Advt

Advt

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-109th-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী

ধারাবাহিক  উপন্যাস প্রতি বৃহস্পতিবার ।

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-109th-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী

পর্ব – ১০৯

Health to the new people,

health to their flag,to their old

restored house on the hill!

Everything's changed for the best-

how quivering  and fierce we were,

there snowbound together,

simmering like wasps in our tent of books!

ইহ সংসার,ইহ ঘর-বসত,ইহ শিক্ষা,ইহ উপার্জন,ইহ ডিগ্রি,ইহ ভালবাসা--। কাঁচের গুড়ো সংসার, কাঁচের ঘেরাটোপে বন্দী মন এবং মানসিক  ভারসাম্য। গ্লাস  হ্যাজ  নো সোল! তবু কাঁচের  বাড়ি,কাঁচের ঘর। কাঁচের বারান্দা! কাঁচের রেলিং।ওরা তিনজন একটি রট আয়রনের টেবিল ঘিরে।

ওরা তিন অসমবয়স্ক নারী। তবু বন্ধুত্বের সুতোয় বাধা। হোটেলের লবিতে তিনজন গরম কফি নিয়ে বসেছিল।বর্ষশেষের উৎসব মুখর গোলাপি শহর। লবির বন্ধ  কাঁচের বিশাল ফ্রেঞ্চ  উইন্ডোর ওপারে পুড়ছে আতসবাজি। আওয়াজ আসছে না এই  কাঁচ সভ্যতার  পুরু আস্তরণ ভেদ করে। শুধু আলোর ফুলঝুরি--।

--:প্রতিবছর ই এতো এতো বাজি পুড়িয়ে কি যে লাভ হয়--এভাবে কেউ  কি পুরনো বছর কে বিদায় জানিয়ে নতুন বছর কে আবাহন জানায়--"রঞ্জাবৌদি যেন নিজের মনকেই কথাগুলি বললেন।

রূপালী কফির কাপে চুমুক  দিতে দিতে বিষণ্ণ  হেসে বলল

--"ঠিক  বলেছো বৌদি,পুরনো বছর কে বিদায় জানাতে হয় সমস্ত  পুরনো স্মৃতি গুলো কে কুলোর বাতাস দিয়ে বিদায় করে--ঐ যে টেনিসন বলেছেন না--কি যেন,লাইন,টা --বাবি বৌদি--তুমি নিশ্চয়ই  জানো?"

বাভ্রবি আস্তে,বলল

--"রিং আউট দ্য  ওল্ড

রিং ইন দ্য  নিউ।"

রূপালী কফির পেয়ালা টেবিলে নামিয়ে রেখে দুহাতে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে,কেঁদে উঠল।

--"পারছি না বৌদি,কিছুতেই  পারছি না--সমস্ত পুরনো স্মৃতি গুলো যে ভিড় করে আসছে চোখের সামনে--কি করে ভুলি--"

রঞ্জাবতী রূপালীর  মাথায় আস্তে করে হাত রাখেন।বাভ্রবির  মনে স্মৃতির  রঙ্গোলী--।মুঠোফোন টা বাজতেই  বাভ্রবি দেখল রূপালীর  ফোন--রূপালীর ফোন ও পালি নামে সেফ করে রেখেছে।ফোনটা তুলে ধীরে বলল

--:হ্যালো পালি,বল--"

ওপার থেকে কান্নাভেজা রূপালীর  আওয়াজ  ভেসে এলো

--"বৌদি ,দেখেছো,সপ্তর্ষির পার্টি কার্ড!"

বাভ্রবি নিজের লিভিং রুমে যেতে যেতে বলল

----"হ্যাঁ, এখুনি যুধাজিত  নিয়ে এলো। আমাকে নাকি স্পেশালি যেতে বলেছে।হয়ত  একবার  ফোন ও করবে।"

রূপালী এবার কান্নার  সঙ্গে তীব্র  শ্লেষ মিশিয়ে বলেছিল

--"এদের কি লজ্জা বলতে কিছু নেই?আমি তো শুনেছি শর্মিলার বর ওকে নাকি এখনও ডিভোর্স  দেয় নি। ওর ছেলে নিজের মাকে ত্যাগ  করেছে--"

বাভ্রবি বিষণ্ণ  হেসে জবাব  দিল

--"এতে এদের কিছুই  ফারাক পড়ে  না রে পালি।তু ই কি করে জানলি?"

