রাজা চন্দ্রগুপ্ত প্রাচীন ভারতের মহান সম্রাট ছিলেন, উনি নিজের
গুরু চাণক্যের সাহায্যে নন্দ বংশের অন্তিম শাসক ধনানন্দকে হারিয়ে মৌর্য
সাম্রাজ্যের স্থাপনা করেন এবং মাত্র ২৫ বছর বয়সে মগধের সিংহাসনে বিরাজমান হন আর
মগধ সাম্রাজ্যের শাসন নিজের হাতে তুলে নেন, তারপর সম্পূর্ণ ভারতকে এক
সাম্রাজ্যের অধীনে আনতে সফল হন ।
আমরা সম্রাট
চন্দ্রগুপ্তের অনেক গল্প শুনেছি,এখন
তার বাল্যকালের একটি ন্যায় বিচারের গল্প শোনাবো
। বাল্যকালে একদিন চন্দ্রগুপ্ত খেলারচ্ছলে একটি পাথরের উপর রাজার মত বসে এবং তার বন্ধুরা নিচে তার দুই দিকে বসে এবং তারমধ্যে দুই বন্ধু
ফরিয়াদি হয়ে চন্দ্রগুপ্তের সামনে বিচারের জন্য উপস্থিত হয়। একজন
ফরিয়াদি আরেকজনকে দেখিয়ে বলে,মহারাজ
আমি গত বছর এর কুয়া কিনেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত ও আমাকে কুয়ার জল খেতে দিচ্ছে না
অথচ সে আমার কুয়ার জল খাচ্ছে ।
চন্দ্রগুপ্ত বলে,সেটা আবার
কি রকম কথা!
দ্বিতীয় ব্যক্তি বলে, মহারাজ, আমি ওর
কাছে কুয়ো বিক্রি করেছি জল নয় । সুতরাং জল আমার আর আমি আমার জল ওকে দেব না ।
তখন চন্দ্রগুপ্ত বললেন তোমার কথায় যুক্তি আছে । ঠিক বলছ,তুমি
তোমার জল ওকে দেবে না ।
চন্দ্রগুপ্তের কথা শুনে প্রথম ফরিয়াদি নিরাশ হল এবং ওকে
দেখে দ্বিতীয় ফরিয়াদি খুব খুশী হল । তখনই চন্দ্রগুপ্ত বললেন,তোমার জল
তুমি ওকে দেবে না ঠিক,তবে কুয়া তো ওর ?
দ্বিতীয় ফরিয়াদি বলল -
হ্যাঁ মহারাজ।
তবে তুমি ওর কুয়ায় জল রেখেছ,কাল ওর কুয়া থেকে তুমি তোমার সমস্ত
জল বের করে নেবে ।
ফরিয়াদি বলল,এটা কি করে সম্ভব ?
তবে তুমি যদি জল বের না কর আর ওর কুয়ায় জল রাখ,তাহলে
কুয়ায় জল রাখার জন্যে ওকে প্রতি বছর তোমাকে ভাড়া দিতে হবে ।
এই কথা শুনে প্রথম ফরিয়াদি ও সেখানে উপস্থিত সবাই জয়
চন্দ্রগুপ্তের জয় বলে উঠল ।
চন্দ্রগুপ্ত যখন বন্ধুদের নিয়ে এই খেলাটা খেলছিল,তখন
চাণক্য আড়াল থেকে সব দেখছিলেন । তখন তিনি বুঝতে পারলেন,এই বালক
এক অসাধারণ বালক ।
_________________
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
লেখিকার পরিচিতি ঃ-
জন্ম বিহারের কিশানগঞ্জ । প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর
কিষানগঞ্জেই । আঞ্চলিক বার্ষিক পত্রিকা, ই-ম্যাগাজিন তাৎক্ষনিক.কমে অণুগল্প,ছোট গল্প,প্রবন্ধ
লেখালেখি করেন। ওনার প্রথম গ্রন্থ ‘নবরত্ন’(গল্পগুচ্ছ) । বই পড়া,ভ্রমণ ও
আধ্যাত্মিকতায় রুচিশীল এবং কুসংস্কার বিরোধী ।
.jpg)