Advt

Advt

boi-patra-story-galpo-by-bama-chakraborty-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-বই-পত্র-গল্প-বামা-চক্রবর্তী

 

boi-patra-story-galpo-by-bama-chakraborty-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-বই-পত্র-গল্প-বামা-চক্রবর্তী

      নবীন বাবু বিশাল ব্যবসায়ী, শহরে প্রচুর তার নাম ডাক, ধনী ব্যক্তি । তার কাছে কাজ করে পাচুদা সে নবীন বাবুর চেয়ে বয়সে বড় এবং প্রায় চল্লিশ বছর ধরে ওনার এখানে কাজ করেন, খুব সৎ ব্যক্তি । পাচুদা ভক্ত মানুষ পূজা-পাঠ, ভজন কীর্তন করে থাকেন, নিয়মিত মন্দিরে যাওয়া আর কীর্তনাদিতে যাতায়াত করেন । বিশেষ বিশেষ দিনে নানারকম ঘটনা নবীন বাবুকে শুনিয়ে থাকেন । নবীন বাবু ব্যবসার কাজে এত ব্যস্ত থাকেন যে ওনার পূজা পাঠ, ভজন কীর্তন করার সময় পান না । তবে এবার উনি কয়েকদিনের জন্যে ব্যবসার কাজে বেনারস যাচ্ছেন । আর সেই সঙ্গে কাশী বিশ্বনাথের দর্শন করবেন । তাই আজ পাচুদা ওনার বাড়িতে এসেছে ওনার সঙ্গে দেখা করতে । নবীন বাবু পাচুদাকে বসতে বলে ঘরের ভেতরে গেলেন আর হাতে একটা খাতা নিয়ে এসে পাচুদাকে ব্যবসার কিছু বোঝাতে লাগলেন, ভেতর থেকে ওনার জন্যে চা জল খাবার এলো, পাচুদা খেলেন আর নবীন বাবু শুধু চা খেলেন । কাজ বুঝে নেবার পর পাচুদা ব্যাগ থেকে একটা কাশ্মীরি শাল বের করে নবীন বাবুকে দিয়ে বললেন ‘বাবু আপনি এই শালটা বাবা বিশ্ব নাথের মন্দিরে আমার তরফ থেকে প্রণামি দিয়ে দেবেন’ ।

     নবীন বাবু শালটা হাতে নিয়ে বললেন ঠিক আছে তাই করব । তারপর পাচুদা বাড়ী ফিরে গেলেন ।

   বিকেল বেলা নবীন বাবুর ছেলে,বয়স প্রায় তিরিশের কাছাকাছি,বাড়ী এসে কিছুক্ষণ পর বাবাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, বাবা আজ বসার ঘরে কেউ এসেছিল ? নবীন বাবু বললেন হ্যাঁ, কেন ?

ওনার ছেলে কে এসেছিল জানতে চাইলে নবীন বাবু বললেন ‘পাচু’ । নবীন বাবু এবার জানতে চাইলেন, ‘ কেন হঠাৎ এ কথা জিজ্ঞেস করছিস’ ? ছেলে বলল, ঐ টেবিলের উপড়ে সকালে আমি দশটা ২০০০ টাকার নোট রেখে গিয়েছিলাম, কিন্তু এখন অনেক খুঁজলাম, পাচ্ছি না । নবীন বাবু, মানে কুঁড়ি হাজার টাকা ?

- হ্যাঁ, কুঁড়ি হাজার টাকা, ছেলে আবার বলল ।

নবীন বাবু বললেন, কিন্তু পাচুতো এরকম মানুষ না, তুমিতো ওকে ছোট বেলা থেকে দেখে আসছো, সেতো আমার যত কর্মচারী আছে তার মধ্যে সব থেকে বিশ্বাসী, ও এরকম কাজ করতে পারে না । ছেলে বলল তবে টাকাগুলো গেল কোথায় ?

নবীন বাবু একটু আশ্চর্য হলেন, ভাবলেন পাচু এরকম করবে ! মনে তো হয়না । উনি সময়মত বেনারসের জন্য বেড়িয়ে পড়লেন ।

   কয়েকদিন পরে নবীন বাবু বাড়িতে ফিরে এলেন । উনি বাড়ী ফিরেছেন জানতে পেরে পাচু নবীন বাবুর সঙ্গে দেখা করতে আবার আসলেন এবং যথারীতি সাক্ষাৎ করে কুশল বিনিময় করে ব্যবসার কিছু আলোচনা করে ফিরে গেলেন । মাস ছয়েক পরে পাচুদা আবার নবীন বাবু বাড়ী এলেন এবং বসার ঘরে বসে নবিনবাবুর অপেক্ষা করছেন, এমন সময় নবীন বাবুর ছেলে বসার ঘরে আসে আর পাচুদাকে বসে থাকতে দেখে তার কাছে গিয়ে বলল, কাকা একটা কথা বলব !