ফোনের  ওপার থেকে রূপালীর  শান্ত  গলা

--বৌদি,আমার বাড়িতেও যে ওরা চিঠি পাঠিয়েছে--"

--"হোয়াট?"অজান্তেই  বাভ্রবির  গলা চড়ে গিয়েছিল।

--"এতো অর্বাচীন--কে রে পালি?"

একটু চুপ করে থেকে রূপালীর জবাব  ভেসে এসেছিল

--"সপ্তর্ষি,ওর নিজের ছেলেকে ওর দ্বিতীয় বিয়েতে নিমন্ত্রণ  করেছে,বৌদি।"

বাভ্রবি স্তম্ভিত  হয়ে গিয়েছিল। কতোটা নীচ মনুষ্যত্ব হীন হলে একজন মানুষ  এমন কাজ করতে পারে।আর মুহূর্তেই  বাভ্রবি ডিসিশন  নিয়েছিল যে সে কোনোমতে ই সপ্তর্ষির পার্টিতে যাবে না।যুধাজিত  অবশ্য  সেরকমই  শ্লেষের সুরে বলেছিল--"এটা ওদের ব্যক্তিগত  ব্যাপার, আমাদের  কি ? ওর ছেলের হয়ত ওর বিয়ের ব্যাপারে কোনও  আপত্তি নেই--।"

বাভ্রবি কিছুতেই  যুধাজিত  কে বলে বোঝাতে পারে নি যে এটা একটা ভীষণই  সংবেদনশীল  ব্যাপার। রূপালীর  মনে কতটা আঘাত  লাগতে পারে--!বাভ্রবি আর যুধাজিতের  সঙ্গে একবার  ও তর্ক করে নি। শুধু শান্ত সুরে বলেছিল

--"তুমি যেতে হলে যাও,বাট আই  এম নট গোয়িং ।এন্ড  দ্যাটস ফাইনাল। "

--"এখন ওদের পার্টি হচ্ছে,তাই না?শ্যাম্পেন, আর শেরির বোতল খোলা হচ্ছে----সেলিব্রেট করছে--অথচ এই  মানুষ টিকে ভালবেসে ,আমি বাড়ির সকলের অমতে ঘর ছেড়েছিলাম--আমি কি ভুল করেছিলাম?"

রূপালী যেন নিজেই নিজের সাথে কথা বলছিল।

আর বাভ্রবি রঞ্জা বৌদির সঙ্গে কথা বলে রূপালী কে নিয়ে জয়পুরে নিউ ইয়ার ইভ সেলিব্রেট করার জন্য  চলে এসেছিল। অমিত সিংভি হোটেল বুকিং করে দিয়েছিল। আগামীকাল  ওরা সম্বর লেক দেখতে যাবে। বাভ্রবির  ইচ্ছে ছিল,সম্বরের আশেপাশেই কোথাও থাকে ওরা--শহরের  কোলাহল  থেকে দূরে--কিন্ত  অমিত  ই বারণ করল।

--"বাবি জী, ইঁহা আচ্ছা কৌই হোটেল নেঁহি হ্যায়। হম তো ব্যাস তাম্বু মেঁ রহতেঁ হ্যায়।

--"আমাদের  বিয়ের সেই  রাত আজও মনে পড়ে বৌদি--। বর্ষামুখর এক আষাঢ় রজনী--কোর্ট  ম্যারেজ হয়েছিল আমাদের--"

-"কোনও  শেরি শ্যাম্পেন  নয়--ছোট্ট  ডিনার শেষে সপ্তর্ষির এক কামরার ফ্লাটে আমাদের  বাসর শয্যা--"

বন্ধ কাঁচের ওপাশে আবার  আতসবাজির আলো ঝলমলিয়ে উঠল--।

 

ক্রমশ …………

১১০তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার

লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন । 

লেখিকার পরিচিতি –        

জন্ম-কলকাতায়  আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা 

প্রকাশিত গ্রন্থ

১--সাপ শিশির খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)