বিদর্ভ
নগরে এক রাজা ছিলেন,তিনি নিজের সৈনিকদের আদেশ
দিয়েছিলেন রাজ্যের ব্যবসায়ী যারা দৈনিক
কেনা বেচা করে, তাদের মধ্যে যার কোন জিনিস বিক্রি না হয় তাহলে এক দিনে যতটা জিনিস
বিক্রি করে ঠিক ততটা রাজা কিনবে, তাই সৈনিক ততটা কিনে নিয়ে
যেত। এই কথা সবার জানা ছিল প্রতিদিন
কোনো না কোনো খুদ্র ব্যবসায়ীর জিনিষ
বিক্রি না হলে রাজার সৈনিক সেটা কিনে নিত। এই
কথা যমরাজ এর কানে গেলে,যমরাজ বলল এতো ভালো কথা,রাজা
তো প্রজাপরায়ণ। তাহলে এক
কাজ করা যাক,এক দিন
রাজার পরীক্ষা নিয়ে দেখি, রাজা কতটা প্রজাপরায়ণ।
একদিন
হাটে যমরাজ এক অতি গরীব ব্যক্তির বেশ ধারণ করে অনেক ভাঙা- চুড়া জিনিষপত্র নিয়ে বিক্রি করতে বসেছেন। সবাই দেখে আর এগিয়ে চলে
যায় ভাবে এ আবার কি রকম দোকান,সব জিনিষ ভাঙা। সবাই নিজের
প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্র কিনে বাড়ী ফিরতে লাগল। সকাল থেকে দুপুর হল যমের দোকানের একটা জিনিষও বিক্রি হল না। বিকেল হয়ে
এলো তবুও একটা জিনিস কেউ কিনল না। খবর রাজার সৈনিকের কাছে গেল,সে
প্রতিদিনের মতো হাটে যমের দোকানে এসে উপস্থিত হল,বলল এগুলো
কি?
এসব তো ভাঙা জিনিসপত্র,এগুলো কে
নেবে?
গরীব ব্যবসায়ীবেশী যমরাজ বলল আমার কাছে এই ভাঙা জিনিসগুলোই
আছে আর এইগুলো বিক্রি করব বলে বসে আছি,কিন্তু
তোমার কথাই ঠিক কেউ কিছু কিনল না। সৈনিক
বলল রাজার আদেশ,যদি কারও সারাদিনে কোন কিছু বিক্রি
না হয় তাহলে একদিনে বিক্রি করতে পারে এমন জিনিস আমাদের কিনে নিয়ে যেতে, তবে
তোমার জিনিস তো সব ভাঙা,এগুলো কোন কাজে লাগবে না। তবে
রাজার নির্দেশ যখন তাই তুমি ৫০ মুদ্রা নাও আর তোমার দোকানের সব জিনিস আমাকে দাও।
তখন
খুদ্র ব্যবসায়ী বলল,আমার এই সব জিনিসের দাম এক হাজার
মুদ্রা দিতে হবে,তবেই এইসব জিনিস আমি তোমাদের দেব।
অন্য আরেক সৈনিক বলল বাবা এইসব ভাঙা জিনিসের দাম এক হাজার
মুদ্রা হবেনা। কিন্তু ওই ব্যবসায়ীর একই কথা এক হাজার মুদ্রা দিতে হবে। তখন রাজার
সৈনিকদের মধ্যে একজন বলল, এক কাজ করি,রাজাকে
জিজ্ঞেস করে আসি, এত মূল্য দিয়ে এই জিনিষগুলো নেব কি
না । না নিয়ে গেলে রাজার আদেশ অমান্য করা হবে,আবার
এত দাম দিয়ে নিয়ে গেলে রাজা যদি শাস্তি দেন!
অন্য
এক সৈনিক বলল, তাই ভাল, জিজ্ঞেস
করে আসি । ব্যবসায়ীও বলল, ঠিক আছে জিজ্ঞেস করে এসো । সৈনিক
রাজার কাছে গিয়ে সব কথা জানালো, রাজা বলল, ঠিক
আছে,
ওনার সব জিনিস ওনার চাওয়া দাম দিয়েই নিয়ে আসো । কারণ নিয়ম
যখন বানিয়েছি, নিয়মের পালন তো করতেই হবে ।
এই
কথা শুনে রাজ প্রাসাদের ভীতর থেকে একজন সুন্দরী নারী বেরিয়ে এসে বলল, রাজা
আমি চললাম । রাজা বলল, ঠিক আছে, বলে
নমস্কার জানাল । আসলে সেই সুন্দরী নারী হল
মা লক্ষ্মী । তারপর বেরিয়ে এলো একজন পুরুষ, রাজা কে
বলল,
রাজা আমি চললাম । রাজা ওনাকেও নমস্কার জানালেন, উনি হলেন
ধর্ম । তারপর এক-এক করে যশ, সম্মান সবাই চলে গেল । শেষে এলো
সত্য,
সত্য বলল রাজন আমিও চললাম । রাজা তখন সত্যের পা জড়িয়ে ধরল, বলল
আপনি আমাকে ছেড়ে যাবেন না, “আমি সত্য-ব্রত গ্রহণ করেছি” । তখন
সত্য খুশী হয়ে বলল, ঠিক আছে আমি তা হলে তোমাকে ছেড়ে
কোন দিনও কোথাও যাব না । আজ থেকে আমি তোমার প্রাসাদে চিরদিনের মতো থেকে গেলাম ।
সত্যকে থাকতে দেখে মা লক্ষ্মী রাজ প্রাসাদে ফিরে এলেন এবং তার পর এক এক করে ধর্ম, যশ
সবাই ফিরে এলো । রাজপ্রাসাদের ভীতর এই ঘটনা দেখে ব্যবসায়ীবেশী যমরাজ খুশী হয়ে রাজাকে আশীর্বাদ করে বললেন, ‘রাজন তুমি অনন্ত কাল পর্যন্ত সুখে শান্তিতে রাজত্ব করবে ।
_________________
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
লেখিকার
পরিচিতি ঃ-
জন্ম
বিহারের কিশানগঞ্জ-এ।
প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর কিষানগঞ্জেই। আঞ্চলিক বার্ষিক
পত্রিকা,
ই-ম্যাগাজিন www.tatkhanik.com -এ অণুগল্প, ছোট
গল্প,
প্রবন্ধ লেখালেখি করেন । ওনার প্রথম গ্রন্থ
‘নবরত্ন’(গল্পগুচ্ছ) । বই পড়া, ভ্রমণ ও আধ্যাত্মিকতায়
রুচিশীল এবং কুসংস্কার বিরোধী ।
.jpg)