ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
In a dark
time,the eyes begins to see,
I
meet my shadow in the deepening shade
I hear my
echo in the echoing wood-
A lord of
nature weeping to a tree.
বাড়িটি আজ অন্যরকম লাগছে। কাটোরিয়া সরাই এর গলি,দোকান ,উপচানো
মানুষের ভিড় ঠেলে ঠেলে হাঁটছিল বাভ্রবি। জনারণ্যে একাকী নির্জনতার নির্মাণ, বিনির্মাণ;ভালবাসার ষ্টেশন
গুলো ক্রমশই পেরিয়ে যায় দ্রুতগামী ট্রেন--।
আপাতত বাভ্রবির
গন্তব্য স্থল রামদীনের বাড়ি। সেদিন সকাল সকাল রামদীন কে এভাবে গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে,তাড়াতাড়ি
গেটের তালা খুলে ওকে ভেতরে আসতে বলল বাভ্রবি।
--"রামদীন, ক্যা
হুয়া? সব ঠিক তো হ্যাঁয়?"
রামদীন হেসে গেটের
ভেতরে ঢুকে বলেছিল
--"হাঁ,ম্যাডাম জী,সব ঠিক
হ্যাঁয়।"
বাভ্রবি ওকে ভেতরে বসতে বলল,কিন্তু রামদীন
জানালো ওর একটু তাড়া আছে। তারপরই বলল
--"ম্যাডাম জী,মেঁ
দিল্লি ছোড়কে যা রঁহা হু--"
বাভ্রবি অবাক বিস্ময়ে তাকাতেই রামদীন
হেসে বলল--
"মেরি বেটি
রোজ কো কেরালা মে নোকরি মিল গিয়া,কোয়ার্টার ভি মিল গিয়া--। বেটি মুঝে লেকর হি জানা চাহতি
হ্যাঁয়।"
বাভ্রবি আনন্দের সুরে বলল
--"এতো খুব খুশির খবর রামদীন। মেয়ের সাথে যাচ্ছো,--"
রামদীন মৃদু হেসে বলল
--"হাঁ,বেটি বলল 'পাপা,জিন্দেগী
ভর বহুত মেহনত কিয়া,আব তো
আরাম করনা চাহিয়-"
বাভ্রবি খুশি হয়ে বলল
--"তুমহারি
বেটি নেঁ,বিলকুল
সহি বোলা--অব যাও,আরাম করোঁ।"
রামদীন উদাসীন
সুরে বলেছিল--"ম্যাডাম জী,মাত্র দশ বছর বয়সে
এই শহরে এসেছিলাম, গ্রাম
থেকে পালিয়ে--কত কিছু ঘটে গেল জীবনে--এখন বাকি কটা দিন--"
বাভ্রবি ওকে ধীর সুরে বলেছিল
--"চিন্তা
করো না,রামদীন, তুমি ভাল মানুষ, বাকি
দিনগুলো তোমার মেয়ের সাথে ভাল ই কাটবে।
কবে যাচ্ছ রামদীন?"
--"এক হপ্তে
মেঁ ম্যাডাম জী--"
--"ঠিক হ্যাঁয়,মেঁ
--"মুখের কথা কেড়ে নিয়ে রামদীন বলল
--"ম্যাডাম
জী,মেরি বেটি রোজ নেঁ আপকো কাল শাম কো হমারা ঘরপেঁ চায় পে বুলায়া--ও ভি আপসে
মিলনা চাহতি। আপ আও গে না?"
