জয় গোস্বামীর ‘মালতীবালা বালিকা বিদ্যালয়’ কবিতার ‘বেণীমাধব,
বেণীমাধব’— এমন একটা টোন, যা এ-সময়ে অতি পরিচিত হয়ে উঠেছে। ‘বাংলা আমার জীবনানন্দ’
বা ‘অবণী বাড়ি আছো’র মতো এটাও বাঙালির আত্মায় গেছে গেঁথে। এ-গান বা এ-কবিতায় কি
এমন আছে যা প্রায় প্রতিটি বাঙালিকে আকর্ষণ করে! কেন বাঙালি এতে
আকৃষ্ট হয়! হয় মোহাবিষ্ট! আসলে গানটি বা কবিতাটি
এত শোনা হয়েছে বা পঠিত হয়েছে যে এটি আমাদের রক্তে গেছে মিশে। তাছাড়া কবিতাটির ভিতরে
আছে একটা মিস্টিক চেতনা। আছে স্পর্শকাতরতা। যা সহজেই আমাদের ছুঁয়ে
যায়। তবে সব কবিতা জনপ্রিয়তা পায়না। উৎকৃষ্ট, বিষয় বিন্যাসে
অনন্য হলেও তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন নাও করতে পারে। বেণীমাধবের মতো বহু
বাংলা কবিতা আছে যারা সমান গুণমানসম্পন্ন ও প্রাণছোঁয়া। সেক্ষেত্রে প্রচারও
একটা বিষয়। বা বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়ার সৌভাগ্য। যাইহোক বেণীমাধব বেণীমাধবের
স্বরক্ষেপণে এমন একটা আবেদন আছে যা কবিতাটিকে অমর করে রেখেছে। কবিতাটির মূল নাম কি
সেটাও আমরা মনে রাখার প্রয়োজন মনে করিনা। যখনই ওই বেণীমাধব উচ্চারণটা
শুনি। শঙ্খ ঘোষের অবনি বাড়ি আছো— শুনলেই যেন বিহ্বল হয়ে যায় আমরা। এটাও সেরম। বা জীবনানন্দের বনলতা
সেনের হাজার বছর ধরে— এই বাক্যটা শুনে। কবিতা কেন এত জনপ্রিয়
হয়? প্রচারিত হয়? পঠিত, অনুষ্ঠিত হয়?
সে কবিতায় থাকে জীবনমুখী কথা। একটা ট্র্যাজিক সমাপ্তি। আমাদের চিরচেনা জীবনের
সঙ্গে যাকে মেশানো যায়। ব্যক্তি কবির কথা যখন ছুঁয়ে যায় সকলের অতীত বর্তমান ও সর্বোপরি
হৃদয়কে। এ ছাড়াও কবিতার জনপ্রিয়তা লাভের আরও মানদণ্ড আছে। তবে এগুলোই প্রধান।
মাননীয় জয়
গোস্বামী একটা ভাঙা প্রেমের গল্প শোনালেন। আবার নষ্ট প্রেমেরও। নষ্ট এ-কারণে
যে তা অপূর্ণ। আবার ওই অপূর্ণতা আছে
বলেই এই প্রেমগল্প প্রাণগাঁথা। প্রাপ্তি অপেক্ষা অপ্রাপ্তির
রেশ বহু বেশি। পেয়ে গেলে কোনও জিনিসই আর আকর্ষণীয় থাকেনা। এ-কারনে হয়তো বিরহ
আমাদের আজও টানে। তবে এ-বিরহ শুধু ওই মালতীর! বেণীমাধবের
তরফে একটা বাক্যও আমরা পাইনি। সুতরাং সেই বেণীমাধবের
মনের কথা আমাদের কাছে অজানা। তবে মালতীর দিনযাপনে আজও ওই অধরা প্রেমের ধূসর ছাপ থেকে গেছে। সে যন্ত্রণা এতটাই চাপা
যে সে নষ্ট পথও অবলম্বন করতে পারে। অবলম্বন যে করতে পারে
তার ইঙ্গিত বোনের চোরাপথে মিলিয়ে যাওয়ার মাঝে আছে। কতটা আঘাত পেলে একটা
মেয়ে নষ্ট পথ অবলম্বন করতে পারে! কতটা ভালোবাসার গভীরতা থাকলে একটা মেয়ে অপেক্ষা করে অবিবাহিত
থাকে! আবার সে যদি ঘরের বড়
মেয়ে হয়! এই ভালোবাসার রেশ যে আজীবন তা বুঝতে অসুবিধা হয়না। কেননা মালতী বলছে—
‘বেণীমাধব, বেণীমাধব, এত দিনের পরে
সত্যি বলো, সেসব কথা এখনো মনে পড়ে?’
