ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব – ৮০
But I'd
rather travel to a far -off land,
Though I
never shall,and settle, do you understand?
The
trouble here is not with sun and soil
So much
as meanness in the human soul.
এ কেমন নৈঃশব্দ্য। কিছুক্ষণ
আগেও কফির পেয়ালা হাতে পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের আড্ডায় ছিল তুমুল
হল্লাবোল;কবিতার খাতার মতন আকাশ, চেতনা-স্তরের থেকে অনেকদূরে একটি শিক্ষা-নিকেতনের আলো গুলো
জ্বলে উঠছিল--রাতের মেহফিলের জন্য প্রস্তুত
হচ্ছিল আকাশ।
হঠাৎই কফির
পেয়ারা গুলো কফির টেবিলে রেখে,রিনা
রেবেকা কে কনুই এ গুঁতো দিয়ে বলে--
--"এই দেখ তো এইটথ ফ্লোর থেকে কিছু একটা ফ্লায়িং,সসারের
মতো নীচে নামছে--"
রেবেকা কিছু বলার আগেই
প্রিয়ম না তাকিয়েই কফির কাপে চুমুক
দিতে দিতে বলল
--"হোগা কৌই
বান্দা--খুদখুশি কর রহা হ্যাঁয়-"
রিনা প্রিয়ম কে মৃদু ধমকের
সুরে বলল
--"প্রিয়ম
চুপ হো যা--কুছ ভী বলতা রহতা হ্যাঁয় তু--।"
রেবেকা চোখ বড় বড় করে বলল
--"শুভ শুভ
বোল প্রিয়ম--"
সবাই কফির
কাপে হেসে উঠে কফি শপ থেকে বেরুতেই প্রায় দৌড়ে এলো রোহান।
প্রিয়ম এবার
হাল্কা সুরে বলল
--"রোহান,ইতনি
জলদি-বাজি কিঁউ মেরে ভাই--কফি শপ উড় নেহি যা রহা হ্যাঁয় ও ফ্লায়িং সসার কে
তরা--"
রোহান অবাক
হয়ে জিজ্ঞেস করল
--"তোরা দেখেছিস?"
সবাই অবাক
--:মানে?" রোহান
মাথা নিচু করে বলল
--"ভেরি
স্যাড নিউজ।রামমূর্তি স্যার সুইসাইড
করেছেন।এখুনি--ইন্সটিটিউট এর টপ
ফ্লোর থেকে জাম্প করেছেন।"
সবাই একসাথে বলে উঠল
--"ও
নো---"অধ্যাপক রামমূর্তি ফিজিক্স
ডিপার্টমেন্ট এর স্টুডেন্টস দের মধ্যে খুব জনপ্রিয়।
কিন্তু কেন?
--"কিঁউ?স্যার নে
এয়সা এক্সট্রিম স্টেপ কিউ উঠায়া?
--"প্রাইভেট
অথবা পাবলিক--কারণ?"
"কেন,মরিবার
তরে এই সাধ ?"
-"মর্গে কি
হৃদয় জুড়োলো?"
সন্ধ্যার এখন কি হবে?
ওদের দুজনের সন্তান
রাহুলের কি হবে?
বাভ্রবির মাথায় কিছুই ঢুকছিল না।
রাহুল সবে বি টেক এ এডমিশন
নিয়ে হায়দ্রাবাদ পড়তে গেছে।
--হায়দরাবাদ
ই তো সন্ধ্যার শ্বশুরবাড়ি।
--শ্বশুর
বাড়িতে খুব একটা ভাল থাকে না সন্ধ্যা।
--"এবার --"
সন্ধ্যার আবাসিক
কোয়ার্টার তখন বিষণ্ণ এবং চাপা
গুঞ্জন মুখর।
--"সুইসাইড,কেন?বউ এর
সাথে সমস্যা?"
আরেকজন মহিলা,বাভ্রবি
চেনে না,ফিসফিস করে বললেন
--"শুনেছি
মাঝে মাঝেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হতো।"
--"তাই নাকি,?"আরেকজন মহিলা গল্পের গন্ধ পেয়ে জিজ্ঞেস
করলেন
--"পরকীয়া
নাকি?ছাত্রী ,না,কলিগ?"
--"কি জানি।
আজকাল তো এটা ফ্যাশন !"
রঞ্জাবতী র কোলে মাথা রেখে
মুখ গুঁজে পড়েছিল সন্ধ্যা।
বাভ্রবি এর গায়ে হাত রাখতেই
সন্ধ্যা মুখ তুলে তাকালো। চোখে জল থমকে আছে--;দুটি হাতে
বাভ্রবির দুই হাত জড়িয়ে ধরে বলল
--"বাবি দি
ইয়ে ক্যায়া হো গিয়া মেরা--"
বাভ্রবি নিঃশব্দে
সন্ধ্যার মাথায় হাত রাখল। ওর নিজের চোখ
থেকে ও তখন জল গড়িয়ে পড়ছে। ডাঃ রামমূর্তির হাসিমুখ ভেসে উঠল।
--"ক্যায়া
হাল চাল হ্যাঁয় জার্নালিষ্ট জী?"
