ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব – ৯১
Sometimes
I have supposed seals
must live
as long as the Scholar Gypsy.
Even in
their barred pond at the zoo they are happy,
and no
sunflower turns
more
delicately to the sun
without a
wincing of the will.
গাড়ি ব্যাক করে বাড়ি ফিরে
এসেছিল বাভ্রবি। মনের ভেতর একটাই
আশা --যদি নলিনী সেদিন শপিং এ না
গিয়ে থাকে--হয়ত ভিড়ে আটকে পড়েছে,হয়ত
রাগিণীর কলেজ থেকে ফিরতে দেরি হয়ে থাকবে--তাই তাদের যাওয়া হয়নি--হয়ত--এরকম
অনেক গুলো "হয়ত" নিয়ে বাভ্রবি
নিজের বাড়ির দরজায়। গেট হাঁ খোলা--। গাড়ি ড্রাইভওয়েতে না
ঢুকিয়ে বাইরে পার্ক করে চিন্তিত মুখে লবিতে
পা রাখতেই প্রাকৃত আর প্রকৃতির
মুখোমুখি ।
--"মা,তুমি এসে
গেছো?"
--"আগে বল,রাগিণী
কখন ফিরেছে --তোরা কি একসাথে--"
বাভ্রবির কথা শেষ না হতেই উদ্বিগ্ন
কণ্ঠ প্রকৃতির
--"মম,মম,রাগিণী আজ
নলিনী আন্টির সাথে দিওয়ালী শপিং করবে বলে
অনেক আগেই কলেজ থেকে বেরিয়েছে। আজ তো কলেজে ক্লাসেস ছিল না--আমরা এনুয়াল ফাংশনের জন্য রিহার্সেল দিতে গিয়েছিলাম--"
--"আমি
নলিনীর ফোন পাচ্ছি না--আউট অফ কভারেজ
বলছে"
--"আমি
সরোজিনী নগর মার্কেটে গিয়েছিলাম, ওখানে--"কাঁপা
গলায় চুপ করে বাভ্রবি।
--"কৃতি,রাগিণী কে
একবার কল কর,প্লিজ--"
প্রকৃতি কান্নাভেজা গলায় বলল--"মা,আমি অনেক
বার করেছি। ওর ফোনও আউট ওব নেটওয়ার্ক
কভারেজ বলছে।
বাভ্রবি ছুটে গিয়ে ইন্টারকম
এ যুধাজিত কে ফোন করে।
যুধাজিত ফোন তুলতেই বাভ্রবি অধীর
গলায় বলে
--"প্লিজ,তুমি
একবার প্রফেসর ঝা কে ফোন করে জিজ্ঞেস করো,নলিনী আর
রাগিণী কোথায়--"
-"আরে,তুমি তো
এদের বাড়ির ফোনে-"
বাভ্রবি অধৈর্য গলায় বলে
--"বাড়ির ফোনে পাচ্ছি না বলেই--প্লিজ, তাড়াতাড়ি
করো,আমি ধরে আছি।--"
দুমিনিটের মধ্যেই যুধাজিতের গলা
--"ওরা
সরোজিনী নগর মার্কেটে শপিং করতে গিয়েছে--"
--"ওহ্ ,নো!"হাত
থেকে রিসিভার পড়ে গেল বাভ্রবির।
অন্ধকারে কৃষ্ণচূড়ার লাল ফুল গুলো কালো লাগছে--যেমন সেদিন
সরোজিনী নগরের মিনি মার্কেটে মানুষের রক্ত বোমার
আঘাতে ঝলসে কালো হয়ে গিয়েছিল।
বাভ্রবি যুধাজিত আর নিখিলেশ
ঝা কে সঙ্গে নিয়ে গাড়ি নিয়ে গিয়েছিল
আবার সরোজিনী নগর মার্কেটে--।পুলিশ
ব্যারিকেডেড মিনি মার্কেটে নিজের
জার্নালিষ্ট আই কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ
অধিকার পেয়েছিল--আর এক কঠিন, কর্কশ,নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের
সাক্ষী হয়েছিল--যে মাইন্ড লেস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিল কতগুলো ব্রেইনওয়াসড না মানুষেরা--যারা
শুধুই হত্যালীলা র জন্য
নির্দোষ, সাধারণ মানুষের
রক্ত ক্ষরণ করে।
-একটি
জুসের গ্লাসে চুমুক দিয়েছিল
মেয়েটি;মেয়েটির মা তখন সামনেই
একটা হকারের কাছ থেকে মাটির দিয়া
কিনবে বলে দামদর করছিল--।কেউ জানত না একটি
প্রেসার কুকারে তখন টিক, টিক করে সময় মাপছিল হত্যাকারীর বোম।মুহূর্তের
বিস্ফোরণে ছিন্ন ভিন্ন মানুষের দেহ--ছিন্ন ভিন্ন পরিবার--।
রাগিণীর বাঁহাতের ঘড়ি--আর
নলিনীর গলার মঙ্গলসূত্র দেখে ওদের কে আইডেনটিফাই করেছিলেন
প্রফেসর ঝা।
একটি বাড়ি সম্পূর্ণ মহিলাশূন্য হয়ে গিয়েছিল।
হলঘরে প্রফেসর
নিখিলেশের বৃদ্ধ বাবার চোখে এক
হাঁ-মুখ শূন্যতা। বিড়বিড় করে বলছিলেন
--"আমার স্ত্রী চলে গেল গতবছর--আমার বৌমা আর নাতনি আমাকে কত যত্নে রেখেছিল--গাঁও
যেতে দিত না--।আমার নাতনি রোজ কলেজে যাবার আগে আমার
ঘরে এসে গুড মর্নিং দাদা জী--বলে যেতো--।অসহায় বৃদ্ধের চোখের জল গড়িয়ে পড়ছিল--।প্রকৃতি কে সামলানো
যাচ্ছিল না।বারবার বলছিল
--"মম,আজ সকালে
আমরা একসাথে কলেজ গিয়েছি--।এই ঘড়ি দেখে
টাইম মেসার করেছি-নাউ ওনলি দ্যাট ওয়াচ ইজ হিয়ার,সি ইজ নো
মোর--"
কাঁদতে কাঁদতে একসময়
আগুন জ্বলে উঠছিল ওর চোখে।
--"যে
শয়তান গুলো আমার বন্ধুকে আমার
কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে--আমি তাদের
ক্ষমা করব না। আমি তাদের ফাঁসি
চাই--"
হালকা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়াতে হয়েছিল প্রকৃতিকে।
কালো দীপান্বিতার রাতে প্রতিটি ঘরে ঘরে শুধু একটি করে
প্রদীপ জ্বলেছিল--।
--"মম,তুমি অন্ধকারে
এখানে দাঁড়িয়ে--"প্রাকৃতের প্রশ্নে বাভ্রবি ফিরে তাকালো।ওর চোখে টলটলে জল
দেখে অবাক প্রাকৃত
--"মম,কি হয়েছে?
--"অরবিন্দ
ভাইয়ার বিয়ের ইনভিটেশন কার্ড--"
--"ওহ্!দারুণ।
"বলেই চুপ করে গেল প্রাকৃত। আস্তে আস্তে বাভ্রবির চোখের জল মুছিয়ে বলল
--"কতদিন হয়ে গেল--তাই না মা?"
--"চল,ঘরে
চল--"
দুজনে ঘরের দিকে পা বাড়াতেই প্রাকৃতের মুঠোফোন বেজে উঠল।
ক্রমশ …………
৯২তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
.jpg)