ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব – ৯৪
I take
the elevator and go
down
,pondering,
and walk
on the pavements staring into all man's plateglass,faces,
questioning
after who loves,
and
stop,bemused
infront
of an automobile shopwindow-
এরকম--ইতস্তত প্রচ্ছন্ন
শব্দ মালা খুঁজতে খুঁজতে চলে গেল বিকেল।বিকেলের হাত ধরে সন্ধ্যা--ও। ক্রমবর্ধমান এক বিরল অস্তিত্ব, অথবা
না-অস্তিত্বের টানাপোড়েন। বাভ্রবির
সমস্ত চেতনা জুড়েই এক অস্থিরতা
খেলা করে চলেছে। কিছুতেই মন সংযোগ
করতে পারছে না। প্রাকৃত--প্রাকৃত রয়ে
যাচ্ছে বাভ্রবির সমস্ত চেতনা-স্তরের
পরতে পরতে।
--"এই ছেলেটি আর কতদিন থাকবে আমাদের
বাড়িতে?"
যুধাজিত আর বাভ্রবি দুজনে খোলা টেরেসে দুটো চেয়ার পেতে বসেছিল। বোগনভেলিয়ার ফুলগুলোর
রঙ বদল দেখছিল--চাঁদ এবং হ্যালোজেন লাইটের সঙ্গমে।
অনেক দিন পর দিল্লির
আকাশ পরিষ্কার। ধুলো,বালি,প্রদূষণের
আবরণ সরিয়ে সুন্দর ত্রয়োদশীর চাঁদ।কিছু
কিছু নক্ষত্রের সমাবেশ। খালি চোখে ও খুব
উজ্জ্বল লাগছিল। বাভ্রবি চাঁদ, ফুল আর
তারাদের সঙ্গে আকাশ বিহার করছিল--।কত হারিয়ে যাওয়া মানুষ--হারিয়ে যাওয়া
মানুষের স্মৃতি যেন ধরে রেখেছে ঐ
নক্ষত্রেরা।সেই তারার মধ্যেই
হঠাৎই ওর কলেজ জীবনের সহপাঠী
মার্থাকে দেখতে পেলো।মার্থা--হাওয়াইন গীটার বাজাতো--সর্বক্ষণ
চঞ্চল--প্রজাপতি যেন।দিল্লির মিরান্ডা
হাউসে এসেছিল একটি ইন্টার
কলেজ গানের কম্পিটিশনে।হঠাৎই একদিন
অসহ্য পেটেব্যাথা নিয়ে
দিল্লির একটি নামকরা হাসপাতালে ভর্তি
হল--আর সেখানেই চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল। অতিরিক্ত ড্রিংক করত মার্থা--আলসার হয়ে
গিয়েছিল--।উজ্জ্বল তারাদের মধ্যে কোনটা
মার্থা?
যুধাজিত সিগারেট
খেতে খেতে এমন একটি প্রশ্ন করবে
বোধহয় ভাবেনি বাভ্রবি।
--"কেন?বেশ তো
আছে দুটিতে। পড়াশোনা করছে।"
--"প্রাকৃত
প্রকৃতির মত ফোকাসড নয়।এতদিন
বলল দেশ ছাড়বে না--এখন বলছে
বিদেশে পড়তে যাবে।"
বাভ্রবি,হালকা
গলায় বলল
--"সবাই তো একরকম
হয় না জিৎ।আর হয় না বলেই পৃথিবী
এখনও বাসযোগ্য। "
বাভ্রবির গাঢ়তম
গলায় এমন কিছু ছিল--যুধাজিত
চুপ করে গেল।
বাভ্রবি,কিছুক্ষণ আকাশের
নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে ,আবার জিজ্ঞেস
করল
--"সাগরের কথা,তুমি কিছু
বলছিলে?"
