উনিশ শতকের ভারত তথা বাংলার ইতিহাসে নবজাগরণের যে প্রবাহ
শুরু হয়েছিল রাজা রামমোহন রায়ের চিন্তনে কর্মে তার উত্তরসূরী হিসাবে ঈশ্বরচন্দ্র
বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর যার নাম স্বর্ণাক্ষরে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে তিনি হলেন ভারতের
শিক্ষার সারথী বলিষ্ঠ পুরুষ বাংলার বাঘ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। বিদ্যাসাগর
পরবর্তী বাংলার শিক্ষা সংস্কার থেকে শুরু করে ভারতের বিচার বিভাগ পর্যন্ত পরাধীন
ভারতের জীবন দর্শনকে পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এক সংস্কারযুক্ত যুক্তিবাদী
উদার বলিষ্ঠ ভারতের ভাবধারাকে। ছাত্রবস্তা থেকে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে চোখে চোখ
রেখে প্রতিবাদ ও দৃঢ় ভাবনার মধ্য দিয়ে সকলের কাছে হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বাস ভরসা ও
সঠিক বিচারের কেন্দ্রবিন্দু । একাধারে প্রসিদ্ধ গণিতজ্ঞ - আইনজ্ঞ - শিক্ষাবিদ
অপরদিকে ভারতীয় রেনেসাঁসের অন্যতম পুরোহিত।
আশুতোষ মুখোপাধ্যায় পরাধীন ভারতে বহু গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করেছিলেন স্বাধীনচেতা ভাবনায়।
ব্রিটিশ সরকার তাঁকে তাদের অনুগত লোক হিসাবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করলেও
আশুতোষ কখনো ইংরেজ সরকারের কাছে মাথা নত করেননি। শিক্ষার সংস্কার থেকে নিরপেক্ষ
নির্ভীক বিচারদান সবকিছুতেই বলিষ্ঠ ভাবনা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন " বাংলার
বাঘ" হয়ে ।
অতুল চন্দ্র ঘটকের 'নোট থেকে জানা
যায় যে আশুতোষ ছিলেন বাল্যবস্থা থেকেই 'ভোরেসাস রিডার'। মাত্র সাত আট বছর বয়স থেকেই তার কণ্ঠস্থ ছিল 'হোমারের
ইলিয়ট''ক্যাম্বেলের প্লেজার অফ হোপ',মিলটনের
'প্যারাডাইস লস্ট 'প্রভৃতি গ্রন্থ
গুলি। এছাড়া পিতা গঙ্গা প্রসাদের কাছ থেকে ভারতের পৌরাণিক কাহিনী শুনতে শুনতে
রামায়ণ-মহাভারতের মতন গ্রন্থগুলিও কন্ঠস্থ ছিল বাল্য আশুতোষের । তাঁর এই প্রখর বুদ্ধিমত্তার জন্য স্বয়ং
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাকে উপহার দিয়েছিলেন বিখ্যাত 'রবিনসন
ক্রুসো' 'বইটি ।
আশুতোষ বাড়িতে প্রথম ভাগ শেষ করেই ভর্তি হন ভবানীপুর
চক্রবেরিয়া শিশু বিদ্যালয়ে । ১৮৬৯ থেকে ১৮৭২ সাল পর্যন্ত বঙ্গ বিদ্যালয় এর
ছাত্র ছিলেন তিনি। এই সময় পন্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রীর কাছ থেকে তিনি পারদর্শিতা লাভ
করেন গণিত -ন্যয় নীতি ও ব্রাহ্ম জ্ঞানে। প্রথম থেকেই আশুতোষ মুখোপাধ্যায় প্রখর
বুদ্ধির জন্য জীবনের প্রতিটি শিক্ষা অধ্যায়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন।
বাল্যবস্থা থেকেই 'হরিশচন্দ্র পারিতোষিক','প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ'বৃত্তি লাভ করেন। এছাড়া ১৮৯৩ থেকে ১৮৯৪ সালের মধ্যে কৃতিত্বের সাথে অর্জন
করেন ডক্টর- অব -ল (ডি এল) উপাধি ।
১৮৬৪ সালের ২৯ শে জুন বউবাজারের ১৭ নম্বর মঙ্গলা লেনে
জন্মানো মহান ব্যাক্তি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে তাঁর জীবনীকার ডক্টর
দীনেশচন্দ্র সেন লিখেছেন " পিতা-মাতা ও বংশের অনেক পূর্ণ না থাকিলে আশুতোষের
মতন পুত্র জন্মে না "। পিতা গঙ্গা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও মাতা জগতারিণী দেবীর
