ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব – ১০৩
For
months my hand had been sealed off
In a tin
box.Nothing was,there but subway railings.
Perhaps it is bruised,I thought,
and that
is why they have locked it up.
দলা পাকানো কাগজ টি ঠিক করে চোখের সামনে মেলে ধরেই টানটান
হয়ে বসল বাভ্রবি। সীট বেল্ট পরা না থাকলে হয়ত উল্টে পড়েই যেতো। বিমানটি
এখন কিছুটা মেঘের ভেতর,দিয়ে চলেছে--নীচে,বহু নীচে
পৃথিবীর নদী ,অরণ্য--।এই মহানভ মণ্ডলে কোথায়,মানুষ আকাশ সীমা নির্ধারণ করে!
--"মুঝে বঁচা
লিজিয়ে আন্টি। ইন লোঁগোনে মুঝে কয়েদ করকে রাখা।"
নিজের ব্যাগের ভেতর থেকে
একটি পেন্সিল আর কাগজ বের করে হিন্দিতে দ্রুত লিখল বাভ্রবি
--"টয়লেটকে
পাস আ যাও। জলদি। "সবাই বেশ ঘুম,ঘুম,ঝিমুনির
মুডে--খাবার সার্ভড শেষ,হালকা নীল
আলো জ্বলছে। বিমান সেবিকারা সব সাফসুতরো করে নিজেদের জায়গায় ফিরে গেছে।
যুধাজিত ও সীট পেছনে করে ঘুমোচ্ছে। টয়লেটের
পাশে মেয়েটি দাঁড়িয়েছিল। মিষ্টি কোমল মুখে চড়া মেকআপ এই নীল আলোতেও বুঝতে পারছিল বাভ্রবি। মেয়েটি
ফিসফিস করে বলল
--"ও যো
ম্যাডাম হ্যাঁয়,না দিদি ওহি মেন কালপ্রিট
হ্যাঁয়--। মেঁ নর্থ ইষ্ট কে রহনেওয়ালি
হুঁ। চার মাহিনা সে হমে বুরা কাম করা রঁহে হ্যাঁয়--।
--"আভি
--"
--"আভি হমে
চায়না কোই ক্লায়েন্টকে সাথ লে গয়ে থে--। আভি হম দিল্লি যা রহেঁ হ্যাঁয়-।"
--"ঠিক হ্যাঁয়,তুম
যাও--। ল্যান্ড করনে কে বাদহি কারবাই
হোগি--"
চুপ চাপ মেয়েটি,যার নাম
নীনা (ব্রথেলের দেওয়া নাম) তাকে জায়গায় পাঠিয়ে,বাভ্রবিও নিজের জায়গায় ফিরে গেল। যুধাজিতকে কিছুই বলল না বাভ্রবি। একটা চাপা উত্তেজনার মধ্যে উড়ে চলল নিঃসীম শূন্যে--।
--"তুমি কি
করে বুঝলে যে আমি তোমাকে হেল্প করতে পারব?"
নীনাকে,এই প্রশ্ন
করতেই নীনা উত্তর দিয়েছিল
--"আপনি
আঙ্কেলের সাথে আমাদের ম্যাডাম কে নিয়ে কথা বলছিলেন--"
--"কিন্তু আমি তো বাংলায় কথা বলছিলাম, তুমি কি
করে বুঝলে?"
নীনা তেমনই আস্তে জবাব
দিয়েছিল
--"আমি নর্থ
ইষ্টের মেয়ে,বাংলা কিছু কিছু বুঝতে পারি--"
প্লেন,ল্যান্ড করতেই
যখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করার ঘোষণা হলো,তখন
ইমিডিয়েটলি বাভ্রবি ওদের খবরের কাগজের,অফিস এবং
প্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই ওরা পুলিশে খবর দিল। এরো ব্রীজ লাগবার সাথে
সাথেই পুলিশ ফ্লাইট,কমান্ডার এবং ক্রুদের সাথে
যোগাযোগ করে কোন যাত্রীকে সার্চ না করে ডি,বোর্ডিং
এর অনুমতি দিতে বারণ করল--"
সুজয়দা বইটির কভারে চোখ
বুলিয়ে বললেন--"যাই বলো ভাই, তোমার গিন্নিকে বাহবা দিতেই হয়। একটা ইন্টারন্যাশনাল গ্যাং কে ধরিয়ে দেওয়া--একজন বঙ্গ ললনার পক্ষে
--দারুণ দারুণ!ভকিন্তু ভায়া,তুমি ওর
সহযাত্রী ,মানে কো প্যাসেঞ্জার হয়েও কিছুই
টের পেলে না?"
যুধাজিত ঠোঁটের কোণে হাসির রেশ টুকু,টেনে বলল
--"আরে
সুজয়দা,আমাকে বাবি কিছু বললে তবে তো টের
পাব?"
