-
কৌশিক সেন, নতুন দিল্লি
ডিঙি ভাসিয়ে দিলাম
সমুদ্রে। আর কোনো অখণ্ড অবসর নেই।
নেই কোনো বিরহী
দোতারার বিধুর বাউলসঙ্গীত। বাতাসে কোনো
ছিন্ন তন্ত্রীর
ক্রন্দন শুনতে পাওয়া যাবে না।এখন শুধু একক
সংগ্রামের নিদারুণ
বৃত্তান্ত…
চাঁদ স্থির। নবীন
কবিরা ঝুড়ি ঝুড়ি বেনামী নক্ষত্র ছড়িয়ে দিয়ে গেছে
দিগন্ত জুড়ে। জানি, তারা সকলে নিদ্রাহীন অনন্ত রাত্রিযাপন করছে
সুদূর কোনো এক
গ্যালাক্সিতে। বাতাসে কেউ যেন বলে ওঠে,
“দাদা পাল তুলুন!”
এইযে অনন্ত জ্যোৎস্নার
শ্বেত সমুদ্র, ভেসে যেতে যেতে কতবার
ছেড়ে রেখেছি গতজন্মের
পর্ণমোচী পোশাক, কতবার ধমনীতে
প্রবাহিত করেছি
কৃষ্ণসাগরের জল, তার হিসেব রাখিনি কখনও।
শুধু জানি, এই
দাড় বাওয়া আমার জন্ম জন্মান্তরের নিয়তি।
আমি জেনে গেছি,
এই ডিঙি নৌকায় আমার একমাত্র অবলম্বন।
সবুজ অরণ্যের দেশ
যেন কতো, কতো আলোকবর্ষ পিছনে
ফেলে এসেছি। কতদূরে
সারি সারি লণ্ঠন বাড়ি মিটিমিটি জ্বলে,
প্রাচীনা নক্ষত্রের
মতোই!
নবীন কবি, তুমিই
পথনির্দেশ করো, এই অনন্ত সমুদ্রে। এই
মধ্য অমানিশায়
তোমাকেই ধ্রুবতারা মানি। এই গন্তব্যহীন
জলভাগে তুমিই নাহয়
কম্পাস ঘোরাও পশ্চিম থেকে নৈর্ঋতে,
আবার নৈর্ঋত থেকে
পশ্চিমে। আমি শুধুমাত্র দাড় বেয়ে চলে,
তোমার সৃষ্টির
তরঙ্গে…