কাছ থেকেই পেয়েছিলেন জীবন দর্শনের মূলমন্ত্র যা পরবর্তীকালে আশুতোষকে তৈরি করেছিল ভারতের এক
বলিষ্ঠ মহামানবে ।
একজন প্রথিতযশা আইনজ্ঞ হওয়া সত্বেও আশুতোষ
মুখোপাধ্যায়ের জীবনের প্রথম থেকেই স্বপ্ন ছিল দেশের শিক্ষা পদ্ধতির আমুল সংস্কার
করে উচ্চশিক্ষার ঢেউকে সমগ্র দেশে ছড়িয়ে দিয়ে বিশ্বের জগত সভায় বাংলা তথা
ভারতবর্ষকে উজ্জ্বল স্থানে প্রতিষ্ঠা করা। এ সম্বন্ধে তিনি বারবার বলতেন " it had always been my
ambition to be allowed to do something something great as . I flattered myself
in my youthful dreams for the good and Glory of my Alma matter"।
আশুতোষ মুখোপাধ্যায় দেশে উচ্চ শিক্ষিত জ্ঞানী নীতি
পরায়ন গবেষক গড়ে তোলার জন্য সব্যসাচীর
মতন শিক্ষা সংস্কারের বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন পালন করে গিয়েছেন।
১৯০৬ সাল থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলার পদে
থাকার সময় তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পরীক্ষাশালা থেকে উচ্চ শিক্ষার
জ্ঞানপিঠে পরিণত করেন। একজন রেজিস্টার ও তিনজন করণিকের পরিবর্তে তাঁর প্রচেষ্টায়
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছিল স্নাতকোত্তর ২৫ টি বিভাগে ২৫ জন অধ্যাপক ও ১০০
জনেরও বেশি কর্মচারী । আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে টমাস রলের
সভাপতিত্বে গঠিত 'ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটির কমিশনে 'আধুনিক শিক্ষার
জন্য অগ্রণী প্রস্তাব দেন এবং ওই প্রস্তাবে ভারতের কলেজগুলিকে পরীক্ষা গ্রহণের
প্রতিষ্ঠানের সংস্থা থেকে মুক্ত করে প্রকৃত উচ্চশিক্ষার উৎকর্ষ কেন্দ্র ও গবেষণা কেন্দ্র
হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন। তিনি ইংরেজি,সংস্কৃত,পালি, আরবি,পারসি এবং ভারতীয়
বিভিন্ন ভাষা-সহ তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব দর্শন নীতি শাস্ত্র,রাষ্ট্রবিজ্ঞান,অর্থশাস্ত্র,বাণিজ্য,
গণিত ইতিহাস,ভূগোল,শরীরতত্ত্ব
প্রভৃতি ছাড়াও রসায়ন,পদার্থবিদ্যা, জড়বিজ্ঞান
প্রভৃতি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উন্মোচন করেন । ইসলামের জন্য তিনি
বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদাভাবে ব্যবস্থা করেছিলেন মুসলিম ধর্ম শাস্ত্র , দর্শন , অলংকার ব্যাকরণ ও বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ব্যবস্থা । এছাড়া কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কে আন্তর্জাতিক মানের
উচ্চশিক্ষার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত
অধ্যাপকদের কলকাতায় নিয়ে এসে বিভিন্ন বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার ব্যবস্থা
করেন। দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাবিদদের পাশাপাশি রাশিয়ার ব্যবহার শাস্ত্রের অনন্য
পণ্ডিত ভিনগ্রাডফ,ফরাসি পন্ডিত ফুঁসো,জার্মান
পন্ডিত জেকেবি,ম্যাগ ডোনাল্ড প্রভৃতি পন্ডিতেরা আশুতোষ
মুখোপাধ্যায়ের আহবানে উদ্দীপ্ত করে যেতেন এদেশের পড়ুয়া ও উৎসাহী মানুষদের জ্ঞান
সাধনায় । আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের জীবনীকার ডক্টর দীনেশ চন্দ্র সেন আশুতোষ
মুখোপাধ্যায়ের শিক্ষা চিন্তা বিষয়গুলি লিপিবদ্ধ করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম হল--
প্রথমত -স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পারস্পরিক
