ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব – ৮৯
The
last chord fades.The night is cold and fine.
His
master's voice rasps through the grooves'baregroves,
Obediently,
in silence like the grave's
He
sleeps there on the still-warm
gramophone.
অনেক দিন পর
নির্জনতার সঙ্গে কথা বলতে বলতে চায়ের কাপ
হাতে বাভ্রবি কৃষ্ণচূড়ার গাছের ছায়ায়
চেয়ারপেতে। অনেক দিন পর এই একা একা,একাকীত্ব ঘন ভালবাসার মতন।কৃষ্ণচূড়ার লাল পাপড়ি
গুলো সবুজ ঘাসে কাঁথাস্টীচের নকশায় ।আজ অনেক অনেক
দিন পর এমন নিরালা বিকেলে বাভ্রবির
কোনও বই পড়তে ইচ্ছে করছিল না,কোনও স্টোরি লিখতে ইচ্ছে করছিল না,এমন কি গ্রান্ডি কিংবা বিড়িং এর সাথেও খেলা করতে ইচ্ছে করছিল না।
অবশ্য ওরাও এমন নিরালা দুপুরে যে যার মত
ঘুমোচ্ছে। আচমকাই এক ছায়া শরীরের মত বাভ্রবির
চোখের সামনে নেমে এলো ওর জোড়
বিনুনির বেলা। শিলং পিক এর অপরূপ কালো সাদা মেঘের খেলা দেখতে দেখতে আকাশ আর নীলা
ঝাপসা স্মৃতির আলোয়,চেয়ার পেতে।
অনেক গুলো
সিঁড়ি পেরিয়ে আকাশদের বাড়ি। আকাশের
বাবা ছবি আঁকতেন সামনের সবুজ লনে -ইজেল জুড়ে শিলং পিক--কখনও শেরা--মানে চেরাপুঞ্জীর কুয়াশার আকাশ।আকাশের
মা খুব চওড়া লাল পাড় শাড়ি পরে লনের বেতের চেয়ারে বসে কুরশি কাঁটায় উল
বুনতেন--নানা রঙের উলের বলের ছড়িয়ে থাকত তার পায়ের কাছে,কোলে--।আকাশ
ঘরের ভেতর জানালা দিয়ে বাইরের দিকে
তাকিয়ে থাকতে থাকতে বলত
--"ঐ দেখ বাবি,আকাশ থেকে একটা তারা নেমে
আসছে--।"
বাভ্রবি
বিনুনি ঝাঁকিয়ে ছুটে যেতো --আকাশে তখনও
খটখটে দিনের আলো--;অবিশ্বাসের সুরে বলত
--"যাহ্।দিনের বেলা আবার
তারা থাকে নাকি? আর তারারা আবার হাঁটতে পারে নাকি যে নেমে আসবে?"
আকাশ খুব গম্ভীর
মুখ করে জবাব দিত--"ভাবলে ই
হয়।ভাবনার উপর তো কারুর হাত নেই। তাছাড়া,রবীন্দ্রনাথ বলেছেন না--'রাতের সব তারাই থাকে দিনের
আলোর আড়ালে--"
বাভ্রবির ঠোঁটের
কোণে অজান্তেই এক চিলতে হাসি ফুটে
উঠল।
--"আকাশ,রে,তোর সাথে কতদিন
দেখা হয় না। আমার খুব ভাল বন্ধু,ভাল থাকিস।"
একবার, বাভ্রবির সাথে আকাশের দেখা
হয়েছিল--আচমকাই। হরিদ্বারে, ও আর ওর সদ্য পরিণীতা
স্ত্রী চন্দনা--সন্ধ্যারতির পর গঙ্গার ঘাটে দেখা। ওরা বোধহয় একসাথে
প্রদীপ ভাসিয়ে উঠে এসেছিল;বাভ্রবি একটি স্টোরি র খোঁজে পুরো টিমে র সঙ্গে ছিল।
দুজন দুজন কে
দেখে থমকে দাঁড়িয়েছিল;তারপর বাভ্রবি ছুটে এসে সবার
সামনেই আকাশ কে প্রায় জড়িয়ে ধরে আনন্দে চিৎকার করে উঠেছিল
--"আকাশ,এই আকাশ,কতদিন পর--"
আকাশ ওর কাছ থেকে হেসে সরে গিয়ে বলেছিল
--"আয়,পরিচয় করিয়ে দিই, এ আমার অর্ধাঙ্গিনী চন্দনা--।"
হাত তুলে
প্রতিনমস্কার করে চন্দনা একটু তির্যক হেসে জিজ্ঞেস করেছিল
--"আপনার
হাজব্যান্ড আসেন নি? তাঁর সঙ্গে তো পরিচয় করিয়ে দিলেন না?"
