একসময়
যে ছিল আমার হার্টথ্রব তাকে হঠাৎ দেখে আঁতকে উঠি। এ আমি কাকে দেখছি! চোখের ভ্রম
নয়তো? এই কী সেই আমার স্বপ্নের রাণী! যাকে নিয়ে মনে মনে স্বপ্ন দেখেছি বহু দিন।
কল্পনার রাজ্যে উড়ে উড়ে বেড়িয়েছি। কিন্তু প্রকাশ করতে পারিনি। সম্ভবও ছিল না।
বিবেক বলত সংযমী হও। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করো। নিশ্চিত মনোবাসনা পূরণ হবে। নিজেই
এসে ধরা দেবে। দিবাস্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেবে। কিন্তু মানুষ যা চায় তা কী সব পায়?
ঈশ্বরের অভিপ্রায় না থাকলে কি সম্ভব ? আমার প্রতিও ঈশ্বর সদয় ছিলেন না নিশ্চিত। না
হলে মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হল না কেন?
আমাদের বাড়িটা পূর্ব বর্ধমান জেলায় কাটোয়া মহকুমার অন্তর্গত এক গ্রামে। গ্রাম হলেও
বর্দ্ধিষ্ণু। কাঁচা বাড়ির সঙ্গে পাকা দালানও কম নেই। তেমনি বেশির ভাগ রাস্তাও
ঢালাই। অলিগলি সামান্য হয়তো কাঁচা রাস্তা আছে। সামগ্রিক ভাবে ভদ্রস্থ রাস্তাঘাট।
গ্রামবাসীর অনেকেই ছোট বড় ব্যবসাদার। চাষাভূষাও আছে তবে সংখ্যায় নগন্য। অনেকে আবার
জমি জায়গার সঙ্গে ব্যবসাও চালাচ্ছে রমরমা।
সেই গ্রামে আমরাই বরং একটু বেমানান। বাবা ছিলেন প্রাইমারি শিক্ষক। কত আর বেতন।
তারউপর আমার আগে দুই দিদি। তাদের বিয়ে দিতে গিয়েই বাবা নিঃস্ব। পাকা বাড়ি করা তাঁর
কাছে স্বপ্ন। ফলে মাটির বাড়িতেই বেড়ে ওঠা,পড়ালেখা নিত্য দিনের যাপন। বাবা শিক্ষক
ছিলেন বলে হয়তো কেউ কেউ একটু আধটু মান্যগণ্য করলেও আড়ালে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যটাই অধিক
ছিল। বাল্যকাল থেকেই বুঝে গেছি অর্থ বল বড় বল। অর্থহীন মানুষের সমাজে কোনও মূল্যই
নেই।
আমি
অবশ্য ছোট থেকেই পড়াশুনাটা মন দিয়ে করতাম। বাবার কঠোর শাসন ছিল। বাবার কাছে শিক্ষা
হল বড় সম্পদ। শিক্ষিতর মতো ধনী আর কেউ নয়। বাস্তবে যাই থাকুক বাবার মস্তিকের
ভাবনাটাই আমাদের মনে গেঁথে আছে। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকে স্কুলের সেরা রেজাল্ট
করেছি। শিক্ষকদের প্রভূত ভালবাসাও পেয়েছি।
কলেজে
যখন পড়ি তখন অপর্ণাকে প্রথম দেখি। সম্ভবত তখন ক্লাস নাইনে পড়ে। পাড়ার হাই স্কুলে
সরস্বতী পূজা। আমিও সেই স্কুল থেকে পাশ করেছি। কো-এড স্কুল। আমন্ত্রিত হয়েই গেছি।
শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছে আমি হিরো। সকলের আদর, ভালবাসায় আমি পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
গেছি। এক দিদিমণি সকলের কাছে আমার পরিচয় দিচ্ছিলেন। গর্বে আমি বিগলিত। অপর্ণাকে দেখে আমার চক্ষু স্থির।
