ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি
বৃহস্পতিবার ।
পর্ব – ১০৮
I have
found the warm caves in the woods,
filled them with skillets,carvings,shelves,
closets,silks,innumerable goods;
A woman
like that is misunderstood.
I have
been here kind.
--"আমি,আমিই
আমার মারিয়া কে মেরে ফেলেছি ম্যাডাম জী। যদি আমি মারিয়ার কথায় রাজী না হতাম যদি
আমি মারিয়া কে ভাল করে বোঝাতাম--তাহলে আমার
মারিয়া হয়ত আজ বেঁচে থাকত। "অন্ধকার কোণে দুহাতে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিল
রামদীন। কান্নার দমকে ফুলে ফুলে উঠছিল ওর
শরীর।
একটি বিয়ের পার্টি। ভেঙ্গে
যাওয়া বাসর শয্যায় নতুন বাসর পাতা হচ্ছে। একটি ছোট্ট নিমন্ত্রণ
চিঠি। সপ্তর্ষি ওয়েডস্ শর্মিলা। কেন এই
চিঠিটি দেখলেই কান্নার দলা আটকে যাচ্ছে বাভ্রবির গলায়। বাড়িটি সুনসান। ডিসেম্বরের কুয়াশা দখল নিয়েছে দিল্লির আকাশ,বাতাস।
ভিজে নরম,কখনও
গাড় কুয়াশায়,বাভ্রবির বাগানটি হারিয়ে
যায়। সারাদিন রোদ হীন বাগানে কুয়াশাদের মেহফিল। তবু সেই বাগানে অজস্র
ফুলের বাহার। মরসুমী ফুল ও মরসুমী পাখিদের
মত । শীত দিগন্ত জুড়ে তাদের
নিত্য আসর। বাভ্রবি কুয়াশার মধ্যেই
বসেছিল। যুধাজিত অফিস ফেরত
চিঠিটি ওর হাতে তুলে দিয়ে বলল
--"তোমাকে ও
বিশেষ ভাবে যেতে বলেছে--"
তারপর আবার
বলল
--"সপ্তর্ষি
হয়ত তোমাকে ও ফোন করবে।"
বাভ্রবি চিঠিটির উপর চোখ
বুলিয়ে চোখ সরিয়ে নিয়ে বলল
--"এতো তাড়া
কিসের ছিল ?"
তারপর অস্ফুটে বলল
--"সপ্তর্ষি আর
রূপালীর ভালবাসার বিয়ে--মাত্র
কয়েকটি বছরে ভালবাসা এভাবে হারিয়ে যেতে পারে?"
--"তাহলে
ভালবাসার মূল্যায়ন কি করে হবে?"
যুধাজিত ভেতরে যেতে যেতে উদাসীন জবাব
দিল
--"এটা ওদের
নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনের ডিসিশন। ইট ইজ
নান অফ আওয়ার বিজনেস। ও আমাদের কে ইনভাইট
করেছে আমাদের যাওয়া উচিত। আজ যদি রূপালী আবার বিয়ে করে কার্ড ছাপিয়ে আর আমাদের কে ইনভাইট করে আমরা কি যাব না?"
বাভ্রবি আপনমনে একটু হেসে
জবাব দিল
--"সেই তো। আমাদের
কি? আমরা যাব ,কব্জি
ডুবিয়ে খাব,গিফট দেবো,চলে আসব।
রূপালী বলে একটি মেয়ে যে ভালবেসে নিজের সমাজ,পরিবারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একজনকে ভালবাসার অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়ে ঘর ছেড়েছিল--তাতে কার কি
আসে যায়!"
