আজ
রবিবার স্কুল ছুটি তাই পূর্বাশাদের বাড়িতে ওর বন্ধুরা খেলতে এসেছে । পূর্বাশা
ক্লাস টু-তে পড়ে ।
ওদের বাড়িতে ওর বাবা,মা ও দিদি
রয়েছে। ইস্যু, ভূমি, ফুল, ঋষিকা, নন্দিনী
সবাই খেলতে এসেছে । ওর মা বাচ্চাদের দেখে খুশী হয়ে বলল,তোরা খেলা কর আমি তোদের জন্য কিছু নিয়ে আসি। সবাই এক সঙ্গে
বলল ঠিক আছে কাকিমা । কিছুক্ষণ পর ওদের
কাকিমা ভালো করে কাজু কিসমিস দিয়ে সুজি বানিয়ে খেলার ঘরে নিয়ে এলো এবং দেখল কেউ
কিছু খেলছে না বরং একটা মোবাইল নিয়ে সবাই চারিদিক ঘিরে বসে মোবাইল এ গেম খেলছে ।
তখন কাকিমা জিজ্ঞেস করল তোরা মোবাইল এ কি দেখছিস ? কেউ কেউ বলল গেম কাকিমা । কাকিমা বলল, পূর্বাশা
মোবাইল বন্ধ কর,দেখ আমি
তোদের জন্য কি এনেছি ! সবাই এক সঙ্গে বলল, এটা খাবো
না এটা ভালো লাগে না ।
-কি ভালো লাগে ? ম্যাগী ?
পূর্বাশার
মা হেঁসে জিজ্ঞেস করল । আমি যখন তোদের মত ছিলাম তখন আমার বন্ধুদের আমার মা তখন
আমাদের সুজি খেতে দিত, আমি ও আমার বন্ধুরা খুব খুশি হয়ে
খেতাম । আর আমার মা আমাদেরকে গল্প বলত ! রাধা বলল, গল্প? হ্যাঁ, গল্প
। তোরা শুনবি নাকি ! সবাই একসঙ্গে বলল, হ্যাঁ
শুনব,
শুনব । ঠিক আছে আগে মোবাইলটা বন্ধ কর, তাহলে
আমি তোদের একটা গল্প বলি শোন। সবাই চুপ করে বসল ।
এক জঙ্গলে একজন সাধু একটা ছোট কুটিরে বসে
তপস্যা করছিল তখন সেখানে একটা ইঁদুর কাঁদতে কাঁদতে এসে সাধু বাবাকে বলল, আপনি
আমাকে বাঁচান, এই জঙ্গলে যে বিড়াল রয়েছে সে আমাকে খেয়ে
ফেলবে। সাধুবাবা ঠিক আছে বলে হাতে জল নিয়ে মন্ত্র পড়ে ইঁদুরের গায়ে ছিটিয়ে দিল, জল
ছিটানোর পরে ইঁদুরটা বিড়াল হয়ে গেল আর মনের আনন্দে জঙ্গলে ফিরে গেল, ভাবল
আর বিড়াল আমাকে খেতে পারবে না । কিন্তু কয়েক দিন পরে ওই বিড়ালটা আবার সাধুবাবার
কাছে এসে কাঁদতে লাগল, বলল সাধুবাবা আমাকে বাঁচান নাহলে
ওই জঙ্গলি কুকুরটা আমাকে মেরে ফেলবে ।
সবাই
একসঙ্গে বলে উঠল, তার পর ?
কাকিমা
বলল তারপর ! সাধুবাবা হাতে জল নিয়ে বিড়ালের গায়ে ছিটিয়ে দিল, আর
সঙ্গে সঙ্গে বিড়ালটা জংলী কুকুর হয়ে গেল এবং মনের আনন্দে জঙ্গলে ফিরে গেল ।
কিন্তু আবার কয়েক দিন পরে সাধুবাবার কাছে ফিরে এলো এবং বলল আমাকে বাঁচান নাহলে
জঙ্গলের রাজা সিংহ আমাকে খেয়ে ফেলবে । এবারও সাধুবাবা জল ছিটা দিলে কুকুরটা সিংহ
হয়ে গেল ।
সবাই
একসঙ্গে ফিস ফিস করে বলল, সিংহ হয়ে গেল ?
তখন
ফুল দিদি বলল, তারপর ?
কাকিমা
বলল তারপর, সিংহটা মনে মনে ভাবল এই সাধুবাবা তো জানে আমি
আসলে ইঁদুর, সিংহ না । উনি যদি সবাইকে এই কথা বলে দেন, তার
চেয়ে ভালো আমি ওনাকে মেরে ফেলি । কিন্তু সাধুবাবা সিংহের মনের কথা বুঝতে পেরে
তখনি ওর গায়ে জল ছিটিয়ে দিল এবং সঙ্গে সঙ্গে সিংহটা পুনরায় ইঁদুর হয়ে গেল ।
সবাই একসঙ্গে বলে উঠল ঠিক হয়েছে, ঠিক হয়েছে ।
পূর্বাশার
মা জিজ্ঞেস করল, কিরে গল্পটা কেমন লাগলো ?
সবাই
একসঙ্গে বলল, ভালো লাগলো ।
কাকিমা
বলল,
এবার বুঝলি, কোন কিছু
দেখে ভয় পেতে নেই । এখন থেকে তোরা কি করবি জানিস ! মোবাইলে খেলা করবি না, যদি
স্কুল থেকে পড়াশুনা কিছু দেয় তখনই মোবাইল ধরবি, এমনি সময়
অনেক রকম খেলা রয়েছে সেগুলি খেলবি আর বাড়িতে যারা বড় রয়েছেন তাঁদের বলবি গল্প
বলতে । শুধু শুধু মোবাইল নিয়ে খেলা করবি না । কেমন ! মনে থাকবে তো ?
হ্যাঁ
মনে থাকবে । ঠিক আছে, আবার কোন ছুটির দিনে তোরা সবাই
আসবি আমি অন্য একটা গল্প শোনাব ।
_________________
লেখিকার পরিচিতি ঃ-
জন্ম বিহারের কিশানগঞ্জ-এ। প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর কিষানগঞ্জেই । আঞ্চলিক বার্ষিক পত্রিকা, ই-ম্যাগাজিন তাৎক্ষনিক ডট কম-এ অণুগল্প, ছোট গল্প, প্রবন্ধ লেখালেখি করেন । ওনার প্রথম গ্রন্থ ‘নবরত্ন’(গল্পগুচ্ছ) । বই পড়া, ভ্রমণ ও আধ্যাত্মিকতায় রুচিশীল এবং কুসংস্কার বিরোধী ।
.jpg)