জানলাম আমাদের পাশের পাড়াতে বাড়ি। চোখ নাক মুখ একেবারে নিখুঁত। পাকা গমের মতো
গায়ের রঙ। ভিড়ের মধ্যেও দৃষ্টি আটকে যাবে। এতটাই সুন্দরী। দু-চারটে কথাও হল। তেমন
রিমারকেবল না হলেও সেই দিন থেকেই হৃদয়ের
কুটিরে তার স্থান। এরপর রাস্তাঘাটে কদাচিৎ এক ঝলক দেখেছি হয়তো। কথা বলার সুযোগ
হয়নি। সাহসও ছিল না। ওদের বাড়িটা বিশাল এলাকা নিয়ে পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। দোতলা তিন
তলা বাড়ি। শুনেছি বাবারা পাঁচ ভাই। বিশাল অবস্থা। তারা আমাকে পাত্তা দেবে কেন? তবু
মাঝে মধ্যেই বাড়ির কাছ দিয়ে সাইকেলে চক্কর দিতাম। যদি দর্শন পেয়ে যাই। হয়তো বলবে কুঁজোর আবার চিৎ হয়ে শোয়ার শখ। কুঁড়ে ঘরে বাস করে রাজার
মেয়ের দিকে নজর। সাহসেরও বলিহারি। এসব অবশ্য আমি নিজেই ভাবি। আবার স্বপ্নও দেখি।
দুদোল্যমান। নেগেটিভ ভাবনা নস্যাৎ করে পজেটিভ ভাবনাকে অগ্রাধিকার দিই। প্রতিজ্ঞা
করি উপযুক্ত হয়েই গটগট করে প্রবেশ করে বলব, আমি আপনাদের মেয়েকে বিয়ে করব। পরক্ষণে
দুর্বল হয়ে পড়লেও নিজের ইস্পিত ইচ্ছাকে লালন করে গেছি প্রতিনিয়ত।
যখন
ইউনিভার্সিটিতে পড়ি হঠাৎই সুযোগ এসে গেল।বিশ্বাস দৃঢ় হল। আকুল কামনা কখনো বিফলে
যায় না। তখন বর্ধমানে এমএসসি পড়ছি। বাড়ি
থেকে যাতায়াত করি। এক সন্ধ্যায় মেয়েটির বাবা এলেন আমাদের কুঁড়ে ঘরে। আমি ছিলাম না।
শিক্ষক হিসেবে বাবাকে চেনেন। আগমনের হেতু ওঁর মেয়েটি টুয়েলভ ক্লাসে পড়ে। সাইন্স
গ্রুপ পড়ানোর জন্য অনুরোধ করে গেলেন। বাড়ি গিয়ে পড়াতে হবে।আমি তখন অলরেডি তিনটে
টিউশনি নিয়ে নাজেহাল। এমএসসির ক্লাস, নিজের পড়া, যাতায়াতের ধকল --- এরপর কি করে
সম্ভব ! বাবা বললেন," নিজের পড়ার ক্ষতি হলে দায়িত্ব নেয়ার দরকার নেই। ফোনে
জানিয়ে দিলেই হবে।"
মনের তাড়নার অন্য মাধুর্য। যার জন্য এত সিঁড়ি ভাঙলাম চূড়ায় না পৌঁছলে জয় করব কী
করে? যত কষ্টই হোক পরদিনই রাজপ্রাসাদে রাজাকে দর্শন দিলাম সঙ্গে রাজকন্যারও।
কথাবার্তা পাকা। সপ্তাহে তিনদিন পড়াব। শনি রবি ও বুধবার। সন্ধ্যে সাতটা থেকে নটা।
এই
ক'বছরে অপর্ণা আরও সুন্দরী হয়েছে। রাজা বাদশার আদুরে কন্যা শরীরের জৌলুসই বুঝিয়ে
দেয় সাধারণের থেকে কতটা পার্থক্য। আরেকটা বড় গুন মিষ্টি মধুর ব্যবহার। আকৃষ্ট
হওয়ার আরেক উপকরণ। তবে পড়াতে বসে আমি কখনো বাচাল হই নি। পড়ার বাইরে কোনও আলোচনাও
করিনি। এমনকি তাকে যে গভীর ভালবাসি ঘুণাক্ষরেও আঁচ পেতে দিইনি। আদর্শ শিক্ষক
ছাত্রীর যেমন সম্পর্ক তার বাইরে কিছু নয়।
ফলে তার বাবা-মায়ের চোখেও হয়তো আলাদা এক ভালবাসা আদায় করতে পেরেছি। অন্তত
