিনগুলি যেন সূর্যি ডোবার আগেই  শেষ হয়ে যায়। প্রকৃতি চলে গেছে বেশ ক'দিন হলো। প্রাকৃত ও হয়ত শীগ্গিরই  পাড়ি দেবে আমেরিকা।

--"মম,আমার যাবার  ইচ্ছে ছিল না--আমি এই  দেশেই  থাকতে চেয়েছিলাম--কিন্তু--।"

--"তোর বন্ধু,সাগরের কি খবর?"

--"সাগর ও হয়ত আমেরিকাই চলে যাবে--"

--"তোরা দুই বন্ধু কি একসাথেই প্ল্যান করছিস?"

বাভ্রবি হালকা সুরে জিজ্ঞেস  করল।

প্রাকৃত একটু সময় নিয়ে জবাব  দিল

--"ঠিক একসাথে নয় মম,একই ইউনিভার্সিটিতে আমরা যে পাব,সেটা কিন্তু  নয়--"

--"হুম। ওর বাড়ির খবর কি রে?"

--"একই রকম। স্টেপ মম কে তো ও একেবারেই  সহ্য করতে পারছে না--শুধু বাবার জন্যই"

বাভ্রবি হিটারের,পাশে বসে,রামদীনের স্টোরির শেষ পর্ব লিখছিল।

হাতে দস্তানা পরে টাইপ করা মুশকিল--বিকেল চারটে--বাইরে ঘন কুয়াশায় অন্ধকার  নেমে আসছে--।

রামদীন আর মারিয়ার বিবাহিত জীবন সুন্দর  চলছিল--রোজ ক্লাস টেন দেবে। ভালই রেজাল্ট  করবে আশা করা যায়--রাতে মারিয়া রামদীনের পাশে শুয়ে আস্তে আস্তে বলল

--"রোজের  একজন ভাই বা বোন এলে খুব ভাল  হয়, নাগো?"

রামদীন  হেসে বলল

--"মেঁ রোজ বিটিয়া কে সাথ বহুত খুশ হুঁ। মুঝে আউর বাচ্চা  নেঁহি চাইয়ে।"

মারিয়া ঘন হয়ে বলল

--"মুঝে চাহিয়ে-"

রামদীন  জানে মারিয়ার এই  বয়সে এবং দীর্ঘ দিন যৌনকর্মী হিসেবে,কাজ করায় ওর পক্ষে সন্তান  ধারণ খুব একটা সহজ ব্যাপার  হবে না — চাঁদ বিবি ও ওদের  বিয়ের সময় রামদীন  কে বলেছিলেন যে একটি এবরশন এবং রেগুলার  বার্থ কনট্রোল  খাবার জন্য  হয়ত ভবিষ্যতে ওর সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে।

রামদীন  হেসে বলেছিল

--"মুঝে মারিয়া চাইয়ে,ব্যস।"

চাঁদবিবি খুব খুশি হয়েছিলেন। রামদীনের  মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন--"বেটা,মেঁ বহুত খুশ হুঁ।"

রামদীন  বাভ্রবি কে গল্প  বলা থামিয়ে বলেছিল

--"ম্যাডাম জী,চাঁদ বিবির মত ব্রথেলের মৌসি আমি কখনও  দেখিনি,শুনিনি। সবসময় শুনে এসেছি ব্রথেলের মালকিনরা ধান্ধাওয়ালীদের কোঠীর বাইরে বেরুতে দেয় না--শাদী,মহব্বত  তো দূর কি বাত।"

বাভ্রবির হাত কী বোর্ডে থমকে গেল।সত্যি--ব্রথেলের  মাসি বা মালকিনরা স্বভাবতই  ভীষণ খারাপ হয়--চাঁদ-বিবির  মত কোঠী মালকিন সে  নিজেও কখনও  ভাবতে পারে না।

রামদীনের  দীর্ঘ  নিঃশ্বাসের শব্দ? না,বিড়িং আর ওর বোনঝি কালচু বুড়ি--চুপিচুপি বাভ্রবির  কোল ঘেঁষে। এই  ভয়াবহ,রোদহীন ঠাণ্ডার  দাপটে ওদের অসহনীয় অবস্থা। বাভ্রবি কী বোর্ড  থেকে হাত সরিয়ে দুজনকে দুহাতে জড়িয়ে ধরতেই ওরা গুটিসুটি মেরে শুয়ে পড়ল। বাভ্রবির  মনে পড়ল,কালচুর মা  ওকে জন্ম  দিয়ে মরে গেলে এই  বিড়িং ওর বোনের মেয়েটিকে,নিজের বাচ্চাদের  সাথে দুধ খাইয়ে বড় করেছে। আজ ওর বাচ্চাদের  চাইতেও এই  কালচু ওর সাথে লেপ্টে থাকে। আবার  রামদীনের  কথা মনে পড়ল

