পনের
বছর আগের একটি গোপন কথা ফাঁস করে দিয়ে চরম বিপাকে পড়ে গেছে প্রবাল। এমন বিপর্যয়
ঘটবে কল্পনাতেও আসে নি। কথায় বলে না, সুখে থাকতে ভূতে কিলোয়। প্রবালের হয়েছে সেই
দশা। এমন বালকসুলভ আচরণ করে ফেলল,এখন নিজেই নিজের কপাল চাপড়াচ্ছে। এর সমাধান কী
একমাত্র ঈশ্বর জানেন। ভাঙা কাচ
কী কখনো জোড়া লাগে ! সে এখন উঠতে বসতে কাঁদে।
প্রলাপ বকে। না পাগল হয়নি। হব হব ভাব। দৃশ্যটা যখন চোখে ভাসে তখন রাগ জেদে কাঁপতে
থাকে। সবকিছু ভেঙেচুরে তছনছ করে দিতে ইচ্ছে করে।যেন পৃথিবীটাকেই ধ্বংস করে ফেলবে।
অবশ্য ক্ষণিকের জন্য।তারপরেই গুম হয়ে যায়। বাস্তবের মাটিতে ফিরে আসে। ফোঁপাতে শুরু
করে। কী করবে এখন? পৃথিবীতে বেঁচে থাকাই
যেন নিরর্থক।
বালি স্টেশন সংলগ্ন সাত তলা বিল্ডিংয়ের পাঁচ তলায়
তার ফ্ল্যাট। এখন সেটা ছন্নছাড়া এক
মেসবাড়িতে পরিণত হয়েছে। ঘরণী ছাড়া কি ঘর থাকে ! ঘরে ঢুকতেই অনীহা।তবু অফিসটুকু আছে
বলে এখনো টিকে আছে। বের হওয়ার একটা তাগিদ অনুভব করে। সে এক সরকারি অফিসের
আধিকারিক। দায়িত্ব পূর্ণ কাজ। না হলে হয়তো এতদিনে ...।
স্ত্রী
চন্দ্রা তাদের আট বছরের পুত্র সন্তানকে নিয়ে চিরদিনের মতো বাপের বাড়ি চলে গেছে।
ভাবেনি সত্যি সত্যি চলে যাবে। জামা-কাপড়
গুছিয়ে বড় একটি ব্যাগে ভরে ছেলেকে নিয়ে ফ্ল্যাট থেকে নেমে এল রাস্তায়। উবের বোধহয়
আগেই বুক করে নিয়েছিল। প্রবালও কৌতূহল বসত
নেমে এল। মনে মনে হাসিই পাচ্ছিল তার। বিবাহিত মহিলা ইচ্ছে করলেই কী স্বামীকে ত্যাগ
দিতে পারে? অত সহজ ! অভিনয় করে যে শিক্ষা দিতে চাইছে এইটুকু বোঝার বুদ্ধি
প্রবালের আছে।মূলত সে নেমেছে কাটা ঘায়ে একটু নুনের ছিটে দেবে বলে। শুনিয়ে
দেবে,যাচ্ছ যাও, আর ফিরে আসার দরকার নেই।
ভড়ং দেখিয়ে স্বামীকে অপদস্থ ! দেখাচ্ছি।
কিন্তু
না, চন্দ্রা যা করল ভাবলে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।
গাড়িতে
ওঠার আগে আচমকা ঠাস করে এক চড় কসাল প্রবালের গালে। প্রতারক, তোমার মুখ দর্শন করাও
পাপ। বলেই গাড়িতে উঠে মিলিয়ে গেল। প্রবাল হতভম্ব ! এতবড় স্পর্ধা! সপাটে থাপ্পড় মেরে দিল ! এত সাহস ! মেজাজ সপ্তমে উঠে গেল। না, জিন্দেগীতে আর কোনোদিন ফিরিয়ে আনবে না।স্পটে
দাঁড়িয়েই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল। পায়ে ধরে শত কাকুতি মিনতি করলেও নয়।
এরপর
নদীর জল আপন গতিতে বইতে থাকে।দিন যায় মাস যায় বছর যায়। সময় নিজস্ব গতিতে এগিয়ে
চলে। চন্দ্রার ফিরে আসা দূরে থাক কোনও খবর নেওয়ারও প্রয়োজন বোধ করে নি। এমনকি
আদরের সন্তানটিও বাবার সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ নেই দেখে অবাক। থাকতে না পেরে ফোন
করেছিল কয়েক দিন।কথা শুরু করতেই সুইচ অফ করে দিচ্ছে। এভাবে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে !
