ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব – ১০৫
I
don't entirely resign. I may teach the Third Gospel
this
afternoon. I haven't made up my mind.
It
seems to me sometimes that others have easier jobs
And do
them worse.
সকালবেলা কলিং,বেলের টুং
টাং,শব্দে ঘুম ভেঙ্গেগেল বাভ্রবির।
গতকাল রাতের পার্টি শেষ হতে হতে
প্রায় একটা বেজে গিয়েছিল।
অনিবার্য এক আলোর ভোর
অনিবার্য এক আলোর ঠিকানা
ভূমিজ ঘাস,লতাপাতা
আর জলজ ফুলেদের
আলোর ঠিকানা
ভোর।
বাভ্রবি অনেক দিন একটি
আশ্চর্য ভোর দেখেনি। এক অনিকেত জীবন দর্শন
কে ছুঁয়ে ছুঁয়ে হেঁটে যায়নি অবচেতনের ভেতর থেকে উঠে আসা অলৌকিক ভোরের হাত ধরে--
রূপালী,রঞ্জাবতী,প্রকৃতি
আর প্রাকৃত একটি টেবিল ঘিরে বসেছিল। ওরা প্লেটে কিছু কিছু খাবার নিয়েছিল, কিন্তু খাওয়া থেকে গল্পের দিকেই
ছিল মনোযোগ।
যুধাজিত,সুজয় দা
এবং তাদের বন্ধু,বান্ধবীরা একটি টেবিল ঘিরে--
ওরা খাচ্ছিল
ওরা প্রমোশন,রিসার্চ
স্কলার, প্রজেক্ট ওয়ার্ক ইত্যাদি নিয়ে কথা বলছিল
--"স্যার,ইয়ে
প্রজেক্ট হামে দিলা দো--"
সুজয়দার প্রায় কোল ঘেঁসে
বসে,সুজয়দার প্লেটে একটি শাম্মি কাবাব
তুলে দিতে দিতে নেহা গোয়েলের লিপস্টিক হাসি বিকশিত--
প্রফেসর চাড্ডার টেবিলে লো,কাট
ব্লাউজের ক্লিভেজ দেখিয়ে এসোসিয়েট প্রফেসর নন্দিনীর মাসকারা চোখ
--"স্যার,ইসবার তো
মেরা প্রমোশন হো জানা চাইয়ে--আপলোগ কুছ করো না স্যার--"
যুধাজিতের প্লেটে কিছুটা
সালাড তুলে দিতে দিতে রিসার্চ স্কলার
পদ্মিনী
--"স্যার,একচুয়েলি
আই এম প্রেগন্যান্ট-"
যুধাজিত হেসে বলল
-"সো--হওয়াট ইজ ইয়োর প্রবলেম?"
পদ্মিনী হেসে বলল
--"স্যার,কুছ
কনসেশন করনা পড়েগা--মতলব,মেঁ ডেইলি সায়েদ,আ নেঁহি
পাউঙ্গি--তো মেরা স্কলারশিপ মেঁ কুছ আসর
নেঁহি আনা চাইয়ে--"
যুধাজিত হার্ড
ড্রিংকস এর গ্লাস মুখের কাছে তুলে
নিয়ে বলল
--"ওকে,উই উইল
সি--"
টেবিল থেকে অন্য টেবিলে--মোমবাতির আলোয় ফুলগুলিকে
রূপটান মাখা ঘুমন্ত পরীদের মত
লাগছিল--গার্ডেন,ফোয়ারার জলে অর্ধনগ্ন মার্বেল পরী--অনবরত শরীর বেয়ে উপচে পড়ছে জলের ধারা--।বাভ্রবি
কিছুক্ষণ চুপ করে পরীর গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রইল--কিছুটা উদ্বৃত্ত জলবিন্দু ছিটকে ছিটকে,পড়ল ওর
শাড়ির ভাঁজে,চোখের পাতায়,করতল
ভিজিয়ে দিয়ে গেল।
--"আরে বাবি,তুম ইঁহা
একেলে একেলে?"
মিসেস ভাটনগর কফির পেয়ালা হাতে--
--"আপলোঁগোনে
সব কুছ ঠিকসে,লিয়া হ্যাঁয়,না ভাবীজী?"