নির্ভরশীল ও পরিপূরক সম্পর্ক থাকলেই প্রকৃত শিক্ষা প্রসারিত হবে বলে তিনি বিশ্বাস
করতেন। দ্বিতীয়ত-আশুতোষ এর মতে শিক্ষাক্ষেত্রে গণতন্ত্র অবশ্যই দরকার শিক্ষাবিদদের
স্বাধীন চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এর স্বাধীনতা দরকার । তৃতীয়ত- পরীক্ষায়
কড়াকড়ি ব্যবস্থার পরিবর্তে ছাত্ররা কতটুকু শিখেছে সেই মতো পরীক্ষার ব্যবস্থা
করতে হবে। চতুর্থত- আশুতোষ মনে করতেন স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় মাতৃভাষায়
শিক্ষার মাধ্যম হওয়া উচিত । পঞ্চমত -দেশ ও সমাজ গঠনে ও সমাজ কল্যাণে নিয়োজিত ও
নিবেদিত প্রাণ হিসাবে মানুষ তৈরি করতে পারলেই শিক্ষার উদ্দেশ্য সার্থক হবে ।
আশুতোষ মুখোপাধ্যায় শিক্ষার সংস্কারে এতই গভীরভাবে দৃঢ়
ছিলেন যে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের "education can
wait, swaraj can't " স্লোগানের
সমর্থন করেননি তিনি। কারণ তাঁর আশঙ্কা ছিল যে সব শিক্ষার্থী স্বদেশের সংগ্রামে
অংশগ্রহণ করবে না,তারা বিপথগামী হবে এবং এদেশের মেধা সম্পদ
বিঘ্নিত হবে। অর্থাৎ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের একদিকে যেমন উদ্দেশ্য ছিল দেশের
শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটিয়ে দেশের সম্মানকে সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছে দেওয়া, অপরদিকে প্রকৃত শিক্ষিত- জ্ঞানী -যুক্তিশীল নাগরিক তৈরি করে সুকৌশলে
ব্রিটিশ রাজত্বকে তুলে ফেলতে চেয়েছিলেন,তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস । নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস এক চিঠিতে তার প্রতি আশুতোষ
মুখোপাধ্যায়ের বদ্যাণতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছিলেন ।
'এগনস্টিক ' চিন্তার অনুসারী ছিলেন আশুতোষ
মুখোপাধ্যায়। তাঁর সমগ্র কর্মজীবনে দক্ষ একজন শিক্ষা সংস্কারক রূপে কাজ করার
পাশাপাশি তৎকালীন বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করেছিলেন নির্ভীকভাবে । তাঁর একাধিক জাজমেন্ট
আজও ভারতবর্ষের সমাজ জীবনে সমান প্রাসঙ্গিক এবং তার জাজমেন্ট গুলি কালোর্তীর্ণ হয়ে বিশ্ব সম্পদে পর্যবসিত
হয়েছে । আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের পিতা ও মাতার অপছন্দ ছিল তাঁর ছেলের চাকরি করার
বিষয়ে । কিন্তু পিতার মৃত্যুর পর
জগতারিণী দেবীর সম্মতি না থাকা সত্ত্বেও তাঁর মাকে বুঝিয়ে চাকুরী নিয়েছিলেন
ব্রিটিশ সরকারের অনুরোধে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি হিসাবে । ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দের
৬ই জুন বিচারপতি পদে যোগদান করে টানা ১৯ বছর স্বমহিমায় নিরপেক্ষ ও নির্ভীকভাবে
বিচারের কাজ করে গেছেন। ছাত্রবস্তা থেকেই তিনি মহা উৎসাহে শুনতে যেতেন 'টেগর- ল- লেকচার'। পরবর্তীকালে টেগর - ল- প্রফেসর
হিসাবে 'Law
of Perpetuities in British India ' শিরোনামে একাধিক বক্তব্য রাখেন । ডক্টর
দীনেশ চন্দ্র সেন এর সাক্ষ্য থেকে জানা যায় প্রায় সহস্র রায়ের মধ্যে কোন এক
বছরে ৮০৮ টি রায়দানের মধ্যে দুই তিন জনের বেঞ্চে তিনি একাই ৮০৫টি মকদ্দমার রায়
লিখেছিলেন আর বাকি ইংরেজরা ''I agree'' কথাটি শেষে লিখে
অব্যাহতি পেয়েছেন । আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের বিচারপতির সময় কালে সবথেকে