বাভ্রবি হেসে,জবাব দিল
--"তুমি তো
আমার কথা প্রথম থেকেই হেসে উড়িয়ে দিচ্ছিলে জিৎ। তাছাড়া,ঐ পিম্প
মহিলাটি তোমার ঠিক পাশের সীটেই বসেছিলেন,তোমাকে
ফিসফিস করেও বলতে গেলে ব্রথেলের,মালকিন
শুনতে পেতো! আর সবকিছুই ভেস্তে যেতো।"প্রাকৃত,প্রকৃতি
একসাথে বলে উঠল
--"একদম
পারফেক্ট মম। ড্যাড কে না বলে ভালই করেছো।
ড্যাড জোরে জোরে কথা বলত আর সবাই সব জেনে
যেতো।"
রঞ্জাবতীর ঠোঁটের
কোণে মৃদু এক চিলতে হাসি।সুজয়ের,দিকে
তাকিয়ে বললেন
--"দেখলে তো, ছোট ছোটো
ছেলেমেয়েদের বুদ্ধি ও তোমাদের থেকে বেশি?"
বাভ্রবি এবার একটু অধৈর্য
সুরে বলল
--"কিন্তু বউদি,এই ম্যাগাজিন স্টোরি,কারা
করেছে?"
রঞ্জাবতী একটু হেসে,বাভ্রবির হাত টা নিজের হাতে টেনে নিয়ে
বললেন-"-অমিত সিংভী।"
বাভ্রবি অবাক হয়ে বলল--"কে অমিত সিংভী। আমিতো,--"
রঞ্জাবতী এবার একটু,মিষ্টি,হেসে,বললেন
--"দাঁড়া,দাঁড়া,এতো
অধৈর্য হোস না। অমিত হচ্ছে,আমি যে এন
জি ওর সঙ্গে কাজ করি,সেখানকার একজন সদস্য, ম্যানেজার
ও বলতে পারিস। বিদেশ থেকে,জার্নালিজমে
সদ্য ডিগ্রি নিয়ে দেশে
ফিরেছে।কিন্তু কোন মিডিয়ার সাথে যুক্ত
না হয়ে এভাবেই ফ্রি ল্যান্সিং,করছে,এন জি ও র
হয়ে কাজ করছে।" বাভ্রবি আবার একটু
অধৈর্যের সুরে বলল
--"কিন্তু আমকে নিয়ে --মানে -আমার ব্যাপারে ও জানল কি করে--,?"
সুজয়দা আর যুধাজিত দুজনেই
একসাথে হেসে উঠল।যুধাজিত কিছু না
বলে নিজের চশমার কাঁচ অকারণে মুছতে লাগল রুমাল দিয়ে,আর সুজয়
দা বললেন
--"হি মাস্ট
বি ইন্টারেস্টেড এবাউট উইমেন জার্নালিষ্ট
লাইক ইউ!"
রঞ্জাবতী গভীর দৃষ্টিপাতে
তাকিয়ে রইলেন সুজয়দার দিকে।সে দৃষ্টিতে কি যে তীব্র ঘৃণা,অবজ্ঞা
মাখানো ছিল--সুজয় দা চোখ নামিয়ে নিলেন।"
রঞ্জাবতী এবার বাভ্রবির
দিকে তাকিয়ে বললেন
--"বাবি,প্রথম
গ্যাংটা ধরা পড়ার পর তুই প্রেস ক্লাবে একটি
বক্তব্য রেখেছিলি,মনে আছে?"
-বাভ্রবি
মাথা নেড়ে বলল
--"হ্যাঁ,বউদি মনে
আছে।"
"আর এবারে
এই দলটি ধরা পড়ার পর,নীনাসহ
আরও কয়েকটি মেয়ে রেসকিউড হবার পর,দিল্লির
প্রায় সব কটি নিউজ পেপার এটা রিপোর্ট করেছিল। অমিত সেখান থেকেই মোটামুটি ভাবে কালেক্ট করেছে। তোর ছবি তো
প্রায় প্রতিটি নিউজ পেপার এ ছাপা
হয়েছিল।"
প্রকৃতি আর প্রাকৃত হাততালি
দিয়ে বলল
--"থ্রি
চিয়ার্স ফর মম--"
এমন সময় কলিং,বেল
জলতরঙ্গের মতো বেজে উঠল।
সবাই একসাথে একে অন্যের মুখের দিকে--। রঞ্জাবতী মৃদু হেসে ঘড়ির দিকে
তাকিয়ে বললেন
--"মাস্ট বি
অমিত। ও ভীষণ ভাবে পাংচুয়াল।"
রঞ্জাবতী লবি র দিকে এগিয়ে
গেলেন--
ক্রমশ …………
১০৪তম পর্ব
পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
