Advt

Advt

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-81st-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী

 ধারাবাহিক উপন্যাস প্রতি বৃহস্পতিবার ।

iha-kanch-nagari-story-upanyas-galpo-81st-part-by-krishna-mishra-bhattacharya-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-magazine-ইহ-কাঁচ-নগরী

পর্ব – ৮১

Father's  death was abrupt and unprotezting .

His vision was still twenty-twenry

After a morning of anxious, repetitive  smiling,

his last words to mother were

"I feel  awful."

মানুষের  চোখের  জলের মত আকাশ  থমথম করছে। একটা মানুষ পুড়তে কত সময় লাগে। বৈদ্যুতিক  চুল্লিতে অধ্যাপক  রামমূর্তির  মুখে আগুন  স্পর্শ  করতেই চুল্লী টেনে নিয়ে গেল তাঁর  মরদেহ। কিছু কিছু ছাত্র  ছাত্রীর জটলা,চোখে জল এবং প্রশ্ন--"কেন?"কেন এ আত্ম হনন?"

-"আত্ম  হনন,আত্ম  দহনে  পুড়ে যাচ্ছে এই সময়।নীলাম  হয়ে যাচ্ছে মানুষের  বোধ,বুদ্ধি আর প্রেম। এখন চারিদিকে শুধু শূন্যের  পায়ের শব্দ;থমথমে আকাশে চাঁদ ও কেমন নির্জীব।আরেকটি শবদেহ অপেক্ষারত।  বাভ্রবি নিজের  মনে মনেই  ভুল শুধরে নিলো। লাশ ,মানে শবদেহ  তো প্রতীক্ষায় থাকতে পারে না।প্রতীক্ষারত শবদেহ বহনকারী,শবদেহের অন্তিম যাত্রায় সঙ্গী-সাথীরা। শবদেহ টি এক বধূর। সিঁথি সিন্দুর রঞ্জিত;গলায় মঙ্গলসূত্র। বয়স তিরিশ  টিরিসে র কাছাকাছি।সঙ্গের লোকজন ভয়াতুর।দুজন পুলিশ কর্মী ও অপেক্ষমাণ।বাভ্রবি চোখ ফিরিয়ে নিলো।

এতো অল্প  বয়সে----।

বাভ্রবি মুঠোফোন  ভাইব্রেশনে রেখেছিল।ভাইব্রেট  করতেই তুলে দেখল-রূপালী। রূপালী আসতে চেয়েছিল,কিন্তু  রঞ্জাবতী আর বাভ্রবিই বারণ করেছিল।

একটু দূরে গিয়ে বাভ্রবি ফোন তুলল

--"হ্যাঁ,রে বল-"

একটা বড় দীর্ঘশ্বাস  ফেলে,রূপালীর  ক্লান্ত  গলা

--"সন্ধ্যা--কেমন আছে?"

রূপালীর  সাথে সন্ধ্যার  খুব ভাল  বন্ধুত্ব  ছিল। রূপালীর  বুটিকে  সন্ধ্যা প্রায়ই যেতো।

বাভ্রবি ও ক্লান্ত  গলায় বলল

--"আছে--ওর ছেলে সোজাসুজি এখানেই--"বলতে বলতে গলা বুজে এলো বাভ্রবির। ফোনে,রূপালীর  কান্নার শব্দ--দুজনেই কিছুক্ষণ  চুপচাপ। বাভ্রবি গলা পরিষ্কার  করে আস্তে জিজ্ঞেস  করল

--"তোর আজ বাড়ি শিফট করার  কথা --"

--"হ্যাঁ,আগে তো জানতাম  না,সব ঠিক  করা ছিল--তাই আজ ই ক্যাম্পাস ছেড়ে দিলাম।" আবার  কিছুক্ষণ  দুজনেই চুপ  করে রইল।তারপর  রূপালী ম্লান  হেসে বলল

--"বৌদি,কোনও দিন  ভাবিনি,এভাবে একা ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যাব--।যখন এসেছিলাম  তিনজন একসাথে--সপ্তর্ষি ,আমি আর--আজ আমি একাই  চলে এলাম। "

--"আমি আর রঞ্জা-বৌদি ভেবেছিলাম  তোর সাথে থাকব--কিন্তু--"

ফোনের  ওপারে,রূপালীর  গলা ভেসে এলো

--"না,না,বৌদি তোমরা সন্ধ্যার  ওখানেই  থাকো। ওর এখন তোমাদেরকে খুব প্রয়োজন। আমি আমার  বুটিকের মেয়েদের নিয়ে সব সামলে নিয়েছি।"

তারপর  একটু চুপ  করে বলল

--"এসো একদিন  আমার  টু বেডরুম রেন্টেড ফ্ল্যাটে। মুনিরকা, ডি ডি এ ফ্ল্যাট। "

--"আসব। কিন্তু  পালি, তুই  এতো তাড়াতাড়ি সিফট  কেন করলি?সপ্তর্ষি কি তাড়া দিচ্ছিল?"

