আলো খুব মিষ্টি স্বভাবের,শান্ত,বুদ্ধিমতী মেয়ে। জ্যেঠু জেঠিমার চোখের মণি সে । বিকেলে মাঠে খেলতে যায়
বড় দুজন দিদির সঙ্গে । সেখানে বড় দাদারা ক্রিকেট খেলে আর ওরা বল কুড়িয়ে দেয় ।
সঙ্গী দিদিরা মাঠে থাকলেও সন্ধ্যার আগেই আলো বাড়িতে ফিরে আসে । মাঝে মাঝে এক দিদি
গল্প করতে দুজন দাদার সঙ্গে মাঠের বাইরে যায়,আবার কিছুক্ষণ
পর ফিরেও আসে । আলোকে কেউ ডাকলেও মাঠ ছেড়ে কোথাও যায় না । হঠাৎ একদিন ঐ দিদিটাকে
দুই দাদা ডেকে নিয়ে মাঠের বাইরে যাবার পর সে আর ফিরে আসে না। সন্ধ্যা হয়ে যায়
কিন্তু আলোর চিন্তার শেষ নেই । বাড়ি ফিরে সে জ্যেঠুকে দিদির নামে অভিযোগ করে ।
প্রায় রাত সাড়ে সাতটার সময় ফোন করে ওই দিদির বাড়ি
থেকে জানতে চায়,আলোরা ফিরেছে কিনা ! আলো সব কথাই তাদের
জানায়,এবং এও জানায় যে দুটো দাদার সঙ্গে দিদিকে কথা বলতে দেখেছে। ওই দাদা
দুজনের নাম সে জানে না কিন্তু তাদের একজনকে অন্য একদিন পাড়ারই কোণের বাড়িটায় ঢুকতে
দেখেছিল।
সেই সূত্র ধরেই জ্যেঠু ও দিদির বাবা খুঁজতে বেরোয় ।
অবশেষে কিছুক্ষণের মধ্যেই মেয়েটিকে খুঁজে পাওয়া যায় । আলোর বুদ্ধিতেই মেয়েটি
বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পায় ।
পরেরদিন থেকে আলোকে মাঠে যেতে দেওয়া হয় না। পাশাপাশি
বাড়ির ভাই দাদারা মাঠে যাচ্ছে অথচ তার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা! বিকেলে তার হাত ধরে
জেঠিমা হাঁটতে বেরোয় । সে জেঠিমার কাছে এর কারণ জানতে চাইলে আসল বিষয় না বলে
জেঠিমা অন্য গল্প করে । আলোর মনে সন্দেহ জাগে,সে কিছুতেই
বুঝতে পারেনা,যে মাঠটা তার নিরাপদে খেলার স্থান ছিল,হঠাৎ সেটা কেন অশান্তির কারণ হয়ে উঠলো ! আলোর সরল মনে দুঃখের মেঘ ঘনিয়ে
আসে ! সে বুঝতেই পারে না __ কি এমন হল !!
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
লেখিকার পরিচিতি –
শিক্ষকতা ও সংসার সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে সাহিত্য চর্চার সময়ে টান পড়েছিল এক সময়ে। মনের সুপ্ত বাসনা মনেই লুকিয়ে ছিল । সময় পেলেই খাতা, কলম নিয়ে বসে যান লিখতে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখেন। মনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অনুভূতিগুলো বেড়িয়ে আসে কবিতা হয়ে। কবিতাকে ভালবেসে ফেলেছেন।
.jpg)