জন্ম থেকেই আমি পিতৃহারা। মায়ের পেটে যখন পাঁচ মাস অর্থাৎ মানবদেহের অবয়ব সম্পূর্ণ হয়নি তখনই বাবার মর্মান্তিক মৃত্যু। বাবার মৃত্যুতে মায়ের মনে বিশাল পরিবর্তন। কী বলব? দুঃসাহস শুধু নয় একটু যেন বেপরোয়া। ভয়ডর কমে গিয়ে দুর্জয় সাহস। জঠরে আমি না থাকলে হয়তো মায়ের পৃথিবীটা আমূল বদলে যেত। বাবার মৃত্যুর প্রতিবাদ স্বরূপ নিশ্চিত কয়েকজন অকালে প্রয়াত হতেন। অতি কষ্টে সংযত রেখেছেন একমাত্র আমার কথা ভেবে। তারজন্য আফসোসও আছে।
প্রতিশোধ নেওয়ার ভার এখন আমার উপর
বর্তেছে। আমি এখন নামি ডাক্তার। সুযোগ এবং পরিবেশ প্রস্তুত। শুধু পদক্ষেপের
অপেক্ষা। কিন্তু এগোতেই জটিল পাকে আটকে যাচ্ছি।
শাখা প্রশাখা বিস্তার করে জটিল আকার ধারণ করেছে। মা বলছে সমস্ত নির্মূল করে
দাও। ওটাই উপযুক্ত শাস্তি। তাতেই আমার শান্তি। কিন্তু আমার মনে সংশয়। দোষীর সঙ্গে নির্দোষ কেন শাস্তি পাবে। দীর্ঘ
ত্রিশ বছর পর তার তাৎপর্য কতটা থাকে? জীবনের সমস্ত সুখ ভোগ পেয়ে তারা এখন
প্রস্থানের প্রতীক্ষায়। বলতে গেলে মৃত্যুর দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষারত তাদের মেরে কি
লাভ ! মায়ের দৃঢ় উক্তি, অন্তত ওরা জেনে যাক, এটা তাদের অপরাধের শাস্তি। এই বিশ্ব চরাচরে কত ঘটনাই তো ঘটে। সবের কি
বিচার হয়? শাস্তি হয়? মা বলেন, যার পোড়ে সেই একমাত্র দহনের কষ্ট ভোগ করে। যেহেতু
আমিও মায়ের একটি অংশ। জ্বালা পোড়ার তাত আমিও পাচ্ছি। তাই প্রতিশোধ তো নিতেই হবে।
কিন্তু কী ভাবে?
একটু খোলসা করে বলি। চন্দন ও নীতা দশ বছর নাগাড়ে প্রেমের সাগরে ভাসতে ভাসতে এক সময়
থিতু হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অনুকূল পরিস্থিতি দেখা দিতেই আর দেরি করে নি। দু'জন্যেই
স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিয়ে একসঙ্গে চাকরি পেয়ে যায়। প্রতিকূলতা কাটিয়ে
আর্থিক পথ সুগম হয়। একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
এবার শান্তির নীড়ে দিন যাপন। কিন্তু একবছরও অতিক্রান্ত হয়নি। কালো অন্ধকার নেমে এল
তাদের জীবনে।
শিক্ষক হলেই যে ভাল পড়াবেন তা কিন্তু নাও হতে পারে। সবার দক্ষতা সমান হয় না। সেদিক
থেকে চন্দনের সুনাম সর্বত্র। এমনভাবে বোঝায়, একেবারে মাথায় গেঁথে থাকে, শেখানোর
টেকনিকই আলাদা। চাকরির আগে চুটিয়ে টিউশনি করত। ফলে এলাকার পরিচিতি যেমন বেড়েছে
ভালবাসাও পেয়ে আসছে তেমন। এটাই বোধহয় কাজে লাগাতে চেয়েছিল এক রাজনৈতিক নেতা। আসন্ন
পৌরসভার নির্বাচনে সেই এলাকার ওয়ার্ডে তাকে নমিনেশন সাবমিট করার প্রস্তাব দেয়।
পার্টি নাকি অনেকদিন থেকেই তার নামটা ভেবে রেখেছে। চন্দন বিনীত ভাবে তা
প্রত্যাখ্যান করে। কারণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে
সে কোনো রাজনীতি করে না। মানসিক ভাবে করতেও চায় না।এমনকি সেই দলের প্রতি
