Advt

Advt

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-101st-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী

ধারাবাহিক  উপন্যাস প্রতি বৃহস্পতিবার ।

 

পর্ব – ১০১

In burrows narrow as a finger,solitary bees

Keep house among the grasses.Kneeling down I set my eye to a hole-mouth and meet an eye

Round,green,disconsolate as a tear

সকালের নরম আলো। নভেম্বরের  প্রদূষিত বাতাবরণকে ছিন্ন করে ছড়িয়ে পড়ছে দিল্লির  কুতুবমিনারের সরতাজ থেকে খেলপথারের নরম সবুজ ঘাসে। বাভ্রবির গত রাতে ভাল  ঘুম না হলেও উঠে পড়েছিল ভোর ভোর। যুধাজিত বালিশ আঁকড়ে ঘুমোচ্ছে;গতকাল রাতে প্রকৃতিকে রিসিভ করতে,ওরা সবাই  মিলে এয়ারপোর্ট  গিয়েছিল। প্রকৃতি একটা কনফারেন্স এটেন্ড  করতে এসেছে,কয়েকদিন  কাটিয়ে যাবে। প্রাকৃত ফোনের  এপাশ থেকে জোরে জোরে বলেছিল -

--"কৃতি তুই কিন্তু কনফারেন্স শেষ হলেই চলে যাবার বায়না করবি না--অনেক অনেক গল্প আছে--"

প্রকৃতির ঝরঝরে হাসি যেন বাভ্রবির  কানে এখনও  বাজছে।

--"নারে ভাই,তোদের  সঙ্গে কিছুদিন কাটিয়ে যাব।"

রাত প্রায় দুটোয় ল্যান্ড করেছে প্রকৃতির এয়ার লুফথহানসার প্লেন। ইমিগ্রেশন-টেশন মিটিয়ে আসতে আসতে প্রায়,সোয়া,তিনটে।সেখান থেকে বাড়ি ঢুকতে ঢুকতে রাত চারটে। যুধাজিত  ই ড্রাইভ  করছিল। প্রকৃতি আর প্রাকৃত পেছনের সীটে বসে অনর্গল কথা বলে চলেছিল--

--"কৃতি তুই ওয়েট গেন করছিস--"

--"তাই নারে?দাঁড়া,এবার গিয়ে সিরিয়াসলি এক্সারসাইজ শুরু করতে হবে--"

--"কৃতি আমেরিকান লাইফে অভ্যস্ত--"

মাঝে মাঝে দুজনের  মিলিত  হাসির ছররা--

বাভ্রবির  ভাল  লাগছিল। বাভ্রবি জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখছিল,মাপছিল রাতের দিল্লি।মস্ত বড় চাঁদ  আকাশে।আকাশ দেখে মনে হচ্ছিল আজ হয়ত প্রদূষণ এর  মাত্রা একটু কম--ততটা হেজি লাগছে না--

প্রকৃতি পেছন থেকে বলেছিল

--"মম,জানালা,খুলে দাও না--খোলা হাওয়া আসবে--"

প্রাকৃত হই হই করে বলল

--"নারে কৃতি,ভীষণ পলিউশন।"

প্রকৃতি অবাক  হয়ে বলল

--"বলিস কি ভাই--আগে তো আমরা অনেক সময়ই জানালা খুলে লং ড্রাইভে যেতাম।"

যুধাজিত  বসন্ত বিহারের  দিকে টার্ন  নিতে নিতে বলল

--"দোজ ডেস আর গন রে কৃতি।"

হতাশ সুরে প্রকৃতি

--"ইস,আমি ভাবলাম, দিল্লি যাচ্ছি,জানালা খুলে লং ড্রাইভে যাব--হু হু করে মুক্ত  বাতাস --

--"আমাদের চোখে মুখে স্নেহের পরশ বুলিয়ে,দেবে--"প্রাকৃত যোগ করল।

বাভ্রবি হেসে বলল

--"ডিয়ার চিলড্রেন,আমরা এখন আমেরিকান  মডেল ফলো করছি--।"

এক কাপ ব্ল্যাক  চা বানিয়ে,লনে যেতে যেতে,বাভ্রবি দেখল প্রকৃতি আর প্রাকৃত যে যার ঘরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।

প্রাকৃতের,ঘরে লাইট জ্বলছে--ছেলেটা লাইট জ্বেলেই ঘুমিয়ে পড়েছে।

লাইটের,সুইচ অফ করে লনের চেয়ারে বসতেই  বিড়িং আর গ্র্যান্ডি ছুটে এলো।বিড়িং সোজা বাভ্রবির  কোলে,চেপে চোখ বন্ধ  করে বলল

