ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব-- ২৬
Ash ash--
You poke
and stir.
Flesh, bone,
there is nothing there---
--"না,বাবি
সেদিন,মানে যেদিন স্বরূপ -"বলতে
বলতে সুচরিতার গলা ধরে এসেছিল--
তারপর,গলা সাফ
করে বলেছিল--"সেদিন আমাদের
মধ্যে সেরকম কোনও
ঝগড়া হয় নি--বরং অনেক দিন থেকেই
ঐ মহিলাটি কে নিয়ে আমাদের
মধ্যে একটা ঠাণ্ডা লড়াই চলছিল--আমরা কেউই বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া নিজেদের
মধ্যে কথা বলতাম না। আমি আমার মিউজিক
স্কুল নিয়েই থাকতাম
আর স্বরূপ ওর নিজস্ব কাজ নিয়েই
ব্যস্ত থাকত। আমি ঠিক জানি না --হঠাৎই কেন--"
তারপর একটু চুপ করে থেকে
বলল--"আমার মনে হয় ঐ শ্বেতা গুপ্তা
কোনও ভাবে ওকে ট্র্যাপ করে ফেলেছিল--হয়ত
কোনও গোপন ভিডিও--"
--"কেন তোমার
এরকমটাই মনে হচ্ছে সুচরিতা? সত্যিই কি স্বরূপ
আর ঐ মহিলাটির মধ্যে কোন
সম্পর্ক ছিল"?
সুচরিতা একটু চুপ করে বাইরের
বড় আমগাছটার দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে --যেন স্বগতোক্তি করার
মত বলল--"কিছুতো একটা ছিলই--নাহলে এমনি এমনি
একজন,পুরুষ একজন অনাত্মীয়া মহিলাকে অর্থ
সাহায্য কেন করবে? তাছাড়া--"
--"তাছাড়া--"
--"তাছাড়া,ঐ
মহিলাটির যথেষ্ট ইনকাম--একটি মাত্র ছেলেকে বোর্ডিং এ রেখে পড়াচ্ছে--শুনেছি
ইনলসদের সঙ্গেও বনিবনা নেই--নিজের মা
বাবার সাথে ও না। চাকরিটিও শুনেছি",বলে সুচরিতা
চুপ করে গেল--। বাভ্রবি আস্তে জিজ্ঞেস করল
--"চাকরিটিও?"
--"ও,উইডো-বলেই
পেয়েছে--যোগ্যতার জন্য পায়নি।"
বাভ্রবি বলল--"ওর
স্বামীর জায়গায় পেয়েছে--"
--"হ্যাঁ,কিন্তু ওর স্বামী এই
ডিপার্টমেন্ট - এ ছিলেন না--"
বাভ্রবি বলল--"সুচরিতা,তোমার আরও
কিছু কথা বলার আছে মনে হচ্ছে,--আমাকে
বলতে পারো।"
সুচরিতা বাভ্রবির চোখে চোখ রেখে শান্ত ভাবে বলল
--"শ্বেতা
গুপ্তার এই চাকরি পাওয়া নিয়ে স্বরূপের
ডিপার্টমেন্ট-এর একজন অধ্যাপকের নাম জড়িয়ে আছে বাবি। আর স্বরূপ যে এই
শ্বেতাকে টাকা দেয়,সে কথা সে নিজের মুখে কোনও দিন
আমাকে বলেনি।"
--"স্ট্রেঞ্জ।
স্বামী স্ত্রীর মধ্যে এটুকু বোঝাপড়া-"
সুচরিতা তখন পরের দিনের প্রস্তুতি পর্ব সেরে রাখছিল। শীতের স্পর্শ লাগছে শরীরে--আমলকি বনে হিমেল হাওয়া--সকাল
সকাল বেরুতে হয় সবাইকে--সুচরিতা তাই
আগামীকালের ব্রেকফাস্ট এর জন্য আটা মেখে রাখছিল--তাড়াতাড়ি সকালে উঠেই সায়ন্তন
কে পরোঠা ভেজে দেবে আর ওদের দুজনের
জন্য তাওয়া রুটি। রাতের
খাবার শেষে একবার ক্যাম্পাসে একটু হেঁটে আসার অভ্যাস
স্বরূপের। একটা সময় সুচরিতা ও সঙ্গে যেতো। তখন সময় ছিল --আর ক্যাম্পাসটাও
ছিল সুন্দর--এতোটা কংক্রিট জঙ্গল হয়ে ওঠেনি। শীতকালটা অক্টোবরের শুরু
থেকেই জানান দিত--'আমি হেঁটে আসছি--'রাত গভীরে
হাল্কা চাদর জড়িয়ে স্বরূপের পাশাপাশি হাঁটতে ভালই লাগত সুচরিতার। কিন্তু এখন,এতো কাজের
চাপে আর পেরে ওঠে না। দ্রুত হাতে
ঠেসে ঠেসে আটা মাখা শেষ করে হাতটা ধোবার জন্য
সিঙ্কের কাছে আসতেই হঠাৎই
একটা মেসেজ আসার
শব্দ হলো স্বরূপের ফোনে। কি আশ্চর্য। স্বরূপ ফোনটা বাড়িতেই ছেড়ে গেল! দরকার পড়লে
যোগাযোগ করবে কি করে? বলে বলে
হয়রান।
--"একটা কথা
যদি কানে নেয়।"
মনে মন গজগজ করতে করতে ডাইনিং টেবিলের উপর ফোনটা
ফ্লাশ করছে দেখতে পেল সুচরিতা। শাড়ির
আঁচলে হাতটা মুছে ফোনটা হাতে নিতেই মেসেজটা দেখতে পেলো।
--"রিসিভড্
টেন থাউজেন্ডস। থ্যাংকস।" হোয়াটসএপ-এ মেসেজ
করেছে শ্বেতা গুপ্তা।
সুচরিতা অবাক হলো। এতোটা টাকা কেন হঠাৎ শ্বেতাকে দিতে গেল
স্বরূপ? কই সুচরিতাকে তো এ বিষয়ে
কিছুই জানায়নি স্বরূপ? মুখটা
ক্রমশই কঠিন হয়ে উঠল সুচরিতার। সারাদিন অক্লান্ত
পরিশ্রম করে চলেছে সুচরিতা--ছেলেকে
ভাল একটা কোচিং-এ
দিয়েছে--টাকার প্রয়োজন-তাই মিউজিক টিচার
এর চাকরিতে জয়েন করেছে --রান্নাবান্না নিজেই করে--আর স্বরূপ এতোগুলো টাকা--শ্বেতা নামের ঐ মহিলাটি সম্পর্কে অনেক কথা
কানে এসেছে সুচরিতার--
একবার ভাবল
সুচরিতা শ্বেতাকে নিজেই মেসেজ
করবে--তারপর নিজেকে সংযত করে ভাবল--"না। আগে স্বরূপের সঙ্গেই
কথা বলা উচিত।"
দরজা খুলে স্বরূপ ঘরে ঢুকতে
ঢুকতে বলল
--"আরে আমার
ফোনটা ফেলে গিয়েছি-তাই--"
স্বরূপের হাতে ওর ফোনটা তুলে দিয়ে তেতো হেসে জবাব দিল সুচরিতা
--"তোমার
শ্বেতা গুপ্তার মেসেজ এসেছে দেখলাম।"
স্তম্ভিত স্বরূপ সুচরিতার
চোখে চোখ রাখে
শীতের বাতাসে খোলা দরজা আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যায়—
ক্রমশ …………
২৭তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
ভারতবর্ষ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ।
.jpg)
.gif)