সমর্থনও নেই। কিন্তু নেতার প্রাথমিক ভাবে প্রস্তাব পেশ, পরে আদেশ, অতঃপর হুমকি। পার্টির সিদ্ধান্ত তাকে মানতেই হবে। কারণ এটি
বিরোধী দলের সিট এবার ছিনিয়ে আনতেই হবে। কিন্তু চন্দন নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। সে
রাজনীতির ধারেকাছে থাকতে আগ্রহী নয়। তাদের
কথার মান্যতা না দিলে ভয়াবহ অবস্থা যে হতে পারে সে কথা বাড়িতে এসে নীতাকেও শাসিয়ে গেল। এটা নাকি তাদের কর্তব্য।
পার্টির নির্দেশ। নীতা মুখের উপর বলেছিল, ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো এবং দেশের কাজ
করার মতো মানসিকতা আমার স্বামীর নেই। এবার আপনারা আসুন।"
চন্দন বলেছিল, তুমি ঐভাবে না বললেই পারতে। জানো না ওরা কত সাংঘাতিক।
নীতা বলল," ছাড়ো তো ! মগের মুল্লুক নাকি। যা বলবে তাই করতে হবে? কি করবে?
দেশে আইন আদালত নেই নাকি? এলাকায় হিতাকাঙ্খী লোক আমাদেরও কম নেই। স্পষ্ট কথার কষ্ট
নেই।বরং চুপচাপ মিনমিন করলেই পেয়ে বসবে।"
স্পষ্ট
কথার যে কষ্টও আছে দেখা গেল ঠিক দু'দিন পরেই। চন্দনের নিথর দেহ বাজারের মুখে পড়ে
আছে। স্কুল থেকে ফেরার পথে একটা টিউশনি সেরে বাজার করে ফেরে। সেদিন আর ফেরা হলনা।
কে বা কারা পিঠে এবং বুকে গুলি করে পালায়।
এরপর
থানা পুলিশ, আইন আদালত বহু ঘোরাঘুরি করেছে। কোনও প্রমাণ না থাকায় কিছুই হল না।
নীতার জানা সত্ত্বেও অপরাধীদের ধরা গেলনা। উল্টে তারাই নীতার কাছে সমবেদনা জানাতে
আসে। ভাবা যায় ! নীতার ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকা ছাড়া কিছু করার ছিল না। কি করবে
! পাড়া প্রতিবেশী কেউ এগিয়ে এল না। সবাই ভয়ে তটস্থ।
সেই
থেকে জেদ, প্রতিহিংসার আগুন ধিকিধিকি জ্বলছে। ইস্পাতের মতো কঠিন হয়েছে মন। যতদিন
প্রতিশোধ নিতে না পারবে সে আগুন স্তিমিত হবে না। ইতিমধ্যে সন্তানের জন্ম দিল।
সন্তানকে কঠোর নিয়মে মানুষ করল। একমাত্র সন্তান যদি কিছু করতে পারে সেই অপেক্ষা।
না হলে মরেও শান্তি পাবে না। সন্তান ত্রিদিব এখন খ্যাতনামা ডাক্তার। হার্ট
স্পেশালিস্ট। কলকাতার এক নামি হসপিটালে কর্মরত। এতদিন অবশ্য ঘুণাক্ষরেও জানায় নি
তার মনের কথা। তিনবছর আগে ডাক্তারি পড়া কমপ্লিট করার পর ত্রিদিবকে সুপ্ত ইচ্ছের
কথা প্রকাশ করে। ত্রিদিব সম্পূর্ণ ঘটনা শুনেই মুখের অবয়ব বদলে যায়। মুখের ভাষাতেও
দৃঢ়তার ছাপ। বলল," বাবার মৃত্যুর জন্য যে দায়ী তাকে আমি পৃথিবী থেকে সরিয়ে
দেব মা। তুমি নিশ্চিন্ত থাকো। আমাকে বিশ্বাস করতে পার।"
দিন যায় মাস যায় আসল খবরটা শোনার অপেক্ষায় মা উদগ্রীব। এরমধ্যে একটা খবর শুনে মুষড়ে পড়ে নীতা। ওই শয়তানটার ছোটমেয়ে নাকি
ডাক্তার। তার সঙ্গে নাকি ত্রিদিবের গভীর প্রেম। তাহলে কী করে ত্রিদিব প্রতিশোধ
নেবে। মা ভেবে পায় না এরপরেও ত্রিদিব আশ্বাস দেয় কী করে?