কবিতার শুরুতেই মালতী জানিয়ে দিয়েছে তার একটা চরম ইচ্ছের কথা। সে বেণীমাধবের বাড়ি
যেতে চাই। গৃহবধু হিসাবে নাকি শুধু পুরনো দিনের সখ্যতার কারনে? সখ্যতা যে অন্তশলীলা
প্রেমে পরিণত হয়েছিল তা বোঝা যাচ্ছে। একটা মেয়ের জীবনের চরম
পাওয়া হল তার স্বামীর ঘর। মনে মনে সে বেণীমাধবকে জীবনসঙ্গী বেছে নিয়েছিল। সুতরাং ওই বাড়ি যাওয়ার
যে ইচ্ছে প্রকাশ সেখানে ছিল এক যুবতীর নারীতে পূর্ণতা প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা। আবার তার ভীতিও ছিল। বেণীমাধব কি তাকে আর
স্মরণে আনে! তাই দ্বিতীয় বাক্যে বলছে— ‘তুমি কি আর আমার
কথা ভাবো?’ নায়ক তার কথা ভাবে কিনা সেটা মালতী বা আমরা কেও জানিনা। তবে যে মোহনবাঁশি ওই
মালতীর মন উতলা করেছিল তার বয়সন্ধিক্ষণের সূচনায় তা বোঝা যাচ্ছে। ওই মোহনবাঁশির সুরে
অঙ্কে ভুল করছে নবম শ্রেণীর ছাত্রী। ওই মোহনবাঁশি তো শ্রী
রাধিকারও মন কেড়েছিল। যে বাঁশি শুনে ঘরের সব কাজ ফেলে ছুটে যেতে চাইত শ্রীরাধা। মন উচাটন, মন উথাল-পাথাল করে দিত যে বাঁশির মোহিনী সুর-টান। শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে তার
উল্লেখ আছে। সে কথা বড়াই’কে বারবার জানিয়েছিল গোপবধূ রাধা। প্রসঙ্গত বলা যায় জয়
গোস্বামীর কবিতায় শ্রীকৃষ্ণের ঝলক আমরা পেয়েছি। এখানে আবার বলা হয়েছে ‘কুঞ্জে অলি
গুঞ্জে তবু, ফুটেছে মঞ্জীর’। তাহলে বয়সন্ধিকালের
সময়, মোহনবাঁশি, তমাল তরুমূল, দিদিমনির
পাশে দিদিমনির বরকে দেখা, মৌঁমাছির গুঞ্জরণ, মঞ্জরীর বিকাশ— সবকিছু নিয়ে প্রেমবিকাশের পরিবেশে মালতী নিজেকে ধরে রাখবে কিভাবে! এ বিকাশেও কি শশীভূষণ
দাশগুপ্তের ‘শ্রীরাধার ক্রমবিকাশ’-এর ছায়া! আত্মহারা অন্তশলীলা প্রেমে সে সবে গা ভাসিয়েছিল। চোখে ছিল স্বপ্ন। মনে-কানে লেগেছিল
বাঁশির সুর। স্কুলের জানালা দিয়ে সে দেখেছে বেণীমাধবকে। তার প্রেম বিকাশ হতে
বাধ্য। তাই তার বাড়িতে এসেও অঙ্কে ভুল হচ্ছে। অর্থাৎ স্কুল হোক বা
হোক গৃহকোণ, প্রেমাবেশে নিজেকে আগলে রাখতে পারেনি মালতী। হয়তো চায়ও নি। ষোড়শী কন্যার হৃদয় উদ্বেলতায়
ঘা মেরেছে বেণীমাধবের বাঁশি। শুধু মনে নয়, তাদের এরপর সাক্ষাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে
সুলেখাদের বাড়ি থেকে। উভয়ের সামনাসামনি কথা হয়েছে ব্রীজের ধারে। তারা লুকিয়ে দেখা করেছে। কবিতাটির এই পর্যায়ে
এসে বুঝতে পারি এ-প্রেমে নায়কেরও সশরীরী অবস্থান ছিল। নায়কও এসেছিল ব্রীজের
ধারে। সশরীরে। লুকিয়ে। সুতরাং ক্লাসরুম থেকে
যে প্রেমের শুরু, ব্রীজের ধারে যারা দ্বিতীয় বার দেখা করল সে প্রেম একটু এগিয়েছিল
দুই তরফে। সেটা স্বীকার করতেই হয়। অথচ নায়ক তারপর থেকে
তার গতি বদলে দিয়েছিল। কোনও এক কারনে নায়ক গিয়েছিল সরে। তার কারন কি মালতীর
মধ্যবিত্ত অবস্থা। ওর বাবা দোকানে কাজ করে বলে! সে থাকে একতলার
ঘরে। ঘরে খাট চৌকি কিছুই নেই। মেঝের উপর বিছানা পাতা। তাহলে তারা মধ্যবিত্ত
না নিম্নবিত্ত তাও অনুমেয়। নগর কলকাতার মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার
বিষয়টা যে কতটা স্পর্শকাতর ও দারিদ্রতার সূচক তা তো ওই সময়ের নানা সিনেমা উপন্যাসেও
ধরা পরেছে। ঋত্বিক ঘটক ‘মেঘে ঢাকা তারা’য় তা তুলে ধরেছেন। তাহলে কি মালতীর বাবা
দরিদ্র বলেই বেণীমাধব আর দেখা করেনি! অনন্ত সামনাসামনি দেখা-কথা যে হয়নি তা কবিতা পড়ে বোঝা যাচ্ছে। তাহলে এই স্বল্প সময়ের
ভালোবাসায় নায়কের অবস্থান কোথা! নায়কের মনে কি এর রেশ ছিল! আপাতদৃষ্টিতে ছিলনা। আবার একটু তলিয়ে দেখলে
বোঝা যায় তা হয়তো ছিল। নায়ক হয়তো এতদিন পর তা নিয়ে অনুতপ্ত। তাই কবির কলমে মালতীর
জবানিতে কথা বুনলেও কোথাও যেন অলক্ষ্যে আছে বেণীমাধব। হয়তো সে এতদিনে তার
ভুল বুঝতে পেরেছে! হয়তো তাই মালতীর মনোবেদনাকে তুলে ধরছে। মালতীর জবানিতে নিজের
দিকে নানা প্রশ্নও তুলে ধরছে বেণীমাধব। কেননা মালতী বারবার
চাইছে উষ্ণ জাবাব দিহি। প্রতিটি প্রশ্নবাক্যের পরতে পরতে আছে চাপা অভিমান। এসব যেন নায়কের নিজের
প্রতি নিজেরও প্রশ্ন! নিজেই নিজেকে জানতে চেয়েছে সে কি ঠিক করেছে কাজটা!
নায়ক যদি মালতীকে ভালোই না বাসবে তাহলে নায়িকার এতো কথা জানলো কি করে!
তা কি শুধু কবির কল্পনা! না কি কবি নিজেই সেই নায়ক!
না কি নায়ক কবিকে কোনওদিন শুনিয়েছিল এই হারানো প্রেমের গল্প। ভুলতে চেয়েও ভুলতে না
পারা মালতীবালা স্কুলের সেই মেয়েটিকে! নায়িকা মালতী কি বেণীমাধবকে জানিয়েছিল এসব কথা!
যে কথার ফাঁকে ফাঁকে একটা মেয়ের বিরহজ্বালা প্রকাশ পাচ্ছে! এসব নিয়েই জয় গোস্বামী
একটা মনস্তাত্ত্বিক প্লট বুনে দিয়েছেন। সঙ্গে রেখেছেন ‘শেষ হয়েও হইল
না শেষ’-এর গল্পকথা। এ-কবিতার গল্প
অতি সাধারণ। একটা যুবক যুবতীর প্রেম বিকাশ ও টানাপোড়েন। অথচ সাধারণ চিরচেনা
গল্প যেমন মনে দীর্ঘস্থায়ী বাসা বাঁধে আবার তাতে যদি Psychological টাচ থাকে তাহলে তা হয়ে ওঠে অনবদ্য। মনস্তত্ত্বের ভিত্তিভূমিতে
আছে জীবনের প্রথম প্রেম। ভুলতে না পারা প্রেম। কেননা নবম শ্রেণীতে
যার উদয় তা প্রথম প্রেমই ভাবতে হবে। শরীর ও মনের বিকাশও
ওই বয়সসীমায় আরম্ভ হয়। মনস্তত্ত্বের দ্বিতীয় পর্যায়ে আছে বেণীমাধবের দূরত্ব। সে হয়তো বিয়ে করে ফেলেছে
বা করবে। বেণীমাধবের সঙ্গী মেয়েটিও বেশ। তৃতীয় পর্যায়ে আছে মালতীর
সেলাই দিদিমনি হিসাবে বর্তমান অবস্থা ও কোন্ ভবিষ্যতের দিকে সে পা বাড়াবে তার অনশ্চিয়তা—
‘কেমন হবে আমিও যদি নষ্ট মেয়ে হই?’ মনের টানাপোড়েন নিয়ে
জীবনের অনিশ্চয়তা, অনন্ত একটি মেয়ের বয়ানে মনের রসায়নকে গাঢ় করে
দিয়েছে। মেয়েটির বাবা দোকানে কাজ করে। সে নিজে সেলাই শিখিয়ে
আয় করে সামান্য কিছু। এরকম সামাজিক পরিবারে একটা মেয়ে কিসের তরে আজও অপেক্ষা করে! নিশ্চয় ভালোবাসার
জন্য। আজও সে অবিবাহিতা। মানসিক প্রেম আর পারিবারিক
সংস্থান এসব নিয়ে এ-মেয়ের গল্প নষ্ট গল্পও হতে পারে। সে হতে পারে নষ্ট! সুতরাং মালতীর
মনের সেই ছবি, বাস্তব জীবনের অবস্থা নিয়ে বড়ই সংকটের কিনারায়
আছে মেয়েটি। তাকেও তো বাঁচতে হবে! স্থির হতে হবে বিবাহের সূত্রে!
