ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব – ১০৭
I hear as in a,dream
the
conversation of the old wives
speaking
of womanhood.
I
remember that I heard nothing myself
I was
alone
I waited
like a target.
এখানে সন্ধ্যার আবছা আলো,গলির
ভেতরেও ক্ষীণ,জোছনা।
গল্প বলে অন্ধ গলি। গল্প বলে কফির কাপ।
রামদীন আর বাভ্রবি মুখোমুখি। আমনে সামনে। চারপাশের অজস্র শব্দ
মুখরতা কে ছাপিয়ে রামদীন গলায়
আটকে,থাকা কাশি অথবা কান্নার দলাকে
পরিষ্কার করে বলে
--"ম্যাডাম জী,কফি সহি
বনা হ্যাঁয় না?"
বাভ্রবি গরম কফির কাপে
তৃপ্তির চুমুক দিয়ে বলে
--:বহুত হি বড়িয়া বনা হ্যাঁয় জী। আপ কফি নেহি পিতে?"
রামদীন উদাস চোখে দূরের চাঁদের আলো মাখা গলির দিকে তাকিয়ে বলে
--"না। আমার
মারিয়া কফি খুব পছন্দ করত।"
পাশের ধাবা গুলোতে তন্দুর
জ্বলছে। তন্দুরে রোষ্ট হচ্ছে পনীর,পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম,আলু,চিকেন--।সন্ধ্যার অন্ধকার
গাঢ় হতেই মুসাফিরেরা ভিড়
জমিয়েছে সরাই গুলোতে--মোগল জমানার
তাঞ্জাম রঈস বিবিদের নিয়ে চলেছে গোপন অভিসারে।বোরখার আড়ালে দুটি চোখ
উৎকণ্ঠিত প্রতীক্ষায়। সরাই এর,হামাম
গুলিতে গরম জলে ধারাস্নান শেষে আতর মেখে
অভিসারের জন্য সেজে উঠেছে আশিক। চোখে তার
কৌতূহল।
--"মারিয়া।
মারিয়া!"মৃদু ,কোমল সুরে,দুবার
উচ্চারণ করল রামদীন।
--:পাপা,মাম্মি
হামেশা হামারে সাথই হ্যাঁয়--"
কখন যে রোজ চুপ করে এসে
রামদীনের পাশে দাঁড়িয়েছে,ওরা কেউই,সেটা
খেয়াল করে নি। রামদীন আস্তে রোজের মাথায়
হাত রেখে বলল
--"বেটি,আগর তু
মেরি সাথ নেহি হোতি তো--"
--"মেঁ তো
হুঁ না পাপা আপকে সাথ।"
কোমল,গানের
সুরে রোজ ওর বাবাকে বলল।
কফি পান করতে করতে বাপ বেটির
এই অদ্ভুত সুন্দর
ভালবাসা অবলোকন করতে করতে বাভ্রবির চোখের পাতা অকারণেই সজল হয়ে উঠল।বাভ্রবির মনে মনে ভাবল রোজ রামদীনের নিজের মেয়ে নয়,এমনকী
রোজের ধর্ম ও রামদীন থেকে আলাদা--তবু এই বাবা মেয়ের ভালবাসা--!রাতে,গভীর রাতে নিজের ডাইরির পাতা খুলে বাভ্রবি লিখেছিল
কয়েকটি লাইন--
ভালবাসার কোনও
জাত ধর্ম বর্ণ,ভাষা--হয়
না। এমনকী ব্লাড রিলেশন বলেও বোধহয় কিছু হয় না। রামদীন আর রোজ--আমাকে এই শিক্ষা টাই দিল। রামদীন, রোজের সৎ
বাবা, অথচ এরকম ভালবাসা হয়ত রক্ত সম্পর্কের বাবা মেয়ের মধ্যে কমই থাকে।
রামদীন এক আশ্চর্য পুরুষ
চরিত্র।সে এক বারবনিতার প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে করে। তার মেয়েকে নিজের
মেয়ে র মত ভালবাসে--।অথচ রামদীনের
কোনও তথাকথিত ডিগ্রি নেই।
আশ্চর্য চরিত্র মারিয়া--আশ্চর্য চরিত্র
রোজ এবং ব্রুথেলের মাসী চাঁদ বিবি!
--"আমাদের বিয়ের পর পর আমাদের সংসার খুব সুন্দর চলছিল। চাঁদ
বিবি,মারিয়ার বান্ধবীরা ওকে প্রচুর,সাহায্য করেছিল আমাদের
ঘর বসতে।আমি রাজমিস্ত্রির কাজ করতে
শুরু করলাম,আর মারিয়া লোকের বাড়িতে রান্না,বাচ্চা
দেখাশোনার কাজ নিলো। রোজ কে আমরা এখানের ভাল স্কুলে ভর্তি করে দিলাম। কি সুন্দর,নিটোল
সংসার।আমার জীবনে এতো সুখ,এতো
শান্তি,এতো ভালবাসা,কখনও পাই নি ম্যাডাম।"বলতে বলতে রামদীনের মুখে এক দারুণ
তৃপ্তি খেলা করতে লাগল।
দুটি কামরার একটি ছোট্ট ফ্ল্যাট বাড়িতে আবার
নতুন করে সংসার পাতল মারিয়া রামদীন এর মেয়ে রোজ কে নিয়ে। মারিয়া আর
রামদীনের শোবার ঘরের দেয়ালে টাঙানো ছিল যোশেফের একটি ছবি। রামদীন ই মারিয়াকে বলেছিল--"মারিয়া,রোজ কি
পাপা কি তসবীর ,যো তু
লেকে আয়ি হ্যাঁয়,ইহা লাগা লেনা।"
মারিয়া একটু কিন্তু কিন্তু
করে জবাব দিয়েছিল--"ইঁহা,হমারা
বেডরুম মে?"
রামদীন হেসে জবাব
দিয়েছিল--"বিলকুল।"
মারিয়া ,রোজের ঘরে
ছবিটি টাঙ্গাবার কথা বলায় হেসে রোজ বলেছিল
--"মাম্মা,আমিতো
উনাকে চিনিই না। আমার কাছে তো আমার পাপা
আছেন ই--"বলে রামদীন কে
জড়িয়ে ধরেছিল।
রামদীন হেসে জবাব
দিয়েছিল
--"যোশেফ, তেরা
প্রেম হ্যাঁয় মারিয়া--রোজ কা নেহি।"
তাই বেডরুমে ই যোশেফের ছবি টি রেখেছিল,মারিয়া,রোজ ই
ছবিটির সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়ায়ে নিজের
মনে মনেই কথা বলত মারিয়া।
বাভ্রবি অবাক হয়ে বলেছিল
--"রামদীন,তোমার একটু ও খারাপ
লাগত না?"
রামদীন হেসে বলেছিল
--"নেহি ম্যাডাম জী। যোশেফ মারিয়া কি অতীত থী,আউর মেঁ
বর্তমান ইয়া ভবিষ্যৎ। সব মিলকে হি তো
ইনসান --হ্যাঁয় না?"
বাভ্রবি অদ্ভুত এই
ভালবাসার আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে উঠছিল--এতদিনের ডিগ্রি,সার্টিফিকেট থেকে বেরিয়ে এক নতুন মানসিকতায় উত্তরণ ঘটছিল বাভ্রবির---
ক্রমশ …………
১০৮তম পর্ব
পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