যুধাজিত একটু শ্লেষের
সঙ্গে জবাব দিল
--"কোনও রিলেশনশিপ
ই ইটারনাল নয় বাবি। প্রত্যেকটি সম্পর্ক সময়ের সাথে তৈরি হয়,আবার সময়ের সাথে ভেঙ্গে ও যায়। এ নিয়ে এতো হা
হুতাশ করার কি আছে--"
বাভ্রবি এবার হেসে বলল
--"একদম ঠিক বলেছ
জিৎ। সময়ের সাথে এবং জাগতিক প্রয়োজনেই
সম্পর্ক তৈরি হয়,তাই প্রয়োজন,ফুরিয়ে
গেলে সম্পর্ক ও ফুরিয়ে যায়।তাই তো
বৃদ্ধ বয়সে মা বাবা সন্তানদের কাছে বোঝা
হয়ে যায়--কারণ তখন মা বাবার কাছে
সন্তানদের আর কোন ও জাগতিক প্রয়োজন থাকে না ।তাই তো বয়স বেড়ে গেলে,একজন
প্রেমিকা র,স্ত্রীর
ও আর তার প্রেমিক স্বামীর কাছে কোনও
মূল্য থাকে না--"
যুধাজিত হেসে বলল
--"উল্টো টাও
হয় বাবি--"
--"অবশ্যই--,বিশেষ করে
সুবিধাবাদী,আরবান মহিলাদের ক্ষেত্রে আরও বেশি
হয়।ক্যারিয়ার নামক একটি আলেয়ার পেছনে
ছুটতে ছুটতে তারা কখন যে সমস্ত সামাজিক,পারিবারিক মূল্য বোধ কে টপকে যান,হয়ত
নিজেরাও জানেন না।"
যুধাজিত ভেতরে যেতে যেতে বলল
--"আমি এ
বিষয়ে তোমার সঙ্গে তর্ক করতে চাই
না বাবি।"
বাভ্রবি,হেসে বলল
--"আমিও চাই না জিৎ। "
তুমি কি এই ঠাণ্ডা,কুয়াশায়
একা একা বসে থাকবে?"
বাভ্রবি ছোট্ট নিঃশ্বাস
ফেলে বলল
--"তুমি যাও,আমি
আসছি--একসাথে চা খাবো বলে বসে আছি--"
--"ওকে!"
বলে ভেতরে চলে গেল যুধাজিত।
কুয়াশার স্তর ছিন্ন
করে রামদীনের আকুল কণ্ঠ
বাভ্রবির কানের কাছে আছড়ে পড়ল
--"ম্যাডাম জী,মেরে কারণ
মেরি মারিয়া চলি গয়ি। মেঁ হি উসকি মৌত কি জিম্মেদার হুঁ--"
--"ক্যায়া
বোল রহে হো রামদীন--"
রামদীন আবার ও
ঐ একই কথা কেঁদে কেঁদে বলল
--"মেঁ হি
উসকি মৌত কি জিম্মেদার হুঁ--"রামদীনের কান্নার সামনে কেমন যেন হতচকিত হয়ে বসেছিল বাভ্রবি--সে
কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিল না রামদীন--যে
মারিয়া কে এতো ভালবাসে,সে কি করে মারিয়ার
মৃত্যুর জন্য দায়ী হতে পারে?ঝুঁকে
পড়ে ওকে সান্তনা দেবার চেষ্টা করে রামদীনের কাছে --এক অপূর্ব ,করুণ
ভালবাসার কাহিনী---কফি র কাপ হাতে ই রয়ে
গেল বাভ্রবির।
--সপ্তর্ষি
ওয়েডস শর্মিলা--চিঠিটি কুয়াশার ভেতর
সেঁধিয়ে যাচ্ছিল--নাকি কুয়াশা সেঁধিয়ে যাচ্ছিল চিঠির ভেতর---
.মুঠোফোন ডেকে উঠল-মিষ্টি ,নরম
সুরে--বাভ্রবি লবির দিকে পা বাড়ালো--কুয়াশারা ততক্ষণে সন্ধ্যার হাত ধরে আসর জমিয়েছে—
ক্রমশ …………
১০৯তম পর্ব
পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
.jpg)