আমার ধারণা তাই। দেখতে দেখতে একটি বছর অতিক্রান্ত। উচ্চ মাধ্যমিক শুরু হয়ে গেছে।
সুখের দিনগুলো দ্রুত নিঃশেষ হয়ে গেল। পড়ানোর প্রয়োজন মিটে গেলেও শিক্ষক হিসেবে
আমার অবারিত দ্বার। মাঝে মধ্যেই রাজপ্রাসাদে হাজির হই। শিষ্টাচার, আপ্যায়নের কোনও
ত্রুটি নেই। আমার আকাঙ্খা বাড়ছে। পরিবারের সকলের সঙ্গেই মধুর সম্পর্ক। কথাবার্তায়
যথেষ্ট আন্তরিক। আমিও যেন রাজপ্রাসাদের একজন হয়ে গেছি। আত্মিক যোগ প্রশস্ত হচ্ছে।
দৃঢ় বিশ্বাস আমার দাবি কিছুতেই নস্যাৎ করতে পারবে না।
হায়ার
সেকেন্ডারি পাশ করে অপর্ণা কলেজে ভর্তি হল। পাস কোর্সে বিএসসি। ফিজিক্স অথবা
ম্যাথে অনার্স নিতে বলেছিলাম।যা রেজাল্ট হয়েছে অনায়েসে চান্স পেত।কেন নেয় নি আজও
ধোঁয়াশা। একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম অপর্ণাকে। বলল, বাড়ি থেকে বারণ করেছে। কেন?
সদুত্তর পাইনি। আমি যে অপর্ণাকে অন্তর থেকে অন্যরকম ভালবাসি সেটাও প্রকাশ করতে
সক্ষম হই নি। আত্মসম্মান বোধই বড় বাধা। ভালবাসার ক্ষেত্রে যে কোনও ছুৎমার্গ থাকতে
নেই সে বোধও কাজ করেনি। প্রেম ভালবাসার ক্ষেত্রে মানুষ যা করে তেমনটাও আমি পারিনি।
বাইরে কোথাও দেখা করা গল্প করা বা ওর কলেজে গিয়ে সাক্ষাৎ করা -- সে সবও করিনি।
তিন-চার মাস অন্তর বাড়ি গেছি -- ঐটুকুই।
ইতিমধ্যে
আমি এমএসসি কমপ্লিট করে চাকরির চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম। ভাগ্যক্রমে পেয়েও গেলাম
একটা। স্টেট ব্যাংকের প্রবেশনারী অফিসার। বেতন মন্দ নয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার
হাতে পেয়েই ছুটলাম অপর্ণাদের বাড়ি। মেয়েটা বিএসসি পাশ করে বসে আছে। অনেকদিন যাওয়া
হয়নি। শুনেছি পাত্র দেখা চলছে। আর দেরি করলে নাগালের বাইরে চলে যাবে সব।
মাসিমা
অর্থাৎ অপর্ণার মা চাকরির খবর পেয়ে অত্যন্ত খুশি হলেন। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম
করেছিলাম। প্রাণভরা আশীর্বাদ করলেন তিনি। আমার মনে খুশির ঝিলিক। এতদিনে বোধহয়
যোগ্য হলাম। সেদিন মন বড় উতলা। কত তাড়াতাড়ি দীর্ঘদিনের আকাঙ্খা প্রকাশ করব। যা অতি
সংগোপনে সযত্নে লালন করে এসেছি দীর্ঘ কয়েক বছর। না, কখনো বেলেল্লাপনা করিনি।
ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করেছি শুধু আজকের দিনটির জন্য।
একান্তে
অপর্ণার পড়ার ঘরে বসে মনের কথা উগরে দিলাম। বিয়ের প্রস্তাবও দিয়ে ফেলি। স্বস্তির
নিঃশ্বাস। এর আগেও দু'দিন চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি। নিজেকে বড় হালকা লাগছিল।
কিন্তু
অপর্ণার মুখে কোনও আলো দেখা যাচ্ছে না কেন? থমথমে মুখমন্ডল। তবে কী রাজি নয়? আমাকে
পছন্দ নয়?
