Advt

Advt

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-83rd-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী

ধারাবাহিক উপন্যাস প্রতি বৃহস্পতিবার ।

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-83rd-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী

পর্ব – ৮৩

Lion that eats my mind now for a decade  knowing only your hunger

Not the bliss of your satisfaction  O roar of the Universe  how am I chosen

In this life I have heard your promise I am ready to die I have served

Your starved and ancient  Presences O Lord I wait in my room  at your Mercy.

অচৈতন্য গন্ধ  রুমালে চেপে,হাওয়ারা ঘুরছে। ঋতুদের জলতরঙ্গের  শব্দ  গেছে থেমে। হৌজখাস পুলিশ ষ্টেশনের বন্ধ  ঘরের চারদেয়ালে কেমন ক্লোরফম মাখানো গন্ধ। একপাশে কার্ডবোর্ডের ডাই করা বাক্স। বাভ্রবি যখন  পুলিশ  ষ্টেশন  থেকে সমস্ত  সাইন টাইন শেষ করে যুধাজিতের গাড়িতে উঠল তখন মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে। আর গাড়িতে উঠেই বাভ্রবির  মনে হল ওর ভীষণ খিদে পেয়েছে। যুধাজিত  থমথমে মুখে গাড়ি চালাচ্ছিল। বাভ্রবি আস্তে,বলল

--"স্যরি জিৎ।"

গম্ভীর  মুখে যুধাজিত  জবাব  দিল

--ইটস ওকে।"ক্যাম্পাসে ঢুকে যুধাজিত  রঞ্জা বৌদিদের  বাড়ির দিকে গাড়ি ঘোরাতেই বাভ্রবি জিজ্ঞেস  করল--"এদিকে ,কেন?"

যুধাজিত  ততক্ষণে সুজয়দাদের বাড়ির গেটে-

--"রঞ্জা বৌদি সব শুনে আমাদের  কে এখানেই  খেতে,ডেকেছেন।"

গেট খুলে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতেই  রঞ্জা বৌদি বাইরে বেরিয়ে এলেন;সঙ্গে সুজয় দা আর প্রাকৃত।প্রাকৃত  এসে বাভ্রবিকে জড়িয়ে ধরল।

--"মম,মম,আই এম সো প্রাউড অব ইউ। মম অ্যা বিগ স্যালুট  টু ইউ।"

প্রাকৃত  একদম আর্মি অফিসার  এর মত স্যালুট  করল  বাভ্রবিকে।বাভ্রবির  চোখে জল। রঞ্জা বৌদি এসে জড়িয়ে ধরে বললেন

--"তোর জবাব  নেই  রে বাবি। জবাব  নেই।"

বাভ্রবি হেসে মৃদু কণ্ঠে বললেন

--"আই হ্যাভ ডান মাই ডিউটি। ইটস  নাথিং গ্রেট।"

মৃদুভাষী প্রাকৃত  এবার  একটু উত্তেজিত  সুরে বলল

--"মা,সেটাই  বা কজন করে বলতো।আর আমার  মা শুধু ডিউটি করেনি। তার থেকেও বেশি কিছু করেছে।"তারপর  একটু তেতো হাসি হেসে প্রাকৃত  বলল--"মা,বেশিরভাগ  জার্নালিষ্ট  রা যেখানে শুধু স্টোরি খুঁজে,বেড়ায়,প্রেজেন্ট সিস্টেম  কে খুশি করে লাইম লাইটে আসতে,চায়,সেখানে আমার  মা একটি বিশাল  নারী পাচার  চক্র কে ধরিয়ে দিয়েছে--সেটা মোর দেন ইয়োর  ডিউটি মম। ইউ ডিজার্ড এন এপ্রিসিয়েশন।"বাভ্রবি অবাক  হয়ে প্রাকৃতের দিকে তাকিয়ে রইল। তার  সেই  ছোট্ট  ছেলেটি দেখতে দেখতে এতো বড় হয়ে গেল কবে?দুচোখে জল ভরে এলো বাভ্রবির।  রঞ্জা বৌদির দুচোখে খুশি আর খুশি। বাভ্রবি আর প্রাকৃত  কে দুহাতে জড়িয়ে বললেন--"প্রাকৃত  ইউ আর রাইট। চল বাবি। আমরা খেতে খেতে তোর কাছে পুরো ঘটনা টি শুনব--"