কিন্তু সে তাও করতে পারেনি। এভাবে নানা কারনে মালতীর
মনস্তত্ত্বকে খুব সহজ করে কবি তুলে ধরেছেন। অনুভব করেছেন। বা নিজেও হয়তো ওই মালতীর
মনের মানুষ! কবি নিজে যদি বেণীমাধব হন, তাহলে বুঝতে হবে
এই মনস্তাত্ত্বিক চিন্তা কবির নিজেরও। কবিরও ভয় আছে মেয়েটির
অন্ধকার পথ অবলম্বন করার ইঙ্গিতে! এখানে আছে আরেক মেয়ে। সে মালতীর বোন। যে আজ অন্ধকার পথের কাণ্ডারী—
‘আমার পরে যে বোন ছিল চোরাপথের বাঁকে
মিলিয়ে গেছে, জানি না আজ কার সঙ্গে থাকে’।
মালতীর বোন আজ কার সঙ্গে থাকে! কি কাজ করে!
কেমন আছে মালতীর বোন সেসব অজানা মালতীদের কাছে। মালতীর বাবার অবস্থাটা
তাহলে কতো করুন। যার একটা মেয়ে চলে গেছে। একটা মেয়ে আজও অবিবাহিতা। সে দোকান কর্মচারীর
চিন্তা সকলকে ছুঁয়ে যায়। অনন্ত ঘরে বিবাহযোগ্যা বড় মেয়ে থাকলে বাবাদের যে কি দুশ্চিন্তা
হয়, তা অনেকেরই জানা। তাই মনের চাপা আগুনে, মনস্তত্ত্বের
আঁচে কবিতাটির ট্র্যাজেডি অনবদ্য। পেয়েও না পাওয়া, সারাজীবনের
অপেক্ষা নিয়েও কোনও কবিতা ট্র্যাজেডি রচনা করতে পারে। জয় গোস্বামী মনস্তত্ত্বের
সঙ্গে এই ট্র্যাজিক বিষয়টি জুড়ে দিয়েছেন। যার কোনও সঠিক নিশ্চয়তা
নেই। আবার বেণীমাধব যে বিয়ে করে নিয়েছে সেটাও পরিষ্কার নয়। আলোর নিচে অন্য মেয়ের
সাথে থাকাটা ওদের বিয়ে হয়ে যাওয়াকে নিশ্চিত করেনা। সুতরাং এদিকে বেণীমাধবকে
ফিরে পাওয়ারও আশা আছে। অনুশোচনায় অনুতাপে বেণীমাধব তো মালতীর জীবনে প্রত্যাবর্তনও করতে
পারে! সুতারং নিরাশা, আশা, অনিশ্চয়তা,
দুরাবস্থা এবং মনের আগুন নিয়ে এ কবিতার অভিমুখ নানা-দিকে। মনস্তত্ত্বও। যে বাংলা সাহিত্য প্রেম বিরহ অনুতাপ নিয়ে আতুর সেই
সাহিত্য থেকেই একটা সাধারণ অথচ অসাধারণ কবিতার জন্ম হতে পারে। আর জন্মদাতা এ-কালের
জয় গোস্বামী। যাঁরা জয় গোস্বামীর ‘গোঁসাইবাগান’ পড়েছেন তাঁরা জানেন কবিতা বিষয়ে জয় গোস্বামীর প্রঞ্জা। আবার কতজনের মন আছে
এখানে?
এখানে আছেন স্বয়ং কবি, বেণীমাধব বা বেণীমাধবের
ছায়ার আড়ালে কবি, অবহেলিত মালতী, চোরাপথে
চলে যাওয়া মালতীর বোন, সামান্য কর্মজীবি মালতীর বাবা ও পাঠক। সুতরাং মনস্তত্ত্বের
নানা চুপকথা এখানে আত্মগোপন করে আছে। এসব থেকে পাঠক কবিতার
নানা অর্থ মূল্যায়ন করতে পারে। পাঠের পর পুনঃপাঠে কবিতা
নতুনভাবে ধরা দিতে পারে। আর এভাবেই কবিতা পুনঃজন্মলাভ করে। বেণীমাধব আর মালতীর
এই ভাঙা প্রেমে মালতীর বাবার মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে তাও অনুমান করা যায়। অরক্ষণীয়া বড়ো মেয়ের
জন্য বাবার চিন্তা কেমন হতে পারে তাও অনুমান করা সহজ। কোন্ জ্বালায় মালতীর
বোন ঘর ছেড়ে চলে গেছে তার গোপন ইতিহাসও এই মনস্তাত্ত্বিক গল্প-কবিতার আরেকটা দিক। তার বর্তমান অবস্থা
কি সেটাও অজানা। তা নিয়েও সামাজিক কটুক্তির শিকার মালতী ও তার বাবা। এটা অনুমান করা যেতে
পারে। এসব নিয়েই পাঠকের মনে যেসব প্রশ্ন আসে, তাতে আসে নারীচেতনা। পুরুষ হতে নারীর অবহেলিত
সামাজিক অবস্থা। রবীন্দ্রনাথ বা মধুসূদনের কাব্যে উপেক্ষিতা বা বীরাঙ্গনা কাব্যে
নারীর প্রেমাবেদন, উপেক্ষা, পুরুষকে পুনরায় নিজের মনে টেনে
আনা বা বিরহের যে জ্বালা তার আগুনও তো জয় গোস্বামীর কলমে—
‘তবু আগুন বেণীমাধব,
আগুন জ্বলে কই
কেমন হবে, আমিও যদি নষ্ট মেয়ে হই?’
