ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
Let high
noon enter-
the gour
of the ghosts.
Once the
Romans believed
that noon
was the ghost hour
অনেকটা জীবন,অনেকটা
মোহময় সম্ভাবনা পূর্ণ জীবন নষ্ট হয়ে
গেছে;অথবা প্রতিনিয়ত ঝরে ঝরে পড়ে যাচ্ছে--;বাভ্রবি
আর সন্ধ্যা মুখোমুখি বসেছিল সন্ধ্যার
ছোট্ট একটি বেডরুমের ফ্লাটে। মাত্র
সিফটিং হয়েছে;এখনও সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
--"সন্ধ্যা
এতো ছোট একটি ফ্ল্যাট--শেষাঙ্ক আর
তুই কি করে থাকবি--?"
--"থাকতে হবে
বাবি।তাছাড়া শেষাঙ্ক তো এখন হোস্টেলেই
থাকবে--কালই চলে যাবে।"
--"কিন্তু যখন আসবে--আজরাত--"
লিভিং রুমটা বড় আছে বাবি,শেষাঙ্ক ইচ্ছে হলে ওখানেই থাকতে পারে--ডিভান তো রয়েছে। ওর স্টাডি
টেবিলটাও ভালভাবে ফিট হয়ে গেছে--"
ওরা দুজন মুখোমুখি
বসেছিল একফালি ব্যলকনি বারান্দায়। রূপালী
আর রঞ্জাবতী সন্ধ্যার জন্য টুকটাক বাজার
করতে গেছে মুনিরকা বাজারে। রূপালীর
ফ্ল্যাট আর সন্ধ্যার ফ্ল্যাট
খুবই কাছাকাছি। আসলে সন্ধ্যাকে
রূপালীই এই ফ্ল্যাটের কথা বলেছিল। দুজনে
দুজনের খোঁজ খবর রাখতে পারবে। বাভ্রবি একটু কিন্তু কিন্তু
করে জিজ্ঞেস করল
--"তোকে তো
ইন্সটিটিউটে চাকরির
একটা অফার দিয়েছিল--"
সন্ধ্যা ফিকে হেসে বলল
--"হ্যাঁ,অফিস জব। মাইনে ভাল-"
--"তুই তো নিলি না-"
সন্ধ্যা দৃঢ় ভাবে মাথা
নেড়ে বলল
--"হাউ ক্যান
আই টেক দ্যাট বাবি?ইট ইজ নট অনলি বিলো মাই
ডিগনিটি,বাট ইটস অ্যা ম্যাটার অফ মাই প্রিন্সিপাল। যেখানে আমার হাজব্যান্ড
সম্মান নিয়ে কাজ করতে পারেননি--'"
বলতে বলতে সন্ধ্যার গলা বন্ধ
হয়ে এলো।
বাভ্রবি সন্ধ্যার চোখ থেকে জলের গড়িয়ে পড়া ধারা মুছে দিয়ে
বলল
--"প্লিজ
ডোন্ট ক্রাই।"
চোখের জল মুছে সন্ধ্যা বলল
--"আমার কাছে
বাইরে থেকেও চাকরির অফার আছে। আপাতত নেবো--ওর পেনশন, বাকি
কাগজপত্র, ইত্যাদির জন্য
কিছুদিন আমাকে এখানেই থাকতে হবে--কিন্তু বেশিদিন
আমি এখানে থাকব না--এখানে ওর স্মৃতি প্রতি মুহূর্ত আমাকে ছুরির মতো বিঁধবে--বিশেষ
করে ওর শেষ জীবনের এই ভয়ংকর মানসিক
কষ্ট--আমি কিছুতেই সহ্য করতে পারছি
না বাবি।ও কতখানি কষ্ট পেয়ে যে আত্ম
হননের পথ বেছে নিয়েছিল--"বলতে বলতে আবার
কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সন্ধ্যা।বাভ্রবি এবার বুঝি সন্ধ্যার
চোখের জল ও মুছিয়ে দেবার চেষ্টা করল না।
খুব আস্তে শুধু বলল -
---সন্ধ্যা,তোমাকে
শক্ত হতে হবে। অন্তত শেষাঙ্ক --"
সন্ধ্যা এবার নিজেই
চোখের জল মুছে বলল
--"শেষাঙ্ক
খুব ভেঙ্গে পড়েছে ঠিকই, কিন্তু আমি জানি ও আস্তে আস্তে ঠিকই নিজের
জগত নিয়ে নিজেকে সামলে নেবে। কিন্তু
আমি যতদিন বাঁচব,ততদিন আমাকে এক
দুঃসহ গ্লানি নিয়েই বেঁচে থাকতে
হবে।"
--"তুই কি
একবার রামমূর্তি স্যারের কলিগদের সঙ্গে আলাদা ভাবে দেখা করবি?"