* * *
অনেক ভেবেছি। অনেক পরিকল্পনা করছি। শুধু তো মেরে ফেলা নয়। তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে
আমার বাবাকে খুন করার শাস্তি তুমি এবার পাচ্ছ। তাহলে হয়তো মায়ের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ
কিছুটা প্রশমিত হবে। মায়ের জীবনটা একপ্রকার বরবাদ করে দিল যে মানুষটা, তার উপযুক্ত
শাস্তি না দিলে আমি নিজেও তো শান্তি পাব না। ডাক্তারের এটিকেট ভুলে গিয়ে কিছু
ক্ষেত্রে নির্মম হতেই হবে।
ঈশ্বর
বোধহয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে সহায় হন। না হলে আচমকা সুযোগটা এসে গেল কি করে ! এক
দুপুরে হঠাৎ নিশার ফোন। নিশাও ডাক্তার। এম.বি.বি.এস কমপ্লিট করে এম.ডি করছে। ওর
অবশ্য আরেকটা পরিচয়ও আছে। সে ত্রিদিবের প্রেয়সী। বছর দেড়েক হল ডুবে ডুবে প্রেম
করছে। সুপ্ত ইচ্ছে এম.ডি কমপ্লিট করে গাঁটছড়া বাঁধবে। নিশা বলল," ত্রিদিবদা,
বাবার হঠাৎ সেকেন্ড টাইম অ্যাটাক করল। ফার্স্ট অ্যাটাক বছর খানেক আগে হয়েছিল। অনেক
ভেবেচিন্তে তোমার হসপিটালে ভর্তি করাচ্ছি। তোমার মত বিশ্বস্ত, এক্সটা নজর থাকবে
সেই ভেবেই করলাম। তুমি একটু দেখো প্লিজ।"
ত্রিদিব বলল," অত বলার কি আছে? আমিতো আছি। ভর্তি করিয়ে দিয়েছিস তো?
নিশ্চিন্তে থাক তুই। বিকেলের দিকে এলে একবার আমার সঙ্গে দেখা করিস।"
ভর্তি
হতেই ইসিজি থেকে শুরু করে সমস্ত টেস্ট করাতে দিল ত্রিদিব। বিকেলেই পার্ট কিছু
রিপোর্ট দেখে ত্রিদিব বুঝল, দু'বার অ্যাটাক হয়েছে শুধু নয় হার্ট খুবই দুর্বল।
যেকোনও সময় টেঁসে গেলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। তাই কাজটা অতি দ্রুত সমাধা করা
দরকার। ত্রিদিবের রেকমেন্ডেশনে আপাতত সিঙ্গল কেবিনে রাখা হয়েছে। ঔষধপত্র লিখে
নার্সকে বুঝিয়েও দিয়েছে। যাতে টেক কেয়ার নেয়। যদিও ট্রেন্ড নার্স। তাদের কিছু বলতে
হয় না। প্রেসক্রিপশন দেখেই ধরে নিতে পারে।
বিকেলে
নিশা এল। বাবাকে দেখল। স্টেবল। অনেকটা ভাল। বাবার সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্পও করল। তারপর
ত্রিদিবের সঙ্গে ট্রিটমেন্ট নিয়ে ডিটেলস ডিসকাস হল। চা খেল। স্বস্তিতে ফিরে গেল
নিজের কলেজে।
ত্রিদিব
আর বেশি সময় নিতে চায় না। মাকে আভাস দিয়ে রাখল। আসামি খাঁচায় বন্দি। এবার কিভাবে
জবাই হবে পরিকল্পনা করছি। তুমি কোনও চিন্তা করো না মা। বাবাকে খুন করার শাস্তি ওকে
হাড়ে হাড়ে টের পাইয়ে দেব।
রাতে ভাল ঘুম হল না। হাতে সময় বেশি নেই। সতর্ক ভাবে
কাজটা করতে না পারলে অঘটন হতে পারে।কাকপক্ষিতেও টের পেলে হবে না। পরিকল্পনা ভেস্তে
গেলে আর সুযোগ আসবে কিনা সন্দেহ। কারণ লোকটার আয়ুও শেষ হয়ে এসেছে।
পরদিন
বেলা আড়াইটা। ইমার্জেনছি না হলে এই সময়টা পেশেন্টের কাছে আসি না। নার্সরা সাধারণত
এই সময় টিফিন বা খাওয়া দাওয়া করে। আমি সন্তর্পণে কেবিনে ঢুকে পড়লাম। কয়েক মিনিটের
মধ্যে নার্স খাওয়া ছেড়ে চলে আসবে জানি। নিশ্চয়ই আসার সময় আমাকে দেখে থাকবে। জানে
ডাক্তার এলে তাদের কাছে থাকতে হয়। তাই
স্বল্প সময়ে তাকে কাজ হাসিল করতে হবে।
ভদ্রলোক
শুয়ে আছেন। চোখ মুদ্রিত হলেও ঘুমোননি নিশ্চিত। জিজ্ঞেস করলাম," কেমন বোধ
করছেন? আমাকে চেনেন ?"
