Advt

Advt

bibek-dangshan-galpo-story-by-nityaranjan-debnath-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-mazine-বিবেক-দংশন-গল্প-নিত্যরঞ্জন-দেবনাথ

bibek-dangshan-galpo-story-by-nityaranjan-debnath-tatkhanik-digital-bengali-web-bangla-online-e-mazine-বিবেক-দংশন-গল্প-নিত্যরঞ্জন-দেবনাথ

ম্যানেজারের কান্ড দেখে  আক্কেলগুড়ুম। ভাবতেই পারছিনা এ কী করে সম্ভব। ম্যানেজার আমার পায়ে ধরে প্রণাম করল কেন ! আমি এক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করি। যাকে বলে কর্পোরেট অফিস।  কাজের সঙ্গে স্মার্টনেস, ঠাটবাট, ম্যানার্স -- এসব হচ্ছে ফার্স্ট প্রায়োরিটি।  মানতেই হবে। একটু এদিক ওদিক হলেই ছলাৎ করে গর্তে পড়ে যেতে পারে। সেখান থেকে উঠে দাঁড়ানো বেশ টাফ ব্যাপার। কারো হেল্প দূরে থাক উল্টে গাড্ডায় ফেলে দেওয়ার তালে থাকে সব। সহানুভূতি, আন্তরিকতা এদের অভিধানে নেই। ভেতরে ভেতরে শুধু কম্পিটিশন। রেসের প্রতিযোগিতায় নেমেছে সব। ল্যাং মেরে কার আগে কে ছুটবে। সেই কোম্পানির ম্যানেজার আজ একী করল ! আমি এক সাধারণ কর্মচারী। কলকাতা থেকে বদলি হয়ে মাস খানেক আগে দিল্লির ব্রাঞ্চে জয়েন করেছি। প্রমোশন পেলেই সাধারণত বদলি হয়আমি এখন সেকশন অফিসার। একটা সেকশনের পনের-কুড়ি জন স্টাফের আমি ইনচার্জ।  এমন সেকশন অফিসার ডজন খানেক আছে। তাদের উপরে অ্যাডমিনিষ্ট্রেটিভ অফিসার। তারপরেও কয়েকটা ধাপ। সবার মাথায় ম্যানেজার।সেই ম্যানেজার একী করল !

এক রবিবারের ঘটনা। সকাল সাড়ে আটটা-নটা হবে। আমি দিল্লির কালীবাড়ির সম্মুখের রাস্তাটা দিয়ে আপনমনে হাঁটছি। জানুয়ারির শেষ। মানুষজনের আনাগোনা, অটো টোটো বাস নিজস্ব ছন্দে চলছে। আমিও মিষ্টি সোনালী রোদ মেখে উদ্দেশ্যহীন হেঁটে চলেছি। সামান্য ঠান্ডা আমেজ থাকলেও মিঠে সূর্য কিরণ বেশ উপভোগ্য। ছুটির দিন। ফ্যামিলি কলকাতায় তাই পিছুটান মুক্ত। ব্যস্ততার ব্যাপার নেই। হঠাৎ দেখি সম্মুখে ম্যানেজার দাঁড়িয়ে। আমি যেদিকে যাচ্ছি উনি সেদিক থেকেই আসছিলেন। প্রথমটা না দেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে চলে যাবার ইচ্ছে ছিল। অত বড় অফিসার যদি চিনতে না পারেন ! বাস্তবিক না চেনাই স্বাভাবিক। সবে মাস খানেক জয়েন করেছি। একবার মাত্র  তার চেম্বারে যেতে হয়েছিল। এছাড়া একটা মান্থলি মিটিংয়ে অ্যাটেন্ড করেছি। প্রতি মাসেই অফিসারদের সঙ্গে কাজের প্রোগ্রেস নিয়ে মিটিং হয়। এত জনের মধ্যে নজর  না পড়াটাই  স্বাভাবিক।
ম্যানেজার বললেন," কেমন আছেন? কোথায় থাকছেন?" বলেই মাথা নিচু করে পা দুটোতে হাত ছুঁয়ে প্রণাম করল।"