শুধু তাই নয়, এই প্রেমালন, বিরহের দাবদাহ
যে কতো মারাত্মক তাও বললেন কবি—
‘আমি কেবল একটি দিন তোমার পাশে তাকে
দেখেছিলাম আলোর নীচে, অপূর্ব সে আলল
স্বীকার করি, দুজনকেই মানিয়েছিল ভালো
জুড়িয়ে দিল চোখ আমার, পুড়িয়ে দিল চোখ’।
নায়ককে মলতী দেখেছে অন্য মেয়ের পাশে। এর যাতনা বেদনাদায়ক। তাদের দুজনকে বেশ মানিয়েছিল। তা দেখে মালতীর চোখ
জুড়িয়ে গেছে। ভালোবাসার মানুষ ভালো থাকলে তা দেখেও ভালো লাগে। আবার ভালোবাসার মানুষ
অন্য জনের সঙ্গে থাকলে ভীষণ জ্বালা লাগে বুকে। যে দৃশ্য মালতীকে ভিতরে
ভিতরে পুড়িয়ে দিয়েছিল। একলা ঘরে জ্যোৎস্নারাতে একা বিছানায় তারপর যে শুয়ে থাকা, সেখানে মালতীর
জ্বালা আরও মারাত্মক। সে জ্বালা কাওকে সে বলতেও পারবে না। আবার নিজেকে সামলাতে
পারাও মুশকিল। এসব থেকেই তার মনে হয়েছে সেও চোরাপথের দিকে চলে যাবে। তাতে অনন্ত সাময়িক স্বস্তি
পাবে। এ থেকেই কবিতায় একটা টেনশনের প্লট উঠেছে জেগে। নায়ককে সে পাচ্ছে না। বোনও নিখোঁজ। নিজেকেও সেলাই দিদিমনি
হিসাবে কোনওরকমে আগলে রেখেছে সে। কিন্তু এভাবে আজ দুটো
অন্ন জুটছে। কাল যদি না জোটে! তখন কি হবে! কেননা ‘কালের ঘরে শনি’। মালতী যদি চোরাপথ ধরে! সুতরাং টেনশনের একটা
পরিধি এ-কবিতাকে আরও সুদূর বিস্তৃত করেছে। এর পরিণতি বা পরিণাম
কি তা সময় বলবে হয়তো। কি হতে পারতো, কি হচ্ছে, কি হতে পারে—
এসব নিয়েই বেণীমাধব-মালতীর গল্প আলো-অন্ধকারের
অমিমাংসীত সমীকরণে রচনা করলেন জয় গোস্বামী। আর এই সমীকরণ অমীমাংসিত
বলেই আরও হৃদয়গ্রাহী। পাঠক তার স্বাধীনতা ও কল্পনাবলে এর নানা অর্থ নির্ধারণ করতে
পারে। এভাবে একই কবিতা বারে বারে নব জন্মলাভ করে। এগিয়ে যায়। পাঠকের মনে উদবর্তন
ঘটে কবিতার। ওদিকে ‘বেণীমাধব বেণীমাধব’ স্বরে কালকে অতিক্রম করে
যায় কবিতা।
জয় গোস্বামী কি মালতীর মতো বহু
অবহেলিত, ভুলে যাওয়া মেয়েদের কথা বললেন! যেসব পুরুষ নারীকে ভালোবেসেও ত্যাগ করে তাদের দিকে আঙুল তুললেন! পুরুষ সামজের
কাছে নারী আজও কি খেলার পাত্রী! শহরের ছেলেরা গ্রামে এসে গ্রামের
কালো মেয়েদের কি এভাবেই ভাসিয়ে দিয়ে চলে যায়! মালতী কালো বলে
তার নিজেরও হীনমন্যতা ছিল কিছুটা। তাই সে একদৌড়ে ঘরে পালিয়ে
গিয়েছিল। আবার ওই কালো মেয়েকেই তো বেণীমাধব দেখা করতে গিয়েছিল সুলেখাদের বাড়ি। ব্রীজের ধারে। তারপর বহুদিন কেটে গেছে। নায়ককে মালতী যখন দূর
থেকে দেখেছ তখন সে অন্য মেয়ের সাথে। যা মালতীকে পুড়িয়ে দিয়েছিল
ভিতরে ভিতরে। মালতী বলছে, বেণীমাধব কি তাদের প্রেম কথা তার প্রেমিকাকে
বলেছে। না কি বেণীমাধব তাও গোপন করে গেছে— ‘সে সব কথা বলেছো তুমি
