কংক্রিটে ঢেকে গেছে এই পৃথিবী ।হ্যাঁ ,বাস্তবে এই
পৃথিবীতে এটাই এখন চরম সত্য। সবুজ নরম এই পৃথিবীকে রড সিমেন্ট আর আধুনিক রঙের
চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। নগরায়নের আবেগে মানুষ আজ ভুলে গেছে তার প্রকৃত উৎসের
সন্ধান।
পৃথিবীর বড় বড় শহর গুলিতে আজ আর মাটি দেখা যায় না, দেখা যায় মাটির উপরে সিমেন্টের পুরো চাদর। গাছগুলোর শিকড় প্রসারিত হতে পারে না কংক্রিটের পরাধীনতায়। অথচ এই মাটি ই হল বেঁচে থাকার এবং বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র প্রাকৃতিক উপাদান ।এখান থেকেই সৃষ্টি হয় আগামীর পৃথিবীর প্রাণ।
পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর বস্তুতান্ত্রিক
ব্যবস্থায় মাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জৈব বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রেও
গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে এই মাটি। কৃত্রিমতায় মাটিকে ঢেকে
দিয়ে এই পরিবেশের অবক্ষয় যে দ্রুততার
সঙ্গে এগিয়ে চলে,
তা আজ প্রমাণিত । মাটি সৃষ্টির প্রাথমিক প্রক্রিয়া হিসাবে রেগলিথের
ভূমিকা অপরিসীম। সেখানে কংক্রিটের চাদরের জন্য রেগোলিথ সৃষ্টি ব্যাহত হচ্ছে যা
পৃথিবীর আগামীর দিনের জন্য আশঙ্কার। এর ফলে একদিকে যেমন মাটি সৃষ্টির প্রক্রিয়া
ব্যাহত হবে ঠিক অপরদিকে পৃথিবীর সবুজায়ন ধীরে ধীরে ধূসরে পরিণত হবে। ভারতবর্ষের
বড় শহর গুলি তে অক্সিজেনের লেভেল অনেক কম
বর্তমানে ।
এছাড়া, পৃথিবীর বিভিন্ন বড় শহরের সাথে
ভারতবর্ষের ও বেশিরভাগ স্থানে ই অভ্যন্তরীণ জলের পরিমাণ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে যা
আগামী দিনে পৃথিবীর উষ্ণতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হয়। ফলত দূষণের পরিমাণ
প্রতিদিন বেড়ে চলেছে এই শহরগুলোর উপরে। তবে এই ধ্বংসাত্মকতার হাত থেকে গ্রাম গুলো
পিছিয়ে নেই।তার অন্যতম কারণ গাছের সংখ্যা হ্রাস এবং মাটির উপর কংক্রিটের চাদর।
এছাড়াও বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা মাটিকে খনন করে যেভাবে রড সিমেন্ট গিলে ফেলছে এই
পৃথিবীকে ,আগামীতে এই পৃথিবী দ্রুত ভারসাম্য হারাবে। তবুও
মানুষ অতি আধুনিক ভাবনার পথে চলতে গিয়ে বারবার আঘাত করছে তার নিজের বেঁচে থাকার
স্থানটিকেই । বিশ্বের কোন দেশের শাসক রা
পৃথিবীতে বাঁচানোর জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা এখনো গ্রহণ করেনি ।এমনকি বিশ্ব
উষ্ণায়নের প্রভাব মুক্ত হওয়ার জন্য যে সমস্ত আন্তর্জাতিক মিটিং এর রূপরেখাও
বাস্তবায়িত করেনি বেশিরভাগ দেশ ই। শুধুমাত্র সাম্রাজ্যবাদ এবং আর্থিক
সমৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় মগ্ন হয়ে এই পৃথিবীকে তিল তিল করে শেষ করে দিচ্ছে তার
ধ্বংসের পথে।
একুশ শতকে দাঁড়িয়ে এবার থামতে হবে আমাদের। আমিত্বের
বালখিল্যতায় পৃথিবীতে আর ধ্বংসের দিকে পৌঁছে দেওয়া ঠিক নয়, এটাই ভাবতে হবে
সকলকে। কংক্রিটের আবর্জনা থেকে এ পৃথিবীকে বাঁচাতে হবে সকলের জন্য ।আর বাঁচতে হবে
প্রকৃতিকে সঙ্গী করে। ধ্বংসাত্মক নেতিবাচক ভাবনার বাইরে এসে এই পৃথিবীকে সুস্থ
ভাবে বাঁচতে দেওয়ার ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে সকল প্রজন্মকেই। এই পৃথিবীকে
ফিরিয়ে দিতে হবে তার জন্মের শৈশবতায় ।
লেখক পরিচিতি---
অরিজিৎ হাজরা। জন্ম বীরভূমের নগরী গ্রামে। শিক্ষকতার পাশাপাশি একাধারে প্রাবন্ধিক গল্পকার প্রতিবেদক ও গবেষক।
.jpg)