আমি
বললাম," কি হল অপর্ণা? আমার প্রস্তাবে তোমার সম্মতি নেই মনে হচ্ছে?"
অপর্ণা বলল," স্যার, আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে। বর্ধমানের এক ব্যাবসাদার
ছেলের সঙ্গে আগামী মাসের সতের তারিখ বিয়ে। আপনার কথা মাকে বলেছিলাম। মা এক কথায়
রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাবা বাঁধ সাধলেন। আপনাদের বাড়িঘর দেখে যা মন্তব্য
করেছে সে কথা আমি মুখে উচ্চারণ করতেও পারব না। জানেন তো আমার বাবার চন্ডাল রাগ।
তাঁর কথা না শুনলে তুলকালাম কান্ড বাধাবে। আমাদের সংরক্ষণ ফ্যামিলি।কাকা জ্যাঠারাও
মত দেবেন না। আমার পছন্দ-অপছন্দের কোনও মূল্যই নেই তাদের কাছে। "
মনের
গভীরে কি হচ্ছিল ভাষায় প্রকাশ করা শক্ত। শুভেচ্ছা জানিয়ে চলে এসেছিলাম সেদিন। আর
একটা কথাও উচ্চারণ করতে পারিনি । এরপর আর ওদের বাড়ি যাইনি। কি করব? নিজেই নিজেকে
স্বান্তনা বাক্য শোনানো ছাড়া উপায় কী? সব আশা তো মানুষের পূরণ হয় না। আমারও হয়
নি।কি করা যাবে ! তবে বেশ কয়েকমাস মনকষ্টে ভুগেছি। একটা চাপা যন্ত্রণা নীরবে সহ্য
করেছি। তবু চাকরিটা পেয়ে গিয়ে কিছুটা উপশম বলা যায়।
* * *
বছর
পাঁচেক পরের কথা। ততদিনে অপর্ণার ঘা অনেকটাই নিরাময় হয়ে গিয়েছে। তবু মাঝে মধ্যে যে
আচমকা ধাক্কা দেয়না সেটা অস্বীকার করি কি করে ! তাহলে সত্যের অপলাপ হবে। অবশ্য সাময়িক। হয়তো সারাজীবনই থেকে যাবে।
বিয়েটা এখনও করে উঠতে পারিনি। তবে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে মনের মতো দোতলা একটি বাড়ি
করেছি। কুঁড়েঘরের তকমা মুছেছে। কারণ বাড়ির জন্যই কতবড় হোঁচট খেলাম সেটাও ভোলার নয়।
এখন আমার বর্ধমানে পোস্টিং। আগামী রবিবার আমার বড়দির
বিবাহবার্ষিকী। এবার বড়দির ইচ্ছে হয়েছে কয়েকজনকে আমন্ত্রণ করে খাওয়াবে। তাই বড়দির
জন্য একটি ভাল শাড়ি কেনার উদ্যেশে কার্জন গেটের কাছের একটি কাপড়ের দোকানে ঢুকতেই
হতবাক ! অপর্ণা খদ্দেরকে শাড়ি দেখাচ্ছে। থমকে গেলাম। পরে খেয়াল
হল অপর্ণার তো বর্ধমানেই বিয়ে ঠিক হয়েছে বলেছিল।
"আরে অপর্ণা? এটা নিশ্চয়ই তোমাদের দোকান। কেমন আছো?"
"আরে স্যার আপনি? এখানে? কোথায় এসেছিলেন?"
"
আমার তো এখন বর্ধমানে পোস্টিং। কাছেই একটি মেসে থাকি। তোমরা কোথায় থাকো? বড়দির
জন্য একটা শাড়ি নেব। তুমি পছন্দ করে দাও তো।"
শাড়ি কিনতে কিনতে যতটুকু কথা হল,জানলাম বড় নীলপুর বাজারের কাছে বাড়ি। মোবাইল
নাম্বারটা নিয়ে রাখলাম। সময় সুযোগ করে একদিন যাব কথাও দিলাম।
অনেক
দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সপ্তাহ দুই পরে এক রবিবার বিকেলে চলে গেলাম অপর্ণার বাড়ি।
বাড়ির মানুষগুলো এবং অপর্ণাকে দেখে আমার কেমন যেন সন্দেহ হতে লাগল। বেশ কিছুটা সময়
কাটার পর বললাম, তুমি কেমন আছো সত্যি করে বলবে? আমার কাছে দ্বিধা করো না। ইনিয়ে
বিনিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কিন্তু অন্য কথা বলছিল। যা
অপর্ণা গোপন করে যাচ্ছে।একসময় জোর করতে যা বলল আমি হতবাক !
