ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব – ৯৮
The past
and present wilt--I have filled
them,emptied them.
And
proceed to fill my next fold of the future.
ঝকঝকে রোদ। কাঁচ ঘেরা
স্নানাগার;সুরভিত
গরম জল ভরা বাথটাব ;বেডরুমের বন্ধ কাঁচের
জানলা দিয়ে স্নানঘর থেকেই চোখে
পড়ে দূরের পাহাড়। হাজার বুদ্ধ
পার্ক। বুদ্ধ --শাক্য মুনি ডাকে
আয় আয়। সুরভিত গরম জল ভরা বাথটাব, পাঁচ তারা
শ্যংডং হোটেলের হাজারটা কমফোর্ট ডাকে,আয়
আয়।বাভ্রবি ভাবে--"কোনদিকে যাব?"
গতকাল রাতে সাংহাই থেকে
যুধাজিত আর বাভ্রবি শ্যংডং এসে পৌঁছেছে। দিল্লি থেকে সাংহাই। সাংহাই নামটির সাথে একধরণের স্বপ্ন
যেন জড়িয়ে আছে। হেমাঙ্গ বিশ্বাসের
গান বারবার মনে পড়ছিল। সাংহাইতে
প্রায় ন ঘণ্টার লে ওভার। সুতরাং
এয়ারপোর্ট থেকে একটি,ট্যাক্সি
নিয়ে,সাংহাই দর্শন।
যুধাজিত একটি কনফারেন্সে,এসেছে,বাভ্রবি
ওর একোম্পানিড হয়ে,এসেছে। চীন ভ্রমণের এই সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাইল না বাভ্রবি। চীনের
সঙ্গে,ভারতের কত প্রাচীন কাল থেকে যোগাযোগ। ফা হিয়েন, হিউয়েন
সাং--নামগুলো,হাতছানি দেয়--। সাংহাই--একটি ব্যস্ততম শহর,একটি
আধুনিকতম শহর ও বলা যায়। ভাষা অবশ্যই
একটি সমস্যা। কিন্তু বাভ্রবি
অবাক হল এদের পারদর্শিতা দেখে। ইংরেজিতে
বাভ্রবি যা জিজ্ঞেস করছে,সেটা ওদের
মোবাইলে হুবহু ম্যান্ডারিনে অনুবাদ হয়ে
বেরিয়ে আসছে। এয়ারপোর্ট থেকে একটি
ট্যাক্সি ভাড়া করে ওরা যখন,সাংহাই শহরটি দেখতে বেরুলো,ট্যাক্সি
ড্রাইভার এর সঙ্গে এভাবেই ওদের
কমিউনিকেশন চলল। সুন্দর উজ্জ্বল
দিন--আকাশ চুম্বী অট্টালিকার
চুড়োয় জুন মাসের সূর্য সমস্ত
আলোকবিন্দু ছড়িয়ে দিচ্ছে। ম্যাগল্যাভ ট্রেনে উঠে,বাচ্চাদের
মত আনন্দিত বাভ্রবি।মাটি থেকে কিছুটা উপরে,শূন্যে
উড়ে,যাচ্ছে একটি ট্রেনের জানালায় মুখ
বাভ্রবি একটি ডানামেলা পরী কিংবা--পাখি--।
--"ঠাম্মি,ঠাম্মি,আমি
পাখির মতন উড়তে চাই--"
গ্রামের বাড়ির বিস্তৃত
উঠোন জুড়ে ধান শুকোচ্ছে--উজ্জ্বল
রোদে একঝাঁক পারাবত বকম বকম শব্দে জানান দিচ্ছে নিজেদের অস্তিত্ব ঠাম্মি চশমার কাঁচ কাঁচের
মাধ্যমে বাভ্রবিকে দেখতে দেখতে বলেছিলেন -
--"না গো
দিদি,মাইয়ামনুষ উড়ে না,দাঁড়ে বহে। দানাপানি
খায়--"
বাভ্রবির সেদিন
