ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব – ৯২
Paths
crossing in these hidden streets,
my
history summed up,my absences
and
ecstasies in Harlem-
--sun
shining down on all I own
in one
eyeblink to the horizon
in my
last eternity -
matter is
water.
প্রাকৃতের মুঠোফোন
বেজে উঠতেই বাভ্রবি ঘরের দিকে পা বাড়ালো। অন্ধকার নিটোল। প্রাকৃতের একতরফা সংলাপ
--"তুই এখন কোথায় আছিস?"--
--"হোয়াট আর ইউ টকিং অফ?"
--প্লিজ, রিলাক্স।"
--"আমি
আসছি--"
ফোন কেটে একটু উত্তেজিত সুরে প্রাকৃত বলল
--"মম,আমি
আসছি--"
--"এখন,কোথায়
যাচ্ছিস "?
গেট খুলতে খুলতে
প্রাকৃতের জবাব
--"সাগর এস
ডি এ মার্কেটের কফিশপে--আমার জন্য অপেক্ষা করছে--আমি তাড়াতাড়ি চলে আসব
মম--।"
প্রায় ছুটেই বেরিয়ে গেল
প্রাকৃত। বাভ্রবি একটু অবাক হয়েই বলল
--"প্রাকৃত, বেটা,সাগরকে
বাড়িতে ডেকে নে--"
যেতে যেতে প্রাকৃত বলল
--"ওকে,দেখছি
মম।"
সন্ধ্যার নিবিড় রূপ এখন কালো অন্ধকার। যুধাজিত এখনও
অফিস থেকে ফেরেনি। বাভ্রবির বৈকালিক চা পানের সময় পেরিয়ে গেছে ।
তাড়াতাড়ি ইনডাকশন কুকারে নিজের
জন্য এক কাপ লিকার চা বানিয়ে আজ অনেক দিন পর টিভি-র সামনের রকিং চেয়ারে আরাম করে বসে বাভ্রবি।টি ভি তে একটি
জনপ্রিয় হিন্দি সিরিয়াল এ চোখ-রেখে
বাভ্রবি আরাম করে চায়ের কাপে চুমুক দেয়।
একা একা বিকেলের চা পান অনেক দিন ধরেই
অভ্যাসে পরিণত। অথচ একটা সময় ছিল যখন ঘন ঘন চা পান করা ছিল ওর নেশা--আর
সেই চায়ের বাহানায় আড্ডা এবং আড্ডা।
চা পানের মধ্যেই দরজায় কলিং বেলের আওয়াজ। কে এলো?
কাঠের দরজা খুলে দেখে গ্রীল
দরজার ওপাশে যুধাজিত। কেমন যেন
বিধ্বস্ত ,চেহারা।এসময়?তাড়াতাড়ি
গ্রীলের দরজা খুলে একটু চিন্তিত প্রশ্ন
--"তুমি,হঠাৎই, মানে এতো
তাড়াতাড়ি? এনি প্রবলেম,?"
ভেতরে ঢুকে সেন্টার টেবিলেই
নিজের চশমা আর হাতের ল্যাপটপ ব্যাগ
রেখে সোফায় বসে,একটু ক্লান্ত সুরে যুধাজিত
বলে
--"এক গ্লাস জল
দেবে বাবি?"
--"হ্যাঁ,হ্যাঁ,অবশ্যই।
"
তাড়াতাড়ি জলের গ্লাস এনে টেবিলে রাখতেই ঢকঢক করে সবটুকু জল এক নিঃশ্বাসে খেয়ে
যুধাজিত বলে
--"খুব
তেষ্টা পেয়েছিল।"
বাভ্রবি কোনও কথা না বলে তাকিয়ে থাকে।
টি ভি টা চলছিল;আওয়াজ মিউট করে নিজের চায়ে চুমুক দিতে গিয়ে বাভ্রবি দেখল চা টা ঠাণ্ডা হয়ে
গেছে। ঠাণ্ডা চা একদম খেতে পারে না বাভ্রবি। মাইক্রোওভেনে চা টা হাল্কা গরম করে যুধাজিতের বিপরীত
সোফায় বসে চায়ে চুমুক দিয়ে নীরবে
তাকায় বাভ্রবি।
--"বাবি থানা
থেকে আসছি আমি।"
--"হোয়াট?"
চায়ের,কাপ
নামিয়ে হতবাক বাভ্রবি।
--"বাট
হোয়াই?"
