Advt

Advt

hem-kundal-story-galpo-by-bama-chakraborty-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-হেম-কুন্ডল-গল্প-বামা-চক্রবর্তী

 

hem-kundal-story-galpo-by-bama-chakraborty-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-হেম-কুন্ডল-গল্প-বামা-চক্রবর্তী

প্রাচীন ভারতে বিশাল নামক নগরে হেমকুণ্ডল নামে এক প্রবুদ্ধ ব্রাহ্মণ থাকত। হেমকুণ্ডল জন্ম থেকে সুবর্ণের মতো তেজস্বী,বেদ বেদাঙ্গের জ্ঞাতা,অনুষ্ঠান আদি বিষয়ে বিজ্ঞ ও দান পুণ্যের মহিমা জানত। কিন্তু ওর একটা দুর্বলতা ছিল,সে লোভী ও রাগী স্বভাবের ছিল। যজ্ঞ অনুষ্ঠান করাত কিন্তু মন ভগবানের চেয়ে ধন সংগ্রহ করার চেষ্টায় থাকত। যজমানদের থেকে বেশী দক্ষিণা নিত আর কখনো কখনো বেশী দক্ষিণা নেওয়ার জন্য ছলনাও করত। ওর মনে দয়া মায়ার লেশ মাত্র ছিল না।  বাড়িতে ভিখারি ভিক্ষা চাইতে আসলে তাকে বকাবকি দিয়ে তারিয়ে দিত,ছোট ছোট কথায় রেগে যেত।

এত জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও সে নিজের দোষ বুঝতে পারতো না। এই কথা হেমকুণ্ডলকে কে বোঝাতেও পারতো না। এই ভাবে দিন কাটতে  লাগলো এবং এক সময় জীবনের দিন প্রায় শেষ হল। একদিন মৃত্যুর সময় হল,যমদূত হেমকুণ্ডলকে নিয়ে গেল। যমালয়ে ওর কর্মের খাতা খোলা হল,দেখা গেল বেদের জ্ঞানকে এ শুধু ধন সংগ্রহের কাজে লাগিয়ে  ছিল,কিন্তু জীবনে সৎ কাজের মাত্রা বেশি  দেখা গেল না,উল্টো রাগে অনেকের ক্ষতি করেছে,তাই যমরাজ আদেশ দিলেন আগামী জন্মে ব্যাধ (শিকারি) হবে। তাই হল,হেমকুণ্ডলের জন্ম এক ব্যাধ পরিবারে হল ।

এবার হেমকুণ্ডল বনে বনে ঘোরে আর সব জীব জন্তুদের মেরে জীবন যাপন করতে লাগলো । কিন্তু কর্ম ও সংস্কার কখনো সম্পূর্ণ ভাবে নষ্ট হয় না তাই পূর্ব জন্মের জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক সংস্কার ওর আত্মায় গভীর ভাবে মিশে ছিল। একদিন বৈশাখ মাসে প্রচণ্ড গরম,চারদিক রোদে খাঁ খাঁ করছে, পশু পাখি জলের জন্য ব্যকুল,গরম বাতাস চারদিকে অগ্নিবর্ষণ করছে। ঠিক এমন সময় শঙ্খ মুনি নামের একজন  সন্ন্যাসী ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন,প্রচণ্ড গরমে জল তেষ্টায় উনি ব্যকুল হয়ে হাঁটতে লাগলেন। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ  উনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান,ঠিক সেই সময় ওই ব্যাধ লুকিয়ে শিকারের অপেক্ষা করছিল। মুনির পড়ে যাওয়ার আওয়াজ শুনে নার কাছে আসে। ঋষিকে দেখে কঠোর হেমকুণ্ডলের মনে দয়া ভাব জাগরিত হল,মুনিঋষিকে তুলে একটা গাছের ছায়ার নিচে বসিয়ে ওর কাছে রাখা জল মুনিকে খাওয়াতে লাগল আর গাছের পাতা দিয়ে হাওয়া করতে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যে মুনি জ্ঞান ফিরে পেলেন । তারপর মুনি নিজের শীতল ও মধুর স্বরে হেমকুণ্ডলের সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন। মুনির কথা হেমকুণ্ডলের হৃদয়ে গেঁথে গেলো । মুনির কথায় ভাবে বিভোর হয়ে বলল আমি কি বদলাতে পারি! মুনি বলল যদি মন স্থির করে  ঈশ্বরের চিন্তা কর তাহলে কেউ বদলাতে পারে,সে যত নিষ্ঠুর বা কঠোর হোক,সকলের হৃদয় পরিবর্তন সম্ভব ।       

লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।  

লেখিকার পরিচিতি ঃ-    

জন্ম বিহারের কিশানগঞ্জ । প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর কিষানগঞ্জেই । আঞ্চলিক বার্ষিক পত্রিকা, ই-ম্যাগাজিন তাৎক্ষনিক.কমে অণুগল্প, ছোট গল্প, প্রবন্ধ লেখালেখি করেন । ওনার প্রথম গ্রন্থ ‘নবরত্ন’(গল্পগুচ্ছ) । বই পড়া, ভ্রমণ ও আধ্যাত্মিকতায় রুচিশীল এবং কুসংস্কার বিরোধী ।