প্রবালের ধ্যানধারণা ভেঙে চুরমার। একটি মেয়ে স্বামী পুত্র নিয়ে দশ বছর ধরে সুখে
সংসার করছে। ছেলেকে উচ্চ শিক্ষিত করবে। কি কি পড়াবে বহু পরিকল্পনা মাথায়। ফ্ল্যাট
ছেড়ে মনের মতো স্বপ্নের বাড়ি বানাবে। শহরের জনবহুল এলাকায় চমৎকার একটি জায়গাও কিনে
ফেলেছে। সুখী দাম্পত্য জীবন বলতে যা বোঝায়। চন্দ্রার আগ্রহেই এতদূর এগিয়েছিল।
চন্দ্রারই সব পরিকল্পনা,সে-ই জোর করে জায়গা কিনিয়েছে। স্বপ্নের বাড়ি বানাবে।
স্বামী,সংসার, পুত্র নিয়ে কত আশা। কত কথা শোনাত।এরপর কেউ কি এক কথায় চলে যেতে পারে
! বছর ঘুরতে ঘুরতেই উকিলের চিঠি এসে হাজির। ডিভোর্সের নোটিস। প্রবালের মাথায় হাত।
এবার কি করবে সে !
(
দুই )
বর্ধমান
শহরের সর্বমঙ্গলা মন্দিরের নিকটেই থাকেন
নরেশ নস্কর। সজ্জন ব্যক্তি। পাশেই থাকেন ছোটভাই পরেশ নস্কর। দু'টি পরিবার ও ব্যবসা
আলাদা হলেও দু' ভাইয়ের মধ্যে মিলমিশ খুব।
অনেকে বলে আলাদা বলেই ভাইয়ে ভাইয়ে এত
আন্তরিকতা। আসলে তাঁদের পিতৃদেব বেঁচে থাকতেই দুই ছেলেকে দুটি ব্যবসার দায়িত্ব
দিয়ে পাশাপাশি দুটি বাড়ি করে পৃথক করে দিয়েছিলেন। দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে
গিয়েছিলেন তিনিই। পরেশের একমাত্র ছেলে
অঙ্কুশ এবং বড়ভাই নরেশের একটি মাত্র মেয়ে চন্দ্রা। ভাইবোন দুটি খুড়তুতো জ্যাঠতুতো
হলেও দুজনে একেবারে বন্ধুর মতো। চন্দ্রা ভাই বলতে অজ্ঞান। তার থেকে আড়াই বছরের ছোট
ভাইটিকে খুবই ভালোবাসে। তারা ছোট থেকে হেসে খেলে একসঙ্গে বড় হয়। আজ এত বছর পরে
ভাইকে খুব মনে পড়ছে। ভাই কিছু কথা বলেছিল তাকে। যুক্তিগ্রাহ্য মনে না হওয়াতে আমল
দেয় নি। আজ মনে হচ্ছে আরও একটু ভাবা উচিত ছিল।
একটু
খুলে বলা যাক। চন্দ্রা যখন ক্লাস নাইনে পড়ে তখন থেকে বাড়িতে দুজন শিক্ষক আসতেন
তাদের পড়াতে। একজন ইংরেজি আরেকজন অংক। ভাই পড়ত সেভেনে। দুজনেই একসঙ্গে পড়ত।
চন্দ্রা স্টার মার্কস পেয়ে মাধ্যমিক পাস করল। তখন থেকেই টের পেল সে ইংরেজি স্যারকে
ভালোবেসে ফেলেছে। স্যারও যে তাকে পছন্দ করেন বুঝতে অসুবিধে হল না। তারপর থেকেই
প্রেম কিছুটা গাঢ় হয়। বসন্তের হাওয়া দুজনের মনে। স্যার সপ্তাহে তিনদিন পড়াতেন।