--"আজ নিশীথ
দা,মানে আমাদের ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র প্রফেসর ,নিশীথ জানা র মেয়েকে ওদের গার্ডেনে মারাত্মক জখম অবস্থায় পাওয়া যায়--সফদরজং হাসপাতালে আই
সি ইউ তে আছে--।পুলিশ জিজ্ঞেস করার জন্য
নিশীথ দা আর বৌদি কে থানায় নিয়ে
আটকে রেখেছিল--আমরা গিয়ে জামিন করিয়ে নিয়ে এলাম।আমাদের হেড অফ দ্য
ডিপার্টমেন্ট এখন নিশীথ দার সাথে হাসপাতালে। বৌদি বাড়িতে ছেলের কাছে।
তুমি কিছু একটা খাবার নিয়ে গেলে ভাল
হয়।"
বাভ্রবির মাথায় কিছুই
ঢুকছিল না--নিশীথ দার মেয়ে তো মোমালি।বারো ক্লাসে পড়ে। বেশ বয়সে
বিয়ে করেছেন নিশীথ দা--বৌদির সাথে বয়সের
ফারাক ও অনেকটা। মোমালি দারুণ
স্মার্ট, পড়াশোনায় ভাল--হঠাৎই নিজেদের
বাগানে ইনজিওরড--আই সি ইউ--ব্যাপার
গুলো কেমন যেন গোলমেলে--
---"আমি আমাদের
এক কলিগের ফোন পেয়ে ছুটে যাই---।মোমালি কে অমিত রাস্তোগি--মানে
আমাদের কলিগ--তাঁর স্ত্রী ওদের বাড়ির
বাগানের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে প্রায় আনকনসাশ অবস্থাতে পড়ে
থাকতে দেখেন --আজ ভোর পাঁচ টা নাগাদ।"
--"মানে?ভোর
পাঁচটা য় উনি-"
যুধাজিত কিছুটা অধৈর্য, কিছুটা
ক্লান্ত সুরে বলে
-"আরে মিসেস
রাস্তোগি মর্নিং ওয়াকে
যাচ্ছিলেন----"
--"ওকে--তারপর?
সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে
যুধাজিত দলে
--"তারপর উনি
কলিং বেল বাজিয়ে নিশীথ দা,বৌদিকে ডেকে
তোলেন--সিকিউরিটি অফিসার আসেন--নিশীথ দা
বলেন-মোমালি রাত জেগে পড়াশোনা করছিল--হয়ত ব্যালকনি তে হাওয়া খাবার জন্য
অসাবধান বশত পড়ে গেছে--"
বাভ্রবি স্তম্ভিত। অসাধারণ
ব্রাইট এই মেয়েটি এভাবে--।
--"ও কি
সুইসাইড এটেম্পট করছিল--"
অধৈর্য সুরে যুধাজিত
জবাব দেয়
--"হু নোজ! ও
এখন আই সি ইউ তে--ব্যাটলিং ফর লাইফ।হয়ত পুলিশ পরে -যদি ওর জ্ঞান ফিরে আসে--জবানবন্দী নেবে--"
বাভ্রবির নিশীথ জানাকে শুরু থেকেই
কেমন কট্টর পন্থী মনে হতো। ইন্ডিয়ার
পার্টিশন নিয়ে একবার ওদের ডিপার্টমেন্টাল
গেট টুগেদারে নিশীথ দা কথা প্রসঙ্গে
বলেছিলেন
--"বাঙালিদের
পুনর্বাসনের জন্য কেন সরকার
দণ্ডকারণ্য আর আন্দামান কে বেছে নিয়েছিল--অথচ বাঙালিরা কোনও দিন
পার্টিশন চায় নি--"
বাভ্রবি বলেছিল
--"আপনারা তো
এপার বাংলাতেই ছিলেন--আপনাদের তো কোনও
অসুবিধে হয় নি--?"
--"না।
কিন্তু আমার মা খুলনার
মেয়ে। আমার মামার বাড়ির লোকজনদের
কে দীর্ঘ দিন রিফ্যুজি ক্যাম্পে থাকতে হয়েছে--অমানবিক কন্ডিশনে--"
নিশীথ দা রেগুলার
সাইকেল চালিয়ে অফিসে আসেন। বৌদি অনুযোগ করেছিলেন
--"কি জ্বালা
বলতো?হাজার বার বললেও একটা গাড়ি কিনবে না--"তারপর একটু অস্ফুটে বলেছিলেন
--"এরকম
মানুষের সঙ্গে থাকাটা যে কত ঝকমারি--সেটা
আমি আর আমার ছেলে মেয়েরা হাড়ে হাড়ে টের
পাচ্ছি--"
বৌদি আর ওর ছেলে--না খেয়ে
আছে--।বাভ্রবি আর কোন ও কথা না বাড়িয়ে
ফ্রীজ খুলে কিছু খাবার বের করে টিফিন ক্যারিয়ারে
পুরতে পূরতে বলল
--"আমি
যাচ্ছি--তোমার খিদে পেলে খেয়ে
নিও--"
ক্যারিয়ার হাতে ঝুলিয়ে বাভ্রবি গ্যারাজ থেকে গাড়ি বের
করে---।
রাত তখন প্রায় ৯টার
কাছাকাছি--হঠাৎই মনে পড়ল প্রাকৃত তো
এখনও ফিরল না--।ভাবতে ভাবতেই গাড়ি বাঁ দিকে টার্ন করতে করতে দেখল প্রাকৃত আর সাগর উল্টোদিকের ফুটপাথ
ধরে হেঁটে হেঁটে আসছে--
ক্রমশ …………
৯৩তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
.jpg)