ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব – ১০২
into that
rushing beast of the night,
sucked up
by that great dragon,to split
from my
life with no flag,
no belly
no cry-
নভেম্বরের মিষ্টি রোদ--বাগান-বিলাসের আবীর রং নিয়ে খেলছে
দুটি ব্যাবলার। কিছুক্ষণ আগেই খাওয়া দাওয়া শেষ হয়েছে। প্রকৃতি আর
প্রাকৃত লনে ব্যাডমিন্টনের নেট
লাগাচ্ছে--সুজয় দা আর যুধাজিত যথারীতি সোফায় বসে সিগারেট পান করতে করতে আড্ডা
জমিয়েছে। বাভ্রবি রান্নাঘর গুছিয়ে,রাখতে
রঞ্জা-বৌদিকে সাহায্য করছিল।
সারাদিনের কাজের মেয়েকে রঞ্জাবতী এবার
সারভেন্ট কোয়ার্টারে গিয়ে রেস্ট নিতে
বলল।
--"আচ্ছা
বৌদি,এই সারভেন্ট কোয়ার্টার নামটা কি
কোলোনিয়াল,নয়?"
রঞ্জা-বউদি একটি পোর্সেলিনের
ডিস কাঁচের আলমারিতে,তুলে
রাখতে রাখতে বললেন
--"অবশ্যই।
"
-"তুলে
দেওয়া উচিত। "
রঞ্জা-বউদি হেসে
বললেন--"কিন্তু বাবি,এই লোকগুলো যাবে কোথায়,বিনে
ভাড়ায় দিল্লির মত জায়গায় থাকতে
পারছে--এটাই যে ওদের কাছে অনেক পাওয়া
রে--"
বাভ্রবি একটি কাঁচের গ্লাস ডিস ওয়াইপার দিয়ে মুছে
রঞ্জা-বউদির হাতে তুলে দিতে দিতে বলল
--"কিন্তু এর
বিনিময়ে যে এরা বন্ডেড লেবার এর মত খাটুনি খাটে বৌদি। তুমি না হয় এদের প্রতি সফট
হয়ে,ওকে এখন ছুটি দিলে--কিন্তু
অনেকেই তো --"রঞ্জা-বউদি,বাভ্রবির মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললেন
--"একদম ঠিক
বলেছিস বাবি। আমাদের দেশে যারা লোকের বাড়ি বাড়ি মেড সার্ভেন্টের,কাজ করে
তাদের কোনও ইউনিয়ন নেই,এরা
আন-অরগ্যানাইজড লেবার সেক্টরের আওতায় পড়ে--।এরা কত মাইনে পাবে,কতদিন
সবেতন ছুটি পাবে,কত ঘণ্টা কাজ করবে,উইদাউট
নোটিশ এদের ছাড়ানো যাবে কিনা--সবই নির্ভর
করছে যার আন্ডারে ওরা কাজ করছে,তার বা
তাদের মেজাজ মর্জির উপর।"
রঞ্জাবতীর কিচেন গোছানো হয়ে গিয়েছিল--এবার দুজনে আস্তে আস্তে বসবার ঘরে ঢুকে সোফায় বসতে বসতে বলল
--"তোমাদের
কি নিয়ে এতো ডিসকাশন চলছে?"
যুধাজিত সিগারেট
এর শেষ হয়ে যাওয়া টুকরো ছাই দানিতে গুঁজে দিয়ে বলল
--"এই ডিপার্টমেন্ট,দেশ,দেশের
পলিটিক্স--"রঞ্জা-বউদি মৃদু হেসে বললেন
--"আর
ডিপার্টমেন্টাল পলিটিক্স নয়?"
যুধাজিত ঘাড় চুলকে মৃদু হেসে বলল
--"বউদি--সে তো
আছেই--"
--:হুঁ।"
প্রকৃতি আর প্রাকৃত লন থেকে লিভিং রুমে আসতেই রঞ্জাবতী ওদের কে সোফায় নিজের পাশে বসতে বলেই
মৃদু হেসে বললেন
--"আমি
বাবিকে বলেছিলাম যে আমার আজ একটা
সারপ্রাইজ দেবার আছে।তোমরা বোধহয় সে
কথাটা বেমালুম ভুলে গিয়েছো।"
প্রকৃতি আর প্রাকৃত হই হই করে বলে উঠল
--"আরে,মম তো বলে
নি।বলো জেম্মা,কি সারপ্রাইজ
দেবে? উই আর ওয়েটিং--"
বাভ্রবি হেসে বলল--"আরে
তাই তো।বৌদি বলেছিলে বটে। আমার মাথা থেকে
একদম বেরিয়ে গেছে।"
যুধাজিত আর সুজয় দা একসাথে বলে উঠল
--"হ্যাঁ,হ্যাঁ,আমরা
উদগ্রীব হয়ে আছি--।"
রঞ্জাবতী দাঁড়িয়ে বললেন
--"লেডিস এন্ড জেন্টলমেন,আমি
আপনাদের সবাই কে একবার উঠে দাঁড়াতে
অনুরোধ,করছি।"
সবাই এ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে উঠে দাঁড়াল ।
রঞ্জাবতী এবার পাশের
ম্যাগাজিনের তাক থেকে একটি ছোট ইংরেজি
বুকলেট তুলে নিয়ে প্রচ্ছদ কাভার টা মেলে ধরলেন--
সবাই ঝুঁকে পড়তে বাভ্রবিও কাছাকাছি।--পুরো কভারপেজ
জুড়ে বাভ্রবির মুখ--ক্যাপশন
--big salute to our brave journalist!
বাভ্রবি স্খলিত কণ্ঠে
--"এটা কি
--বৌদি--কেন--"
প্রকৃতি আর প্রাকৃত আনন্দে চেঁচিয়ে উঠল
--"ইয়া!ইটস
আওয়ার মম!উই আর সো----প্রাউড!"
যুধাজিত আর সুজয় দা উদাসীন সুরে
--"হঠাৎ
-এই কাগজ--"
যুধাজিত রঞ্জাবতীর
দিকে তাকিয়ে বলল
--"বৌদি,ব্যাপার টা একটু খোলসা করে বলবেন কি?"
প্রাকৃত আর প্রকৃতি বাভ্রবি আর রঞ্জাবতীকে একসাথে
জড়িয়ে ধরল।
--"উই আর প্রাউড অব ইউ মম এন্ড জেম্মা।"
বাভ্রবি একটু উত্তেজিত সুরেই
বলল
--"কিন্তু আমি কি এমন করেছি--আর কেন ই বা কেউ আমাকে নিয়ে--"
রঞ্জাবতী এবার সবাই
কে বসতে বলে নিজেও বসে পড়লেন।বাইরে আস্তে আস্তে সূর্যের আলো গুটিয়ে আসছে,উলের বলের
মত--।
রঞ্জাবতী আস্তে আস্তে বললেন
--তোর
জন্য একটি বিশাল নারী পাচারকারী,ইন্টারন্যাশনাল দল ধরা পড়েছে রে বাবি।একবার নয়,দু
দুবার।একবার দিল্লিতে আর একবার এই
রিসেন্টলি দিল্লি এয়ারপোর্টে। যার শুরুয়াত একটি বিমানের ভেতর হয়েছিল--।"
বাভ্রবির মন উড়ে গেল সেদিনের বিমান যাত্রায়—
ক্রমশ …………
১০৩তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