বাভ্রবি ও
হেসে জবাব দিয়েছিল
--"না,আমি আমার টিম এর সাথে একটা
প্রজেক্ট এ এসেছি।ও দিল্লিতে ই
আছে--"
--"ওহ।"বলে
আবার একটি তেমনই হাসি উপহার
দিয়েছিল আকাশ-সঙ্গিনী ,আকাশ বিহারিণী চন্দনা পাখি।
--"আসলে একটি ছেলে
আর একটি মেয়ের মধ্যে কখনোই নিছক বন্ধুত্ব
হয় না ,তাই না আকাশ?"
সুন্দর মেক আপ করা চোখ তুলে চন্দনা আকাশের দিকে তাকিয়েছিল।ওরা একটি সুন্দর রেঁস্তোরায় গঙ্গার খোলা হাওয়ায় ভেসে যেতে যেতে কফি এবং পকৌড়া
খেতে খেতে গল্প করছিল। বাভ্রবির পুরো টিম এই
হোটেলেই ছিল,এবং আকাশ রাও কাছাকাছি একটি হোটেলেই তাদের সুন্দর
ছুটি উপভোগ করছিল।চন্দনার প্রশ্নে কফি খেতে খেতে বিষম খেলো বাভ্রবি।
আকাশ এক পলক তাকিয়ে আবার মুখ নামিয়ে কফির কাপে চুমুক।
বাভ্রবি কফির কাপ হাতে কাজের অছিলায়--"এক্সকিউজ মি"বলে ঐ
টেবিল ছেড়ে ওর টিমের সঙ্গে অন্য
টেবিলে চলে এসেছিল ।
পরে,অনেক পরে নীলার কাছ থেকে জেনেছিল,
আকাশ তার পছন্দে,বিয়ে করেনি। বাড়ি থেকে বেশ
কিছু যৌতুক নিয়ে এই বিয়ে দুই
পরিবারের মধ্যে ঠিক হয়েছিল।বাভ্রবির সাথে আকাশের
আর দেখা হয় নি--।নীলা টাও সেভাবে সুখী জীবন কাটাচ্ছে--বলা যায় না।
তিনচারটে
ব্যবলার কৃষ্ণ চূড়ার গাছে গপ্প করছিল।বাভ্রবির
মনের কথা টের পেয়ে কিচকিচ করে উঠল--
--"এমা,তুমি কি জান সুখ কাকে বলে?"
--"তুমি
অন্যের সুখ খুঁজে বেড়াচ্ছো--তুমি নিজে কি
সুখী?"
--"আগে সুখ নামক
পাখি টিকে চিনতে তো শেখো-"
বাভ্রবির চোখে কৃষ্ণচূড়ার কোমল ছায়া;
বাভ্রবির মনের
ভেতর গুঞ্জন করে উঠল
প্রজাপতির পাখা,
--"আমার মতন সুখী কে আছে--"
আকাশে,বিকেলের শান্ত গোধূলির গোপন রাগে রেণু রেণু সুখবিন্দু---সামনের গেটে একটি ছায়া--
--"ম্যাডাম,কুরিয়ার হ্যায়--"
বাভ্রবি সাইন
করে হাতে নিয়ে দেখল একটি বিয়ের
আমন্ত্রণ লিপি।অধ্যাপক নিখিলেশ ঝার
র ছেলে
অরবিন্দের বিয়ের চিঠি--চিঠিটা হাতে নিতেই
কয়েকটি বছর পিছিয়ে গেলাম বাভ্রবি--অরবিন্দের বোন রাগিণী ছিল প্রকৃতির
ছোটবেলার বন্ধু---।একটা
দুঃস্বপ্ন তাড়া করল বাভ্রবিকে---। বাভ্রবি
চিঠি টি হাতে নিয়ে সামনের বন্ধ গেটের
সামনে দাঁড়িয়ে--বিড়িং দুপুরের
ঘুম থেকে উঠে ওর পায়ের কাছে ---।
ক্রমশ …………
৯০তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি –
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত গ্রন্থ
১--সাপ শিশির খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