আমি হতভম্ব ! নির্বাক ! কন্ঠনালি রুদ্ধ। চেষ্টা করেও কোন স্বর বেরোচ্ছিল না কিছুক্ষণ।  বেশ কয়েক মিনিট তাকিয়ে রইলাম তাঁর দিকে।  আমি নিশ্চিত উনি ভুল করে এই কান্ডটা করেছেন।
বললাম," একী করছেন স্যার? আপনি আমাদের ম্যানেজার। আমার মতো এক সামান্য কর্মচারীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করবেন আমি তো ভাবতেই পারছি না। নিশ্চয়ই অন্য কারোর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন।"
ম্যানেজার মুচকি হাসছেন। বললেন," চলুন, কোথাও বসি। একটু চা খাই। তাড়া নেই তো?"
কি বলি? বাস্তবিকই কোনো তাড়া নেই। এক কামরার ঘর  নিয়ে থাকি। হোটেলে খাই। পাশের এক চায়ের দোকান থেকে সকালে চা দিয়ে যায়। ফলে ছুটির দিনগুলোতে অফুরন্ত সময়। কাটতেই চায় না। নতুন আগমন, পরিচিত জন কম। তাই সকাল সন্ধে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি। তবু ম্যানেজারের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া কি শোভনীয় ! অন্য কলিগরা দেখে ফেললে সবার কাছে চক্ষুশূল হয়ে থাকব। সন্দেহ করবে নিশ্চিত। কান ভাঙানি দিচ্ছি।

তবু বললাম," না, আমার কোনো তাড়া নেই। কোথায় চা খাবেন, চলুন।"

রাস্তার ধারে অর্ডিনারি একটি দোকান। তিনটে বেঞ্চ পাতা রয়েছে। দু'একজন খদ্দের  আসছে, চা খেয়ে চলে যাচ্ছে। আমরা দুটো চায়ের কথা বলে কোণের দিকের একটি বেঞ্চিতে গিয়ে বসলাম।এদিকটা কিছুটা নিরিবিলি। ম্যানেজার নিজেই চুজ করেছেন। সাধারণত কর্পোরেট অফিসের স্টাফ কখনো এমন সস্তার দোকানে ঢুকবে না। স্টাটাস বলে একটা বাক্য আছে।ভেতরে যাই থাকুক বাইরের চাকচিক্য বাধ্যতামূলক। তার উপর ম্যানেজার বলে কথা।

ইতিমধ্যে চা দিয়ে গেছে। মাটির ভাঁড়। কি কথা বলব বুঝতে পারছি না। এনার সঙ্গে খেজুড়ে আলাপ করাটা বাতুলতা। জানি কোম্পানির ওয়েল ফার্ণিশড ফ্ল্যাটে থাকেন। আমিও ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফ্ল্যাট পেয়ে যাব। ম্যাক্সিমাম মাস খানেকের মধ্যে। ওসব স্যারের সঙ্গে ডিসকাস না করাই ভাল।
স্যার বললেন," আপনি হয়তো আমাকে চেনেন না। আমি কিন্তু আপনাকে বিলক্ষণ চিনি
আপনার ঢাকুরিয়ায় ঝিল রোডে দোতলা বাড়ি। একতলায় ভাড়াটে দোতলায় আপনারা থাকেন। আপনার এক ছেলে ও এক মেয়ে। বছর দশেক আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে এখন কানাডায়। সেও বোধহয় সম্প্রতি বিয়ে করেছে।"

প্রতি পদে পদে অবাক হচ্ছি। নারী-নক্ষত্র সবই নখদর্পণে। আমার পেছনে গোয়েন্দা লাগিয়েছেন নিশ্চিত ! কি অপরাধ করেছি !ভেতরে ভেতরে যে ভয়ের সঞ্চার হচ্ছে বলাই বাহুল্য। জ্ঞানত আমি কোনও অন্যায় করি না। যথাসাধ্য নিজের কাজ নিয়েই থাকি। কারো পেছনে লাগি না। কাঠি করা স্বভাব নয়। তাহলে কেন গোয়েন্দা লাগাবেন? কেউ কী চুকলি করেছে ! কোম্পানিতে এসব আকছার হয়তলায় তলায় গভীর জল ঢুকে যায়। সাদা চোখে বোঝার উপায় নেই। কিছু দুরাচারী থাকে নিজের কাজটা ঠিকমত করবে না অথচ অন্যের ক্ষতি করার মাথাটা সজাগ।
বললাম," আমি জ্ঞানত কোনো অন্যায় করি না স্যার। কাজের দিক থেকেও টাইমলি কমপ্লিট করার চেষ্টা করি। আনডিও অ্যাডভ্যান্টেজও নিই না। তাহলে অপরাধটা কি স্যার?"
" অপরাধ ! অপরাধের কথা তো বলিনি আমি?" ম্যানেজার বললেন।
" তাহলে আমার ঠিকুজি কুষ্টি জানলেন কি করে?
" ও এই ব্যাপার । আরে আমার বাড়িও তো ঐখানেই। তাতেই তো বলতে পারছি।"

" যাদবপুর? কোথায়?"