তোমার প্রেমিকাকে?’ এখানেই জয় গোস্বামী যেন নারীবাদী চেতনায় নারীর হয়ে কলম ধরেছেন। নারী যেন তার প্রেমের
অধিকারে প্রেম ফিরে পায় সে কথাও বলতে চেয়েছেন। কবি পুরুষ আরেক পুরুষকে
এভাবে বিদ্ধ করতে ছাড়েন নি৷ হয়তো বা নিজেও নিজেকে বিদ্ধ করেছেন নারীচেতনায় নারীমননের
আলোকে। নারীর মনোযাতনাকে জ্বালিয়েছেন মর্মদাহের আগুনে— ‘তবু আগুন,
বেণীমাধব আগুন জ্বলে কই?’ কবিতা সিংহের মতো উত্তপ্ত
না হয়েও একটা করুণ সুরে, আওয়াজ তুলেছেন পুরুষের বিরুদ্ধে। এখানে ধুঁয়ার মতো ‘বেণীমাধব বেণীমাধব’
উচ্চারণটা কবিতাময় ঘোরাফেরা করছে। এ-কবিতার নাট্যিক বা
কাব্যিক উপস্থাপনেও আমরা শুনেছি মালতীর সেই ‘বেণীমাধব, বেণীমাধব’ ডাক। তা নিয়ে গৌতম হালদারের
অপূর্ব উপস্থাপন। কণ্ঠ-নাটকের স্বরক্ষেপণে নাটকের ষড়াঙ্গকে স্পর্শ করতে চাওয়া! বেণীমাধবের প্রতি
বিপুল ভালোবাসা না থাকলে এই ধুঁয়াপদটি এতো আলোড়িত হতোনা। বেণীমাধব নামক নারায়ণ
পুরুষের পদতলে মালতী নামক শুভ্র পুষ্পের কাতর আবেদন এতটা যাতনাময় হতোনা। রাধা-কৃষ্ণ প্রেমের
সাহিত্যিক ও সামাজিক পরিবেশকে একালের আধুনিক কবিতা ছুঁতে পারতোনা। বেণীমাধব ডাকে কালো
মেয়ের বিরহগাথা এতটা স্পর্শ করে যেতনা।
কবিতাটি শুরু হচ্ছে
দ্বিধা ও সংশয়পূর্ণ একটি আশা নিয়ে। সংশয় এখানেই যে— ‘তুমি কি আর
আমার কথা ভাবো?’ আশা এখানেই যে— ‘তোমার
বাড়ি যাবো’। প্রথম অষ্ট বাক্যেরই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে মালতী শুরু থেকেই
সংসার করতে চায়। কেননা সে দেখেছে— ‘দিদিমণির পাশে দিদিমণির বর’। শাড়ি পড়তে শেখা নবম
শ্রেণীর একটা মেয়ের সংসার করার স্বপ্ন অমূলক নয়৷ বরং জীবন সম্পর্কে সচেতনার পরিচয় ওটা। পরের অষ্ট বাক্যে সে জেনেছে বেণীমাধব শহরের ছেলে। পড়াশোনাতেও ভালো। আবার বেণীমাধবের রঙও
ফর্সা। কেননা ফর্সা না হলে সে নিজের কালো রঙ নিয়ে ইতস্তত করত না। একদৌড়ে পালিয়ে যেতনা। সুতরাং শহরের পড়াশোনা
জানা ফর্সা ছেলেকে কে না বর হিসাবে পেতে চায়! আর এ-পর্যায়ে
এসে সে জানিয়েছে তার বাবা দোকানে কাজ করে। সুতরাং কালো রঙ, গ্রামের মেয়ে,
পারিবারিক অবস্থাও তার খুব স্বচ্ছল নয়। তাই তার একটু ভীতি থাকবেই। তবুও প্রেমকে কে আটকাতে
পারে। তাই সে সব ভুলে লুকিয়ে দেখা করল বেণীমাধবের সঙ্গে। সুতরাং এতদূর এসে প্রেম
একটু পরিণতি লাভ করেছিল সেটা বলা যায়। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে
গেছে। দ্বিতীয় স্তবকের অষ্ট বাক্যের সঙ্গে তৃতীয় স্তবকের অষ্ট বাক্যের মধ্যে সময়ের একটা
ব্যবধান আছে। সে সময় পর্বে কি হয়েছে সেটা আমরা জানিনা। তবে সে সময়েই যে বিচ্ছেদের