অমোঘ আকর্ষণে চারদিন, পাঁচদিন, ছ'দিন করে আসতে শুরু করেন। প্রেমে অবশ্য পড়ার ক্ষতি হয় নি। এক ঢিলে দুই
পাখি মারার কথাটা কাজে লেগেছে। চন্দ্রা মাধ্যমিকে ইংলিশে লেটার মার্কস পেয়ে গেল।
যা কল্পনাতীত ছিল। সর্বোপরি ইংরেজির ভীত
মাধ্যমিক লেবেলেই শক্তপোক্ত করতে পেরেছে বলে তার বিশ্বাস।
ইলেভেন
ক্লাসে সাইন্স নিয়ে ভর্তি হল। ইংরেজি টিচার ঠিক থাকলেও অংকের টিচার চেঞ্জ করতে হয়।
একজন ব্রিলিয়ান্ট এম.এস.সিতে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া শিক্ষক এলেন তাদের পড়াতে। সাইন্স
গ্রুপটা পড়াতেন তিনি। যথেষ্ট ভাল পড়ান। ঘটনাটা ঘটল টুয়েলভ ক্লাসের হাফ ইয়ারলি
পরীক্ষার পর পরই। যা চন্দ্রার জীবনকে উলটপালট করে দিয়েছে। ইংরেজি স্যারের বাড়ির
আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল ছিল না। একটি বিশেষ কারণে
বেশ কিছু টাকার দরকার। চন্দ্রা সবটাই জানত। কারণ ততদিনে তারা প্রেমের সাগরে
সাঁতরাচ্ছে। স্যারের বাড়িতে নিত্য যাতায়াত। পরিবারের কোনও কথাই অজানা নয়। চন্দ্রা বাবার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা ম্যানেজ
করল স্যারকে দেবেন বলে। টাকাটা পড়ার ঘরের ড্রয়ারেই রেখে ছিল। রাতে পড়াতে আসেন
স্যার। মনে মনে স্থির করল পরদিন সকালে স্যারের বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসবে।
আশ্চর্য!
সকালে ড্রয়ার খুলে দেখে টাকাটা নেই। তন্ন তন্ন করে সব জায়গায় খুঁজেও পেল না। কি
করে উধাও হতে পারে। তার ঘরে অন্য কেউ ঢোকে না। অংকের স্যার ব্যস্ত হয়ে আসেন, পড়িয়ে
চলে যান। ড্রয়ারে হাত দেয়ার প্রশ্নই আসে
না। বরং ইংরেজি স্যার মাঝেমধ্যে ড্রয়ার খুলতেন। কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না।
স্যারকে ইঙ্গিতও দিয়েছিল, আমি ব্যবস্থা করে দেব। এবার কি হবে! ভাবতে ভাবতেই স্যার
তাকে ফোন করলেন।
"চন্দ্রা,
আজ সন্ধ্যায় পড়াতে যাচ্ছি না। তুমি তো জানো আজ বোনকে নিয়ে কলকাতা যাব। নার্সিং
কলেজে ভর্তি করিয়ে আসব। ফিরতে ফিরতে হয়তো রাত হয়ে যাবে। কাল যাব কেমন?"
চন্দ্রা
বলল," টাকা জোগাড় হয়ে গেছে? রাতে তো বললে না কিছু?"