ভদ্রলোক
বললেন," এখন একটু ভাল আছি বাবা। তোমাকে চিনব না কেন? তুমি তো চন্দনের ছেলে। তোমার বাবা খুব ভাল লোক ছিল।
মধুর ব্যবহার। পাড়ায় খুব সুনাম ছিল"।
" তা এমন ভাল লোকটাকে মেরে ফেললেন কেন? "
"
কি বলছ? আমি মারতে যাব কেন? সেতো দুস্কৃতিদের কাজ। আমরা ভদ্র ঘরের সন্তান ওসব
জঘন্য কাজ কেন করতে যাব?"
"
মৃত্যুকালে আবার মিথ্যে বলছেন? সবাই জানে আপনার নির্দেশে বাবা খুন হয়েছে। "
"না
না, আমার নির্দেশ নয়। পার্টির আদেশ ছিল ওকে সরিয়ে দিতে।"
"
আবার মিথ্যে? আমার কাছে প্রমান আছে।আপনিই বলেছেন, ওসব বেয়াদব ছেলেকে সরিয়ে দাও।
আপনি জানেন কতবড় ক্ষতি করেছেন আমাদের। আমার মায়ের জীবনটা শেষ করে দিয়েছেন। মা
সারাটা জীবন মরে বেঁচে আছেন। এরপর আপনাকে কি বাঁচিয়ে রাখতে পারি? আপনার মৃত্যু
আমার হাতে। বাবাকে খুন করার প্রতিশোধ আজই নেব। আপনার মেয়েকেও মেরে ফেলব। জানেন ওর
সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করছি। মেয়ের মৃতদেহ আজই আপনাকে দেখাবো। ওটাই হবে আপনার বড়
শাস্তি।"
"ভদ্রলোক চিৎকার করে উঠলেন," না বাবা। আমি অন্যায় করেছি। আমাকে মেরে
ফেল। কিন্তু মেয়েকে কিছু করো না। ফুলের মতো মেয়েটি তো কোনও দোষ করেনি। ওকে কিছু
করো না বাবা। তোমার পায়ে ধরে অনুরোধ করছি।" হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে ভদ্রলোক
অজ্ঞান হয়ে গেলেন।"
আমি বাইরে মুখ বাড়িয়ে নার্স, নার্স বলে চিৎকার করে উঠলাম। সঙ্গে সঙ্গে একজন ছুটেও এল।
আমি বললাম," এনাকে সব সময় ওয়াচে রাখতে হবে। অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে ইমিডিয়েট
তিন নম্বর ইনজেকশানটা পুশ করে দিন। এরপর আইসিউতে শিফট করতে হবে। আমি লিখে দিচ্ছি।
কন্ডিশন ক্রিটিক্যাল। "
ভদ্রলোককে আরেকবার দেখে বাইরে বেরিয়ে এলাম।নিশাকে ফোনে বললাম, " তোর বাবার
অবস্থা কিছুটা ডিটোরিয়েট করেছে। বিকেলের দিকে একবার এসে দেখে যাস।"
নিশা
বলল," ত্রিদিবদা, আমাদের হসপিটালের ডাক্তার চন্দ, সিনিয়র হার্ট স্পেশালিস্ট।
বেশ অভিজ্ঞ। ওনাকে বাবার কথা বলেছিলাম। বলেছেন দেখতে যাবেন। এছাড়াও ওই হসপিটালে
নাকি কিছু কাজ আছে। যদি আসতে চান নিয়ে আসব?"