রূপালীর  ম্লান  হাসি কানে বাজল

--"দেরি,করে কি লাভ বৌদি?সম্পর্ক ই যেখানে রুট থেকে আলগা হয়ে গেছে,সেখানে জোর করে অধিকার  ফলিয়ে  তো,কোনও  লাভ নেই। "

--"হ্যাঁ,সেটা ঠিক। কিন্তু--"

রূপালী এবার  একটু উত্তেজিত সুরে ই বলল

--"আর কোনও  কিন্তু  নেই  বৌদি।  আমি মনস্থির করেই ফেলেছি--।"

বাভ্রবি একটু চিন্তিত  হয়ে বলল

--"কি--কি মনস্থির  করেছিস তুই?"

এবার  শান্ত  গলা ভেসে এলো রূপালীর

--"আমি ওকে ডিভোর্স  দিয়ে দেবো।"

এক মুহূর্ত  চুপ  করে রইল বাভ্রবি। তারপর  একটা দীর্ঘশ্বাস  ফেলে বলল

--"ভাল করে সব ভেবে নিয়েছিস তো,পালি?ছেলের পড়ার খরচ,তোর নিজের--"রূপালী বাধা দিয়ে বলল--"ছেলের  সঙ্গে বাপের  টাই আপ হয়েই গেছে।ছেলে আমাকে পরিষ্কার  করে বলে দিয়েছে বৌদি  যে ওর বাবা যদি অন্য  কাউকে ভালবেসে বিয়ে করতে চায়,তাতে ওর কিছুই যায় আসে না। আর এটাও  বলেছে আমি ও যদি আর কাউকে--"বলতে বলতে রূপালীর  গলা বুজে এলো। দুজনেই  কিছুক্ষণ  চুপ। তারপর  রূপালী হেসে জবাব  দিল--"সুতরাং বুঝতেই  পারছো আমি সম্পূর্ণ  একাই। আমার  একার ভাবনাই  আমাকে ভাবতে হবে।"

বাভ্রবি একটু সময় চুপ থেকে একটু সময়  নিয়ে বলল--"একদিক থেকে বোধহয় আজকের  এই  জেনারেশন  ঠিক ই ভাবছে রে পালি।জানি না।"

রূপালী একটু শ্লেষের  গলায় বলল

--"তাহলে কি ভালবাসা,বিশ্বাস,পরিবার,সম্পর্কের বন্ধন  কিছুই  কিছু নয় বৌদি--মানুষ কি এনিমেলদের মত শুধুই  জৈবিক?"

রঞ্জাবতী হাতের  ইশারায় ওকে ডাকছিলেন। বাভ্রবি  ফোন নামিয়ে রাখার আগে বলল

--"এদিকে বোধহয় কিছুর দরকার  আছে রে পালি। আমি এখন ফোন রাখছি।পরে বাড়ি ফিরে তোর সঙ্গে কথা বলব।যদি কিছু দরকার  হয়,তাহলে বলিস।"

--"ঠিক  আছে বৌদি। তুমি যাও।আমিও পারলে কাল সন্ধ্যার  সঙ্গে দেখা করব।মেয়েটা বড় একা হয়ে গেল।"

ফোন নামিয়ে পায়ে পায়ে এগিয়ে যায় বাভ্রবি। কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়া--।অধ্যাপক  রামমূর্তির  পার্থিব শরীর  পঞ্চভূতে বিলীন  হয়ে গেল। শুধু কপালের  অস্থি শ্মশানের  লকারে তুলে রেখে শ্মশান চণ্ডাল হরিশচন্দ্র  বললেন--"কাল ইয়া পরশু লেকে যানা--হরদোয়ার ইয়া গড়গঙ্গা মে ইয়ে বিসর্জন  দেনা।" সন্ধ্যার  ছেলে মাথা নেড়ে হাঁ জানালো। মাত্র  কয়েক ঘন্টায় ছেলেটি কত বড় হয়ে গেল।

সন্ধ্যার  দিকে তাকিয়ে বললেন

"সিনান করনে কে লিয়ে--"

বাভ্রবি এবার  সন্ধ্যার  হাত ধরে দৃঢ় সুরে বলল

--"হাম ইসকো ঘর লে যায়েঙ্গে। উহা যাকে --"

--"ঠিক  হ্যাঁয়-"

লকার তালা বন্ধ  করে রিসিট ধরিয়ে শ্মশান চণ্ডাল  অন্যদের দিকে পা বাড়ান।ওরা পায়ে পায়ে বাইরে--দিল্লির  জনজীবন  যথারীতি প্রবহমান। ভোরের  আকাশ  এখনও  আসেনি।উজ্জ্বল  শুকতারা তাকিয়ে আছে--হয়ত ভোরের  অপেক্ষায়।

ক্রমশ …………

৮২তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার

লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন । 

লেখিকার পরিচিতি –        

জন্ম-কলকাতায়  আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা 

প্রকাশিত গ্রন্থ

১--সাপ শিশির খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)