"ও
তোমাকে বলা হয় নি। জোগাড় হয়ে গেছে। ও নিয়ে তুমি চিন্তা করো না। কাল দেখা
হচ্ছে।" চন্দ্রার হঠাৎ মাথাটা গরম হয়ে গেল। সে নিশ্চিত টাকাটা তাহলে স্যারই
ড্রয়ার খুলে নিয়েছে।
চন্দ্রা বলল," এবার বুঝতে পারছি তুমিই টাকাটা নিয়েছ। না বলে ড্রয়ার খুলে টাকা
নিলে কোন সাহসে? সে অধিকার তোমাকে কে দিয়েছে?"
"একী
কথা বলছ চন্দ্রা? এত উত্তেজিত হচ্ছ কেন? যদি নিয়েই থাকি, এভাবে কথা বলবে? এইটুকু
অধিকার কি আমার নেই? আমাদের যা সম্পর্ক তোমার যা আমারও তাই। তাই না? যাইহোক, শোনো,
তোমার কোথাও মারাত্মক ভুল হচ্ছে। এই ভাবনাটাকে পরিবর্তন করা দরকার। না হলে
কোনও সম্পর্ক মধুর থাকে না। কাল যাচ্ছি,
মুখোমুখি আলোচনা হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। রাখছি কেমন?"
চন্দ্রা বলল," এরপর কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে বলে আমি মনে করি না।" বলেই
মোবাইলের সুইচ অফ করে দিল।
সেদিনটা
চন্দ্রার যা গেছে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। স্কুলে গেছে ঠিকই কোথাও স্থির হয়ে বসে
থাকতে পারে নি। চিত্ত চাঞ্চল্যতায় অস্থির। সারাদিন শুধু ছটফট করেছে। রাতেও এক
বিন্দু ঘুমোতে পারেনি। চুরি করে বলে কিনা তোমার যা আমারও তা ! আশ্চর্য ! তার সঙ্গে
আবার কিসের সম্পর্ক !
পরদিন
সন্ধ্যে নাগাদ যথারীতি স্যার পড়াতে এলেন। চন্দ্রা মাকে দিয়ে বলে পাঠিয়েছে, এখন সে
সাইন্স গ্রুপের পড়া নিয়ে খুব ব্যস্ত। আর ইংরেজি পড়বে না। অগত্যা স্যার ফিরে গেলেন। দু'দিন বাদেই ভাই বলেছিল,
দিদি, তুই কোথাও ভুল করছিস। আমার মনে হয় তোর ভাবনাটা সঠিক নয়। একটু যাচাই করে
সিদ্ধান্ত নিলে ভাল করতিস।চন্দ্রা ভাইয়ের কথার কোনও আমলই দেয় নি। এরপরেও তিনদিন
স্যার ফোন করেছিল চন্দ্রাকে। ইচ্ছে করেই ফোন ধরে নি।
দেখতে দেখতে চন্দ্রা স্টার মার্কস পেয়ে এইচ.এস পাশ করে বর্ধমান রাজ কলেজে অংকে
অনার্স নিয়ে ভর্তি হল। স্যারের সঙ্গে আর
দেখা হয় নি। মনের গভীরের লুকোনো ক্ষতটা কষ্ট দিলেও পড়াশুনার তেমন ব্যাঘাত ঘটে নি।
বি.এস.সিতে ফার্স্ট ক্লাস পেল। এম.এস.সি পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তখনই অংকের স্যার
বাবার কাছে প্রস্তাব দিলেন, তিনি চন্দ্রাকে বিয়ে করতে চায়। স্যার ডবলু.বি.সি.এসের
এ গ্রুপ পেয়ে ভাল চাকরি করছে। আপাতত বালিতে পোস্টিং। চেনাজানার মধ্যে ভাল পাত্র
পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে গেল।
(তিন)
সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা। প্রবাল অফিস থেকে ফিরে ফ্রেস হয়ে চা ও সামান্য টিফিন করে।
তারপর অফিসের কাজে ল্যাপটপ নিয়ে বসে। রাতের খাবার খেতে খেতে সাড়ে দশটা এগারোটা হয়ে
