Advt

Advt

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-85th-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী

 ধারাবাহিক উপন্যাস প্রতি বৃহস্পতিবার ।

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-85th-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী

পর্ব – ৮৫

Over and over the old granular  movie

Exposes  embarrassment -the mizzling days of childhood and adolescence, sticky  with dreams, parental faces on tall stalks alternately  stern and tearful--Memories jostle each other for face- room like obsolete  film stars.

অন্ধকার  বোগোনভেলিয়ার ফাঁকে একফালি চাঁদ।ওরা অনেকক্ষণ  অন্ধকার  মাখছিল,অন্ধকার  মাপছিল,অন্ধকার  কিভাবে চুপিসারে আসে সেটা দেখছিল  অথবা অবলোকন  করছিল।ওরা চারজন চুপচাপ  চারটি চেয়ারে।ওরা মানে চারজন  নারী একে অপরের  দুঃখ এবং সমবেদনার সাথী।ওরা চারজন অন্ধকারে চাঁদ  ওঠা দেখছিল। রাত নামছিল  ;কবরস্থানের সন্নাটা চরাচর  জুড়ে।আকাশ জানালার  পরিসর ক্রমশ  ছোট হয়ে আসছিল। গাছ,বৃক্ষ, লতা পাতা কে প্রাচীন দুর্গের মত বেষ্টন করে চলেছে অন্ধকার। প্রথমে নীরবতা ভেঙে  কথা বললেন রঞ্জাবতী।

--"সন্ধ্যা,বাগানের ফ্লাড লাইট  টা জ্বালিয়ে দেবো?অন্ধকার  হয়ে এলো যে--"

সন্ধ্যা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল

--"আমার  জীবন তো পুরো অন্ধকার  ই হয়ে গেলো বৌদি।ফ্লাড  লাইট  জ্বালালে যে তার কথা ভীষণ মনে পড়ে--।"

রূপালী গভীর তম অন্ধকার  ভেদ করে বলল

--"রামমূর্তি স্যার  এই  ফ্লাড  লাইট লাগিয়েছিলেন শীতের  রাতে ব্যাডমিন্টন  খেলার  জন্য।  সন্ধ্যা,মনে পড়ে তুমি ,আমি ,সপ্তর্ষি,আর রামমূর্তি স্যার  কতো রাতে ব্যাডমিন্টন  খেলেছি।"

সন্ধ্যা চোখের  জল মুছে বলল

--"মনে পড়ে পালি। খেলার  শেষে চারজন এই  রকম চেয়ারে বসে আমরা কফি খেতাম।"

বাভ্রবি দীর্ঘ শ্বাস  ফেলে বলল

--"এই  সুন্দর  চেয়ার,টেবিল  যেদিন  বাগানে ফিট করা হয় সেদিন  আমি আর যুধাজিত  ছিলাম। ,"বলতে বলতে বাভ্রবির গলা বন্ধ  হয়ে আসে।

--"শেষাঙ্ক--কোথায়?তাকে দেখছি না--"রঞ্জাবতীর  প্রশ্নে সন্ধ্যা বলে

--"শেষাঙ্ক  কে আজ আমি জোর করে ওর বন্ধুদের  সঙ্গে গল্প  করতে পাঠিয়েছি। ছেলেটাকে দেখে বোঝা যায় না,কিন্তু  ভেতরে ভেতরে শেষ হয়ে গেছে--"

বাভ্রবি অস্ফুটে--"রামমূর্তি স্যার  কেন এরকম  একটা--বুঝতে পারছি না -- তোকে ও কিছু--"

সন্ধ্যা মাথা নাড়ল--"না,ও সেভাবে কিছু তো বলতো না--ওকে ইচ্ছে করে একটা লবি-প্রমোট করেনি। বারবার  ইন্টারনালে ওকে আটকে দেওয়া হচ্ছিল। স্টুডেন্টস  রা ওকে প্রচণ্ড  ভালবাসতো। ওর পড়ানোর সুনাম ছিল।আমি ওকে বলেছিলাম --বিদেশের  কোনও  ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করতে। ও পেয়েও যেতো। কিন্তু  ও কিছুতেই  বিদেশ যেতে রাজি হচ্ছিল  না।

আর ওর এই honesty র জন্য  ও কিছুসংখ্যক মানুষের  বিষ নজরে পড়ল। ওর জন্য  অনেকের  অসুবিধে হচ্ছিল । আর এজন্যই  ওর প্রমোশন  বারবার  আটকে দিচ্ছিল  ওরা।"

