ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব – ৮৬
When he
looks for neighbors, their names blur in the window,
his
distracted eye sees only glass sky,
His
despair has the galvanized bucket.
সারাদিন কমলালেবু,পাতিলেবুর
রূপটান;সন্ধ্যার আবছা মায়াজালে এখানে
জীবনের বেসাতি শুরু হয়। পুরুষদের সঙ্গে
মেহফিল শুরু করার আগে এখানে ঝুলিয়ে রাখতে
হয় কিছু দিগন্ত রেখা। জি বি রোডের
চাঁদ সুলতানা কোঠি-বিকেলের পর থেকে
জেগে ওঠে। মারিয়ার নতুন জীবনের
শুরুয়াত। এক সপ্তাহ ওকে সময় দেওয়া হয়,নিজেকে
পুরোপুরি -"কোঠিওয়ালি" করে তোলার জন্য। প্রথমেই
ওর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় -"গর্ভ নিরোধক বড়ি।" চামেলি পুরো তিরিশটি বড়ি ওর হাতে দিয়ে বলে
--"হর রাত এক
এক লেনা--। মত ভুলনা।"
মারিয়া হাতে নিয়ে বসে
থাকে। চিকের আড়াল থেকে একফালি রোদ ধরে যোশেফ
ওর কাছে আসে--।
"যোশেফ--তুম
মুঝে তুমহারা পাস বুলা লো-"
যোশেফ দুহাতের চেটোয় মারিয়ার মুখ তুলে ধরে--একফালি রোদের আভায় চিকচিক করে ওর চোখের জল। যোশেফ আদর করে মারিয়ার চোখের জল মুছিয়ে বলে
--"পাগলি,তাহলে
আমাদের রোজ বিটিয়াকে কে দেখবে? আমাদের,রোজ
বিটিয়াকে পড়াশোনা করে অনেক বড় হতে হবে
না?আঁসু পোঁছ লে--।"
রোজ! একমাত্র রোজ --না,না,,শুধুই রোজ নয়,যোশেফ এর মা বাবার
জন্য ও মারিয়া এই কোঠিয়ালির জীবন বেছে নিতে বাধ্য হল। নয়ত--। চাঁদ বিবি ওর চোখের,জল
মুছিয়ে বলেন-
--"বেটি,আগর তু
ইয়ে কাম নেহি করনা চাহতী তো --"
--"না,না,মৌসি। মেঁ
করুঙ্গি। মুঝে করনা হি পড়েগা। রোজকে লিয়ে,উসকি
পড়াই কে লিয়ে। মুঝে করনা হি পড়েগা।"
রামদীন চুপ
করে ছিল। বাভ্রবি আর রামদীন একটি ফুডকোর্টের খোলা বারান্দায়;দিল্লির আকাশে শেষ বসন্তের ছোঁয়া--;দখিনা
বাতাস ক্রমেই গরম হাওয়ায় পরিণত। নেহেরু
প্লেসের এই ফুডকোর্টে ভিড় উপচে পড়ছিল। বাভ্রবির সঙ্গে বসে থাকা রামদীন কে কেউ দেখছেই না। বাভ্রবির ভীষণ ভাবে টি এস এলিয়ট মনে পড়ছিল। সংলাপ মুখর নেহেরু প্লেসের ফুডকোর্টে এখন অফিস জনতার লাঞ্চ টাইম । ওভার
ল্যাপিং সংলাপ বাভ্রবির কানে ছিটকে ছিটকে বেরিয়ে যাচ্ছিল।
--"তারপর?"
রামদীন এক গ্লাস লস্যি ঠোঁটের
সামনে তুলে ধরে ফিকে হাসল।
"জানেন
ম্যাডাম, যখন আমার সঙ্গে মারিয়ার প্রেম চলছে,আমরা
প্রায়ই পার্কে এসে বসতাম। মারিয়া আমাকে
বলেছিল
--"রামদীন, মেয়েদের শরীরটা একটা বিশাল এসেট। দেখো,অতি
সহজেই আমি এই শরীরকে ক্যাপিটাল করে রোজগার
করে যাচ্ছি। আমার রোজ এখন
ক্লাস এইটে পড়ছে।প্রতিবার ক্লাসে ফার্স্ট হয়।"মারিয়ার ক্লান্ত
চোখে উজ্জ্বল ঝাড়বাতির আলো ।রামদীন
আস্তে মারিয়ার হাত নিজের হাতে নিয়ে বলে
--"তোমার মত মেয়ে আমি আর দুটো দেখিনি মারিয়া।
তোমার মেয়ে ধন্য, এতো
ভাল মা পেয়েছে।তোমার শ্বাস,শ্বশুর, ধন্য এতো ভাল
বহু পেয়েছে। আর--"বলেই থেমে
যায় রামদীন
মারিয়া জিজ্ঞেস করে
--"আর,বলে থেমে
গেলে? পুরোটা বলো রামদীন। "
রামদীন এবার
দূরের আকাশের লাল সূর্য
দেখতে দেখতে বলে
--"আর
এই রামদীন ও ধন্য। তোমার
মত বন্ধু পেয়েছে। চোর,রামদীন কে তুমি মানুষ
করে তুললে মারিয়া।" রামদীন
একটু অন্যমনস্ক হয়ে বাভ্রবিকে বলল
--"ম্যাডাম জী ,আমি তখন
রাজমিস্ত্রির কাজ করতে শুরু করেছি। চুরি
ছেড়ে দিয়েছি।"
--"রাজমিস্ত্রির কাজ তুমি পেলে কি করে রামদীন? তোমার ক্রিমিনাল
রেকর্ড জেনে-"-রামদীন
মাঝপথেই জবাব দিল
--"মারিয়ারই
এক খদ্দের, কনষ্ট্রাকশনে কাজ করেন,তিনিই আমাকে কাজের
যোগাড় করে দিলেন।"
বাভ্রবি অবাক চোখে তাকিয়ে আছে দেখে রামদীন বলল
--"আমার কাছে
মারিয়া একজন দেবীর চাইতে কোনও অংশে কম নয়। " বলেই চুপ
করে গেল।
নেহেরু প্লেসের ফুডকোর্টের ভিড় আস্তে আস্তে কমে আসছিল। বাভ্রবি আর,রামদীন ও
পার্কিংলটের দিকে পা বাড়ালো।
শেষ বসন্তের রোদের আমেজ এখন বেশ মিষ্টি লাগছে—
ক্রমশ …………
৮৭তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
.jpg)