যায়। আজ দুটো সুখবর। চন্দ্রার খুশির দিন। চা খেতে খেতেই বলল। জায়গাটা যে কিনেছে
তার বিল্ডিং প্ল্যান স্যাংশন হয়ে গেছে। পাশাপাশি লোনও স্যাংশন্ড। পুরো প্ল্যানটাই
চন্দ্রার চয়েস মতো হয়েছে। এবার কাজ শুরু করার পালা। পুরো পরিবারটাই খুশির জোয়ারে
ভাসছে। এরমধ্যেই হঠাৎ কালি ছিটিয়ে পড়ল। ভাবেনি এর রেশ কতদূর যেতে পারে।কোনও ভূমিকা
ছাড়াই প্রবাল বলল," একটা কথা বলি, কিছু মনে করো না। তুমি যখন টুয়েলভ এ পড় তখন
তোমার ড্রয়ার থেকে তিন হাজার টাকাটা আমিই নিয়েছিলাম। আমি জানি ওই ইংরেজি শিক্ষক
কোনোদিকেই তোমার যোগ্য নয়। কেন তাকে হেল্প করবে। আমার মতো সে কি তোমাকে সুখী করতে
পারত? তোমার ভাইয়ের কাছে জেনেই আমি তক্কে তক্কে ছিলাম। বলতে পারিনি কিন্তু আমি
তোমাকে তখন থেকেই ভালবেসে ফেলেছি।
শুনে চন্দ্রা থ ! নির্বাক ! ভেতরের যন্ত্রণাটা আচমকা উগরে বেরিয়ে আসছিল। নিজেকে বড়
অসহায় লাগছিল। শুধু বলেছিল, এরপর তোমার সঙ্গে আর থাকা চলে না। তুমি একজন প্রতারক।
বাড়ি
ফিরে ভাবছে স্যারের কাছে কিভাবে ক্ষমা চাইবে? শুনেছে বিয়েথা করেন নি। কলেজের
লেকচারারের চাকরি করছেন। দুই বোনেরই ভাল বিয়ে দিয়েছেন। ভাই শুনে বলল, সঠিক
সিদ্ধান্ত নিয়েছিস দিদি। ভালই হল। জেঠুর বয়স হয়েছে। ব্যবসার হাল এবার তোকেই নিতে
হবে। আমি আছি তোর সঙ্গে। চন্দ্রা ভাবছে অন্য কথা। যাবে সে। যেতেই হবে। কিন্তু কোন
মুখে যাবে ! পা দুটি জড়িয়ে ধরলে ক্ষমা করবেতো? না হলে যে ...।
শেষ
লেখকের অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
লেখক পরিচিতি -
নিত্যরঞ্জন দেবনাথ পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ার পানুহাটে ১৯৫৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।কাটোয়া কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক। বর্তমানে থাকেন হুগলির চুঁচুড়ায়। পেশায় কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী ছিলেন।অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেল-এর অধীন ডিভিশনাল অ্যাকাউন্টস অফিসার পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম গল্প " চেতনা " ছোটদের পত্রিকা শুকতারায় ১৯৯৬ - এর এপ্রিলে প্রকাশিত হয়। এরপর দেশ, শিলাদিত্য, কালি ও কলম,মাতৃশক্তি, তথ্যকেন্দ্র, কলেজস্ট্রিট, কথাসাহিত্য, দৈনিক স্টেটসম্যান, যুগশঙ্খ, একদিন,,সুখবর ইত্যাদি এবং বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে নিয়মিত তাঁর সাহিত্যকীর্তি অব্যাহত। ইতিমধ্যে পাঁচটি গল্প সংকলন ও চারটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক "শতানীক " পত্রিকাটি দীর্ঘদিন ধরে সম্পাদনা করে আসছেন।
.jpg)