--"হাঁ,হাঁ,বিলকুল!আরে,তুম ইতনি
বড়ি,পত্রকার হো,ইয়ে তো হামে পাতাহি নেঁহি
থা।"
--"আউর দেখো,প্রফেসর
সাহাব কো,আপনি বিবি কি তারাক্কি পেঁ ইতনি বড়ি পার্টি,ডালে
হ্যাঁয়--"
মিসেস পারেখ --হাতে মাটন
বিরিয়ানি
--"কিতনা
প্যার করতেঁ,হ্যাঁয় ভাই প্রফেসর সাব আপ কোঁ--"মিসেস
মানচন্দানি--ডায়মন্ড নেকলেস মোমালি আলোয়
ঝলসে উঠল
--"হাঁ হাঁ
বিলকুল!বহুত লাকি হো বাবি তুম--"মিসেস মাহেশ্বরী,কাঞ্জীভরমের
আঁচল সামলাতে সামলাতে--
--"আরে ইয়ার,প্যার
কিঁউ নেঁহি করেঙ্গে--বাবি ইস উমর মেঁ ভী কিতনি হট হ্যাঁয়--"
মিসেস অরোরার কথায়
সবাই হেসে উঠল,জোরে
করতালি দিয়ে বলল
--"হিয়ার,হিয়ার!বিলকুল
সহি হ্যাঁয়--"
বাভ্রবির মুঠোফোন বেজে উঠতেই
বাভ্রবি--"এক্সকিউজ মি--।"বলে,একটু দূরে
এসে দেখল অমিত, অমিত সিংভীর ফোন।আস্তে করে বাভ্রবি বলল
--:"হ্যালো,।"
--"কংগ্রাচুলেশনস
ম্যাডাম। "
একটু চুপ করে থেকে বাভ্রবি
বলল
--:"থ্যাংকস।
হোয়াই ডিড ইউ নট কাম টুডে!"
ওপাশ থেকে অমিতের ভারী ,ভরাট
আওয়াজ ভেসে এলো
--"ম্যাডাম আই এম আউট অব ডেলহি নাও--"
--"ও।কোথায়?"
--"জয়পুর--আরেকটু
স্পেসিফিক ভাবে বললে সম্বর লেকের আশেপাশে।
এখানে আমাদের একটা বড় কাজ চলছে--।দেখা
হলে বলব।"
--"ওকে।"
---"এনজয়
দ্যা ডে--"
--"থ্যাংকস!"
--লেডিস এন্ড
জেন্টলমেন, গার্লস এন্ড
বয়েস--নাও আই রিকোয়েস্ট আওয়ার,স্যার টু
সে সামথিং এবাউট দ্য স্পেশাল ডে--"
বাভ্রবি রঞ্জাবতীদের টেবিলে
একগ্লাস পেপসি হাতে বসে পড়ে প্রাকৃত কে বলল
--"হ্যাঁরে,বাবু,তোর বন্ধু
সাগর কে দেখছি নাতো!,ওকে বলিস নি?"
প্রাকৃত একটু অন্যমনস্ক হয়ে বলল
--"বসেছিলাম, কিন্তু আজ নাকি ওদের বাড়িতে কিছু একটা অনুষ্ঠান আছে--।তাই--"
--"ঠিক আছে
পরে একদিন ডেকে নিস।"
--"ম্যাম, চলুন,স্যার আর,আমরা
সবাই আপনাকে একটি বোকে দিয়ে সম্মানিত
করব-"
আলো র ফোকাস,বোকে,মালা,এবং
অবশ্যই যুধাজিতের তরফ থেকে স্পেশাল গিফট--
বাভ্রবির বারবার
ই মনে হচ্ছিল--এই রিচুয়াল গুলোর কি খুব দরকার ছিল---
আলোর নীচে বড় অন্ধকার
নিজের ছায়া যেখানে বিশ্রাম
নেয়
সেখানে বৃষ্টি পড়ে
বারোমাস--
কলিং বেলের আওয়াজ। জানালার পর্দা ঘিরে নভেম্বরের রোদ--দেয়াল ঘড়িতে সকাল সাড়ে সাতটা।এই সকালে কে?ববিতা ,সর্বেশ কে
মানা করে দিয়েছে--।যুধাজিত ও পাশবালিশ
আঁকড়ে ঘুমোচ্ছে।নাইটির উপর হাউসকোট চাপিয়ে বাভ্রবি সিঁড়ি দিয়ে নীচে নাবতে
নাবতে দেখল,প্রকৃতি আর ওর বন্ধু সুমনা দুজনেই ঘুমোচ্ছে--প্রাকৃত ও ওর ঘরে অকাতরে ঘুমোচ্ছে--ওরা তিনজন
সারারাত আড্ডা দিয়ে ভোর ভোর ঘুমোতে গেছে--
লবিতে দাঁড়িয়ে
বাভ্রবির মনে হলো এক ঘুমন্ত পুরী তে সে হেঁটে বেড়াচ্ছে--দরজার ওপাশে
চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে রামদীন---এতো সকালে?দরজার লক
খুলে লনে পা রাখতে দৌড়ে এলো গ্রান্ডি--রামদীন
লোহার দরজার ওপাশ থেকে হাত জোড়
করে বলে
--"নমস্তে--।বটলব্রাশের
লাল ফুলে নরম সূর্যালোক।
ক্রমশ …………
১০৬তম পর্ব
পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
.jpg)