বাভ্রবি মাথা নেড়ে বলেছিল
--"অবশ্যই আসব।আর তোমার
আর মারিয়ার গল্প ও শুনব।"
রামদীন করুণ হেসে বলেছিল--"আমার প্রেম কাহিনীর
করুণ সমাপ্তি--ঠিক আছে ম্যাডাম, শোনাবো।"
এখনও সন্ধ্যার
আঁচল ভাল করে মুছিয়ে দেয় নি কর্মরত দিনের যাবতীয় মালিন্য।রাস্তার ভেতরে
অন্য আরেক রাস্তা।দুপাশে দোকান--ভাজা হচ্ছে পকৌড়া--কোথাও নুডুলস--গলির ভেতর
গলি--সেই গলির ভেতর থেকে বেরিয়ে গেছে আরও এক গলি।ঘিঞ্জি,বসতি;তামাম
ভারতবর্ষ এখানে ভিড় করেছে।
হাওয়া এই গলিতে,ধীর পায়ে
হাঁটে
সতর্ক বিন্যাসে পথ এবং সুঁড়িপথ
ভাত ঘুম থেকে উঠে দোকানগুলি
হাই তুলছে
জীবন এখানে অন্য কথা
চিত্রে--
ভাবতে ভাবতে,বাভ্রবি
পৌঁছে গেল রামদীনের গলিতে--।রামদীন গলির
মুখেই দাঁড়িয়ে আছে--বাভ্রবিকে দেখে ছুটে
এলো। বাভ্রবির মনে পড়ল,রামদীন
ওকে ওর বাড়ি থেকেই এসে নিয়ে যেতে
চেয়েছিল,কিন্তু
বাভ্রবিই ওকে মানা করে দিয়েছিল।
--"ম্যাডাম জী কৌঈ দিক্কত তো নেঁহি হুয়া?"
নেঁহি।"
বারান্দার বাগান টি একটু অগোছালো,তবু
বসবার জায়গাটি পরিপাটি করে রাখা। বাভ্রবি
বসে রোজ আর রামদীনের জন্য কিছু খাবার দাবার আর জামা কাপড় উপহার হিসেবে নিয়ে এসেছিল,সেগুলো
বের করে টেবিলের উপর রাখতে রাখতে বলল
--"হামারি
রোজ বিটিয়া কিধার হ্যাঁয়?"
রামদীন উপহার
গুলো দেখতে দেখতে জবাব দিল
--"ম্যাডাম জী,রোজ আপকে
লিয়ে কফি বনা রহি হ্যায়,--লেকিন,ইয়ে
সারে--ক্যায়া জরুরত--"
বাভ্রবি হেসে বলল
--"জরুরত,আপকি
নেঁহি, মেরি থি।"
রোজ--সন্ধ্যার আলোয় হাতে গরম কফি আর কিছু স্ন্যাকস এর প্লেট
নিয়ে এসে দাঁড়াল--যেন সত্যিই এক নতুন
রোজবাড--।ট্রে টা টেবিলে নামিয়ে রেখে হঠাৎই
বাভ্রবির পা ছুঁয়ে রোজ বলল
--"আপ আয়ে
হ্যাঁয় আন্টি--মে বহুত বহুত খুশ হুঁ--।
বাভ্রবি দুই হাতে ওকে
জড়িয়ে ধরে বলল
--"মেঁ ভি
বহুত খুশ হুঁ বেটা--। তুম লোগ কাঁহা যা
রঁহে হো?"
বাভ্রবির পাশের চেয়ারে বসতে
বসতে রোজ বলল
--"কোঝিকোড!
উঁহা সরকারি হাসপাতাল মেঁ মেরা
নোকরি।কোয়ার্টার ভি মিলেগা। ইসি লিয়ে
মেঁ পাপা কো ভি সাথ লে যানা চাহতি হুঁ।"
বাভ্রবি ওর পিঠে হাত রেখে
বলল
--"একদম সহি
ডিসিশন হ্যাঁয় বেটা--"
রোজের হাতে ওর উপহার গুলো তুলে দিতে দিতে বলল
--"তুমে
পসন্দ হ্যাঁয়?"
রোজ আবার বাভ্রবির পা ছুঁতে গেলে বাভ্রবি ওকে কাছে টেনে
নিলো।সন্ধ্যার শান্ত-- আঁচল নভেম্বরের
আকাশ কে ঢেকে দিয়েছে --বাভ্রবি কফির কাপ হাতে বাবা ও মেয়ের মুখোমুখি---
আকাশ তখন গল্প বলে--
ক্রমশ …………
১০৭তম পর্ব
পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
.jpg)