সন্ধ্যা এবার চুপ করে রইল।
--"ওর হেড ওব
দ্য ডিপার্টমেন্ট,আমার সঙ্গে দেখা করতে
এসেছিলেন। "
বাভ্রবি একটু উত্তেজিত হয়ে বলল
--"উনি তো নিশ্চয়ই
সব পলিটিক্স জানতেন--কিন্তু কোনও
অ্যাকশন নেন নি। যদি নিতেন--"
সন্ধ্যা ব্যলকনি থেকে
সামনের চলমান জীবন যাত্রা দেখতে দেখতে বলল
--"বাবি,উনার ও
হয়ত করার কিছুই ছিল না। আসলে বর্তমান পরিস্থিতিতে খুব সততার সঙ্গে ,principle এর সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করে যারা
চলতে পারে না,তাদের বোধহয় বেঁচে থাকাটাই কঠিন।"
বাভ্রবি উত্তেজিত ভাবে চেয়ার
ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।ব্যলকনির রেলিং
এ কনুই রেখে যেন নিজেকেই নিজে বলছে
--"কিন্তু,এভাবে তো
চলতে পারে না, সন্ধ্যা--।"
সন্ধ্যা তেমনই শূন্য দৃষ্টিপাতে চুপ।
বাভ্রবি,--"জানিস আমার
কেন জানি না আজ জর্জ অরওয়েলের
এনিম্যাল ফার্ম বইটির কথা মনে
পড়ছে--"
সন্ধ্যা এবার একটু হেসে বলল
--"কি
অসাধারণ বই,না বাবি?"
--"হ্যাঁ,জানিস সন্ধ্যা জর্জ
অরওয়েল তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির
মতিহারি তে জন্মেছেন?"
সন্ধ্যা অবাক হয়ে বলল
--"তাই নাকি?"
বাভ্রবি জবাব দিল
--"হ্যাঁ,উনার বাবা সেই সময় ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস
এ ছিলেন।"
--"তাঁর আসল নাম
তো বোধহয় এরিক আর্থার ব্ল্যেয়ার?"
বাভ্রবি মাথা নেড়ে
বলল--"হ্যাঁ,জর্জ ওরওয়েল উনার
ছদ্মনাম। "
তারপর আপনমনেই বলতে লাগল
--"Rings
shall vanish from our noses,
And
harness from our back,
Bit and
spur shall rust forever,
Cruel
whips no more shall crack."
--"বাবি,পুরোটা
মুখস্থ তোর!"
বাভ্রবি মাথা নেড়ে বলল
--"হ্যাঁ,আমার যা ভাল লাগে,আমি সেটা
আত্মস্থ করার চেষ্টা করি রে সন্ধ্যা।"
সুর করে ডোরবেল বেজে উঠল,আর তারসাথে রঞ্জাবতীর
সুরেলা গলা
--"খোল,খোল দ্বার,রাখিও না আর,বাহিরে
আমায় দাঁড়ায়ে--"
ওরা দুজন মৃদু হেসে ব্যলকনি থেকে আস্তে আস্তে দরজার দিকে--।
ক্রমশ …………
৮৯তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)