" ঠিক যাদবপুর নয় টালিগঞ্জ। মাঝেমধ্যেই যেতাম ঐদিকটা। আমার এক বন্ধু থাকত ওখানে। আপনার মেয়ের বিয়ের কয়েকদিন আগে একটা ঘটনা ঘটেছিল মনে আছে?"
" কি ঘটনা স্যার?"

ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফেরার সময় এক মস্তানের পাল্লায় পড়েছিলেন না?"
" আপনি সেটাও জানেন? হ্যাঁ পড়েছিলাম। তবে মস্তান হলেও মানবিক বোধ ছিল যুবকটির।"
" ওই মস্তানটিকেও আমি চিনতাম। আমাদের সঙ্গে আড্ডা দিত। ভাবতে পারিনি সে এমন জঘন্য  কাজ করবে। তারপর থেকে ওর সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখিনি। "

"তাই নাকি? আপনি চিনতেন যুবকটিকে? মেয়ের বিয়ের তিনদিন আগে ব্যাংক থেকে তিন লাখ তুলে ট্যাক্সি করে ফিরছিলাম। সকালের দিকে ব্যাংকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছিলাম। আসলে বেশি টাকা হলে ওরা আগে জানাতে বলে। সম্ভবত সেই যুবকটি খবরটা আগে জেনেছিল। বাড়ির কাছে নামলাম। জানেন তো আমার বাড়ি যেতে সামান্য গলি পার হতে হয়। ট্যাক্সি ঢুকে না। গলিতে ঢুকতেই এক মুখোশধারী যুবক পিস্তল তাক করে দাঁড়াল। বেলা তখন দুটো-আড়াইটা হবে। রাস্তাঘাট সুনসান ফাঁকা। যুবকটি বলল, " আপনার ব্যাগ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিন। না হলে কিন্তু গুলি করে পুরো টাকা নিয়ে চম্পট দেব।জান এবং টাকা দুই যাবে। তাড়াতাড়ি করুন। " আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাই। বাড়ির কাছে এসে ডাকাতের হাতে পড়লাম !  থরথর করে কাঁপছি। যুবকটি আবার এমন জোর ধমক দিল, আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগ খুলে একটা পাঁচশো টাকার বান্ডিল বের করে দিলাম। তারপরই যুবকটি চম্পট। "

ম্যানেজার বললেন," আমার ভাবতে খারাপ লাগে ওই ছেলেটি একসময় আমাদের বন্ধু ছিল। আমাদের কাছে আবার বড়মুখ করে কৃতিত্বের কথা শোনাচ্ছিল। আমি বলেছিলাম, টাকাটা ফেরত দিয়ে আয়। উল্টে যাচ্ছেতাই ভাবে যেভাবে কথা শুনিয়েছিল আপনি ভাবতে পারবেন না। যদিও তার সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক রাখিনি। তবু বন্ধু তো ছিল, তাই তার হয়ে আমি ক্ষমা চাইছি। আমি ঐ টাকাটা আপনাকে ফেরত দিতে চাই। প্লিজ না করবেন না।"

ছি ছি একী কথা বলছেন স্যার? আপনার পরিচিত হতে পারে।স্কুল কলেজের বন্ধু তো নয়। কয়েকদিন আড্ডা দিলেই সে কখনো আপনার মত মানুষের বন্ধু হতে পারে না। সেটা জোর গলায় বলতে পারি। এই জন্যই তো কোনো সম্পর্ক রাখেন নি। ঠিকই করেছেন। তাছাড়া তার দায় আপনি নেবেন কেন? তবে একটা কথা বলব স্যার, যুবকটি কিন্তু ইচ্ছে করলে পুরো টাকাটাই নিয়ে নিতে পারত। আমার তখন যা অবস্থা প্রাণ বাঁচাতে  ব্যাগটাই তুলে দিতাম। সেদিক থেকে মানবিক বোধ ছিল বলতে হবে। ও নিয়ে ভাববেন না। তাতে মেয়ের বিয়ের তেমন অসুবিধে হয় নি এটাই বড় কথা। সেসব ভুলেও গিয়েছি। চলুন এবার ওঠা যাক।"