প্রাকৃত  হেসে বলল--"হ্যাঁ,ঘটনা,নট ওনলি স্টোরি।"

সবাই  ভেতরে ঢুকতেই  রঞ্জাবতীর দেয়াল  ঘড়ির জানিয়ে দিল রাত একটা বাজে।সবাই  সোজাসুজি খাবারের  টেবিলেই বসল। বাভ্রবি রেস্ট রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে টেবিলে বসেই বলল

--"থ্যাংকস  বৌদি। আমার  যে কি ভীষণ খিদে পেয়েছে,কি বলব তোমাকে। মনে হচ্ছে সব খাবার  আমি একাই  খেয়ে শেষ করে দেবো "সবাই  হেসে উঠল। রঞ্জা বৌদি বললেন--"তোর ফেভারিট  চিকেন দোঁ পেঁয়াজা আর এগ ফ্রায়েড রাইস--নে,বেশি করে নে।"

প্রাকৃত প্লেটে খাবার  নিতে নিতে বলল

--"মা,এবার  তো বল,কি করে সব হল--আই মিন,পুরো ঘটনাটা বলো। "

বাভ্রবির সামনে দৃশ্যের পর দৃশ্য--সেলুলয়েডে ভেসে উঠল

-মেয়েটির প্রশ্নে অবাক  হয়ে বাভ্রবি জিজ্ঞেস  করেছিল

--"আমি যে বাঙালি, তুমি সেটা কি করে বুঝলে?"

--"আমি আপনাকে ফোনে বাংলায় কথা বলতে শুনেছি।"

বাভ্রবি হেসে বলেছিল--"তুমি তো দারুণ  স্মার্ট  মেয়ে--"

বলেতেই মেয়েটি কাঁদতে,শুরু করেছিল

বিব্রত  বাভ্রবি

--"আরে আরে কি ব্যাপার?তুমি কাঁদছো কেন?"

ততক্ষণে বাস বেশ কয়েকটা স্টপ এগিয়ে এসেছে--প্রচুর ভিড় --অনেকেই  দাঁড়িয়ে আছে--।মেয়েটি চাপা গলায় বলল

--"আমাকে বাঁচান দিদি। আমি খুব  ভুল করেছি।"

--"মানে?"

রঞ্জাবতীর  প্রশ্নে বাভ্রবি বলল

--"ঠিক  এই  প্রশ্ন  টাই  আমি মেয়েটিকে করেছিলাম বৌদি--।তাতে যা শুনলাম  আমার  রক্ত  হিম হয়ে পড়ল--।"

--"আমার  নাম সাকিলা। মুর্শিদাবাদ এর একটি গ্রামে থাকি। বড় গরীব আমরা। তবু আমার  আম্মু আব্বু আমাকে পড়াশোনার  জন্য  স্কুলে পাঠাতো। আর এরকম ই একদিন  আমার  সঙ্গে আলাপ  হল একটি ছেলের--জাহিরুল।জানি না সে সত্যি নাম বলেছিল কিনা--।বড় সুন্দর  দেখতে,প্রচুর পয়সা--একমাস  যেতে না যেতেই  ও আমাকে একটি  স্মার্ট ফোন,উপহার  দিল। আমি ওর প্রেমে পড়ে গেলাম। "সুজয় দা শ্লেষের  সঙ্গে বললেন

--"বাহ্। একটা স্মার্ট  ফোন পেয়ে ই মেয়েটা গলে গেল?"

রঞ্জাবতী খুব  শান্ত  গলায় বললেন

--"এভাবেই  তো মেয়েগুলো,সাধারণ  গ্রামের  মেয়েগুলো ফেঁসে যায়।-"

--"ঠিক।  তারপর সাকিলা একদিন  ওর প্রলোভনে নিজের ঘর ছাড়ল- ওর সাথে ঘর বাঁধার আশায়--ওকে নিয়ে জাহিরুল  সোজা দিল্লিগামী ট্রেনে উঠল কলকাতার  হাওড়া ষ্টেশন  থেকে--তারপর—

ক্রমশ …………

৮৪তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার

লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন । 

লেখিকার পরিচিতি –        

জন্ম-কলকাতায়  আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা 

প্রকাশিত গ্রন্থ

১--সাপ শিশির খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)