খুব অদ্ভুত লেগেছিল--আজ এই
বিদেশের ম্যগল্যাভে বসে ঠাম্মির কথা গুলো মনে পড়ছিল--। গ্রামের বাড়িটি যেন বাভ্রবির কাছে ছিল
একটি গোপন,রাজবাড়ি--। অথবা একটি নকশি
কাঁথার মাঠ--।
কাঁচের ডোম ঘেরা একটি ক্যাপসুল লিফট--সাংহাই এর টিভি টাওয়ার-এ
দাঁড়িয়ে,গোটা সাংহাই
শহর টাকে দেখতে দেখতে বাভ্রবির মনে
পড়ছিল বিপ্লবী আন্দোলন এর কাহিনী--উল্টে
যাচ্ছিল রেড রিভলিউশনের পাতাগুলি।মানুষের জন্য
সভ্যতা,দেশ--নাকি সভ্যতার জন্য মানুষ?পৃথিবীর উচ্চতম
একটি প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে অফুরান
সূর্যালোকে উদ্ভাসিত একটি আকাশ,একটি
হারবার,সাংহাই এর স্কাই লাইন দেখতে দেখতে
বাভ্রবি বারবার মুগ্ধ হচ্ছিল। ওল্ড সাংহাই এর টিপিক্যাল ড্রাগন চিহ্নিত বাড়ি,হোটেল,রাস্তা
দেখতে দেখতে ভাবছিল প্রাচীনতাকে পাশে নিয়েও আধুনিকতম স্থাপত্য তৈরি করা সম্ভব। গাইড কাম ড্রাইভার সাব ওদের
তারপর নিয়ে গেলেন চীনের সাধারণ
শ্রমজীবী মানুষের চাকরি এবং
আবাসস্থল গুলো দেখাতে।
---কত শতক
পেরিয়ে ওরা আজ ভোরের জানালায়
সূর্য কণার অবিশ্রাম আলোক আলোকিত মুখ
ওরা কাজ করে --
সাংহাই ব্যস্ত
নগরী। বেশিরভাগ মানুষ
দৈনন্দিন কাজে আসা যাওয়া করেন পাবলিক
ট্রান্সপোর্ট অথবা সাইকেলে।সাংহাই তে সাইকেল
আরোহীদের জন্য রয়েছে আলাদা
লেন--এবং বিশাল বিশাল সাইকেল পার্কিং,লট।তরুণ,তরুণী,বয়স্ক নারী পুরুষ রা সাইকেল করে কাজে,যোগ দিতে
যাচ্ছেন--এমন,দৃশ্য
দেখে পুলকিত বাভ্রবি। আর মনে মনে
ভাবছিল কবে এমন দৃশ্য সে নিজের
দেশে দেখবে--
দরজায় মৃদু নক--
--ইয়েস?'
--"ম্যাডাম, রুম
ক্লিনিং--"মোটামুটি সুন্দর উচ্চারণে,একটি নারী
কণ্ঠ।
--"ইয়েস,ইয়েস,কামিং--"
দরজা খুলে দিতেই মিষ্টি হেসে নিচু হয়ে বো করে দাঁড়াল একটি সুন্দরী চীনা তরুণী।
--"গুড
মর্নিং ম্যাম--।"
--"গুড
মর্নিং--হোয়াটস ইয়োর নেম?"
মেয়েটি তেমনই হেসে বলল
--"ইউ কল মি
জেন--"
সঙ্গে সঙ্গে বাভ্রবির মনে পড়ল প্রকৃতি ওকে বলেছিল যে আমেরিকায় অনেক চাইনিজ
মেয়েরা এরকম একটি নাম রাখে,যাতে
প্রত্যেকের উচ্চারণ করতে সুবিধে হয়--
--"ওয়েলকাম
জেন--"
জেন আবার ও নিচু হয়ে ঝুঁকে
বো করে ঘরে পা রাখল---।
কাঁচের জানালার
ওপাশে হাজার বুদ্ধ মৃদু হাসলেন—
ক্রমশ …………
৯৯তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
.jpg)