ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
The
cheese wilts in the rat-trap,
the milk
turns to junket in the cornflakes bowl,
car keys
and razor blades
shine in
an ashtray.
চেনা পৃথিবীর রঙ মাঝে মাঝেই
বদলে যায়; অন্ধকার ,ঘাপটি
মেরে বসে আলোর নীচে;আলোর শব্দ আছে;অন্ধকারের
আছে নিঃশব্দ আতঙ্ক।অজস্র আলো,অজস্র কথামালার বাজারে ও কখনও
কখনও আতঙ্ক চুপিসারেই
জাল বিছায়। যে রকম ছড়িয়ে পড়েছিল সন্ত্রাস বাদের গভীর
জাল।
প্রকৃতি আর রাগিণী
বাভ্রবিদের সবুজ লনে বসেছিল। উন্মুক্ত
হাওয়ায় দুটি সদ্য কলেজে ভর্তি হওয়া টিন এজার এর গল্প
গুলি যেন হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছিল।
--"কৃতি কলেজ
মে ইসবার হামারা পয়লা দিওয়ালি --"হাঁ তো?
--"দিওয়ালি
মানানা চাহিয়ে না?"
প্রকৃতি আলতো হাতে রাগিণীর
গায়ে হাত রেখে বলেছিল--"আরে বুদ্ধু, দিওয়ালি
কে লিয়ে কলেজ তিনদিন বন্ধ নেঁহি রহেগা?"
রাগিণী একটু মনখারাপ করেই জবাব দিয়েছিল
--"হাঁ,ইয়ার,ও ভী,তো সহি
হ্যায়।"
বাভ্রবি ওদের দুজনের
জন্য গরম কফি আর ম্যাগি বানিয়ে
নিয়ে লনের বেতের টেবিলের উপর রেখে বলেছিল
--"তো ইস মে
ক্যায়া হ্যায় --তুম ইঁহাহি আচ্ছাসে
দিওয়ালি মনা লেনা--রাগিণী,মেঁ নলিনী
সে বাঁত কর লুঙ্গি। তুম হামারা ঘর মেঁ উস রাত রহ যানা।"
প্রকৃতি আর রাগিণী দুজনে
দুদিন থেকে বাভ্রবি কে জড়িয়ে ধরে বলেছিল
--"ইয়া---আন্টি, ইউ আর সো
সুইট!"
প্রাকৃত দোতলার
বারান্দায় দাঁড়িয়ে হেসে বলেছিল
--"আর রাগিণী,অরবিন্দ্
ভাইয়া কো ভী হাম বুলা লেঙ্গে--হ্যায় না মাম্মি?"
বাভ্রবি নীচের লন থেকে ওর দিকে বুড়ো আঙ্গুল উঁচু করে বলেছিল
--"ইয়েস।ডান।"
কিন্তু যেরকম
টা ওরা ভেবেছিল, ঠিক সেরকম টাই কি হয়েছিল?
চিঠিটি হাতে নিয়ে বাভ্রবি
আবার স্মৃতির সাথে খেলা করে--
কত মানুষ চলে গেছে
কত রোদ হাওয়ার সাথে আকাশের
তারায় মিশে আছে সেই সব
কাহিনীর টুকরো গাঁথা
সন্ত্রাস, জঙ্গী
হানাদার রা কেন এভাবে মানুষ কে ধ্বংস করে?
যুদ্ধ, সন্ত্রাস, হত্যাই কি
মানব সভ্যতা?
সভ্যতার ইতিহাস
কি শুধুই মারামারি ,কাটাকাটি
আর রক্ত পাতের ইতিহাস?
নলিনীর সাথে ইন্টারকম এ বাভ্রবির
আলাপ:
--"নলিনী
দিওয়ালি কে দিন রাগিণী আউর অরবিন্দ কো
হমারা ইহা ভেজ দেনা।"
--"হাঁ,রাগিণী নে মুঝে বঁতায়া।"
তারপর দুজনে অন্তরঙ্গ আলাপ
--"বাবি,চল না,কাল আমরা
একটু শপিং এ যাই।"
--"দিওয়ালি
শপিং?"
--"হ্যাঁ--"
উইক এন্ড শপিং--হু।যাওয়া যেতো কিন্তু নলিনী আমার
একটা মিটিং পড়ে গেছে--"
--"কোথায়?"
--"প্রেস
ক্লাবে।"
-"ওহ্
নো।"
--ঠিক আছে,তুমি কোথায়
যাচ্ছ দিওয়ালি শপিং করতে?"
নলিনী র গলা ওপার থেকে ভেসে এলো
--"হয়ত
সরোজিনী নগর ই যাব বাবি।"
বাভ্রবি খুশির গলায় বলেছিল
--"দারুণ!আমি
প্রেস ক্লাবের মিটিং শেষ করে চলে আসব।আশা
করি সন্ধ্যার আগেই আমার
মিটিং শেষ হয়ে যাবে।"
--"ওকে
বাবি।"
সন্ধ্যার অস্তরাগ নেমে আসছে। সেদিন ও এমনই
অস্তরাগ নেমে আসছিল ।জুসের পেয়ালায় চুমুক দিয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল
রাগিণী আর নলিনী।
অরবিন্দের বিয়ের
চিঠি হাতে আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মি র সামনে বাভ্রবি নিশ্চুপ।চোখ জলে
ঝাপসা।
বাভ্রবি কি সেদিন কথা রাখতে
পেরেছিল?রাগিণী আর নলিনীর সাথে বাভ্রবি সরোজিনী নগরে দিওয়ালি শপিং করতে গিয়েছিল,?
হ্যাঁ,প্রেসক্লাবের
মিটিং শেষ হয়েছিল সন্ধ্যার আগেই। দিল্লির
তীব্র যানজট ,ট্রাফিক সিগন্যাল
পেরিয়ে সরোজিনী নগর মার্কেটের
থার্ড ক্রসিং রোডে পৌঁছেও গিয়েছিল বাভ্রবি--আর বারবার ফোন করেও নলিনী কে পাচ্ছিল না--।আর তখনই পুলিশ
ব্যারিকেড আটকে দিয়েছিল ওর গাড়ির
গতি।
--"স্যরি
ম্যাডাম, ইসকে আগে আপ নেঁহি যা সকতেঁ-""
গাড়ির কাঁচ নামিয়ে বাভ্রবির প্রশ্ন
--"পর কিঁউ?"
--"মার্কেট
মে বড়া ধামাকা হুয়া হ্যাঁয়।বহুত লোগো
কি জান চলি গয়ি--"
বাভ্রবির চোখের সামনে ক্ষণিকের জন্য
অন্ধকার নেমে এসেছিল।
ক্রমশ …………
৯১তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)