হ্যাঁ, বল । তখনই নবীন বাবু আবার বসার ঘরে ফিরে এসেছেন ওনার ছেলে বলল, বাবা বেনারস যাবারদিন তুমি যখন বাবার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলে, তখন টেবিলের উপর ১০ টা ২০০০ টাকার নোট ছিল, তুমি কি টাকাগুলো দেখেছিলে ? মনে কিছু করো না , বলো না দেখেছিলে ।

পাচুদা ওর প্রশ্ন শুনে কাঁদতে লাগল । আরে কাকা, কাঁদছ কেন, আমি তো বলছি না যে তুমি টাকাটা নিয়েছ ! আমি বলছি তুমি কি দেখেছিলে ? নবীন বাবু সামনে এগিয়ে এলেন, উনি সবটা শুনলেন । পাচুদা কাঁদতে কাঁদতে বলল, ছিঃ ছিঃ বাবু, তুমি আমাকে চোর ভাবলে, আমি আজ চল্লিশ বছর ধরে তোমার বাবার সঙ্গে রয়েছি, ওনার কাছে কাজ করি, তুমি তো সেই ছোট বেলা থেকে দেখে আসছ । যে কাজ আমি স্বপ্নতে ভাবতে পারিনা সেই কথা তুমি আমাকে বলে ফেললে । তবে হ্যাঁ, একটা কথা টেবিলের উপর যে রামায়ণ বইটি রয়েছে একবার ঐ বইটা কে তোমরা কেউ খুলে দেখনি, একবার খুলে দেখ তো ।

নবীন বাবুর ছেলে টেবিলের উপর রাখা রামায়ণ বইটা খুলতেই দেখল দশটা পাতায় দশটা ২০০০ টাকার নোট রাখা রয়েছে । পাচুদা বললেন টাকাগুলো টেবিলের উপর রাখা ছিল, মনে হয়েছিল এদিকে সেদিকে পড়ে যেতে পারে, তাই আমি সেগুলো বইয়ের ভেতরে রেখে দিয়েছিলাম । এই কথা শুনে নবীন বাবু ছেলের উপর রাগ করে বললেন, ছিঃ, তুমি ওকে এই কথা কেন জিজ্ঞেস করলে !

ছেলেটি তখন উত্তর দিন, কাকা sorry. পাচুদা বলল ঠিক আছে ঠিক আছে, আমারও একটু ভুল হয়েছে, আমিও আর বাবুকে টাকার কথাটা বলিনি । তবে আমি ভেবেছিলাম, তোমরা যখন রামায়ণ পড়বে তখন টাকাটা দেখতে পাবে, কিন্তু এতদিন পর্যন্ত কেউ বইটা ধরলে না । আমরা বইপত্র শুধু কিনি সাজিয়ে রাখার জন্য, সময়ের ফাঁকেফাঁকে সেগুলোকে পড়তে হয় । আজ আমরা বেশীর ভাগ মানুষ বই পত্র কিনে শোকেস – টেবিল সুন্দর করে সাজিয়ে রাখি আর অন্য সব কাজের জন্য সময় বের করি কিন্তু নানা রকম মূল্যবান বই আমাদের সামনে থাকাসত্বেও পাতা উল্টে দেখিনা বইয়ের ভেতর কি লেখা রয়েছে । 

বই পড়ুন ও বই উপহার দিন ।

********************************

লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন। 

লেখিকার পরিচিতি ঃ- 

জন্ম বিহারের কিশানগঞ্জ । প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর কিষানগঞ্জেই । আঞ্চলিক বার্ষিক পত্রিকা, ই-ম্যাগাজিন তাৎক্ষনিক.কমে অণুগল্প, ছোট গল্প, প্রবন্ধ লেখালেখি করেন । ওনার প্রথম গ্রন্থ ‘নবরত্ন’(গল্পগুচ্ছ) । বই পড়া, ভ্রমণ ও আধ্যাত্মিকতায় রুচিশীল এবং কুসংস্কার বিরোধী ।