হ্যাঁ,অধ্যাপক রামমূর্তি এই
নামেই বাভ্রবিকে ডাকতেন। আসলে
বাভ্রবি আর রামমূর্তি প্রায় সমসাময়িক।
রামমূর্তির সামাজিক দৃষ্টিকোণ, দৃষ্টিভঙ্গি
খুব ভাল লাগত বাভ্রবির। বাভ্রবি একদিন বলেছিল
--"আপনার মত সামাজিক দৃষ্টিকোণ অনেকের ই নেই। "তারপর একটু চুপ করে থেকে বলেছিল
--"এখানকার অনেক
ফ্যাকাল্টিদের সঙ্গে কথা বলে
দেখেছি--তাঁরা কেমন যেন ইনস্টিটিউশনালাইজড।সামাজিক ব্যাধি গুলো নিয়ে তাদের কোনও চিন্তা ভাবনাই নেই। -কিন্তু মানুষ
মাত্রেই তো সামাজিক জীব। তাহলে তারা যে কোনও প্রফেশনে ই থাকুন না কেন,তাদের
সামাজিক ধ্যান ধারণা থাকবে না?"
চায়ের টেবিলে একদিন কথা হচ্ছিল--সন্ধ্যা,হেসে
বলেছিল
--"বাবি দি,তুমি কি
সুন্দর কথা বল--আমি তোমার কথা ভাবি--জানো,এখানে
তোমার মত আর রঞ্জা বৌদির মত আর,একজন ও
নেই। "
অধ্যাপক রামমূর্তি হেসে বলেছিলেন
--"জার্নালিষ্ট জী, ইউ আর
রাইট। মানুষ মাত্রেই সামাজিক
জীব। তাই তাঁরা যে কোনও প্রফেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকুন না কেন--তাঁদের স্পষ্ট
সামাজিক এবং রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনা থাকা উচিত।"-
--"এটা তো
পুলিশ কেস,রঞ্জা
বৌদি--সন্ধ্যাকে নিয়ে কোনও
টানাটানি--"
আস্তে রঞ্জা বৌদিকে
জিজ্ঞেস করল বাভ্রবি। রঞ্জা বৌদি মাথা
নেড়ে বললেন--"না। ইন্সটিটিউট সেটা
দেখছে--বডি পোষ্ট মোর্টমের জন্য নিয়ে
গেছে--ওখান থেকেই সোজা ইলেকট্রিক ক্রিমেটরিয়ামে--"বলতে বলতেই রঞ্জা বৌদির
গলা ধরে এলো।
--"আমি
যুধাজিত, সুজয়দা--ওদের ডিপার্টমেন্ট এর কাউকে দেখতে পাচ্ছি না--"
--"সবাই এইমস এর মর্গে র সামনে অপেক্ষা করছে--সন্ধ্যাকে
আমরা সব শেষ হলে ক্রিমেটরিয়ামে নিয়ে যাব। একবার
শেষ--"বলতে বলতে চোখে আঁচল
চাপা দিলেন রঞ্জা বৌদি।
--"আমিও যাব বৌদি।"
সন্ধ্যা এবার ডুকরে কেঁদে উঠল
--"কি করে
আমি ওর কাঁটাছেঁড়া মুখটা দেখব--"তারপর হঠাৎই থেমে গেল ওর কান্না।চোখের জল মুছে স্থির গলায় বলল
--"জানো,ওর
ডিপার্টমেন্ট এর পলিটিক্স ওকে মেরে ফেলল।"
চমকে উঠল বাভ্রবি আর রঞ্জাবতী।
-"কি বলছিস?"
স্থির এবং দৃঢ় গলায় সন্ধ্যা বলল
--"আমি ঠিক
ই বলছি। কয়েক দিন ধরে ও খুব রেষ্ট লেস
হয়ে গিয়েছিল। সবসময় টেনস থাকতো। আমার
সঙ্গে ও ভাল করে মন খুলে কথা বলতে পারছিল না।"
বাভ্রবির মুঠোফোন
বেজে উঠল
--"হ্যাঁ,জিৎ,বলো--"
---"আমরা মর্গ
থেকে এই বেরোলাম--সন্ধ্যাকে নিয়ে তোমরা যারা যারা আসতে চাও,চলে
এসো--ইন্সটিটিউট বাসের ব্যবস্থা করেছে--"
নীচে একটি অপেক্ষারত বাস দেখতে পেল বাভ্রবি।ওরা এবং আরও
কয়েকজন সন্ধ্যাকে নিয়ে আস্তে আস্তে
লিফটের দিকে এগিয়ে গেল---
ক্রমশ …………
৮১তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
.jpg)