একটা মেঘ ঘণীভূত হয়েছিল সেটা বোঝা যাচ্ছে। তাই তো সে বলেছে— ‘এতদিনের পরে
/ সত্যি বলো, সেসব কথা এখনো মনে পড়ে?’ বিচ্ছেদ যে ততদিনে হয়ে গেছে সেটা স্পষ্ট। বেণীমাধব পেয়েছিল নতুন
প্রেমিকা। আশাহত হয়ে মালতী বাড়িতে এসে বলেছিল ’ওদের ভালো হোক।’ মাননীয় জয় গোস্বামী
বড় গল্পের পরিচ্ছদের মতো এ-কবিতাকে গড়ে তুলেছেন। যেখানে কথা বা বাক্য
কম কিন্তু তার গভীরতা অনেক বেশি। প্রথমে প্রেম ও আশা। দ্বিতীয় স্তবকে শহর
গ্রাম,
ফর্সা কালো, দুঃস্থ পরিবারের বিভেদ অতিক্রম করে
প্রেম প্রতিষ্ঠা। তৃতীয় স্তবকে বিচ্ছেদ। এবং সর্বশেষ চতুর্থ
স্তবকে এসে একটা বিরহগীতি। এ-যেন ‘Our sweetest
songs are those that tale of saddest thought’. (P. B. Shelley) বিরহের সঙ্গে
মানসিক দুশ্চিন্তা, ভবিষ্যৎ চিন্তার সঙ্গে মনের পিছুটান,
অর্থনৈতিক অবস্থার (সামান্য সেলাই দিদিমনি সে)
সঙ্গে চরিত্র স্খলনের (আমিও যদি নষ্ট মেয়ে হই?)
বর্তমানে ‘কালের ঘরে শনি’র অবস্থান কবিতাটিকে শেষ পর্যায়ে এনল বহুমাত্রিক স্তর রচনা করেছে। সে একাকী জীবন কাটাতে
পারে। সেলাই দিদিমনি হিসাবে জীবন কাটাতে পারে। বোনের মতো ঘর ছেড়ে পালাতে
পারে। নষ্টও হতে পারে। যেটা হয়তো হতে পারবে না সেটা হলো বেণীমাধবের জীবনসঙ্গী! আর এ-জন্যই
সময়ের হাতে, পরিস্থিতির পরিবেশে এ-কবিতা মনের আগুনে দ্বগ্ধ। সে আগুনে যে বেণীমাধব
পুড়বে না তাও অনেকটা স্পষ্ট— ‘তবু আগুন, বেণীমাধব,
আগুন জ্বলে কই?’ আর এই জিজ্ঞাসার মধ্যেই আছে আশাবাদ। অনন্ত মালতীর। যদি বেণীমাধবের ভিতরের
আগুন জ্বলে ওঠে। যদি সে এসে বাড়ায় হাত। এভাবেই জয় গোস্বামী
কবিতাকে বহুমুখী করে পাঠকের হাতে তুলে দিয়েছেন। হয়তো নিজেও আত্মগোপন
করেছেন নিজের বাক্যজালে। নয়তো কোনও পরিচিত বন্ধু বান্ধবীর গল্পকে অমর করেছেন। হয়তো মালতী নামের কোনও
এক মেয়ের বিদ্যালয়কে মালতীবালা বালিকা বিদ্যালয় নাম দিয়ে ওই মেয়েকে চিরচেনা করে তুলেছেন। কবিতা পাঠের পরে পাঠকের
চোখ জুড়িয়ে দিয়েছে আবার পুড়িয়েও দিয়েছে। ঠিক মালতীর মতো— ‘জুড়িয়ে দিল চোখ আমার, পুড়িয়ে দিল
চোখ’।
কবিতাটির গঠনে অতীত,
বর্তমান ও ভবিষ্যতের তিনটি লেয়ার আছে। তিনটি কাল আছে এখানে।
অতীত—
‘বেণীমাধব, মোহনবাঁশি তমাল তরুমূলে
বাজিয়েছিলে, আমি তখন মালতী ইস্কুলে…
আমি তখন নবম শ্রেণী, আমি তখন ষোল’।
বর্তমান—
‘আজ জুটেছে, কাল কি হবে? কালের ঘরে শনি
আমি এখন এই পাড়ায় সেলাই দিদিমণি’।
ভবিষ্যত—
‘কেমন হবে আমিও যদি নষ্ট মেয়ে হই?’
কবিতায় আছে বৈপরীত্য বা কনট্রাস্ট। যেমন শহর ও গ্রাম। ছেলে শহরের, মেয়ে গ্রামের
বা মফস্বলের। ফর্সা ও কালো। ছেলে সাদা, মেয়ে কালো। আজ ও কাল। আজ জুটেছে, কাল কি হবে?