সন্ধ্যার  গলা বুজে এলো।

রঞ্জাবতী গলা পরিষ্কার  করে বলল

--"এটুকুই  শুধু নয় রে--রামমূর্তি যখন একজন সিনিয়র অধ্যাপকের বিরুদ্ধেই,রিসার্চ  স্কলার  ছাত্রীকে মলেষ্টেশন এবং সেক্সুয়েল হ্যারাসমেন্টের চার্জ এনেছিলেন--"

সন্ধ্যা এবার  ফুঁসে উঠল

--"এটাই শেষ পেরেক।মেয়েটিকে ওরা প্রথমে ভয় দেখালো,মেয়েটি কেঁদে পড়েছিল ওর কাছে--।"বলতে বলতেই  কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল সন্ধ্যা।বাভ্রবি দূরমনস্ক। যুধাজিত, চাপা গলায় বেডরুমের  সামনের ব্যলকনিতে সিগারেটে দীর্ঘ  টান দিয়ে

--"বাবি,কেসটা এতো সহজ নয়।সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট  এর,চার্জ যার বিরুদ্ধে ছিল তার হাত অনেক  লম্বা। পলিটিকাল  কানেকশন  রয়েছে। অধ্যাপক  রামমূর্তি অসাধারণ  honest.তিনি নির্যাতনের  বিপক্ষে ছিলেন--মেয়েটি ই কিন্তু  পরে পাল্টি খেয়ে গেল। হয়ত ভয় পেয়ে,হয়ত ক্যারিয়ারের জন্য। "

বাভ্রবির  মুখে তেতো হাসি।অন্ধকার  জমাট। তাই সন্ধ্যা ওর এই তেতো হাসিটা দেখতে পেল না।

সে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।

--"আই এম প্রাউড অফ হিম। কিন্তু  একবার  যদি আমার  সঙ্গে পরামর্শ  করত,আমি ওকে লড়াই  করতে বলতাম বাবি। তাতে যদি ওর চাকরিও চলে যেতো--তাতেও আমার  কিছুই  আসতো যেতো না--"

রূপালী সন্ধ্যার  চুলে আলতো হাত রেখে বলল

--"রামমূর্তি স্যার  তোমাকে বড় ভালবাসতেন সন্ধ্যা--তাই হয়ত তোমাকে,শেষাঙ্ক কে এই  নোংরা সিস্টেম  এর মধ্যে টেনে আনতে চান নি--"অদ্ভুত এক নৈঃশব্দ্য  নেমে এলো।অন্ধকার এবং অন্ধকার  কে সামনে রেখে চারটি নারী মূর্তি--রঞ্জাবতী যেন আপনমনেই বললেন

--"সন্ধ্যা,উঠে দাঁড়া। তোর সামনে এখন লড়াই--"

--"তুই  নিজের জীবন যাপন নিয়ে কিছু ভেবেছিস?"

রূপালী আনমনে

--"সন্ধ্যা কে হয়ত এরা একটা চাকরি দিয়ে দেবে--"

এবার  সন্ধ্যা প্রায় আহত নাগিনীর মত ফুঁসে উঠল

--"ওরা দিলে ই আমি নেবো কেন?"

বাভ্রবি শান্ত সুরে বলল

--"কিন্তু  তোকে তো একটা চাকরি করতেই হবে সন্ধ্যা--গোটা জীবন--"

--"আমি এখানে চাকরি করব না বাবি। যারা আমার  স্বামীর  মৃত্যুর  জন্য  দায়ী,তাদের দেওয়া চাকরি যদি আমি নিই,তাহলে তো আমাকে প্রায় দাসখত লিখে দিতে হবে!না,না,তা আমি পারব না।"

সবাই  চুপ। অন্ধকার  গাঢ়তম । সন্ধ্যা যেন সলিলকির মত বলল

--"ওর মৃত্যুর  জন্য  যারা দায়ী,তাদের বিচার  তো হলো না,হবে না--এভাবেই--"

অন্ধকার  এবং চারটি নারীমূর্তি ক্রমশ ই  অন্ধকারে আচ্ছাদিত--।হঠাৎই ড্রয়িংরুমের ইন্টারকম সুর করে বেজে উঠল--

ক্রমশ …………

৮৬তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার

লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন । 

লেখিকার পরিচিতি –        

জন্ম-কলকাতায়  আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা 

প্রকাশিত গ্রন্থ

১--সাপ শিশির খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)