ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব – ৭৫
I
don't entirely resign. I may teach the Third Gospel this
afternoon. I haven't made up my mind. It
seems to me sometimes that others have easier jobs and do
them, worse.
খুব কঠিন ছিল
সেদিনগুলো: যখন হাওয়ারা মানবিকতা হারিয়েছিল;পড়ার
টেবিলে,সাদা পাতা উড়ছিল--আর যেন জন্ম
নিচ্ছিল এক,একটা
যাযাবরী পাখি। উদাসীনতার গেরুয়া চাদরে
মুখ ঢেকেছিল ঘমন্ড রাজপথ,আর উড়ালপুল। অরণ্যরাও চোখে
গান্ধারীর রুমাল বেঁধেছিল।
বাড়িতে অনেক গুলো সারভেন্ট।
মেল ফিমেল। মালকিন মধ্যবয়সী। আর্থারাইটিসের পেশেন্ট। আরও অনেক
কিছু সমস্যা আছে। মারিয়ার প্রধান কাজ এই
মালকিনের দেখাশোনা করা। কাজের লোকেরা যে যার কাজ করে যায়--কেউ বাড়তি কোনও
কথা বলে না। দুই ছেলে,মেয়ে যে
যার মতো আছে। কলেজ যাচ্ছে,আসছে,বন্ধুদের
সঙ্গে আড্ডা মারছে,বেরিয়ে যাচ্ছে---। মালিক একজন ডাকসাইটে রাজনীতিবিদ--। বাড়িতে বসার ঘরে
ভিড় লেগেই থাকে। মালকিন শালিনী দেবীর
বয়স বছর পঞ্চাশ। একাকীত্ব এবং রোগে ভুগে ভুগে কিছুটা খিটখিটে। রোজী ম্যাডাম এর পর এই
শালিনী ম্যাডাম --মারিয়া ভেবে
পায় না মানুষে মানুষে এতো ফারাক কেন হয়। রামদীন
এই কথাগুলো বলতে বলতে বাভ্রবির
চোখের দিকে তাকিয়ে নির্বাক
প্রশ্ন করেছিল
--"কেন হয়
ম্যাডাম?"
এস ডি এ মার্কেটের কফি-শপে কফি কাপে চুমুক দিতে দিতেই
রোনাল্ডোর চোখ ও বুঝি এমনই প্রশ্ন করেছিল
--"কেন হয়
বাবি? মানুষে মানুষে এত ফারাক কেন হয় বাবি?"
রোনাল্ডোর নীল চোখের
দিকে তাকিয়ে বাভ্রবি জিজ্ঞেস
করেছিল
--"তোমার কিছু দুঃখ আছে--আমাকে বলতে পারো--"
রোনাল্ডোর চোখে,নীল চোখে
অতলান্তের নীল ভালবাসার খেলা দেখতে পেয়েছিল বাভ্রবি।
--"বলবো,বাবি,তোমাকে বলবো বলেই তো
আজ এই কফি-শপের নিরালা কিছুটা
সময় --।"
--"তোমাকে
আমি শুধু বন্ধু নয়--বন্ধুর চাইতেও কিছু বেশি বলে মনে করি।"
দুজনেই কিছুক্ষণ
দুজনের দিকে তাকিয়ে --তারপর দুজনেই
হাসল।
--"বাবি,কাল রাতের
ফ্লাইটেই আমি দিল্লি ছেড়ে চলে যাচ্ছি। এখানকার
কাজ শেষ। "
--"তাই নাকি? এবার কোথায় যাচ্ছ?"
রোনাল্ডো হেসে জবাব দিল
--"সুইজারল্যান্ড--ওখানকার
একটি ইন্সটিটিউট - এ ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হয়ে
জয়েন করছি।"
বাভ্রবি হাত বাড়িয়ে বলল
"কংগ্রাচুলেশনস রোনাল্ডো।"
রোনাল্ডো,বাভ্রবির হাতটা আলতো করে নিজের হাতে নিয়ে বলল
--"থ্যাংকস বাবি।"
বাভ্রবি একটু আনমনা হয়ে বলল
--"যোগাযোগ রেখো।"
রোনাল্ডো হেসে বলল
--"অবশ্যই। এখানে
আমার সবচাইতে বড় প্রাপ্তি তোমার বন্ধুত্ব।
"
রামদীন দূরের দিকে তাকিয়ে বলেছিল--"ম্যাডাম,মারিয়া
আমার বড় বন্ধু ছিল। ওর সাথে দেখা না হলে
আমি আসল বন্ধুত্ব কাকে বলে বুঝতেই পারতাম
না।"
--"আমার কিছু
জমানো দুঃখ,আমার
কিছু জমিয়ে রাখা সুখের ঝিনুক
তোমার সঙ্গে ভাগ করে নেবো বলেই আজ
এই কফি-শপে তোমাকে আসতে বলেছি। ডোরা--অথবা ডরোথি কে আমি
সত্যিই ভালবেসেছিলাম বাবি--"
--"তোমার স্ত্রী?"
--"হ্যাঁ।
কিন্তু ও বোধহয় কোনও দিনই আমাকে তেমন করে
ভালবাসেনি। নইলে--"
--"নইলে
আমাকে ছেড়ে--"মাঝপথে কথা থামিয়ে রোনাল্ডো কফির কাপে চুমুক দিয়ে বলল
--"ডোরার
সাথে আমার আলাপ লন্ডন থেকে ফ্লোরিডা যাবার এয়ার ট্রিপে। ও ছিল এয়ার হোষ্টেস। মিড
এয়ারে হঠাৎই আমার শরীরটা খারাপ করে--তখন
ডোরা আমার দেখা শোনা করে--। তারপর থেকে
বন্ধুত্ব--।"
নীল আকাশের মাঝখানে -একদিকে
মেঘ,একদিকে বৃষ্টি--,নীলের গভীরতম বিস্তারে দুটি মানুষ,মানুষী
--নক্ষত্রের আলোয় মুখ দেখে--
--"মারিয়া
আর আমি জনাকীর্ণ রাজধানীর জনবিরল পার্কের সিমেন্টের বেঞ্চে বসে সন্ধ্যার তারা
দেখতাম আর একে অন্যের চোখে ভালবাসা খুঁজে
নিতাম। একটা চোর ভালবেসে চুরি ছেড়ে দিল ম্যাডাম। "
--"একটি
মানুষ ভালবেসে নিজের দেশের ছেড়ে লন্ডন
চলে এলো বাবি--।
বাভ্রবির চোখের
সামনে কফি-শপ আর পার্ক--কখন যেন এক
হয়ে গেল।
ক্রমশ …………
৭৬তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