এখানে আছে স্কুলের দিদিমণি ও সেলাই দিদিমণি। বিদ্যালয়ে স্বপ্নের
পরিবেশ ও সমাজ-ঘরের পরিবেশ। বেণীমাধব নতুন প্রেমিকাকে
হয়তো মালতী-প্রেমের কথা বলতে পারেনি। অথচ মালতী তার বাড়িতে
সে কথা বলেছিল— ‘বাড়িতে এসে বলেছিলাম ওদের ভালো হোক।’ এখানে আছে অপ্রাপ্ত-আশাহত-অতীত প্রেম— ‘সত্যি বলো সেসব কথা এখনো মনে পড়ে?’
আছে প্রাপ্ত-বর্তমান প্রেম— ‘দেখেছিলাম আলোর নীচে, অপূর্ব সে আলো / স্বীকার করি, দুজনকেই মানিয়েছিল ভালো’। সুতরাং বৈপরীত্যের আলোকে
সমাজ, পরিবার, প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত প্রেম, অতীত প্রেম ও বর্তমান প্রেম নিয়ে এ-কবিতা আলো-ছায়ার খেলা। আবার এই প্রেম কি মালতীর
দৃষ্টিকোণ থেকে সত্যিই অতীত! তা তো নয়। আপাতদৃষ্টিতে তা অতীত
হলেও আগুনের জ্বালা নিয়ে কঠোর বর্তমানও। এখানেই জয় গোস্বামীর
কলম কবিতাটিকে কালের কোঠায় পৌঁছে দিয়েছে। তার পরিণতি কি তা শুধু
পাঠকের কল্পলোকে উদ্ভাসিত।
কবিতার গঠনে (যদিও একটি পূর্ণচ্ছেদ আছে) পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহার করে কবিতাকে
থামাতে চাননি কবি। গোটা কবিতায় একটিই পূর্ণ বিরাম। কেন পূর্ণ বিরামের স্বল্পতা! কেননা পূর্ণবিরাম
দিলে কবিতা থমকে যেত। ভবিষ্যতের পথে আত্মলীন হতে পারতো না। আবার প্রথম পূর্ণচ্ছেদটি
তৃতীয় স্তবকের ২৪ নং চরণে ব্যবহৃত হয়েছে। কেন? কেননা অতদূর
অবধি তার স্মৃতিচারণ আছে। নায়ককে স্মরণ করিয়ে
দেওয়া আছে। তারপর ২৫ নং চরণ বা চতুর্থ স্তবক থেকে তার নিদারুণ বাস্তবতা আছে। চতুর্থ স্তবকে এসে এই
নারী একেবারে বাস্তবের জমিতে এসে দাঁড়িয়েছে। তার আগামী জীবনের পথরেখা
নিয়ে সেও চিন্তিত! সে কঠিন, সমাজ অমান্য পথ গ্রহণ করতেও প্রস্তুত। তবুও কি সে ওই চোরাপথ
ধরতে পারবে? বেণীমাধবের বিরহে সে কি একই আঘাত দেবে তার বাবাকে! যে আঘাত তার বোন দিয়েছে! একদিকে বাবা আরেকদিকে বেণীমাধব— এই নিয়ে তার
জীবনের পূর্ণচ্ছেদ কোথা! আর এসব নিয়েই জয় গোস্বামীর মতো আমাদেরও
মনে নানা জিজ্ঞাসার উদয়। তাই কবিও নির্ভরশীল
জিজ্ঞাসার প্রশ্নজালের উপর। এখানে তাই আছে জিজ্ঞাসা চিহ্ন। প্রথম স্তবকের ২য় চরণে
জিজ্ঞাসা দিয়েই কবিতার শুরু। (যদিও এদেরকে সম্পূর্ণ চরণ বলা শ্রেয় নয়। কেননা পূর্ণচ্ছেদহীন
একটা চরণ পরের চরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেই চরণ আবার পরের চরণের
প্রতি আকৃষ্ট-আবদ্ধ। সুতরাং প্রতিটি লাইন
বা চরণ অগ্রগামী তার পরের চরণের দিকে-সঙ্গে।) শেষও হয়েছে পর
পর দুটো জিজ্ঞাসার মাধ্যমে। অর্থাৎ এ-জিজ্ঞাসা পুরুষ
পরিচালিত সমাজের প্রতি পুরুষ অবহেলিত বা উপেক্ষিত মহিলা সমাজেরও। একটা মেয়ের ভবিষ্যত
নষ্ট হয়ে গেলে পুরুষের কি কিছু যায় আসে! যদি ধরে নিই বেণীমাধবেরও অনুশোচনা
আছে, তাতেও কি নারী সান্ত্বনা পায়? না কি
দুই তরফে অনুশোচনা আক্ষেপ থাকে বা আছে বলেই বেঁচে থাকে বা থাকবে প্রেম?
লেখকের অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
কবি ও কবিতা বিশ্লেষক। প্রাবন্ধিক। লোকসংস্কৃতির ক্ষেত্র-সমীক্ষা ভিত্তিক গ্রন্থ রচয়িতা। নানা লোকসেবামূলক সংস্থার সদস্য।
.jpg)