আমি
বললাম," ডাক্তার চন্দতো আমারও স্যার। নিয়ে আয়। এলেতো খুবই ভাল হয়।"
বেলা
চারটে নাগাদ ডাক্তার চন্দ এলেন। কি কি ট্রিটমেন্ট চলছে কাগজপত্র সব দেখলেন। ইসিজি,
বিভিন্ন টেস্টের রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখে বললেন ট্রিটমেন্ট ঠিক চলছে। আমি হলে
তাই করতাম। থ্যাংক ইউ ত্রিদিব। "
নিশা
বলল," বাপি কোমায় চলে গেছেন মনে হচ্ছে। জ্ঞান ফিরবে তো স্যার। আবার কথা বলবে
তো?"
চন্দ বললেন," অনেক সময় হঠাৎ কোনও শক পেলে এমনটা হয়। যেহেতু সেকেন্ড টাইম
অ্যাটাক হয়ে গেছে সেক্ষেত্রে রিভাইব করে রেয়ার। তবু আমাদের চেষ্টা করে অপেক্ষা
করতে হবে। ডাক্তারের কাজ করে যেতে হবে। মনকে শক্ত কর। চলি ত্রিদিব। আমি একটু
প্রিন্সিপালের সঙ্গে দেখা করব।"
নিশা বলল," আমিও চলি ত্রিদিবদা। একবার বাড়িতে যাব। মাকে বুঝিয়ে বলতে হবে।
নাহলে মা খুব ভেঙে পড়বে।"
আমি
খুব ক্লান্ত। ক'রাত্রি ঘুমোতে পারিনি। আজ শান্তিতে ঘুমোব। ভদ্রলোকের যদি জ্ঞান
ফিরেও আসে। বাকশক্তি থাকবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া আমাকে দেখলেই নিস্তেজ হয়ে যেতে
বাধ্য। সঙ্গে নিশাকে নিয়ে যদি যাই তাহলে তো আরও...
বাড়ি
ফিরে মাকে সমস্ত খুলে বললাম। ভদ্রলোককে যা যা বলেছি সব। এতদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ,
প্রতিশোধস্পৃহা কিছুটা উপশম হয়েছে বলেই মনে হয়। হঠাৎ মা উঠে গিয়ে বড় ঘরের বাবার
ছবিটার সম্মুখে বসে পড়লেন। দু'চোখ দিয়ে টস টস করে জল পড়ে চলেছে।
আমি কিছু বললাম না। কাঁদুক। কাঁদলে এতদিনের ক্ষোভ কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
লেখকের অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
লেখক পরিচিতি -
নিত্যরঞ্জন দেবনাথ পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ার পানুহাটে ১৯৫৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।কাটোয়া কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক। বর্তমানে থাকেন হুগলির চুঁচুড়ায়। পেশায় কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী ছিলেন।অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেল-এর অধীন ডিভিশনাল অ্যাকাউন্টস অফিসার পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম গল্প " চেতনা " ছোটদের পত্রিকা শুকতারায় ১৯৯৬ - এর এপ্রিলে প্রকাশিত হয়। এরপর দেশ, শিলাদিত্য, কালি ও কলম,মাতৃশক্তি, তথ্যকেন্দ্র, কলেজস্ট্রিট, কথাসাহিত্য, দৈনিক স্টেটসম্যান, যুগশঙ্খ, একদিন,,সুখবর ইত্যাদি এবং বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে নিয়মিত তাঁর সাহিত্যকীর্তি অব্যাহত। ইতিমধ্যে পাঁচটি গল্প সংকলন ও চারটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক "শতানীক " পত্রিকাটি দীর্ঘদিন ধরে সম্পাদনা করে আসছেন।
.jpg)