যার
সঙ্গে অপর্ণার বিয়ে হয়েছে সেই ছেলেটি বিয়ের মাস খানেক পর বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা
নিয়ে উধাও। পাঁচ বছর কেটে গেছে তার কোনও হদিস নেই। পরে জানতে পারে সেই ছেলে নাকি
এই বাড়ির কেউ নয়। সন্তানের মতো লালন করে বড় করেছে মাত্র।
এদিকে
বাপের বাড়িতে পর পর অঘটন। কাকা জ্যাঠারা
সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা করে সব আলাদা হয়ে গিয়েছে। মায়ের হঠাৎ মারণ রোগ দেখা দিল।
চিকিৎসা করাতে গিয়ে বাবা নিঃস্ব। তবু মাকে বাঁচাতে পারেন নি। অপর্ণা একবারই বাপের
বাড়ি গিয়েছিল শুধু মাকে দেখতে। বাবার সঙ্গে চরম মনোমালিন্য করে চিরদিনের মতো ফিরে
এসেছে। একমাত্র বাবার জেদের ফলেই তার জীবনের এই পরিণতি। এখন থাকা খাওয়ার বিনিময়ে
এদেরই কাপড়ের দোকানে কাজ করে দিন গুজরান ।
আমি
কিংকর্তব্যবিমূঢ়। দিশেহারা। মাথা কাজ করছিল না। আসার সময় শুধু একটি কথাই জিজ্ঞেস
করেছিলাম," একটা সত্যি কথা বলবি? মিথ্যে বলবি না।"
"
মিথ্যে কেন বলব? কি কথা বলুন?"
"তুই
কি আমাকে ভালবাসিস? সত্যি কথা বলবি। আমি কিচ্ছু মনে করব না। নিঃসংকোচে বলবি।"
অপর্ণা
কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল," যেদিন প্রথম আপনাকে দেখি। স্কুলে সরস্বতী পুজোর দিন।
দিদিমণিরা আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সেদিনই আপনাকে ভালোবেসে ফেলি। সেইজন্যই তো মাকে
বলেছিলাম বাবাকে দিয়ে আপনাকে প্রস্তাব পাঠাতে। বাবার জন্যই আমার জীবনটা শেষ হয়ে
গেল। সবই আমার ভাগ্য। কাকে কি বলব।"
আমি
কিছুক্ষণ থমকে বসে রইলাম। তারপর বললাম," আজ আসছি। শিগগিরই আসব আবার। ভাল
থাকিস।" বলেই ফিরে এলাম। ভাবতে থাকলাম। এর সমাধান কি করে সম্ভবত!
শেষ
লেখক পরিচিতি -
নিত্যরঞ্জন দেবনাথ পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ার পানুহাটে ১৯৫৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।কাটোয়া কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক। বর্তমানে থাকেন হুগলির চুঁচুড়ায়। পেশায় কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী ছিলেন।অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেল-এর অধীন ডিভিশনাল অ্যাকাউন্টস অফিসার পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম গল্প " চেতনা " ছোটদের পত্রিকা শুকতারায় ১৯৯৬ - এর এপ্রিলে প্রকাশিত হয়। এরপর দেশ, শিলাদিত্য, কালি ও কলম,মাতৃশক্তি, তথ্যকেন্দ্র, কলেজস্ট্রিট, কথাসাহিত্য, দৈনিক স্টেটসম্যান, যুগশঙ্খ, একদিন,,সুখবর ইত্যাদি এবং বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে নিয়মিত তাঁর সাহিত্যকীর্তি অব্যাহত। ইতিমধ্যে পাঁচটি গল্প সংকলন ও চারটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক "শতানীক " পত্রিকাটি দীর্ঘদিন ধরে সম্পাদনা করে আসছেন।
.jpg)