--"হ্যাঁ,বলছিলাম সাগর,বেশ কয়েক
দিন হল--"
বাভ্রবি মাঝপথেই ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল
--"ওর মা
অন্য কারুর সাথে লিভ টুগেদার করবে বলে চলে গেছে --এখন ওর বাবা ও একজনকে
দস্তুরমতো বিয়ে করে ঘরে নিয়ে এসেছে। সাগর কিছুতেই ওর স্টেপ-মম কে মেনে নিতে পারছে না--তাই
কিছুদিন আমাদের বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা করছে--বিদেশের --"
যুধাজিত বলল
--"ওরা তো
আমেরিকান কোনও ইউনিভার্সিটিতে যেতে চাইছে না--" বাভ্রবি
মাথা নেড়ে বলল
--"না।ওরা
জার্মান, সুইজারল্যান্ড অথবা ইংল্যান্ড ,আয়ারল্যান্ড
যেতে চাইছে।"
--"হুম।"বলে
যুধাজিত চুপ করে গেল।
বাভ্রবি আবার তারা গুনতে গুনতে বলল
--"মোমালির--"
যুধাজিত সিগারেটে দীর্ঘ, শেষ টান
দিয়ে পাশের বেতের টেবিলে রাখা ছাইদানিতে শেষ হয়ে যাওয়া টুকরো গুজে দিয়ে বলল
--"একই রকম
আছে।"
--"কিন্তু সেদিন
তো ওর সেন্স,এসেছিল--আমার সামনেই
তো ফোন এসেছিল--"
যুধাজিত মাথা নেড়ে বলল
--"হ্যাঁ,সাময়িক--"
বাভ্রবি অস্ফুটে বলল
--"আমি,মৈনাক, মিসেস রাস্তোগি,বৌদি
সবাই মিলে গেলাম--ও কিছু একটা বলার চেষ্টা করছিল--মৈনাকের হাত ধরেছিল--"
যুধাজিত ক্ষুব্ধ
সুরে বলল--"পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বারবার
ওর স্টেটমেন্ট নেবার চেষ্টা করছিল--ডাক্তার রা বারবার
নিষেধ করছিল-'লাভ কি হল?মেয়েটা
আবার কোমায় চলে গেল।"
অন্ধকার আরও গাঢ়--অথবা পৃথিবী চাঁদের আলোয় আরও আলোকিত--।টেরেসের রেলিং এ হেলান
দিয়ে আকাশ দেখতে দেখতে নিজেকে কেমন
আকাশচর পরি কিংবা এঞ্জেল মনে হচ্ছিল বাভ্রবির। যুধাজিত, চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়াল।আড়মোড়া ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে বলল
--"বাবি,আমার খুব
ঘুম পেয়েছে-'রুমে যাচ্ছি।তুমিও চলে এসো--"
আকাশ চারী বাভ্রবির হালকা জবাব
--"হ্যাঁ, তুমি
যাও--আমি আসছি--"
বাভ্রবির ইচ্ছে হল যুধাজিত কে বলে
--"জানো জিৎ,আমি এখন
পরি কিংবা এঞ্জেল--আমার দুটি হাত এখন,রূপান্তরিত হয়েছে দুটি ডানায়--আমি এখন আকাশে উড়ে
বেড়াচ্ছি--আমার কোনও দেশ নেই, পাসপোর্ট,ভিসা
ছাড়াই আমি এখন প্রকৃতির কাছে পৌঁছে যেতে পারি---"
যুধাজিত ততক্ষণে টেরেস
ছেড়ে ঘরে ঢুকে গেছে--। বাভ্রবি আকাশ
বিহার ছেড়ে নিজের বাগানের দিকে চোখ রাখতেই দেখল-প্রাকৃত আর সাগর হাত ধরাধরি করে বাগানে হাঁটছে---গ্র্যান্ডি
ওদের সামনে হাঁটছে,আর বিড়িং ব্যালকনির
জানালার আলসে তে বসে আকাশ দেখছে---। চাঁদ
হঠাৎই একখণ্ড সাদা মেঘের আড়ালে--।
ক্রমশ …………
৯৫তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
.jpg)