--"মিঁয়াও।"

গ্র্যান্ডি,ঘাসের উপর বাভ্রবির  দুটি পায়ে মাথা রেখে,শুয়ে পড়ল সটান।

বাভ্রবির  মন ভালবাসায়,আদরে ভরে উঠল।

চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে দেখল হকার নিউজ পেপার যথারীতি গেটের,ভেতরে ছুড়ে,ফেলে সাইকেলের  বেলে ক্রিং,ক্রিং শব্দ  তুলে বেরিয়ে গেল। সময় নেই। সাইকেল চেপে,প্রাণ হাতে করে এরা ঘরে ঘরে পেপার বিলি করে।দিল্লিতে,সাইকেল লেন ও নেই।  বাভ্রবির  মনে পড়ল ও এই নিয়ে রেগুলার  পেপারে,লিখে যাচ্ছে--।সেদিন প্রেসক্লাবে একটি সেমিনারে এই  প্রসঙ্গ সে তুলেছিল কিন্তু--।

পেপারটা হাতে নিয়ে রাবার ব্যান্ডের বাঁধন খুলতে খুলতে বাভ্রবির  মোবাইল  ফোন বেজে উঠল।

--"বাবি,আমি রঞ্জাবৌদি,বলছি-"

--"বৌদি,তুমি ইন্টারকম এ না করে,মোবাইলে?"

ওপার থেকে রঞ্জাবতীর  হালকা গলা ভেসে এলো

--"ইন্টারকম  তো লবিতে--  বাজলে সবাই  জেগে উঠবে--গতকাল  নিশ্চয়ই  সবাই  ঠিকঠাক পৌঁছে গেছিস?"

--"হ্যাঁ।সবাই  এখন--"

বাভ্রবির  মুখের কথা কেড়ে নিয়ে রঞ্জাবতী বললেন

--"ঘুমোচ্ছে।সেটাই  স্বাভাবিক।শোন,আজ তো ছুটি --দুপুরে তোরা সবাই  আমার  এখানে চলে আসিস।একসাথে খাব--"

--"বৌদি ,কেন তুমি ঝামেলা করছো?--"

--"কোনও  ঝামেলা নেই।  তোকে একটা সারপ্রাইজ  দেবো!"

--"সারপ্রাইজ?"

--"নট নাউ ডিয়ার। দুপুরেই হবে--বাই-।"

বৌদি ফোনটা রেখে দিতেই  গেট খুলে ববিতা ঢুকল।ববিতার পোড়া দাগ গলার নীচে এখনও  স্পষ্ট।

--"আন্টি,আজ আমি এলাম গো। মার শরীর ভাল  নেই। "

ববিতা কে দেখে বাভ্রবির শরীর এবং মন মোচড় দিয়ে উঠল। এরা কি শতাব্দীর পর শতাব্দী এভাবেই  শ্রম বিলিয়ে যাবে?ববিতার শ্বশুর বাড়ির বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের  মামলা করতে বলেছিল বাভ্রবি।সর্বেশ ম্লান হেসে বলেছিল

--"কোই ফয়দা নেঁহি হ্যাঁয় বিবিজী।পঞ্চায়েত  হম পর হি দাবাও ডালেঙ্গে"

--"আন্টি,মেঁ যাঁউ?"

--"হাঁ বেটা যা--মেঁ আ রহি হুঁ।"

ববিতা একগাল হেসে ভেতরে ঢুকে গেল।

দীর্ঘশ্বাস  ফেলে কাগজ চোখের সামনে মেলে ধরতে ধরতে বাভ্রবি ভাবল--মেয়েটা একসময় সাজতে পছন্দ  করত!আজ শ্বশুর বাড়ির দেওয়া পোড়া দাগ শরীরে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে--!চকিতেই প্রকৃতির  কথা মনে পড়ল

--"স্যরি মম,আজকাল কেউ  বিয়ে ফিয়ে করে না--।ইচ্ছে হলে লিভ টুগেদার  এর কথা ভাবা যাবে।বাট নাউ আই এম এবসোলিউটলি ফা-ই-ন!

সকাল  আস্তে আস্তে দুপুরের দিকে হাঁটছে--

ক্রমশ …………

১০২তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার

লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন । 

লেখিকার পরিচিতি –        

জন্ম-কলকাতায়  আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা 

প্রকাশিত গ্রন্থ

১--সাপ শিশির খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)