--"ম্যাডাম জী,মেঁ তো রোজ বিটিয়া কি সাথ ইতনি খুশ থী,ইতনী খুশ থী  কি মুঝে আপনা বাচ্চা চাইয়ে হী নেঁহি থী।পর-"

--"পর?"

দীর্ঘশ্বাস  ফেলে রামদীন  বলেছিল

--"মারিয়া কি জিদ কি আগে মুঝে ঝুকনা পড়া। মারিয়া প্রেগন্যান্ট হো গয়ি আউর বহুত  বহুত খুশ থী। রোজ বিটিয়া ভী বহুত  খুশ থী--।"

--"ফির--"

--"ফির,ওহি হুয়া জিসকা মুঝে ডর থা--"

বাভ্রবির কোলের কাছে বিড়িং,আর কালচু নড়ে চড়ে উঠল। বাভ্রবি ওদেরকে কোল থেকে নামিয়ে দিতেই  দুজনে কার্পেটের উপরে,হীটারের পাশে এবার  হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ল।

বাভ্রবি আবার  কী বোর্ডে আঙ্গুল রাখল। অন্তঃসত্ত্বা  অবস্থার দিনগুলি মারিয়া ভীষণ ভাবে এনজয় করছিল--একটি শিশুর  জন্ম  হবে তাই এতো এতো আয়োজন--নকশিকাঁথা রচনা,দোল দোল দোলুনি,এবং অনেক অনেক  খেলনা,ভালবাসায় নিজেদের ছোট্ট  ঘরটি একা একাই  সাজিয়ে তুলছিল মারিয়া।

--"একা একা কেন?"

বাভ্রবির  প্রশ্নের  জবাবে রামদীন  বলেছিল

--"মেরা বিলকুল ইন্টারেস্ট  নেঁহি থা।"

--"কিঁউ রামদীন?"

--:কারণ আমি জানতাম  মারিয়া কে আমি আর ধরে রাখতে পারব না। হলো ও তাই--ইমম্যাচিওর বেবীর জন্ম  দিতে গিয়ে মা আর বাচ্চা দুজনেই চলে গেল।বেবিটি এক সপ্তাহ  মতন ভেন্টিলেশনে ধুঁকে ধুঁকে শ্বাস নিচ্ছিল--।"

বাভ্রবি কিছুক্ষণ  চুপ করে থেকে জিজ্ঞেস  করেছিল

--"মারিয়ার  ছেলে হয়েছিল,না মেয়ে?"

রামদীন  তেতো হেসে বলল

--"জানি না। জিজ্ঞেস  করিনি। আমার  কোনও  উৎসাহ ছিল না--"

কী বোর্ড  থেকে হাত সরিয়ে আড়মোড়া ভেঙ্গে লবি থেকে আস্তে আস্তে নিজের বেডরুমে যেতে যেতে বাভ্রবি দেখল প্রাকৃতের ঘর খোলা--একটি বই পড়তে পড়তে ও ঘুমিয়ে পড়েছে--কৌতূহল  নিয়ে বইটি হাতে তুলে নিয়ে ও একটু চমকেই উঠল--"The Stonewall Reader".একেবারেই  রিসেন্ট পাবলিকেশন--। এরকম একটি বই প্রাকৃত পেলো কোথায়? পাতা উল্টে দেখল-এটা ওকে সাগর গিফট করেছে!

--"তাই বলো। সাগরের দেওয়া বই বলেই আমার  ছেলের এতো ইন্টারেস্ট!"

বাইরে কুয়াশারা মেহফিল  জমিয়েছে--বাভ্রবি অন্ধকার ঘরে সুইচে হাত রাখতেই  বেডরুম আলোকিত। বাভ্রবি একে একে পর্দা টেনে দিল--।

ক্রমশ …………

১১২তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার

লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন । 

লেখিকার পরিচিতি –        

জন্ম-কলকাতায়  আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা 

প্রকাশিত গ্রন্থ

১--সাপ শিশির খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)