ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব – ৯৭
Of late
they leave the light on my entry,
So I
won't scare, though I never scare in the dark:I blessthis arrow that flies from
wall to window---
এখন চারিদিকটা
নিস্তব্ধ। আমার কবিতার খাতা খুলে বসতে ইচ্ছে করছে--কিন্তু আমাকে এখন অঙ্ক নিয়ে বসতে হবে। সামনে টাইম
টেবিল --বাবা ফিক্সড করে দিয়েছে--। আচ্ছা,আমার বাবা প্রফেসর
না হয়ে যদি একজন জাস্ট চাকুরীজীবী হতো,তাহলেও কি? সারাদিন শুধুই অংকের
মত জীবন যাপন। বিচ্ছিরি।
--আজ বাবা
আমাকে যাচ্ছেতাই বলল। মা চুপ করে ছিল।
আসলে আমাদের বাড়িতে বাবার কথাই
শেষ কথা। হি ইজ এ গ্রেট ডিক্টেটর ।
কিন্তু বাবা কি সবসময় ঠিক? বাবা,মা-রা কি
সবসময় ঠিক?
--আজ মা,আর
বাবার ঝগড়া হচ্ছিল। রাতে। রাত তখন দুটো। মা
বাবাকে বলছিল--"তুমি এতরাত পর্যন্ত
ল্যাপটপে কি করছিলে?
--"কাজ
করছিলাম।"
-"মিথ্যে কথা!"
--"মানে?"
--"মানে ,তুমি পর্ণ
চ্যাট করছিলে--"
--"কি সব বকে
যাচ্ছ? আমি কালকের লেকচার নোট প্রিপেয়ার
করছিলাম-"আবার মিথ্যে কথা!
তারপর আর কিছু আমি শুনতে
পাই নি--মানে আমি আমার নিজের ঘরে চলে এসেছিলাম।
পর্ণ চ্যাট কি হয়? পর্ণগ্রাফি
খারাপ। মোস্ট প্রবাবলি পর্ণ চ্যাট ও তাই। কাল
প্রিয়া কে জিজ্ঞেস করব।
--আজ ভীষণ
বৃষ্টি হচ্ছে। কি ভাল লাগছে --মনে হচ্ছে বৃষ্টিতে ভিজি--ময়ূরের
মত নাচি--পেখম মেলে--সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে লনে পা রাখতেই বাবার
ভারী গলা-'"মোম,এই বৃষ্টিতে কোথায় যাবে?"
--"না,মানে--এই একটু--"
--"প্রিয়ার
বাড়িতে যাবে? কোনও নোটস আনতে হবে? তাহলে
ছাতা নিয়ে যাও--।"
--"না,ঠিক আছে--বৃষ্টি থেমে গেলেই যাব।"
--"সেই ভাল--। তোমার
টাইম টেবিল অনুসারে এখন
বিশ্রাম--গো,এন্ড
টেক রেস্ট। "
অসহ্য। জাস্ট অসহ্য। আই এম লিভিং ইন এ হেল।
--আই হেট
ইট। আই হেট ইট। আই হেট ইট।
মোমালির ডায়েরি পড়তে পড়তে মনটা ভারাক্রান্ত বাভ্রবির। এইটুকু একটি মেয়ে--সে --নিজের মত বাঁচতে চেয়েছিল। আর পড়তে ইচ্ছে হল না। রাত
প্রায় একটার কাছাকাছি। মোমালি নামের
মেয়েটি এখনও কোমায়;মোমালি
নামের মেয়েটি বাঁচতে চেয়েছিল। বৃষ্টিতে
ভিজতে চেয়েছিল। সে অংকের মত ঘড়ি ধরা জীবন চায়নি। আজ ১৫ দিন-'মোমালি
নামের একটি তরতাজা মেয়ে ভেজিটেবল স্টেটে
হাসপাতালে পড়ে আছে। একা। এখন আর রাতে কেউ
থাকছে না---নিশীথদা যথারীতি নিজের
কাজ করছেন--ছাত্র, ছাত্রীদের নিয়ে পড়া আড্ডায় আবার ফিরে গেছেন--বৌদি যন্ত্রের মত নিজস্ব যাপন
চিত্রে মগ্ন। শুধু মৈনাক এখনও --"দিদি'-কে দেখতে
চায়--। মৈনাক এখনও দিদির
জন্য কাঁদে--।
--ল্যাপটপ
শাটার ডাউন করে বাভ্রবি নিজের স্টাডি কর্নার থেকে বেরিয়ে খোলা টেরেসে এসে
দাঁড়াল। প্রাকৃতের ঘরে আলো জ্বলছে। প্রাকৃত ল্যাপটপে ব্যস্ত।বিদেশের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে প্রাকৃত এপ্লাই করে চলেছে।অথচ একটা সময় পর্যন্ত প্রাকৃত নিজের দেশ,নিজের মা,বাবাকে
ছেড়ে বাইরে যেতে চায় নি। হঠাৎই কি এমন
--। সাগরের সঙ্গে ওর বন্ধুত্বটা কতটা প্রগাঢ়? নাকি
সাগরের মা বাবার বিবাহ বিচ্ছেদ এবং দুজনের
নতুন সংসারে সাগর অবাঞ্ছিত বলে
প্রাকৃতের এতো কাছাকাছি ও চলে এসেছে?তারাভরা
আকাশের নীচে ,খোলা
টেরেসে দাঁড়িয়ে বাভ্রবি নিজেকে খুঁজছিল---। যুধাজিত নাক ডাকিয়ে বেডরুমে ঘুমোচ্ছে। যুধাজিতের
জীবনটাও কেমন ঘড়ির অংকে চলে!সকাল সাড়ে
পাঁচ টায় উঠে-ছটায় মর্নিং ওয়ার্ক--।এবং সেখানে মাঝে মাঝেই ওর স্টুডেন্টরাও আসে। বিশেষ করে পি এইচ ডি স্টুডেন্টস। মেয়েরা ও আসে। মর্নিং ওয়াক
করতে করতে কি এমন আলোচনা? প্রকৃতি ফোনের ওপারে হেসে
বলেছিল
--"মম,ইট ইজ
আমেরিকান কালচার! ইউ ওন্ট আন্ডারস্টান্ড।
"
কালচার? সংস্কৃতি।
রবীন্দ্রনাথের--"শেষের
কবিতা"মনে,পড়ল,বাভ্রবির
।--"কমল হীরের পাথর টাকে বলে,বিদ্যে, আর তার
থেকে যে আলো ঠিকরে বেরোয় তাকেই বলে
কালচার। আলোর আছে দীপ্তি,পাথরের আছে ভার।" কি জানি এই সময়--এই
ধোঁয়াশা--সবকিছুই কেমন ওলট পালট হয়ে
যাচ্ছে। মোমালির ডায়েরিটা বাভ্রবিকে
ভাবাচ্ছিল।
সামনের বেল গাছের ডালে একটি ময়ূর অসময়ে ডেকে উঠল---।
ক্রমশ …………
৯৮তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
.jpg)