গুরুত্বপূর্ণ রায়দান ছিল বিভাগ বন্টন মামলা এবং বাড়ি ভাগের মকদ্দমা,যা এখনো পর্যন্ত কোনো উচ্চ আদালতে Over Rulled হয়নি। The Idias and justice
in judiciary
মানসিকতা নিয়ে বিভাগ বন্টন মামলায় তাঁর নির্দেশ- "The ad interim
statuesque injunction is the best remedy ". যা আজও পর্যন্ত
সমস্ত বিচারপতিরা এই মামলায় (Partition suit) আদেশ দিয়ে
থাকেন। স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত রায়গুলি রেফার করে নিজেদের রায়কেও
সমৃদ্ধ করবার প্রয়াস পান এযুগের বিচারপতিরা তাদের জাজমেন্টে ।
আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে চোখে চোখ
রেখে মাথা উঁচু করে স্বাধীনভাবে কাজ করে গিয়েছেন দেশের কথা ভেবে। কিন্তু এত কিছুর
পরও তাঁর জীবদ্দশায় তাকে কখনো ব্রিটিশের গুপ্তচর আবার কখনো ব্রিটিশ প্রেম প্রভৃতি
বহু তির্যক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়। ডক্টর দীনেশ চন্দ্র সেন এর নোট থেকে জানা
যায় যে ছাত্রাবস্থা থেকেই আশুতোষ সাম্রাজ্যবাদী শাসনের বিরোধী ছিলেন এবং
সাম্রাজ্যবাদকে ঘৃণা করতেন। ১৮৮৩ সালের বাংলায় ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে সরকার
বিরোধী যে প্রথম আন্দোলন হয়েছিল আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ছিলেন সেই আন্দোলনের অন্যতম
প্রধান ছাত্রনেতা । ১৮৮৪ সালের খ্রিস্টাব্দের ২০ শে জানুয়ারি তাঁর দিনলিপিতে
লিখেছিলেন "সেই তথাকথিত ইলবার্ট বিল আগামী শুক্রবার কাউন্সিলে আনা হবে , কোন সন্দেহ নেই
সেই প্রস্তাবও পাস হয়ে যাবে। দুর্ভাগা ভারত বর্ষ আমার মাতৃভূমি ,স্বদেশ অত্যাচারী শাসকের দ্বারা পদদলিত জঘন্য স্বেচ্ছাচারী শাসক "।
(দিনলিপি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় পৃষ্ঠা -১০৭)।
আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের স্বদেশপ্রেম শুধুমাত্র কয়েকটি
ঘটনা দিয়েই প্রমাণিত হয় না,অনুধাবন করতে হয়। তিনি কর্মজীবনে যে
সমস্ত শীর্ষ পদে থেকেছেন সেখানেই তার স্বদেশ প্রেম ও স্বাদেশিকতা প্রকট হয়ে
উঠেছিল ।
ভারতবর্ষের জাতি গঠনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব আশুতোষ
মুখোপাধ্যায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছে তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে। উনিশ শতকে ভারতের সমাজ
গঠনে তাঁর ভূমিকা উজ্জ্বলতম এবং প্রশ্নাতীত। প্রকৃত শিক্ষিত সুনাগরিক তৈরি করে
ভারতের স্বাধীনতার মঞ্চটিকে নিপুনভাবে তৈরি করেছিলেন। সময়ের সরণিবেয়ে আশুতোষ
ম্লান হতে বসলেও ভারতের নবজাগরণের ইতিহাসে চির প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকবে তাঁর নাম । বিরাট ভুবনের মাঝে আজও জ্বলে তাঁর বিরাট
সুকৃতি। বাংলার বাঘ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় চির প্রতিষ্ঠিত ভারতবাসীর হৃদয়
প্রাঙ্গণে ।
তথ্যসূত্র:------
১.. আশুতোষ স্মৃতি কথা-- ডক্টর দিনেশ চন্দ্র সেন ।
২.. আধুনিক শিক্ষা সারথী আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-- শ্যামল
দাস ।
৩.. বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ।
৪.. উইকিপিডিয়া ।
লেখক পরিচিতি -
অরিজিৎ হাজরা,পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সদর শহর সিউড়িতে বসবাস করেন । দীর্ঘ ২১ বছর ধরে শিক্ষকতার কাজে নিয়োজিত। নেশা হচ্ছে লেখালেখি এবং তথ্যের অনুসন্ধান করা। একজন প্রাবন্ধিক গল্পকার হিসেবেই বেশি পরিচিত ।