* * *
ছেলেটির নাম অনিমেষ। ছোট্ট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। মধ্যবিত্ত পরিবার। বাবার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি। ছেলেটি এম.এস.সিতে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে ব্যাঙ্গালোরে এমবিএ পড়তে যায়।মনে উচ্চাশা। জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন। বাবাও চাইতেন একমাত্র সন্তান যেন তার মতো সাধারণ মানের চাকরি না করে। তাই তাকে এমবিএ পড়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ভাগ্য বিরূপ। ভর্তি হওয়ার কয়েক মাস পরেই বিপর্যয়। বাবার হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু। ভরা পুকুর শুকিয়ে পাথর। চারিদিকে শুধু অন্ধকার। দিশেহারা অবস্থা। এরমধ্যেও মায়ের উৎসাহে পড়ায় মনোনিবেশ করতে পেরেছে। যতটুকু সঞ্চিত অর্থ ছিল তা দিয়েই পড়া চালিয়ে যেতে বলেন। চলছিল বেশ। কোর্স কমপ্লিট করলেই যে লোভনীয় চাকরি সেটাও নিশ্চিত। কিন্তু ফাইনাল সেমিস্টারের ফরম ফিলাপের সময় আবার বিপদের সম্মুখীন। গরিবের সমস্যার অন্ত নেই। মা সিরিয়াস অসুস্থ। সঞ্চিত অর্থ শেষ। সেমিস্টারের ফিস জমা না করতে পারলে পরীক্ষায়ও বসতে পারবে না। কি করবে এখন? তীরে এসে তরী ডুববে? পাগল পাগল অবস্থা। তখনই বাল্যবন্ধু লাল্টুর কথা মনে এল। লাল্টু পড়ালেখা বেশি করতে পারে নি। কিন্তু মনটা আকাশের মতো বড়। অনিমেষকে খুব ভালও বাসে। কয়েকবার অর্থ সাহায্যও করেছে। লাল্টু এখন এক রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় আন্ডার গ্রাউন্ডের কাজে লিপ্ত। পরিস্থিতির চাপে অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। ওর নেটওয়ার্ক খুব স্ট্রং। বহু খবর রাখে। বলতেই বলল, হাতে এখন টাকা নেইরে তবে ব্যবস্থা হয়ে যাবে তুই চিন্তা করিস না। তার দৌলতেই সে নামি এক কোম্পানির অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার থেকে প্রমোশন পেয়ে আজ ম্যানেজার হয়েছে। যদিও লাল্টু আজ আর বেঁচে নেই। শোনা যায় দলের লোকের হাতেই খুন হয়। কিন্তু বন্ধুর উপকারের কথা কি জীবনে ভুলতে পারবে?
* * * * *
অনিমেষের মন আজ বড় বিষণ্ন। টাকাটা ফেরত দিতে পারলে বোধহয় কিছুটা শান্তি পেত। কিন্তু আজ আর সম্ভব হওয়ার নয়। আসল সত্যিটা যদি জানতে পারে ভদ্রলোক নিশ্চিত ভিরমি খাবে। সে নিজেই যে লাল্টুর কাছ থেকে পিস্তল নিয়ে মুখোশ পরে ভদ্রলোকের সম্মুখে দাঁড়িয়েছিল সেটা আজ আর পৃথিবীর কারো জানার কথা নয়। তবু কেন এত বিবেক দংশনে ভুগছে !

লেখকের অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

লেখক পরিচিতি -

নিত্যরঞ্জন দেবনাথ পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ার পানুহাটে ১৯৫৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।কাটোয়া কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক। বর্তমানে থাকেন হুগলির চুঁচুড়ায়। পেশায় কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী ছিলেন।অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেল-এর অধীন ডিভিশনাল অ্যাকাউন্টস অফিসার পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম গল্প " চেতনা " ছোটদের পত্রিকা শুকতারায় ১৯৯৬ - এর এপ্রিলে প্রকাশিত হয়। এরপর দেশ, শিলাদিত্য, কালি ও কলম,মাতৃশক্তি, তথ্যকেন্দ্র, কলেজস্ট্রিট, কথাসাহিত্য, দৈনিক স্টেটসম্যান, যুগশঙ্খ, একদিন,,সুখবর ইত্যাদি এবং বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে নিয়মিত তাঁর সাহিত্যকীর্তি অব্যাহত। ইতিমধ্যে পাঁচটি গল্প সংকলন ও চারটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক "শতানীক " পত্রিকাটি দীর্ঘদিন ধরে সম্পাদনা করে আসছেন।